Category: বরিশাল

  • আইনের শাসনের কোনো বিকল্প নেই- প্রধান বিচারপতি

    আইনের শাসনের কোনো বিকল্প নেই- প্রধান বিচারপতি

    শোষণহীন সমাজ গঠন ও সমাজের সর্বস্তরে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আইনের শাসনের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। সোমবার সন্ধ্যায় বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ উপলক্ষে নগরীর শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত আইনজীবী এ্যানেক্স ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধান বিচারপতি বলেন, কোর্ট অফিসার হিসেবে আইনজীবীর প্রথম কর্তব্য হলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আদালত ও আইনের বিধিবিধানের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করে সহযোগিতা করা। বার ও বেঞ্চ একত্রে বিচারবিভাগ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একে অন্যের পরিপূরক, প্রতিপক্ষ নয়-এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, আইন পেশায় সফল হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই। আইন পেশায় সাফল্য পেতে প্রয়োজন একাগ্র, নিষ্ঠা, সততা, ধৈর্য্য ও পরিশ্রম। প্রধান বিচারপতি বলেন, আইন শেখা মানুষকে সহিষ্ণু হতে শেখায়। সম্মান করতে শেখায়। বিচার বিভাগের সম্মান রক্ষার দায়িত্ব সবার। বিচার বিভাগের ভাবমূতি নষ্ট হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ডে নিজেদের না জড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। বক্তব্যের শুরুতে প্রধান বিচারপ্রতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ জুলাই-অগাস্টের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করে বলেন, যাদের আত্মত্যাগে নতুন বাংলাদেশের জন্ম নিয়েছে এদেশের মানুষ চিরকাল তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। এ সময় বরিশাল আদালতের বিচার কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, বরিশাল আদালতে বিভিন্ন পর্যায়ে ৪৭ জন বিচারক মামলা দায়েরের তুলনায় শতভাগ মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। কিছু কিছু আদালতের বিচারক মামলা দায়েরের তুলনায় শতভাগের বেশি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। পরিসংখ্যান অনুসারে, এ বছর আট হাজার ৯২৪টি দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার বিপরীতে আট হাজর ৯৩৬ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। যা প্রমাণ করে, জন-আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশের পথে আমরা হাঁটছি। শত বাধা সত্ত্বেও আস্থা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বিচারকরা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে চলছে। বরিশাল জেলা লিগ্যাল এইড কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে প্রি-কেস মামলায় এক কোটি ৬৮ লাখ ৩৪০ টাকা এবং পোস্ট-কেইস মামলায় দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা পক্ষকে আদায় করে দিয়েছে। যা আশাব্যাঞ্জক। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি গোলাম কবির বাদলের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন আদালতের বিচারকসহ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বরিশালে আন্তর্জাতিক বিশ্ব গণতন্ত্র দিবস পালন

    বরিশালে আন্তর্জাতিক বিশ্ব গণতন্ত্র দিবস পালন

    বরিশালে আন্তর্জাতিক বিশ্ব গণতন্ত্র দিবস পালন ও কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশ এবং শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার নগরীর বান্দ রোড এলাকার প্লানেট ওয়াল্ড শিশু পার্কের সম্মুখে সমাবেশের আয়োজন করেন বিএনপির নেতৃবৃন্দরা। হাজারো নেতাকর্মীদের অংশ গ্রহণে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এর আগে সকাল ১১টায় খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড, উপজেলা এবং আশপাশের জেলা সদর থেকে নেতাকর্মীরা এসে জড়ো হন। স্লোাগনে স্লোাগনে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুকের সভাপতিত্বে এখানে প্রধান অতিথির হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান।

  • বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ ॥ আহত শতাধিক

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ ॥ আহত শতাধিক

    নগরীতে একটি বাড়ির নির্মাণ কাজের বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাতভর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুই প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে, তাদের মধ্যে ৮২জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
    মঙ্গলবার রাত ১১টা থেকে বুধবার ভোর ৫টা পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে ভাঙচুর করা হয়েছে দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছয়টি বাসসহ বিএম কলেজের বিভিন্ন স্থাপনা। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক মো. মুহসিন উদ্দীন ও বরিশাল বিএম কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুল হক জানিয়েছেন, নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভা করে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সিদ্বান্ত নেওয়া হবে।
    দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল নগরীর ব্যাপটিস্ট মিশন রোডে একটি বাড়ির নির্মাণকাজ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। বিএম কলেজ শিক্ষার্থী আসফিয়া জান্নাতুল অনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও বক্তব্যে জানান, ব্যাপটিস্ট মিশন রোডে তাদের বাড়ি নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসনুভা চৌধুরী জোয়ার পরিবার। বিষয়টি সমাধানের জন্য তিনি তার কলেজের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের কাছে যান।
    পরে সোমবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিএম কলেজ সমন্বয়করা ঘটনাস্থলে গিয়ে জোয়ার পরিবারের কাছে বিষয়টি জানতে চায়। তখন জোয়ার পরিবার তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে অভিযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খবর দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসে হামলা করলে বিএম কলেজের কয়েকজন সমন্বয়ক আহত হন। প্রতিষ্ঠান দুটির শিক্ষার্থীরা জানান, এ নিয়ে মঙ্গলবার দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বিকালে দুই শিক্ষাঙ্গনে পাল্টাপাল্টি মানববন্ধনও করা হয়। এর মধ্যে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে নগরীতে পেয়ে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে বিএম কলেজে শিক্ষার্থীরা। এ খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০-৫০ জন শিক্ষার্থী একটি বাস নিয়ে নগরীর বটতলা এলাকায় আসে। তখন বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা সেই বাসে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও চালকসহ ১৫/২০ জনকে আহত করে। এই হামলার খবর পেয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা আরও সংঘটিত হয়ে কয়েকটি বাস-ট্রাক বোঝাই হয়ে বিএম কলেজে গিয়ে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এ সময় সঙ্গে করে ট্রাক ভর্তি পাথর, বেশ কয়েকটি থ্রি হুইলার ভর্তি ইটের টুকরা, লাঠি, হকিস্টিক নিয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া সবার হাতেই রড, পাইপ, লাঠি আর ধারালো দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে।
    পরে রাত পৌনে ৩টা নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা। প্রায় ১ ঘণ্টা চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় তারা। এই হামলার সময় বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে আটক হয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থী। তাদের কলেজের কেন্দ্রীয় মসজিদে রাতভর আটকে রাখা হয়। পরে দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের উপস্থিতিতে আটক শিক্ষার্থীদের ফেরত দেওয়া হয়। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ৮২ জন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে, বাকিরা আশঙ্কামুক্ত।

  • দেশব্যাপী শিক্ষক নির্যাতন-আইন বহির্ভুত অপসারণের প্রতিবাদে বরিশালে মানববন্ধন

    দেশব্যাপী শিক্ষক নির্যাতন-আইন বহির্ভুত অপসারণের প্রতিবাদে বরিশালে মানববন্ধন

    দেশব্যাপী শিক্ষক নির্যাতন, আইন বহির্ভুত অপসারণের প্রতিবাদে মানববন্ধন হয়েছে। শনিবার কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বেলা ১২ টায় বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। এতে শিক্ষক নেতৃবৃন্দরা বলেন, শিক্ষকরা যাতে আর অপমানিত না হয়, তাদের যেন পদত্যাগ করতে না হয় সেজন্য তারা বর্তমান সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি উপাধক্ষ্য আনোয়ারুল হক। বক্তব্য রাখেন, জেলার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক কামাল হোসেন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ জাকির হোসেন, গোলাম মজুমদার, জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সালাম, জেলা কমিটিরসহ সভাপতি। এসময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • বন্যায় ছয় জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৮ লাখ মানুষ

    বন্যায় ছয় জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৮ লাখ মানুষ

    অবিরাম ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে দেখা দিয়েছে প্রবল বন্যা। এতে করে তলিয়ে গেছে দেশের ছয় জেলা। ফলে কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী ও মৌলভীবাজারের অন্তত ১৮ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেই সঙ্গে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৬৩টি পরিবার। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে জানানো হয়, বন্যাকবলিত ছয় জেলার ৪৩টি উপজেলা ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে বন্যার পানিতে ডুবে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয় প্রদানের জন্য খোলা ১ হাজার ৩৫৯টি আশ্রয়কেন্দ্র ঠাঁই নিয়েছেন ১৭ হাজার ৮৮২ জন মানুষ। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে ৩ হাজার ৪৮৬টি গবাদি পশু। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানায়, আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই অবস্থায় বন্যা আক্রান্ত জেলাগুলোয় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ফেনীর বন্যাকবলিত এলাকায় সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছে জানিয়ে বন্যা পরিস্থিতির হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাবাহিনী থেকে ৪০টি উদ্ধারকারী যানসহ ১৬০ জন সদস্যকে ফেনীতে পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে ইতোমধ্যে একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৮টি উদ্ধারকারী যান নিয়ে নৌবাহিনীর ৭১ জন সদস্য উদ্ধারকাজ করছে। এ ছাড়াও বিজিবিসহ আরও নৌযান আনার কার্যক্রম চলছে। অন্যদিকে, বন্যাকবলিত জেলাগুলোর প্রশাসকদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, সেনাবাহিনী, মেডিকেল টিম ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সমন্বয় করে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জানিয়ে হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তথ্য ও সহযোগিতার জন্য ০২৫৫১০১১১৫ নম্বরে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

  • ববিতে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা ॥ সমন্বয়কসহ ১২ জন পুলিশ হেফাজতে

    ববিতে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা ॥ সমন্বয়কসহ ১২ জন পুলিশ হেফাজতে

    দেশব্যাপী ছাত্র হত্যা ও শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে সংহতি কর্মসূচি পালনকালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক সুজয় শুভ সহ ১২ জনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (০১ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানার ওসি আব্দুর রহমান মুকুল বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিল, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যেন কোনো ঝামেলা না হয় সেজন্য তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে কর্মসূচি শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় ছাত্রলীগ পরিচয়দানকারীরা সেখানে লাঠিসোঠা নিয়ে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে মিছিল বের করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং সমন্বয়কসহ ১২ জনকে হেফাজতে নেয়। সর্বশেষ ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং ছাত্রলীগ পরিচয়দানকারীরাও ক্যাম্পাসে মহড়া দেয়া অব্যাহত রেখেছে।

  • এক দফা দাবিতে বিএনপির ‘জাতীয় ঐক্যের’ ডাক

    এক দফা দাবিতে বিএনপির ‘জাতীয় ঐক্যের’ ডাক

    সরকার পতনের ‘এক দফা’ দাবিতে সকল বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে নিয়ে ‘জাতীয় ঐক্য’ গঠনের ডাক দিয়েছে বিএনপি। শুক্রবার (২৬ জুলাই) রাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের প্যাডে নিজের স্বাক্ষরে ‘অবৈধ, সরকারের পতনের ন্যূনতম এক দফা’-দাবিতে সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি-এমন শিরোনামে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, সময় ও যোগাযোগের প্রতিবন্ধকতার কারণে বিবৃতির মাধ্যমে সম্মতি প্রদান করা যেতে পারে। শিগগির সম্মতিপ্রাপ্ত সবার স্বাক্ষরে যৌথ বিবৃতি প্রদান করা হবে। জাতীয় ঐক্যের এই ঐতিহাসিক ঘোষণা ও দলিল দেশ এবং জাতির মুক্তি ত্বরান্বিত করবে ইনশা আল্লাহ। মির্জা ফখরুল বলেন, জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে জাতীয় বৃহত্তর স্বার্থে, লুণ্ঠিত গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার, অধিকারহীন জনগণের ও জাতির মুক্তির লক্ষ্যে আমরা ন্যূনতম এক দফার ভিত্তিতে এবং দাবিতে দেশের সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, ব্যক্তি ও শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি ‘জাতীয় ঐক্য’ গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি। বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, আমরা বিএনপির নেতৃত্বে যুগপৎ আন্দোলনের সব শরিক দল ও জোট, বাম-ডান সব রাজনৈতিক দল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ধর্মভিত্তিক ও সব ইসলামি রাজনৈতিক দল এবং সংগঠনের প্রতি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানাচ্ছি।
    উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে বিএনপি, গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, গণঅধিকার পরিষদ, লিভারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি, গণফোরাম, পিপলস পার্টি, লেবার পার্টি, এনডিএ, ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ প্রভৃতি সংগঠন সরকার পতনের এক দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলন শুরু করে। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির পর থেকেই বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যেতে পারেনি। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে সরকারে আসা আওয়ামীলীগের পতনে একাধিকবার ‘এক দফা’ আন্দোলনে নামে বিএনপি।

  • ছয়দিন পর বরিশাল থেকে লঞ্চ চলাচল শুরু

    ছয়দিন পর বরিশাল থেকে লঞ্চ চলাচল শুরু

    চলমান পরিস্থিতিতে ছয়দিন বন্ধ থাকার পর বরিশাল থেকে বরিশাল-ঢাকা ও ঝালকাঠি-চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথের লঞ্চ চলাচাল শুরু হয়েছে। বরিশাল নৌ-বন্দর থেকে শনিবার রাতে এমভি অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। শুক্রবার রাত ৯টায় যাত্রী নিয়ে একটি লঞ্চ বরিশাল নৌ-বন্দর ত্যাগ করেছে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক রিয়াদ হোসেন। এছাড়াও ঝালকাঠি থেকেও একটি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বলে জানান তিনি। রিয়াদ হোসেন বলেন, বরিশালে রাত ৯টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল থাকায় এমভি অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চ বরিশাল নৌ-বন্দর থেকে ছেড়ে গেছে। একইভাবে ঝালকাঠি থেকে এমভি সুন্দরবন-১২ লঞ্চটি ছেড়ে গেছে। এ লঞ্চটি চাঁদপুরে ঘাটেও ভিড়বে। তবে লঞ্চ ছাড়ার সময় ঢাকায় কারফিউ শিথিল না থাকায় সদরঘাট থেকে কোন লঞ্চ না ছাড়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। এমভি অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. মাসুদ বলেন, একটিমাত্র লঞ্চ চালু থাকায় যাত্রীর চাপ কিছুটা বেশি। এদিকে, লঞ্চ চালু হওয়ায় খুশি যাত্রীরাও।
    উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার পর কারফিউর কারণে গত ২০ জুলাই থেকে বরিশাল-ঢাকাসহ দক্ষিণাঞ্চলের সব রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কারফিউ শিথিল হওয়ায় গত তিনদিন ধরে অভ্যন্তরীণ রুটের লঞ্চ চলাচল শুরু হলেও দূরপাল্লার লঞ্চ বন্ধ ছিল।

  • পিরোজপুরে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় নিহত ২

    পিরোজপুরে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় নিহত ২

    পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় এক নারী ও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৪ জন। নিহতরা হলেন-গৃহবধূ ঝুমাইয়া আক্তার (৩২) ও হাওয়া (৯)। সোমবার সকালে উপজেলার ভান্ডারিয়া-তুষখালী-মঠবাড়িয়া সড়কের দক্ষিণ ইকরি গ্রামের সাহেববাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন-ইয়াসিন (৫), মায়া বেগম (৩৫) হাফিজা আক্তার (২৮) ও হোসেন (৩২)। তাদের বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী রুবেল হোসেন বলেন, ঝুমাইয়া ও হাওয়াসহ কয়েকজন তাদের স্বজনদের চট্টগ্রামগামী বাসে উঠিয়ে দিতে সাহেববাড়ি এলাকায় আসেন। তারা রাস্তার পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় মঠবাড়িয়ার দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে ঝুমাইয়া ও হাওয়া মারা যান। রুবেল বলেন, আহতদের প্রথমে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ভান্ডারিয়া থানার এসআই মো. জসিম উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পর পিকআপ ভ্যানটি আটক করা গেলেও চালক পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, এ ঘটনায় গাড়ির স্টাফ সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে।

  • কৃষি গবেষণা শক্তিশালী করতে বরিশালে ২ দিনব্যাপী কর্মশালা

    কৃষি গবেষণা শক্তিশালী করতে বরিশালে ২ দিনব্যাপী কর্মশালা

    কৃষি গবেষণাকে আরও শক্তিশালী করতে বরিশালে দুইদিন ব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রহমতপুরে আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে এর হলরুমে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) সেবা ও সরবরাহ উইংয়ের পরিচালক ড. ফেরদৌসী ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বারির পরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) ড. এম এম কামরুজ্জামান এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. শওকত ওসমান। সভাপতিত্ব করেন আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. বিমল চন্দ্র কুন্ড। আমাদের উদ্ভাবিত জাত এবং প্রযুক্তিগুলো দেশের অন্যান্য এলাকার ন্যায় দক্ষিণাঞ্চালেও ব্যবহার হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে এ অঞ্চলের কৃষি এগিয়ে যাচ্ছে। যদিও উপকূলীয় এই এলাকাগুলো কৃষিকাজ বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে রয়েছে অনেক সম্ভাবনা। এসব বিষয়গুলো নিয়ে কৃষি বিজ্ঞানী এবং সম্প্রসারণবিদদের মধ্যে পারষ্পারিক আলোচনা হবে। একই সাথে গবেষণায় জন্য আগামী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। এতে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন হবে। আর তা সম্মিলিত প্রচেষ্টাই বাস্তবায়ন সম্ভব।