অতিষ্ট ও ক্ষুদ্ধ কর্মচারী-গ্রাহক ও পরিচালকরা
আ’লীগের দোষর চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এ্যাডমিন’র সীমাহিন স্বেচ্ছাচারিতা ॥ সহযোগিতায় জি.এম
আ’লীগের দোষর চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এ্যাডমিন) এ.টি.এম খালিদ হাসান এর সীমাহিন স্বেচ্ছাচারিতা, দূর্ব্যাবহার, অসৌজন্যমূলক আচরন ও ক্ষমতা বহির্ভুত কাজে ক্ষুদ্ধ ও অতিষ্ট গ্রাহক ও সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবং পরিচালকরাও। অন্যদিকে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ.টি.এম খালিদ হোসেন এর স্বেচ্চাচারিতাসহ সকল কাজে সহযোগিতা করছেন সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জি.এম) হাওলাদার মোঃ ফজলুর রহমান বলেও অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামীলীগ পরিবারের হওয়ায় পূর্বের সমিতিগুলোতে চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও দাম্ভিকতার সাথে নাটোর-১সহ অন্যান্য সমিতিতে চাকুরী করে এসে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জে যোগদানের পর থেকে নিজেকে খুব ক্ষমতাবান হিসেবে উপস্থাপন করছেন আ’লীগের দোষর এই এ টি এম খালিদ হোসেন। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা বিনোদপুর এলাকায় বাড়ি (জন্মস্থান-পরবর্তীতে রাজশাহীতে বসবাস) হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কয়েকজন পরিচালকের (পরিচালক গোলাম সারোয়ার যজম আত্মীয় (ফুফাতো ভাই), আর আরেক আওয়ামীলীগের মনোনীত পরিচালক মোঃ রাকিবুল ইসলাম) এর সাথে ষড়যন্ত্র করে চলেছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহারাজপুর জোনাল অফিস সাবেক সাংসদ আব্দুল ওদুদ এর ভবন থেকে সরানোর উদ্যোগের ব্যাপারে বিরোধীতা করে দীর্ঘদিন থেকেই নানা কুটকৌশল করে আসছেন এরা। আর এসব ষড়যন্ত্রের সাথে তাল মেলাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বর্তমান জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মোঃ ফজলুর রহমান। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুদ্ধ আওয়ামী বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও।

অন্যদিকে, আওয়ামীলীগের দোষর এ টি এম খালিদ হোসেন এর সকল ষড়যন্ত্র ও পরামর্শে এসব কাজে সাই দিচ্ছেন এবং সহযোগিতা করছেন জি.এম। অন্তর্বর্তীকালিন সরকারের আমলে আইইবি’র বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী এই জিএম ফেনি পবিস থেকে মার্চ/২৫ এ যোগদানের পর থেকে স্বেচ্ছাচারিতা ও নিজের পছন্দমত বিভিন্ন কার্যক্রমও চালাচ্ছেন জি.এম হাওলাদার মোঃ ফজলুর রহমান। এনিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালকদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালকদের সাথে কোন প্রকার পরামর্শ ছাড়ায় আওয়ামী সাংসদদের পছন্দের মনোনীত প্রার্থী (লোক দেখানো নির্বাচন) পরিচালকদের সাথে পরামর্শ করে বিভিন্ন কাজ করছেন। গ্রাহকদের সুযোগ-সুবিধার কথা বিবেচনায় না নিয়ে কোন অজ্ঞাত কারনে নিজ ক্ষমতা ও পছন্দের স্থানে মহারাজপুর জোনাল অফিস স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে জোনাল অফিসের আওতাধিন অধিকাংশ গ্রাহকের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে বলেও জানা গেছে। এছাড়া, সমিতির সভাপতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সকল কাজ করছেন এবং সভাপতির মতামতের কোন তোয়াক্কাও করছেন না জিএম বলেও একাধিক পরিচালকের অভিযোগ। কথাবার্তাও দাম্ভিকতার সাথে বলেন জিএম এবং জিএম এর কথায় সাই দেয়া কয়েকজন পরিচালক কে নিয়ে কাজ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। নিজ প্রয়োজনে সমিতির অনেক টাকা খরচ করে সমিতিতে থাকা জিএম এর বাসভবন সংস্কার করেছেন। এছাড়াও কোন অজ্ঞাত কারণে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছেন না জিএম বলেও বেশ কিছু গ্রাহকদের অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ টি এম খালিদ হোসেন যোগদানের পর থেকেই অজ্ঞাত সুবিধা ভোগের স্বার্থপুরন না হওয়ায় এবং কোন কারন ছাড়ায় নিজের অহংকার ও স্বেচ্ছাচারিতা করে সমিতির বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন করে চলেছেন। এমনকি কোন কারন ছাড়ায় স্বেচ্ছাচারিতা করে নিম্ন একজন কর্মচারী (মহারাজপুর সাব জোনাল অফিসের সিকিউরিটি গার্ড) মোজাম্মেল হক কে ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে পবিত্র রমজান মাসে অন্যত্র বদলীও করেন। পরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে বদলী আদেশ প্রত্যাহার হয়।
এব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সমিতির বিভিন্ন কাজে সংশ্লিষ্টরা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ টি এম খালিদ হোসেন এর যোগদানের পর থেকেই সমিতির বিভিন্নস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন করছেন। এমনকি প্রশাসনিক কর্মকর্তার ক্ষমতা বহির্ভূত কাজও করছেন। এছাড়া এখানে যোগদানের পরই কোন কারণ ছাড়াই ক্ষমতার অপব্যবহার করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একজন কর্মচারীকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং ভয়ভীতি দেখান। তাৎক্ষনিক ওই কর্মচারী ব্রেন ষ্ট্রোক করেন এবং দীর্ঘদিন যাবৎ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হলেও বদলী ও হয়রানীর ভয়ে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী এ্যাডমিন খালিদ হোসেন এর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না।

বর্তমান জেনারেল ম্যানেজার সম্প্রতি সমিতিতে যোগদান করার পরই এ্যাডমিন এ টি এম খালিদ হোসেন ভূল ও মিথ্যা এবং বানোয়াট তথ্য দিয়ে তার পক্ষে নিয়ে নিজের স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতা বহির্ভূত কাজ এবং নানান ষড়যন্ত্র করে চলেছেন। আর কোন অজ্ঞাত কারণে জেনারেল ম্যানেজার সাহেবও তার সকল কথায় সাই দিয়ে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে আওয়ামীলীগের দোষর এই কর্মকর্তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে হওয়ায় এবং কয়েকজন পরিচালক তার আত্মীয় ও আওয়ামীলীগ দলীয় কাছের মানুষ হওয়ায় তিনি তাদের সাথে ষড়যন্ত্র ও কু-পরামর্শ করে চলেছেন। স্বেচ্ছাচারি ও দাম্ভিকতাপূর্ণ এই জেনারেল ম্যানেজার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে দায়িত্ব পালন করলে ৫ আগষ্ট ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালিন সরকারের দেয়া নির্দেশনা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। সমস্যায় পড়বে সাধারণ গ্রাহকরাও। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির স্বার্থে ও সাধারণ গ্রাহকদের সেবার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এমন স্বেচ্ছাচারি ও সরকার বিরোধী কর্মকর্তাদের দ্রুত অপসারণ করা জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও জানান ভূক্তভোগিরা।
জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহারাজপুর জোনাল অফিসটি মহারাজপুর হাটে আব্দুল মান্নান ঠিকাদার (টুনু কনটাক্টর) এর ভবনে দীর্ঘদিন থাকলেও ক্ষমতা খাটিয়ে মহারাজপুর ঘোড়াস্ট্যান্ড বাজারে নিজ ভবনে স্থানান্তরিত করে নিয়ে যান আওয়ামীলীগের সাবেক সাংসদ মোঃ আব্দুল ওদুদ এবং তৎকালিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বোর্ডের সদস্য সচিব আওয়ামীলীগ নেতা মনিরুল ইসলাম। ক্ষমতাসিন দলের এমপি ও তাদের নেতা-কর্মীদের ভয়ে এলাকার গ্রাহক এবং সাধারণ মানুষ বিষয়টি নিয়ে বাধা দেয়া বা মুখ খোলার সাহস করতে পারেনি।

৫ আগষ্ট ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর সাংসদের ভবন এবং আতংকিত এলাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহারাজপুর জোনাল অফিসটি মহারাজপুর হাটে আবারও স্থানান্তর করার জন্য আবেদন জানায় এলাকার গ্রাহক ও সচেতন মহল। কিন্তু আওয়ামীলীগের মনোনীত (সাজানো নির্বাচনের প্রার্থী) পরিচালক গোলাম সারোয়ার যজম ও রাকিবুল ইসলাম বিষয়টি কে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রে নামেন। পরিস্থিতির সব কিছু জানার পর নিরাপত্তার কথা ভেবে মহারাজপুর জোনাল অফিস স্থানান্তরের আবেদনের বিষয়টি সমিতি বোর্ডে তোলা হলেও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) তে অনুমোদনের বিষয় নিয়ে টালবাহানা হয়। অবশ্য পরবর্তীতে নীতিমালা মোতাবেক বিষয়টি আরইবি’তেও অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, অফিস স্থানান্তরের জন্য ভবন ও স্থান নির্ধারণের জন্য একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু কমিটিতে আওয়ামীলীগের দোষর চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ টি এম খালিদ হোসেন আ’লীগের সাংসদের ভবন থেকে অফিস না সরানোর জন্য নানান টালবাহানা ও অযোক্তিক বিভিন্ন ফন্দি করতে থাকেন। তার এই ষড়যন্ত্রের সাথে যোগ দেন সমিতির পানাতো নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত পরিচালক গোলাম সারোয়ার যজম ও রাকিবুল ইসলাম। চালাতে থাকে নানান কুট কৌশল ও ফন্দি। এমন অবস্থায় তৎকালিন জি.এম প্রকৌশলী মোঃ ছানোয়ার হোসেন বদলী হয়ে যাওয়ায় এসব ষড়যন্ত্রকারীদের আরও সুবিধা হয়ে যায়। এদিকে, বর্তমান জি.এম কে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভুল ব্যাখা দিয়ে এ টি এম খালিদ হোসেন ও তার সহযোগি পরিচালকদের মত ও পরামর্শ সাজিয়ে গুছিয়ে বলে তাদের সিদ্ধান্তের পক্ষে নেন। সেই মতই আওয়ামীলীগের দোষরদের সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ বাস্তবায়নে উঠে পড়ে লাগেন বর্তমান জি.এমও। গ্রাহকদের চাহিদা, সুবিধা-অসুবিধার কথা চিন্তা না করে এবং সভাপতি ও সচেতন পরিচালকদের মতামতের কোয়াক্কা না করে আ’লীগের দোষর কর্মকর্তা ও পরিচালকদের কথায় সমিতির জিএম একটি ভালো ভবন ও গাড়ি পার্কিংসহ সুব্যবস্থা আছে এমন ভবন ছেড়ে একটি ডোবায় নির্মাণ হওয়া এবং এসব সুবিধা না থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ ও আতংকিত এলাকা (যে স্থানে প্রায়শই সড়ক দূর্ঘটনা ঘটে) অফিসের জন্য ভবন নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন বলেও জানা গেছে। সচেতন গ্রাহক ও এলাকাবাসীর ধারণা, আওয়ামীলীগের দোষরদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন, কোন অজ্ঞাত কারন, অথবা কোন অজ্ঞাত সুবিধা নিয়ে সুবিধাজনক স্থান বা ভবন ছেড়ে মহারাজপুর হাটের পশ্চিম কোনে প্রতি বছর বণ্যার পানিতে দীর্ঘদিন ডুবে থাকা ভবন অফিসের জন্য নেয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন সমিতির এ্যাডমিন ও জিএম।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বোর্ড নির্বাচনে অংশ নেয়া এক প্রার্থী ইব্রাহিম আহমেদ সুমন বলেন, বর্তমান সভাপতি অনেকদিন সমিতি বোর্ডের পরিচালক হিসেবে আছেন। কিন্তু তেমন কোন অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা নেই। আর এজন্যই জিএম সভাপতিকে মূল্যায়ন করেন না। এছাড়াও সমিতির এ্যাডমিন একজন আওয়ামী পরিবারের লোক, তাঁর বেশ কিছু স্বেচ্ছাচারী ও দাম্ভিকতার বিষয় জানা গেছে। তিনিও আওয়ামীলীগের মনোনীত দুই/একজন পরিচালকদের সাথে যোগসাজস করছেন বিভিন্ন কাজে। আর কোন অজ্ঞাত কারণে বর্তমান সময়েও এমন আওয়ামীলীগের দোষর কর্মকর্তা ও পরিচালককে সহযোগিতা করছেন জিএম। বিষয়গুলো অবশ্যই একজন গ্রাহক হিসেবে ভালো মনে হচ্ছে না। এখনো ফ্যাসিস্টদের দৌরাত্ব চালানো হচ্ছে, সেটা চলতে দেয়া যায় না। পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের স্বার্থে এমন কর্মকর্তাদের অপসারণ করা জরুরী।
এছাড়াও একটি কৃষি সমন্বিত খামারে সমিতির সকল শর্ত পূরণ করলেও বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েও নানা টালবাহানা করছেন জি.এম হাওলাদার মোঃ ফজলুর রহমান। দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় পানি সেচের অভাবে চরম ক্ষতি ও হুমকির মুখে পড়েছে ওই খামারের মাছ, জীব বৈচিত্র ও গাছপালা। মাছ ও গাছপালা বাঁচাতে অতিরিক্ত খরচ করে অন্যস্থান থেকে পানি নিয়ে কোনরকমে খামার রক্ষা করছেন খামারের মালিক। বার বার অনুরোধ করলেও কোন কথায় কর্ণপাত করছেন না জিএম।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমিতি বোর্ডর ২ জন পরিচালক জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জি.এম এর দাম্ভিকতা রয়েছে। তিনি সমিতির সভাপতিকেও সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেন না। তাঁর পছন্দমত পরিচালকদের নিয়ে তিনি নিজের মতো করে পরামর্শ করেন। তাঁর সেচ্ছাচারিতার ঘটনাও রয়েছে। আওয়ামীলীগের দোষরদের সাথে যোগসাজস করে এসব কাজ করছেন জিএম। জি.এম হাওলাদার মোঃ ফজলুর রহমান, এ্যাডমিন খালিদ হোসেন এর বিষয়ে নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার তথ্য ও অভিযোগ রয়েছে। সমিতি বোর্ডের নিয়ম মোতাবেক সমিতির সভাপতির সাথে এবং পরিচালকদের সাথে আলোচনা বা আদেশ এবং সিদ্ধান্ত ছাড়া কাজ করতে পারেন না জিএম। কিন্তু তিনি কোন প্রয়োজন হলে তাঁর অধিনস্ত কর্মকর্তাদের দিয়ে সভাপতির সাথে কথা বলান এবং সভাপতিকে সঠিক সম্মান দিতেও রাজি নন জিএম। কিন্তু গ্রাহকদের প্রতিনিধির সাথে এমন টা মোটেও ঠিক করছেন না তিনি। মহারাজপুর জোনাল অফিস স্থানান্তর, অপ্রয়োজনীয় খরচ করে নিজ বাসভবন সংস্কার, গ্রাহক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে দম্ভ নিয়ে কথা বলাসহ সমিতির বেশ কিছু কাজ তিনি স্বেচ্ছচারিতা করে করছেন, যা মোটেও ঠিক করছেন না। এছাড়া আওয়ামীলীগের দোষরদের সাথে যোগসাজস করে বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছেন, স্বৈরাচার পতনের পরও যদি এমন কর্মকর্তা বা ষড়যন্ত্রকারী জিএম বা অন্য কর্মকর্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে জেলার এবং গ্রাহকদের অপুরনীয় ক্ষতি হবে। এমন কর্মকর্তাদের জেলা থেকে অপসারণ করাই সমিতির জন্য এবং গ্রাহকদের জন্য ভালো এবং দরকার।
এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বোর্ডের সভাপতি মোঃ আশরাফ আলী জানান, অফিস স্থানান্তরের বিষয়টি সমিতির বিষয়। কোন বিষয় নিয়ে কথা বললে, সে বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করতে হবে, তারপর সব প্রশ্নের উত্তর দেয়া যাবে। অদক্ষতা ও স্বল্প শিক্ষিত ভেবে জিএম সাহেব এর দ্বারা অবহেলিত বা অবমূল্যায়ন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। অফিস স্থানান্তর নিয়ে তিনি নানা ধরনের কথাবার্তাও বলেন, যা রীতিমত প্রশ্নবিদ্ধ। সব মিলিয়ে সমিতির বিভিন্ন কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারীতা ও অনিয়মের বিষয়ে তিনি অনেকটা অদক্ষতার পরিচয় দিয়ে কথা বলেন। তাঁর কথাবার্তায় বোঝা যায়, তিনিও আওয়ামীলীগের দোষর হিসেবে আওয়ামীলীগের লোকজনের ষড়যন্ত্রে যোগসাজস করছেন এবং ষড়যন্ত্রের সাথে তিনিও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।
অন্যদিকে, সমিতির সভাপতি হিসেবে মহারাজপুর জোনাল অফিস স্থানান্তরের বিষয়ে তেমন কিছুই জানেন না তিনি। এটাতেই প্রমান হয়, সমিতির সভাপতি আশরাফ আলী কে সমিতির জিএম, এ্যাডমিন খালিদ হোসেনসহ অনেকেই তেমন একটা তোয়াক্তা বা পাত্তা দেন না। জিএমসহ বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছ থেকে বিশেষ তদবির ও সুবিধা নেয়ার কারণেই সভাপতি আশরাফ আলী সমিতির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে চান না বলেও একটি সুত্র জানায়। পদের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও তার অদক্ষতা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই।
সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল আলিম বলেন, মহারাজপুর জোনাল অফিস আওয়ামীলীগের সাংসদের ভবন থেকে সরানোর জন্য সমিতির জিএম সাহেবকে বলেছিলাম গ্রাহকদের আবেদনের পরপরই। কয়েকমাস হয়ে গেলেও এখনো সেটা সম্পন্ন হয়নি। এছাড়া একটি ভবনের মালিকের সাথে প্রায় ৬/৭ মাস ধরে থাকাবার্তা বলতেই ছিলেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লোকজন। কিন্তু বর্তমানে ওই ভবন মালিক কে ক্ষতিগ্রস্থ করে এবং এতদিন অপেক্ষা করিয়ে এবং গ্রাহকদের অপছন্দ ও গ্রাহকদের সুবিধা নেই, এমন নতুন একটি ভবন নেয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন সেটা শুনেছি। সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি বলেন, গ্রাহকদের সুবিধা এবং চাওয়া-পাওয়া বিবেচনা করেই সব করতে হবে। ফ্যাসিস্টরা দৌরাত্ব চালানোর চেষ্টা করবে, কিন্তু আমাদের তা প্রতিহত করতে হবে। কোনভাবেই ফ্যাসিস্টদের রাজত্ব চলতে দেয়া যাবে না। স্বেচ্ছাচারিতা ও ষড়যন্ত্র করে কোন সিদ্ধান্ত নিলে সেটা সচেতন ব্যক্তিবর্গ ও সাধারন গ্রাহকদের সাথে নিয়ে মোবাকেলা করা হবে।
এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বোর্ডের সদস্য সচিব মোঃ জাহিদ হাসান বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিয়মের বাইরে কিছু করার নেই সমিতির জিএম বা অন্যান্য কর্মকর্তার। যদি করে থাকে তাহলে সেটা অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতা। সমিতির সভাপতি বা অন্যান্য পরিচালকদের সাথে আলোচনা বা পরামর্শ ছাড়াও কোন কাজ করতে পারেন না সমিতির কর্মকর্তারা। যদি এমন কোন কাজ করে থাকেন জিএম বা অন্যান্য কর্মকর্তা, তাহলে সমিতি বোর্ডের সভায় সে ব্যাপারে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মহারাজপুর জোনাল অফিস স্থানান্তরের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা অফিসের জন্য ভবন দেখে এসেছি। জেনেশুনে বুঝে অফিসের জন্য ভবন ঠিক করা হবে এবং অবশ্যই পল্লী বিদ্যুৎ এর গ্রাহকদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়েই করা হবে। কারো নিজ পছন্দ বা স্বেচ্ছাচারীতা করে সিদ্ধান্ত নেয়া মেনে নেয়া হবে না। সর্বপরী গ্রাকহদের স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সব করা হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ.টি.এম খালিদ হোসেন ‘চাঁপাই দর্পণ’ কে বলেন, আমার সাথে গ্রাহকদের কোন বিষয় সম্পৃক্ত নয়। স্বেচ্ছাচারিতা, ষড়যন্ত্র, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে দূর্ব্যাবহার, অসৌজন্যমূলক আচরন বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জি.এম সাহেবের সাথে কথা বলতে বলেন। তিনি বলেন, আমার বিষয়ে জি.এম সাহেবই সঠিকভাবে জানেন এবং বলবেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মোঃ ফজলুর রহমান ‘চাঁপাই দর্পণ’ কে বলেন, এ্যাডমিন’র সীমাহিন স্বেচ্ছাচারিতা, দূর্ব্যাবহার, অসৌজন্যমূলক আচরন বিষয়ে আমার কাছে কোন গ্রাহক বা কর্মচারী মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ করেনি। যদি করেন, তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মাহারাজপুর সাব জোনাল অফিস স্থানান্তরের বিষেয়ে গুড়িমুশি চালাচ্ছে প্রশাসনিক কর্মকর্তা খালিদ হোসেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, গুড়িমুশির কোন সুযোগ নাই। অফিস স্থানান্তরের বিষয়ে ৫সদস্য বিশিষ্ট কমিটি আছে। যা হবে কমিটির মাধ্যমে। এ্যাডমিন এবং নিজের স্বেচ্ছাচারিতা বিষয়ের প্রশ্নে সঠিক উত্তর না দিয়ে তিনি বিভিন্ন অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। তিনি বলেন, আমার জানামতে সমিতির কাজের জন্য কোন অনিয়ম হয়েছে বলে আমার জানা নেই। আমার জানার বাইরে কোন কিছু ঘটে থাকলে সেটা আমার কাছে অভিযোগ দিতে বলেন। তদন্ত করে দোষী হলে অব্যশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া, কর্মচারীদের দেখাশুনার দায়িত্ব এ্যাডমিন এর নয়। কিছুদিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে কর্মচারীদের দেখভাল করেছেন এইমাত্র। তিনি আরও বলেন, সমিতি অফিসে কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে, সে বিষয়ে ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করলে তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। না জেনে কোন বিষয়ে মন্তব্য করা সঠিক হবে না বলেও তিনি জানান।
