আমাদের একসাথে কাজ করে দেশ গঠন করতে হবে
বিএনপি সরকার গঠন করলে তাঁত পণ্য রপ্তানির উদ্যোগ নেয়া হবে-সিরাজগঞ্জে তারেক
বিএনপি সরকার গঠন করলে তাঁত পণ্য রপ্তানির উদ্যোগ নেয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমরা যদি তাঁতের কথা বলি, আমরা যদি লুঙ্গির কথা বলি, রঙের কথা বলি, প্রথমেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সিরাজগঞ্জ-পাবনার কথা। এই এলাকার মানুষ তাঁত শিল্পের সাথে বহু মানুষ এখানে জড়িত। তাঁত শিল্প সম্পর্কে যদি আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারি, তাহলে এই তাঁত শিল্পে উৎপাদিত পণ্য আমরা ইনশাআল্লাহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হব। আগামী দিনে আমরা তাই করতে চাই, সিরাজগঞ্জ-পাবনায় উৎপাদিত তাঁত পণ্য আমরা সমগ্র বিশ্বে আমরা রপ্তানি করতে চাই।

শনিবার বিকালে সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্প পার্কে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপি চেয়রাম্যান তারেক রহমান। তিনি আরও বলেন, আজ আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আমি হয়তো প্রতিপক্ষ সম্পর্কে অনেক কথা বলতে পারতাম। আপনারাও হয়তো জোরে জোরে হাততালি দিতেন, কিন্তু তাতে কি আপনাদের কোনো লাভ হতো? লাভ হতো না। বাংলাদেশের মানুষ এখন জানতে চায়, বাংলাদেশের মানুষ এখন দেখতে চায়, যে কোন রাজনৈতিক দল কি পরিকল্পনা গ্রহণ করবে দেশ এবং জনগণের জন্য, যাতে জনগণ এবং দেশ আগামীতে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। আজকে সিরাজগঞ্জ ও পাবনাসহ এখানে অনেক কাজ করার আছে, সেই কাজগুলো করলে এলাকার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, যেই কাজগুলো করলে এলাকার উন্নয়ন হবে। তিনি বলেন, আমরা আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি, আমাদের নেতাকর্মীরাসহ বাংলাদেশের মানুষ নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে, স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে।

এখন আমাদেরকে দেশ গড়তে হবে, সকলকে একসাথে এখন কাজ করতে হবে, দেশ গঠন করতে হবে। সিরাজগঞ্জ ও পাবনাসহ সারাদেশে নতুন নতুন শিল্প পার্ক স্থাপন করার মাধ্যমে বেকার সমস্যার সমাধান, এই অঞ্চলে কৃষি নির্ভর শিল্প প্রতিষ্ঠা এবং ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। সরকার গঠন করলে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের মাধ্যমে নারী ও কৃষকদের সহযোগিতারও কথা বলেন তারেক রহমান। বেলা ৩টায় কোরআন তেলোয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান।

তিনি বলেন, “যে মানুষগুলো গত ১৬-১৭ বছর যাবৎ প্রতিবাদ করেছে। তাদের প্রতিবাদ ছিল কী? অন্যায়ের বিরুদ্ধে, তাদের প্রতিবাদ ছিলো বাংলাদেশের মানুষের যে অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। এই অধিকারকে যদি ফিরিয়ে আনতে হয়, তাহলে ১২ তারিখে আপনাদের সকলকে সোচ্চার হতে হবে। ১২ তারিখে যদি আপনারা জবাব দিতে পারেন ধানের শীষে সিল মারার মাধ্যমে, তাহলে সেই স্বৈরাচাররা যারা আপনার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল তারা আপনাদের জবাব পাবে। তারেক রহমান বলেন, আমরা সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে আমরা একসাথে শাস্তিতে বসবাস করতে চাই। আমাদের কাছে মুখ্য হচ্ছে, সে বাংলাদেশের নাগরিক। আমাদের কাছে ধর্মটা মুক্ত নয়, আমাদের কাছে জাত-পাত মুখ্য নয়, আমাদের কাছে মূখ্য হচ্ছে সে বাংলাদেশের মানুষ।

কাজেই মানুষকে মানুষ হিসাবে আমরা মূল্যায়ন করতে চাই। মানুষকে মানুষের মূল্যায়ন করতে হবে। সমাবেশে সিরাজগঞ্জ ও পাবনার দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে ধানের শীষে ভোট চান তারেক রহমান। তারা হলেন, সেলিম রেজা (সিরাজগঞ্জ-১), ইকবাল হাসান মাহ্মুদ (সিরাজগঞ্জ-২), আয়নুল হক (সিরাজগঞ্জ-৩), এম আকবর আলী (সিরাজগঞ্জ-৪), আমিরুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৫), এম এ মুহিত (সিরাজগঞ্জ-৬); শামসুর রহমান (পাবনা-১), এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব (পাবনা-২), হাসান জাফির তুহিন (পাবনা-৩), হাবিবুর রহমান হাবিব (পাবনা-৪) ও শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস (পাবনা-৫)। জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসানসহ সিরাজগঞ্জ ও পাবনার ধানের শীষের প্রার্থীরা।

উল্লেখ্য, সবশেষ ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল ধোপাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। উত্তরাঞ্চলে প্রচারাভিযানের দুইদিনে তারেক রহমান রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, রংপুরে চারটি নির্বাচনী সমাবেশ করেন তারেক রহমান। উত্তরাঞ্চলের তিন দিনের সফরে বৃহস্পতিবার রাজশাহী আসেন তারেক রহমান।

মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনি সমাবেশের পর নওগাঁর এটিম মাঠ এবং বগুড়ার আলফাতুন্নেসা খেলার মাঠে সমাবেশ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। দ্বিতীয় রংপুরের পীরগঞ্জে জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের পর রংপুরের কলেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ করেন তারেক রহমান। তৃতীয় দিন শনিবার সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্প পার্কে জনসভার শেষে তিনি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চরজানা বাইপাস এলাকায় নির্বাচনী সমাবেশ করেন।