Category: শিক্ষা ও সাহিত্য

  • আদিনা সরকারি কলেজে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত

    আদিনা সরকারি কলেজে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত

    আদিনা সরকারি কলেজে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত

    জেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ আদিনা ফজলুল হক সরকারি কলেজে ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালিত হয়েছে। দিনের সূচনায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার পর ১৯৭১ সালের নয়মাস ব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। কলেজ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষসহ শিক্ষক কর্মচারী শিক্ষার্থীবৃন্দ। সকাল ১১টায় কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. সৈয়দ মোঃ মোজাহারুল ইসলাম তরু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ ইমানুল হক, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর মোঃ আসগার হোসেন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মোঃ খাইরুল ইসলাম, উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মোঃ জিয়াউল হক, মূখ্য আলোচক ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মোঃ আব্দুল লতিফ ছাত্রনেতা মোঃ নাগিব রেসাদ রিফাত ও ছাত্রনেতা মোঃ আব্দুল হালিম। কবিতা আবৃত্তি করেন রসায়ন বিভাগের প্রভাষক মোঃ আশিক ইকবাল ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী খানম শরিফা তাসনিম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন, মোঃ আশিক ইকবাল। দিবসটি উপলক্ষে জোহর এর নামাজের পর কলেজ মসজিদে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মুনাজাত করা হয়।

  • অধ্যক্ষের আত্মগোপনে থাকা-সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকদের গাফলতি- বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজে কমার্স বিভাগের ফলাফলে ভরাডুবি ॥ পাশ করেনি কেউ

    অধ্যক্ষের আত্মগোপনে থাকা-সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকদের গাফলতি- বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজে কমার্স বিভাগের ফলাফলে ভরাডুবি ॥ পাশ করেনি কেউ

    অধ্যক্ষের আত্মগোপনে থাকা-সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকদের গাফলতি

    বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজে কমার্স বিভাগের ফলাফলে ভরাডুবি ॥ পাশ করেনি কেউ

    ৫ আগষ্ট স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর নিজেকে বাঁচাতে আত্মগোপনে চলে যান বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (আওয়ামীলীগ নেতা) এজাবুল হক বুলি। আর এসুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্লাস গাফলতিসহ কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতি কোন প্রকার তদারকি বা জবাবদিহিতায় ছিলেন না বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজের কমার্স বিভাগের শিক্ষকগণ। ফলে এবছর বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজে কমার্স বিভাগের ফল বিপর্যয় ঘটে। এই বিভাগ থেকে ১১ জনে মধ্যে কেউ পাশ করেনি। বিজ্ঞান বিভাগে ১৬ জনের মধ্যে পাশ করেছে মোট ৭ জন। এছাড়াও কলেজের এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থীদের মোট পাশের হার ৪৩%। জানা গেছে, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজে এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেয় কমার্স শাখার ১১জন। এর মধ্যে একজন শিক্ষার্থীও পাশ করেনি। এনিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই কলেজের বিজ্ঞান শাখা থেকে ১৬ জন পরীক্ষা দিলেও পাশ করেছে মোট ৭ জন। আর মানবিক শাখা থেকে ২১৩ জনের মধ্যে পাস করেছে ৯৫ জন। কলেজের পাশের হার ৪৩ ভাগ।
    বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজের কমার্স বিভাগে শিক্ষক রয়েছেন ৩ জন। কমার্স বিভাগের শিক্ষকগণ হচ্ছেন-শামীম আহমেদ, মজিবুর রহমান ও মাজকুরা খাতুন। এবিষয়ে কলেজের কয়েকজন শিক্ষক ক্ষুদ্ধস্বরে বলেন, আমাদের কলেজের অধ্যক্ষ স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর আওয়ামীলীগ নেতা হওয়ায় দীর্ঘ ১১ মাস আত্মগোপনে ছিলেন। আর এই সুযোগে অধ্যক্ষের আস্থাভাজন কমার্স বিভাগের এই ৩জন শিক্ষক ক্লাস তো ঠিকমত করেই নি, কলেজের আসতেন মন মতো। কিন্তু, অধ্যক্ষ সাহেব তো নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন এবং আস্থাভাজন ওই শিক্ষকদের কোন গাফলতি বা অনিয়মিত কলেজে আসা, এসব অধ্যক্ষের চোখেই পড়তো না। জবাবদীহিতার তো প্রশ্নই উঠে না। এতে ওই শিক্ষকগন ইচ্ছেমত চলেছেন। শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তাদের কোন গুরুত্বই ছিলো না। ফলে কলেজের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার চরম ক্ষতি হয়েছে। এর ফলশ্রুতিতেই কমার্স বিভাগের ফলাফলে এমন বিপর্যয়। শিক্ষকগণ অভিযোগ করে আরও বলেন, কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ফলাফলও সন্তোষজনক নয়। এছাড়া, এখনো কলেজের অধ্যক্ষ সাহেব ঠিকমতো কলেজে আসেন না। মাঝে মধ্যে আসলেও, সেটা ক্ষনিকের জন্য। তাই কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম ওভাবেই চলছে। সব মিলিয়ে এবছর কলেজের কমার্স ও বিজ্ঞান বিভাগের ফলাফল বিপর্যয়ের কারন অধ্যক্ষ এবং অধ্যক্ষের আস্থাভাজন শিক্ষকগন।
    ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ফল বিপর্যয়ের কারণ (কেউ পাস না করা) হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানা গেছে, এ বিভাগের শিক্ষকরা ঠিকমত যেমন ক্লাস নেননা, তেমনি ক্লাস করার যোগ্যতাও রাখেন না। অন্যদিকে, বিজ্ঞান বিভাগের রসায়নের প্রভাষক ২০২৩ সালে অবসরে গেলেও শিক্ষক পদ শূন্য জানিয়ে চাহিদা না দেয়ায় এ কলেজে রসায়নের প্রভাষক এখন পর্যন্ত পদায়ন করা হয়নি। এ বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষক জানান, চাহিদা দিলেই ক্যাডার পদের শিক্ষক এসে যদি নন ক্যাডার অধ্যক্ষের চেয়ার দখল করে বসেন, সেই আতঙ্কে অধ্যক্ষ রসায়ন শিক্ষকের চাহিদা পর্যন্ত দেননি। আর গণিতের শিক্ষক অধ্যক্ষ মোঃ এজাবুল হক নিজেই হওয়ায় এবং তিনি চাকরী জীবনে কখনো-ই একটি ক্লাস না নেয়ায় এ কলেজে কমার্স ছাড়াও বিজ্ঞান বিভাগের ফলাফলও প্রতিবারই খারাপ হয়। এছাড়া, পদার্থ বিদ্যার প্রভাষক ক্লাসের ক্ষেত্রে অমনোযোগী এবং ক্লাসে কিছু বোঝাতে পারেননা বলে বিজ্ঞান বিভাগে ফেল করা কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে কলেজে সার্বিক ফলাফল খারাপের পিছনে অধ্যক্ষ মোঃ এজাবুল হকের অযোগ্যতা, কলেজে তার নিয়মিত অনুপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের নিজ ও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার, বিশেষ করে ফেল করা অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার কয়েক মাস আগে থেকে তাকে বাঁচানোর জন্য ডিসি অফিস ও বিভিন্ন তদ্বির কাজে ব্যবহার করা অন্যতম কারণ বলে জানা গেছে। কারণ তিনি গত জুলাই আন্দোলন থেকে বছরাধিক ধরে কলেজে অনুপস্থিত থেকে কলেজকে অস্থিরতার মধ্যে রেখেছেন। এদিকে, একটি বিশেষ সূত্র জানিয়েছে, কমার্স এবং বিজ্ঞান শাখার এ ক’জন শিক্ষক অধ্যক্ষ এজাবুল হক বুলির সমর্থক হওয়ায় তারা পলাতক বুলিকে বাঁচানোর চেষ্টায় সব সময় ব্যস্ত থাকেন। ফলে কলেজে শিক্ষার মান খারাপের দিকে চলে গেলেও কোন গুরুত্ব, মাথাব্যাথা বা অনুশোচনা, কোনটায় নেই ওই শিক্ষকদের।
    এ কলেজের অধিকাংশ শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যক্ষ এজাবুল হক বুলি’কে বরখাস্ত করে নতুন অধ্যক্ষ পদায়ন না হলে কলেজটির মান ধ্বংসের দিকেই যেতে থাকবে।
    উল্লেখ্য, কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ এজাবুল হক কয়েকটি ফৌজদারী মামলার আসামী এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ইতোমধ্যে কয়েকটি তদন্ত হয়েছে, যেখানে তার বহু প্রকার অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশিতে ব্যবস্থা গ্রহণের অপেক্ষায় আছে। শিক্ষানুরাগীদের দাবী, দেশের একজন অতি সম্মানিত ব্যক্তি, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর এর নামে হওয়া কলেজে-স্বৈরাচারের দোষর এবং এমন বিতর্কিত ও নানা অনিয়মের সাথে জড়িত অধ্যক্ষ এজাবুল হক বুলিকে কলেজ থেকে অপসারন করে একজন যোগ্যতা সম্পন্ন অধ্যক্ষ পদায়নের। উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) এইচ.এস.সি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়।

  • শনিবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আহমদ রফিককে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা

    শনিবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আহমদ রফিককে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা

    শনিবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আহমদ রফিককে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা

    ভাষাসৈনিক, প্রখ্যাত কবি, প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ আহমদ রফিক ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না … রাজেউন)। গুণী এই মনীষী বৃহস্পতিবার (০২ অক্টোবর) রাত ১০টা ১২ মিনিটে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর। তাঁর প্রতি সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় তাঁর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। ১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার শাহবাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আহমদ রফিক। তাঁর পিতা আবদুল হামিদ এবং মাতা রহিমা খাতুন। স্ত্রী ডা. এস কে রুহুল হাসিন। শতাধিক গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনার মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে রেখে গেছেন অমর অবদান। তিনি পেয়েছেন একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা। দুই বাংলার রবীন্দ্রচর্চায় তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য কলকাতার টেগর রিসার্চ ইনস্টিটিউট তাঁকে প্রদান করে ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধি। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও জাতীয় কবিতা পরিষদের আয়োজনে আগামী শনিবার সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ রাখা হবে।
    বেশ কিছু দিন থেকে অসুস্থ আহমদ রফিক সোমবার থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতাল থেকে তাকে বারডেম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্রনিক কিডনি ফেইলিওর, আলঝেইমার্স রোগ, পারকিনসন্স রোগ, ইলেকট্রোলাইটস ইমব্যালেন্স, বেডশোর, ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছিলেন আহমদ রফিক।
    আহমদ রফিক ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ইসমাইল সাদী সাংবাদিকদের জানান, শনিবার সকাল ১১টায় সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আহমদ রফিকের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আহমদ রফিক দেহ দান করেছেন। ফলে তার মরদেহ বারডেম হাসপাতালকে দেওয়া হবে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই শিক্ষার্থীর ইচ্ছা অনুযায়ী তার দেহ চিকিৎসা শাস্ত্রের গবেষণায় দেওয়া হবে। যে কারণে তার দাফন হবে না।
    এর আগে এক মাসে দুই দফা ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন আহমদ রফিক। তিনি রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার স্ত্রী মারা যান ২০০৬ সালে। এ দম্পতি নিঃসন্তান ছিলেন। ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী আহমদ রফিকের জন্ম ১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাহবাজপুর গ্রামে। মুন্সিগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর রসায়নে পড়তে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু ফজলুল হক হলের আবাসিক সুবিধা না পাওয়ায় পরে ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেল কলেজে।
    ১৯৫২ সালে তৃতীয়বর্ষে পড়ার সময় ফজলুল হক হল, ঢাকা হল এবং মিটফোর্ডের ছাত্রদের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে চলার কাজ করেছেন তিনি। পাশাপাশি সভা-সমাবেশ মিছিলে ছিলেন নিয়মিত। ১৯৫৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের আন্দোলনকারী ছাত্রদের মাঝে একমাত্র তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
    ১৯৫৫ সালের শেষ দিকে প্রকাশ্যে বেরিয়ে এসে পড়াশোনায় ফেরেন আহমদ রফিক। এমবিবিএস ডিগ্রি নিলেও চিকিৎসকের পেশায় যাননি। ১৯৫৮ সালেই আহমেদ রফিকের প্রথম প্রবন্ধের বই ‘শিল্প সংস্কৃতি জীবন’ প্রকাশ হয়। তারপর লেখালেখিতেই জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। পেয়েছেন একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, রবীন্দ্রত্ত্বাচার্য উপাধিসহ অনেক সম্মাননা।

  • আগামীকাল থেকে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা ॥ মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

    আগামীকাল থেকে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা ॥ মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

    আগামীকাল থেকে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা ॥ মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

    চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) থেকে শুরু হচ্ছে। সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে, যা চলবে ১০ আগস্ট পর্যন্ত। এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। দেশের ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
    ২০২৪ সালের তুলনায় এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৮১ হাজার ৮৮২ জন কমেছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১৩ লাখ ৩২ হাজার ৯৯৩ জন। পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশের সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরীক্ষা সুষ্ঠাভাবে পরিচালনার জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে হবে। অনিবার্য কারণে বিলম্ব হলে তার তথ্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে জানাতে হবে। পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে এসএমএসের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের সেট কোড জানানো হবে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন/ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছবি তোলা যায় না এমন মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যদিকে, পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষার্থীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে-১. পরীক্ষা শুরুর নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে। ২. ওএমআর শিটে সঠিকভাবে তথ্য পূরণ করতে হবে এবং উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না। ৩. মোবাইল ফোন কেন্দ্রের ভেতরে আনা যাবে না। ৪. বহুনির্বাচনি ও সৃজনশীল অংশের মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। ৫. ব্যবহারিকসহ সব অংশেই পৃথকভাবে পাস করতে হবে। ৬. পরীক্ষার্থী শুধু প্রবেশপত্রে উল্লিখিত বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে এবং কেউ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দিতে পারবে না। উপস্থিতি পত্রে সই করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া, পরীক্ষার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিশেষ নজরদারি চালানো হবে।

  • ইতিহাস কথা কয় সনাতন-দীননাথ : আপন আলোয় উদ্ভাসিত

    ইতিহাস কথা কয় সনাতন-দীননাথ : আপন আলোয় উদ্ভাসিত

    ইতিহাস কথা কয় সনাতন-দীননাথ : আপন আলোয় উদ্ভাসিত

    ছাত্র জীবন থেকেই লেখালেখি ও সাংবাদিকতার সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারনে যখনই সময় পেতাম, তখনই বিভিন্ন এলাকার সকল বয়সের মানুষের কাছ থেকে আমি তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে রাখতাম, এ ছিল আমার নেশা। আশি ও নব্বইয়ের দশকে নবীগঞ্জ সহ বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন জায়গায় গ্রামে-গঞ্জে গিয়ে বয়োজ্যেষ্ঠদের সাথে কথা বলে সেখানকার কুশীলবদের তথ্য বিশেষ করে সরপঞ্চদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি এবং তা সংরক্ষন করে রাখি। আমার প্রয়াত পিতা রফিকুল হক চৌধুরী ও আপন দুই চাচা আব্দুল কদ্দুস চৌধুরী ও সফিকুল হক চৌধুরী নবীগঞ্জ থানার ৩ নম্বর সার্কেলের সরপঞ্চ হিসেবে দীর্ঘ ৩৫ বছর দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি ভাবে সরপঞ্চদের তথ্য সেভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি, তাই মৌখিক ইতিহাস ও সেই সময়ের দলিল দস্তাবেদ ও অন্যান্য প্রমানাদি ঘেটে সরপঞ্চদের ইতিহাস সংরক্ষণই ছিল আমার গবেষণার অন্যতম উদ্দেশ্য। ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশে উপজেলা ভিত্তিক প্রথম ইতিহাসগ্রন্থ ‘নবীগঞ্জের ইতিকথা’, ১৯৯০ সালে ‘সিলেট বিচিত্রা‘, ‘সিলেট ও সিলেটী ভাষা’ ১৯৯৯ সালে, ‘যুক্তরাজ্যে সিলেটবাসী’ ২০০০ সালে, ‘সিলেট নাগরী হরফে’ বাংলা এবং ইংরেজীর অনুবাদসহ ১৯৯৫-২০০০ সিলেটী ভাষা শিক্ষার বই এক থেকে অষ্টম খন্ড ‘ছিলেটী লেখা আর পড়া’, এবং সিলেট একাডেমি ইউকে এন্ড ইউরোপ কর্তিক প্রকাশিত, ‘ঐতিহ্য’ ১৯৯৮ সালে, আমার লেখা ও সম্পাদিত এবং বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী সাংবাদিক ফররুখ আহমদ চৌধুরী (ফখরু) কর্তৃক সিলেট থেকে প্রকাশিত ‘সিলেট গাইড’-১৯৯৭ সাল, ‘টেন সিলেটী পয়েম’ বাংলাদেশের শ্রেষ্ট দশজন মরমী সাধকের লিখা সিলেটী নাগরী থেকে বাংলা এবং ইংরেজীতে অনুদিত আমার এবং ইংরেজ গবেষক ড. জেমস লয়েড উইলিয়ামের যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশ করে লন্ডনের স্টার প্রকাশনী। আমার লেখা ও সম্পাদিত বিভিন্ন গ্রন্থ এবং বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং ভারতের দৈনিক, সাপ্তাহিক পত্রিকা ও মাসিক ম্যাগাজিনে বিভিন্ন বিষয়ে নিবন্ধ আকারে প্রকাশিত হয়। আজকের নিবন্ধ সেরকমেরই গবেষণার একটি অংশ। ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির ঢাকা বিভাগের সিলেট জেলার নবীগঞ্জ রাজস্ব জেলার [বাংলার নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁ এর আমলে রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থী সুবে বাংলা কে ১৩টি ‘চাকলায়’ বিভক্ত করা হয়। আবার প্রত্যেক চালকায়ে কয়েকটি রাজস্ব জিলায় ভাগ করেন। চাকলায়ে সিলেটকে ১০টি রাজস্ব জিলায় ভাগ করা হয়। এর একটি রাজস্ব জিলা হচ্ছে নবীগঞ্জ। নবীগঞ্জ রাজস্ব জিলায় ১৯টি পরগণা ছিল]। জন্তরী পরগণার অন্তর্গত ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ একটি গ্রাম মুক্তাহার। মুক্তাহার নামেরও একটি বিশেষত্ব রয়েছে, এই গ্রামের বিশিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব শ্রীমান গঙ্গারাম দাস। শ্রীমান গঙ্গারাম দাস সম্ভবত নবীগঞ্জ মুন্সেফ কোর্টের পেশকার বা এ জাতীয় কর্মচারী ছিলেন। [“হিস্ট্রি এন্ড স্ট্যাটিস্টিক অব ঢাকা ডিভিশন” নামক গ্রন্থে বৃহত্তর সিলেটে ৬টি মুন্সেফী আদালতের উল্লেখ রয়েছে। তন্মধ্যে নবীগঞ্জে ১টি অন্যতম মুন্সেফী আদালত ছিল। যার আয়তন ছিল সত্রসতী পরগনার শেষ অর্থাৎ বর্তমান মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল পর্যন্ত। ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে হবিগঞ্জ মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হলে নবীগঞ্জের মুন্সেফ কোর্ট বিলুপ্ত হয়ে হবিগঞ্জ মহকুমা সদরে স্থানান্তরিত হয়।] তিনি একজন সফল কৃষকও ছিলেন। তাঁর দুই পুত্র শ্রীমান সনাতন দাস ও শ্রীমান দীননাথ দাস। তাঁর পুত্র দ্বয়কে তিনি পাঠশালা ও টোলে পড়াশোনা করান (তখনও এই এলাকায় এম.ই. স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয় নি। ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে নবীগঞ্জ যুগল-কিশোর উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়)। শ্রীমান সনাতন দাস (১৮৫৫১৯৩৮): শ্রীমান সনাতন দাস ছিলেন ওই অঞ্চলের একজন শৌখিন ব্যক্তি। পাখি শিকার ও ভ্রমন ছিল তাঁর অন্যতম শখ। লম্বা পাইপের (নলের) খাসার তৈরি ফস্বী হোক্কায় তামাক টানতেন তিনি। তখনকার সময়ে গ্রাম-বাংলার মানুষের বিনোদনের উৎস ছিল যাত্রাগান, পালাগান, ঘেটুগান ইত্যাদি। তিনি এসবের আয়োজন ও পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। তিনি ছিলেন শৌর্যের অধিকারী ও দূর্দান্ত সাহসী ব্যক্তি। এলাকার বিচার-বৈঠকে ছিলেন অপ্রতিদ্বন্ধী। নিজের এলাকার বাইরেও তিনি বিচার বৈঠকে প্রশংসিত হন। তাঁর নিরপেক্ষ বিচারে কেউ কখনো প্রশ্ন তুলতেন না। ব্রিটিশ শাসনামলের একটা সময় তিনি নবীগঞ্জ থানার ৩৯ নম্বর সার্কেলের সরপঞ্চ নির্বাচিত হন। [ব্রিটিশ শাসনামলে নবীগঞ্জকে ৪১ টি সার্কেলে বিভক্ত করা হয়। সার্কেলের প্রধান নির্বাহীকে সরপঞ্চ বলা হতো। সরপঞ্চ বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পদমর্যাদা। সরপঞ্চের পরিষদে দুইজন সরপঞ্চায়েত বা সহকারী সরপঞ্চ থাকতেন। একজন সরপঞ্চ বেশ কিছু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতেন। চৌকিদার নিয়োগ, টেক্স কালেকশন, গ্রামীন বিরোধ নিষ্পত্তি, বিচার সালিশ তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা প্রভৃতি। থানা সার্কেল অফিসার বা প্রশাসনিক উচ্চ পদস্থ অফিসারের তত্বাবধানে সরাসরি হাত তুলার মাধ্যমে সরপঞ্চ ও সহকারী সরপঞ্চ বা সরপঞ্চায়েত নির্বাচিত হতেন। সরপঞ্চ দুইজন চৌকীদার নিয়োগ দিতে পারতেন। ক্ষেত্র বিশেষে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে সরপঞ্চ নিজস্ব ক্ষমতাবলে ৪/৫ জন ব্যক্তিকে সালিশ কার্যে নিয়োগ করতে পারতেন। সরপঞ্চের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান সার্কেল প্রথা বিলুপ্ত করে ইউনিয়ন কাউন্সিল চালু করেন। কয়েকটি সার্কেল নিয়ে গঠন করা হয় একটি ইউনিয়ন কাউন্সিল।] শ্রীমান সনাতন দাস সরপঞ্চ (১৮৯৫ – ১৯০০) হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন এবং সরপঞ্চের দায়িত্ব পালন কালে তিনি অনেক সামাজিক ও মানবিক কাজ করেন। তৎকালীন সময়ে গ্রামীণ সালিশী তথা বিচার ব্যবস্থায় এলাকায় সনাতন দাস ছিল এক অগ্রগণ্য নাম। সে সময়কার সমবায় সমিতি ব্যবস্থা, কৃষক উন্নয়ন ও গ্রামীণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে তিনি আমৃত্যু চেষ্টা চালিয়ে যান। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী ও সর্বভারতীয় কংগ্রেস দলের সমর্থক। সে সময়ে ব্রিটিশ রাজ প্রতিনিধি মহকুমা সদরে সরপঞ্চ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে মিটিং করলে তিনিও সেই সব মিটিংয়ে আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত থাকতেন। তাঁর স্ত্রী এক কন্যা সন্তান জন্ম দিয়ে মৃত্যুবরন করেন। শ্রীমান দীননাথ দাস (১৮৬০ – ১৯৪৩): শ্রীমান দীননাথ দাস ছিলেন স্বশিক্ষিত ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব। শারীরিকভাবে সুঠাম ও শক্তিশালী দেহের অধিকারী দীননাথ ছিলেন সাহসিকতা ও বিচক্ষণতায় অনন্য। পড়তেন সাদা ধুতি ও পাঞ্জাবী। তিনিও ভ্রমণ পিপাসু এবং যাত্রাদল সহ গ্রামীণ সংস্কৃতি বিকাশে কাজ করতেন। তৎকালীন সময়ে গ্রাম-বাংলা ছিল লোকজ সংস্কৃতির সূতিকাগার। যেখানে লোক জীবনের নানা উপাদান ছিল। দীননাথ লোকজ সংস্কৃতির প্রতি গভীর টান অনুভব করতেন। জারি, সারি, লোকগানের আসর, যাত্রাপালা, গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা প্রভৃতিতে পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি অংশগ্রহণ করতেন। একটা সময় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি এলাকায় সমাদৃত হন। বড় ভাইয়ের পরবর্তীতে নবীগঞ্জ থানার ৩৯ নম্বর সার্কেলের সরপঞ্চ নির্বাচিত হন এবং সরপঞ্চ (১৯০০ – ১৯০৫) হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। শ্রীমান দীননাথ দাস ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী একজন নিরেট ভদ্রলোক। তিনি কংগ্রেসের সমর্থক হলেও নেতাজী সুভাসচন্দ্র বসুর অনুসারী ছিলেন। তাঁর দুই কন্যা ও এক পুত্র যথাক্রমে- শ্রীমতি সরোজিনী দাস, শ্রীমান দীগেন্দ্র চন্দ্র দাস ও শ্রীমতি বিরহিনী দাস। একমাত্র পুত্র শ্রীমান দীগেন্দ্র চন্দ্র দাস (১৯০৫-১৯৭৬) প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে নবীগঞ্জ যুগল কিশোর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাইনর পাশ করেন। তিনি ফুটবল খেলার প্রতি আসক্ত ছিলেন। তরুণ বয়সে তিনি খেলার জন্য তাঁর টিম নিয়ে দূর দূরান্তের বিভিন্ন গ্রামে যাতায়াত করতেন। লোকগীতি ও যাত্রাগান তাঁর প্রিয় ছিলো। তিনি যাত্রা দলের উদ্যোক্তা ও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। কৃষি-ভিত্তিক জীবন যাপনের পাশাপাশি তিনি তাঁর মেধা, মনন ও সাহসিকতায় এলাকার সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও মানবিক কাজের মাধ্যমে অনন্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী হিসেবে সামাজিকভাবে গ্রহনযোগ্যতা ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। সনাতন-দীননাথ ভাতৃদ্বয় ছিলেন সফল কৃষক। তাঁদের বিশ্বাস ছিল লবন ও কেরোসিন ছাড়া মাটিতে সবকিছুই উৎপাদন করা সম্ভব। বাড়িতে বিভিন্ন জায়গা থেকে বহু প্রজাতির ফলের ও ফুলের গাছ সংগ্রহ করে রোপন করতেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কৃষি জমিতে অধিক ফসল উৎপাদনের কর্মসূচিতে অনুপ্রানিত হয়ে তাঁরা নিজেদের জমিতে এর প্রতিফলন ঘটান। তাঁদের দুই ভাইয়ের নৌকা বাইচের খুব শখ ছিল। নিজেদের ছিল শখের দৌড়ের নৌকা ও একটি দুই মাইল্লা গোস্তী নৌকা (দুইজন মাঝি পরিচালিত গোস্তী নৌকা)। মুক্তাহার গ্রামের পূর্ব ধারের শ্রীমান কালী চরন দাসেরও [কালী সাধু; বঙ্ক চন্দ্র দাসের (মাস্টার) জ্যেঠাতুত বড়ো ভাই] দৌড়ের নৌকা ছিল। তখনকার দিনে বর্ষাকালের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল নৌকা বাইচ। বর্ষায় এই দুই দৌড়ের নৌকার প্রতিযোগীতা এলাকাবাসীদের আনন্দ দিতো। আর গোস্তী নৌকায় করে তাঁরা ছয়রে (বেড়াতে) বের হতেন। তাঁদের গোস্তী নৌকায় থাকা-খাওয়া ও গান-বাজনার ব্যবস্থা ছিল। তৎকালীন সময়ে মুক্তাহার গ্রামের যে সকল গুণীজনেরা অত্র এলাকার সামাজিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন- শ্রীমান গোলক দাস, শ্রীমান কালীচরণ দাস (কালী সাধু), শ্রীমান গরি দাস (গরি সরকার), শ্রীমান বিশ্বনাথ দাস (মাস্টার), শ্রীমান কুরু দাস, শ্রীমান প্রহল্লাদ দাস (মাস্টার) প্রমুখ। সনাতন-দীননাথ ভাতৃদ্বয়ের কর্মজীবনের ও পারিবারিক বেশ কিছু অমূল্য স্মারক, ছবি ও তথ্য-উপাত্তে সমৃদ্ধ দলিল দস্তাবেজ ছিল, যা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া এবং রাজাকার কর্তৃক বাড়িঘর লুটপাটের ফলে সবকিছু নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। তবে তাঁদের নাম এখনো মুছে যায় নি। শ্রীমান দীননাথ দাসের প্রৌপুত্রদ্বয় তরুন লেখক ও গবেষক রত্নদীপ দাস (রাজু) ও রত্নেশ্বর দাস (রামু) কর্তৃক নবীগঞ্জ উপজেলার মুক্তাহার গ্রামে প্রতিষ্ঠিত ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী রবীন্দ্র চন্দ্র দাস গ্রন্থাগার’- এ এই দুই কীর্তিমানের স্মরণে গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষের নাম ‘সনাতন-দীননাথ পাঠকক্ষ’ নামকরন করা হয়েছে। যা তাঁদের স্মৃতি জাগরুখ করে রাখার মতো চমৎকার একটি পদক্ষেপ। যে দেশ ও জাতি তার পূর্বপুরুষদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে, সে দেশের জাতীয় ইতিহাস ততটাই সমৃদ্ধ হয়। এই উদ্যোগের জন্য আমি গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক সাধুবাদ জানাই। আর এভাবেই আমাদের দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সুশাসন, সাম্য, ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুসংহত রাখার মাধ্যমে দেশকে আলোকিত করা একেকজন সনাতন-দীননাথেরা আপন আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে থাকবেন প্রজন্মান্তরে। তথ্য ঋণ: বিভিন্ন সময়ে তথ্য দিয়েছেন-বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু শ্যামাপ্রসন্ন দাশগুপ্ত (বিধুবাবু; সাবেক জমিদার ও চেয়ারম্যান, গ্রাম: গুজাখাইড়, নবীগঞ্জ), জনাব আব্দুল আজিজ চৌধুরী (শিক্ষাবিদ, গণপরিষদ সদস্য, গ্রাম: চরগাঁও, নবীগঞ্জ), জনাব মুহাম্মদ নূরুল হক (ভাষা সৈনিক; প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, সিলেট এবং সিলেট অঞ্চলের প্রাচীণতম মাসিক আল ইসলাহ এর সম্পাদক), জনাব মনির উদ্দিন চৌধুরী (ইতিহাস বেত্তা; গ্রাম: জহিরপুর, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ), বাবু যোগেন্দ্র চন্দ্র দাস (মাস্টার; গ্রাম: মুক্তাহার, নবীগঞ্জ), শ্রীযুক্ত রূপেশ চক্রবর্তী (রূপেশ ঠাকুর; বিশিষ্ট ব্যক্তি, গ্রাম: মুক্তাহার, নবীগঞ্জ), বাবু ভাগ্যেশ্বর দাস (ভাগ্যেশ্বর বাবু; সাবেক নবীগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগ নেতা, গ্রাম: মুক্তাহার), ডা. কুটিশ্বর দাস (কুটিশ্বর বাবু; সাবেক চেয়ারম্যান, ৭নং করগাঁও ইউনিয়ন, গ্রাম: মুক্তাহার, নবীগঞ্জ), বাবু চূড়ামণি দাস (চূড়ামণি সরকার; বিশিষ্ট ব্যক্তি, গ্রাম: মুক্তাহার, নবীগঞ্জ), বাবু লক্ষ্মী কান্ত দাস (মাস্টার; গ্রাম: মুক্তাহার, নবীগঞ্জ), বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র চন্দ্র দাস (মাস্টার; গ্রাম: মুক্তাহার, নবীগঞ্জ। শ্রীমান দীননাথ দাসের নাতি) প্রমুখ।

     

     

    লেখক:মতিয়ার চৌধুরী

    ইউরোপ ব্যুরো চিফ, বার্তা সংস্থা এনএনবি। সাবেক প্রেসিডেন্ট, ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটি। সাবেক সেক্রেটারী, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব। প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস কমিশন ইংল্যান্ড।

  • গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের তারিখ পরিবর্তন

    গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের তারিখ পরিবর্তন

    আগামী ২৯ জানুয়ারি জিএসটি গুচ্ছভুক্ত ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের তারিখ অনিবার্যকারণে পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের তারিখ ও বিস্তারিত সময়সূচি পরিবর্তিতে জানিয়ে দেয়া হবে। শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের তারিখ পরিবর্তনের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি রাতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ভর্তি কমিটির দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ কারিগরি প্রস্তুতি ও পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণার পর অত্যন্ত বাস্তবসম্মত কিছু বিষয় সমন্বয় করার জন্য জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবৃন্দের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের তারিখ ও সময়সূচি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি বুধবার বিকালে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সম্মেলন কক্ষে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় পরিবর্তিত ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের তারিখ ও সময়সূচি পুনঃনির্ধারণ করে সকলকে জানিয়ে দেয়া হবে।

  • কথাসাহিত্যিক কবি আবু বকর সিদ্দিক আর নেই

    কথাসাহিত্যিক কবি আবু বকর সিদ্দিক আর নেই

    প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক কবি আবু বকর সিদ্দিক ও বিদিশা এরশাদের বাবা মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। আবু বকর সিদ্দিক খুলনা সিটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। পেশায় তিনি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক। আবু বকর সিদ্দিক ১৯৩৪ সালের ১৯ আগস্ট মামারবাড়ি বাগেরহাট সদরের গোটাপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে ১৯৫৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে চাখার ফজলুল হক কলেজ, দৌলতপুর বিএল কলেজ, কুষ্টিয়া কলেজ, বাগেরহাট পিসি কলেজ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ১৯৯৪ সালের ৭ জুলাই তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে অবসরগ্রহণ করেন।

  • অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষা থাকছে না ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত

    অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষা থাকছে না ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত

    ২০২৪ সাল থেকে সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত আর অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে না। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের শিক্ষাক্রম একাধিকবার পরিবর্তন হয়েছে, এবার নতুন শিক্ষা পদ্ধতি প্রণয়ন করা হলো। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে শিক্ষাপঞ্জি (অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার) প্রকাশ করা হয়েছে। সেখান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার। আগামী বছর (২০২৪ সাল) থেকে ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে দুটি সামষ্টিক মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হবে। বছরের মাঝামাঝি হবে ষান্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়ন এবং বছর শেষে নেওয়া হবে বার্ষিক সামষ্টিক মূল্যায়ন পরীক্ষা। আর দশম শ্রেণিতে অনুষ্ঠিত হবে প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা এবং নির্বাচনী পরীক্ষা। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বর্ণিত অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী— ২০২৪ সালে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি স্কুলগুলোর নতুন শিক্ষাক্রমের ষান্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়ন ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হবে মে মাসে। ২৩ মে থেকে মূল্যায়ন শুরু হয়ে চলবে ৯ জুন পর্যন্ত। ১০ জুলাই ষান্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়ন ও প্রাক নির্বাচনী পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে হবে।
    মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের নতুন শিক্ষাক্রমের বার্ষিক সামষ্টিক মূল্যায়ন শুরু হবে ২১ নভেম্বর থেকে। ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত বার্ষিক সামষ্টিক মূল্যায়ন চলবে। মূল্যায়নের ফল প্রকাশ হবে ৩০ ডিসেম্বর।
    শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ সূচি অনুযায়ী ষান্মাসিক ও বার্ষিক সামষ্টিক মূল্যায়নের আয়োজন করতে হবে। মূল্যায়নের কাগজপত্র অন্তত এক বছর সংরক্ষণ করতে হবে স্কুলে। মূল্যায়নের তারিখ পরিবর্তন করা যাবে না। বিশেষ পরিস্থিতিতে পরিবর্তন করতে হলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অনুমতি নিতে হবে। মূল্যায়নের প্রশ্ন শিক্ষকদের নিজেদের প্রণয়ন করতে হবে। কোনো উৎস থেকে সংগৃহীত প্রশ্নে মূল্যায়ন করা যাবে না।
    অন্যদিকে, ২০২৪ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়েও প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রমে পাঠদান করা হবে। এ তিন শ্রেণিতেও কোনো পরীক্ষা থাকবে না। শুধু চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে অর্ধ-বার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৫ সাল থেকে সেটাও বাতিল হবে। ওই বছর থেকে চতুর্থ-পঞ্চমে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হবে। ফলে অর্ধ-বার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

  • লেখক তৌফিক সুলতান-এর বই হৃদয় থেকে রচিত প্রকাশ

    লেখক তৌফিক সুলতান-এর বই হৃদয় থেকে রচিত প্রকাশ

    কবি তৌফিক সুলতান সহজ সরল উপস্থাপনে অপূর্ব রচনার সমম্বয়ে কাব্যপ্রেমী বই পিপাসু পাঠকদের জন্য নিয়ে এলেন “হৃদয় থেকে রচিত” চমৎকার কাব্যগন্থ। এই কাব্যগ্রন্থের সব কবিতাই অসাধারণ। সুপ্রিয় পাঠকের নিকট এটুকু বলতে চাই যে,গ্রন্থের পান্ডুলিপি প্রণয়নকালে কবির সৃষ্ট কাব্য-পটে বিচরণ করছে মুগ্ধতার সাথে,তেমনি পাঠকও কবিতা পাঠে তৃপ্তি লাভ করবেন। কবি তৌফিক সুলতান ইসলাম তাজ বালিকা দাখিল মাদ্রাসার প্রাক্তন শিক্ষক আব্দুল করিম এবং ফাতেমা বেগমের জ্যেষ্ঠ সন্তান। কবি তৌফিক সুলতান আল্লাহ্ প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে আল্লাহ্ সাথে সাক্ষাৎ এর আশা রাখেন। তিনি ভালো কাজে হতে চান অগ্রগামী।
    মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সত্য জ্ঞান অনুসন্ধান এবং অর্জন করে সততা ও ন্যায় নিষ্ঠার সাথে মানবতার কল্যাণে কাজ করে, সুন্দর সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখেন। মানুষের জীবন কে সহজ করার জন্য কাজ করে যেতেচান আজীবন।
    তিনি বহুল প্রচারিত “ দৈনিক আলোর সন্ধান” এর বিশেষ প্রতিনিধি, সংবাদ, কবিতা, ছড়া লিখার পাশাপাশি, দৈনিক প্রত্রিকা কালবেলা, দৈনিক ইত্তেফাক, সমকাল, কালের কন্ঠ, নয়া দিগন্ত, ভোরের কাগজ, যুগান্তর, যায়যায়দিন, প্রথম আলো, দেশ রূপান্তর , দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ,আলোকিত বাংলাদেশ,আলোর সন্ধান,ডেইলি খবরের ডাক,আই নিউজ,সকালের কন্ঠ, জাগো নিউজ ২৪ ডটকম,সংবাদ,সংগ্রাম, ইনকিলাব, লাখো কন্ঠ, বাংলাদেশ বুলেটিন সহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রতিবেদন,ফিচার ও কলাম লিখে থাকেন। কবি তৌফিক সুলতান ওয়েলফশন মানবকল্যাণ সংঘের প্রধান কার্যনির্বাহী পরিচালক তাছাড়া ওয়েলফশন সত্য অনুসন্ধানী জ্ঞান অনুরাগী কল্যাণমী দলের উন্মুক্ত লাইব্রেরী মুক্ত পাঠক ও আল তৌফিকী পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। শেষে আশা করি সুধী পাঠকসমাজ বইটির যথাযথ মূল্যায়ন করবে এবং বইটি তার প্রকৃত সুনাম কুড়িয়ে আনতে সক্ষম হবে। কবি-জীবনের সর্বঙ্গীণ মঙ্গল কামনায় কলম তুলছি।

  • দুই বাংলার সর্বোচ্চ কবিতা আবৃত্তিকার ফাতেমা সুলতানা সুমি

    দুই বাংলার সর্বোচ্চ কবিতা আবৃত্তিকার ফাতেমা সুলতানা সুমি

    দুই বাংলার সর্বোচ্চ কবিতা আবৃত্তিকার ফাতেমা সুলতানা সুমি

    কবির লেখনি শুধু নয়, আবৃত্তিকারের সু-মধুর আবেগ ও মায়াবী কন্ঠেও কবিতার সৌন্দর্যতা অনেকটা বৃদ্ধি পায়। কবির দারুণ ছন্দ গুলো মনে লালন করে আবৃত্তিকার ‘ফাতেমা সুলতানা সুমি’ তার মায়া ভরা চমৎকার কন্ঠে কবিতা প্রেমীদের একের পর এক কবিতা উপহার দিচ্ছেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যনুরাগী ছিলেন। শিশু একাডেমিতে তার শিক্ষক আলকুনিয়্যাত সবুর এর কাছে ১২ বছর সাহিত্যচর্চা করেছেন। এবং বিভিন্ন পত্রিকার ছোটদের পাতায় ৬ বছর বয়স থেকেই তার লেখালেখি চলমান রয়েছে। স্কুল অব পারফর্মিং আর্টস এ তার আবৃত্তিকার শিক্ষক ছিলেন জয়ন্ত চট্যোপাধ্যায়, ভাস্বর বন্দোপাধ্যায়, রোকেয়া প্রাচী, ফাল্গুনী হামিদ, কামরুল হাসান মঞ্জু প্রমূখ। ফাতেমা সুলতানা সুমি ২০১৬ সালের জুন মাসে বাংলাদেশের প্রথম মহিলা আবৃত্তিকার হিসেবে প্রথম ফেসবুক লাইভে এসে কবিতা আবৃত্তি করেন। ১৯৯৩ ও ১৯৯৫ শিক্ষা সপ্তাহে শিশু শিল্পী হিসেবে আবৃত্তিতে দুইবার জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন এই গুনী আবৃত্তিশিল্পী। তিনি ১৯৯৫ সাল থেকে রবীন্দ্রসংগীতের জন্য বিটিভিতে ইনলিস্টেড। ২০১৭ সালে নবসাহিত্য প্রকাশনী থেকে তার লেখা “লাল গোলাপ” নামক একটি একক বইও প্রকাশ পেয়েছে। এবং ৭ টি যৌথবইও প্রকাশিত হয়েছে সেগুলো হলো: নীলাঞ্জনা, অল্পকথা, আহত রক্তজবা, অমর কাব্য গাঁথা, পিদিম, ধোঁয়াচ্ছন্ন অন্ধকার ও দ্বীপজ। এ পর্যন্ত তিনি তার কন্ঠে ২৫ শত এর বেশি গুনী, তরুণ ও উদীয়মান কবির লেখা অনেক পছন্দনীয় কবিতা আবৃত্তি করেছেন। এবং দুই বাংলায় মহিলাদের মধ্যে তার কন্ঠে আবৃত্তি করা কবিতাই সর্বোচ্চ রয়েছে। তার আবৃত্তি করা কবিতা গুলো ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিয়মিত প্রচারিত হয়ে থাকে। তার কন্ঠে এমন সুন্দর সুন্দর কবিতা আবৃত্তিতে তিনি কবিতা প্রেমীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। তিনি লেখাপড়ার দিক থেকেও সর্বোচ্চ শিক্ষা অর্জন করেছেন এসএসসি, এইচএসসি, বিএসসি অনার্স ও মাস্টার্স এ প্রথম শ্রেণি থেকে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি সাহিত্যের আঙিনার সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ লেখক পরিষদ, কথাকুঞ্জ সাহিত্য পরিষদ, বাংলাদেশ কালচার পরিষদ, অনুশীলন সাহিত্য পরিষদ, গাংচিল সাহিত্য সাংস্কৃতি পরিষদের আবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং সজীবমেলা আবৃত্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আবৃত্তি শিক্ষিকা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছেন।