Category: আন্তর্জাতিক

  • তামিলনাড়ুর হাসপাতালে আগুনে ৬ জনের মৃত্যু

    তামিলনাড়ুর হাসপাতালে আগুনে ৬ জনের মৃত্যু

    ভারতের তামিলনাড়ুর একটি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় লিফটে আটকা পড়া অবস্থায় অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) গভীর রাতে তামিলনাড়ুর দিন্দিগুল শহরের ত্রিচি রোডের সিটি হসপিটালের এ দুর্ঘটনায় নিহতের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস। পুলিশ জানিয়েছে, হাসপাতালে আগুন লাগার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ এবং দমকলের সদস্যরা পৌঁছে। সাথে সাথে আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়েছিল সেখানে। তবে শেষ পর্যন্ত ৬ জনের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকাজ চলাকালীন হাসপাতালের লিফটে ৬ জনকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাদের নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৬ জনেরই মৃত্যু হয়েছে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে। তবে এরই মধ্যে সেই হাসপাতাল থেকে ৩০ জন রোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় দমকল বাহিনী। উদ্ধার হওয়া রোগীদের সেখান থেকে নিয়ে গিয়ে সরকারি জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা, শর্টসার্কিটের কারণে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। এর আগে গত নভেম্বর মাসে উত্তর প্রদেশের ঝাঁসির মহারানি লক্ষ্মীবাঈ মেডিকেল কলেজের নবজাতকদের জন্য নির্ধারিত আইসিইউ বিভাগে আগুন লাগে। সেই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১ জন নবজাতকের মৃত্যু হয়েছিল।

  • বাংলাদেশীদের হোটেলে থাকতে দিচ্ছেনা ভারত- ভারতের মালদায় হোটেলে থাকতে দেয়া হয়নি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিশিষ্ট এক ব্যবসায়ীকে ॥ ক্ষুদ্ধ ব্যবসায়ীরা

    বাংলাদেশীদের হোটেলে থাকতে দিচ্ছেনা ভারত- ভারতের মালদায় হোটেলে থাকতে দেয়া হয়নি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিশিষ্ট এক ব্যবসায়ীকে ॥ ক্ষুদ্ধ ব্যবসায়ীরা

    বাংলাদেশীদের হোটেলে থাকতে দিচ্ছেনা ভারত

    ভারতের মালদায় হোটেলে থাকতে দেয়া হয়নি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিশিষ্ট এক ব্যবসায়ীকে ॥ ক্ষুদ্ধ ব্যবসায়ীরা

    ব্যবসায়ীক কাজে ভারতে দিয়ে ভারতের মালদায় হোটেলে থাকতে দেয়া হয়নি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিশিষ্ট এক ব্যবসায়ীকে ॥ রীতিমত ক্ষুদ্ধ ভূক্তভোগী ব্যবসায়ী। বৈধ ভিসা নিয়ে ব্যবসার কাজে গিয়ে এ ধরনের হয়রানি মূলক আচারন খুবই দুঃখ জনক। এটি একজন প্রতিবেশি দেশের কাছে মোটেও কাম্য নয় বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভূক্তভোগী ওই ব্যবসায়ী। পাশপোর্ট ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশের সময় কোন বাধা না দিলেও মালদা শহরে এই হয়রানী করা হচ্ছে এবং এ খবরে সেখানকার স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও অনেকটায় হতবাক ও দুঃখিত। শুধু তাই নয়, ভারতের বর্ধমানে একই অবস্থা, কোন হোটেলে থাকতে দেয়া হচ্ছে না বাংলাদেশীদের। বিষয়টির অবশ্যই দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভারত-বাংলাদেশ জয়েন্ট চেম্বার অব কমার্স এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি মোঃ আব্দুল ওয়াহেদ।

    ভূক্তভোগী জেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নবাব অটো রাইস এন্ড ফিড মিলস্ লিমিটেড এর স্বত্তাধিকারী আলহাজ্ব মোঃ আকবর হোসেন জানান, আমি চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক। আমি শনিবার (৭ ডিসেম্বর/২৪) তারিখে ব্যবসায়িক কাজে ভারতের মামলা জেলায় অবস্থান করি। আমি শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে হোটেলে রাত্রি যাপন করার জন্য মালদা শহরের ব্যস্ততম ৪২০ মোড়ে হোটেল পাপাইলিও তে প্রথমে যাই এবং ম্যানেজারের সাথে কথা বলি এবং হোটেলে রাত্রি যাপন করার বিষয়টি জানায়। হোটেল ম্যানেজার আমাকে বলেন যে, প্রতি রাত্রি ২ হাজার ৫৫০ টাকা করে ভাড়া দিতে হবে।

    এরপর আমার কাছে আইডি কার্ড, ভিসা ও পাসপোর্ট দেখতে চান, আমি আমার বৈধ কাগজপত্র দেখায়। হোটেল ম্যানজার কাগজপত্র দেখে বলেন, আমরা কোন বাংলাদেশীকে হোটেলে অবস্থান করতে দিবো না। এরপর পাশ্ববর্তী আরেকটি হোটেলে যায় হোটেল ম্যাংগো লিফট এবং ম্যানেজারের সাথে কথা বলি যে আমরা বাংলাদেশ থেকে ব্যাবসায়িক কাজের জন্য এসেছি, এখানে রাত্রি যাপন করবো। হোটেল ম্যানেজার বলেন যে প্রতি রাত্রি ২৫৫০ টাকা হোটেল ভাড়া দিতে হবে। এরপর আমাদের কাছে কাগজপত্র দেখতে চান এবং আমরা বাংলাদেশী ব্যবসায়িক ভিসা ও পাসপোর্ট দেখায়। কিন্তু হোটেল ম্যাংগো লিফট এর ম্যানেজার বাংলাদেশী বৈধ ব্যবসায়িক ভিসা ও পাসপোর্ট দেখে বলেন, মালদা জেলায় যে সকল হোটেল আছে, তাতে কোন বাংলাদেশীকে হোটেলে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই আপনারা কেউ থাকার জন্য হোটেল অবস্থান করতে পারবেন না। বৈধ ভিসা থাকা সত্বেও এ ধরনের হয়রানি মূলক আচারন খুবই দু:খ জনক যা একজন প্রতিবেশি দেশের কাছে মোটেও কাম্য নয় বলেও জানান ভূক্তভোগী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী।
    এব্যাপারে ভারত-বাংলাদেশ জয়েন্ট চেম্বার অব কমার্স এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি মোঃ আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ভিসা দেয়ার পর ইমিগ্রেশন পাশ দিয়ে ভারতে প্রবেশে কোন বাধা না দিয়ে ভারতে বৈধ কাগজপত্র নিয়ে প্রবেশের পর রাতে অবস্থানের জন্য মালদার কোন হোটেলে থাকতে দিচ্ছে না মালদার হোটেলগুলো। এটি দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করবে। ব্যবসার ক্ষেত্রেও বিরুপ প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, ব্যবসায়ী হোক, সাধারণ মানুষ হোক বা রোগী হোক, বৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দিলে প্রয়োজনে রাতে থাকার ব্যাপারে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। যদি বাধা দিতে হয়, তাহলে প্রবেশ পথেই বাধা দিয়ে ফেরত পাঠাতে হবে বা প্রবেশ করতে দিতে হবে না। কিন্তু ভিসা দেবে, ইমিগ্রেশন পাশ দেবে, আবার থাকার জায়গা দেবে না। এটা সাংঘর্ষিক। তাহলে কি বাংলাদেশের মানুষ গিয়ে ভারতের রাস্তার রাত কাটাবে? তিনি আরও বলেন, বিষয়টির অবশ্যই দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের তথা সীমান্ত এলাকার জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াবে।
    বৈধ কাগজপত্র নিয়ে ভারতে গিয়ে রাতে যদি থাকার জায়গা না হয় হোটেলে বাংলাদেশীদের, তাহলে হরহামেশায় ভারত থেকে অবৈধভাবে এসে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা দিয়ে আসছে ভারতের অনেক মানুষ। কেউ আসেন ব্যবসা করতে, কেই আসেন আত্মীয়ের বাসায়। প্রতিবেশী দেশের মানুষের সাথে সম্পর্ক থাকবে, সেটা বন্ধুত্বের। কিন্তু বর্তমানে যেটা হচ্ছে, সেটা নিজ স্বার্থের। তাহলে ভারত সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে, যেন কোন মানুষ অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ না করে। চোরাপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করে অনেকেই অবস্থান করছেন, সেটাও বাংলাদেশ সরকারকে কঠোর হাতে দমন করতে হবে এমনটায় আশা করছেন সচেতন মহল ও বিশিষ্ট জনেরা।

  • বাংলাদেশে আমদানি-রপ্তানিসহ ভিসা বন্ধের হুঁশিয়ারি বিজেপির

    বাংলাদেশে আমদানি-রপ্তানিসহ ভিসা বন্ধের হুঁশিয়ারি বিজেপির

    বাংলাদেশের সাথে ভারতের আমদানি-রপ্তানিসহ সব ধরনের ভিসা বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। বাংলাদেশের সনাতন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে কলকাতায় আগুন জ্বালানোর হুমকির পাশাপাশি প্রয়োজনে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের আমদানি-রপ্তানিসহ সব ধরনের ভিসা বন্ধ করার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। বুধবার কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন ঘেরাও অভিযান শেষে এমন ঘোষণা দেন বিজেপি নেতা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভার বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী। এর আগের দিনও ইসকনের হিন্দু নেতা অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুকে গ্রেপ্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিজেপির ওই নেতা। তিনি বলেন, এই খবর পেয়ে আমরা বিচলিত এবং চিন্তিত। বাংলাদেশের সম্মিলিত সনাতন জাগরণী জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে স্মারকলিপি দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ৮ সদস্যের বিধায়কদের একটি প্রতিনিধি দল বুধবার বিকেলে মিশনে আসেন। শুভেন্দু ছাড়াও প্রতিনিধি দলে ছিলেন ড. শঙ্কর ঘোষ, শিখা চ্যাটার্জি, দীপক বর্মন, বুধরাই টুডু, অশোক কীর্তনীয়া, সুব্রত ঠাকুর, নিখিল রঞ্জন দে। বিজেপির প্রতিনিধি দলটি দেখা করেন দূতাবাস প্রধান সিকদার মোহাম্মদ আশরাফুর রহমানের সঙ্গে। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মিশনের কাউন্সেলর (কনস্যুলার) এএসএম আলমাস হোসেন, প্রথম সচিব (রাজনৈতিক) তুসিতা চাকমা প্রমুখ। প্রতিনিধি দলের বিভিন্ন বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শোনেন মিশনের কর্মকর্তারা। মিশনের কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করে গণমাধ্যমের সামনে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে বাংলাদেশের বহু মানুষের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। আমরা এর আগে মুজিবুর রহমানের সরকার দেখেছি, আওয়ামীলীগ, বিএনপি, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সরকার দেখেছি, কিন্তু এরকম ভারতবিদ্বেষী মনোভাব বা হিন্দু প্রচারকদের মিথ্যে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো-এই জিনিস আমরা বিগত দিনে দেখিনি। তার হুঁশিয়ারি এনাফ ইজ এনাফ। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই বা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রবাদী বৈষ্ণব ধর্মালম্বী প্রচারক। বাংলাদেশের পতাকা কাঁধে নিয়ে তিনি সেদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে স্লোগান তুলেছিলেন। তাই তাকে যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনাই পরিষ্কার যে সেখানে সম্পূর্ণভাবে মৌলবাদী পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাস’কে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি তুলে শুভেন্দু বলেন, রোববারের মধ্যে চিন্ময় দাস’কে মুক্তি দেয়া না হলে, আগামী সোমবার থেকে ভারত-বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর পেট্রাপোল সীমান্তে অবরোধ শুরু করবে বিজেপি। ওইদিন সকাল ১০ টা থেকে পেট্রাপোল স্থলবন্দরে ভারত থেকে বাংলাদেশগামী সমস্ত পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ করা হবে। আমি নিজে তার নেতৃত্ব দেব। যদিও সেক্ষেত্রে ছাড় দেয়া হয়েছে যাত্রীবাহী বাসকে। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ভিসা বন্ধের দাবি তুলে বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগামী দিনে কলকাতার সেক্টর ফাইভে বাংলাদেশের ভিসা সেন্টার গিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হবে।

  • দেশে সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রয়োজন রাজনৈতিক ঐকমত্য-আইসিজি

    দেশে সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রয়োজন রাজনৈতিক ঐকমত্য-আইসিজি

    গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। এরপর বাংলাদেশে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, নির্বাচনব্যবস্থা, দুর্নীতি প্রতিরোধসহ নানা ক্ষেত্রে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রয়োজন। তা না হলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে না বলে মনে করেছে ব্রাসেলসভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি)। বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিন উপলক্ষে ‘আ নিউ এরা ইন বাংলাদেশ? দ্য ফার্স্ট হানড্রেড ডেজ অব রিফর্ম’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে আস্থায় নিয়ে নানা সংস্কার বাস্তবায়নে কিছু সুপারিশ করেছে আইসিজি।
    প্রতিবেদনে বলা হয়, সংস্কার কর্মসূচির দিকে নজর দিতে চাইলে ড. ইউনূসকে রাজনৈতিক ঐকমত্য বজায় রাখতে হবে। আওয়ামীলীগ বড় পরিসরে মাঠে না থাকায় বিএনপি এখন সবচেয়ে বড় হুমকি। তবে দলটি অন্তর্র্বতী সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিবৃতিও দিয়েছে। তারা বলেছে, তারা সংস্কারের জন্য ড. ইউনূস ও তার সহকর্মীদের সময় দিতে চায়। বিএনপিকে ঠেকাতে পারে অন্তর্র্বতী সরকারের দুই প্রধান সমর্থক শিক্ষার্থী ও সেনাবাহিনী। জুলাই-আগস্টের বিক্ষোভের পর বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে শিক্ষার্থীদের উত্থান হয়। শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে ইসলাম পন্থিদের, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলামের প্রভাব বেড়েছে। তার বিরুদ্ধে আন্দোলনে ইসলামপন্থি পক্ষগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আন্দোলনে অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করেছে। ইতিমধ্যে ইসলামপন্থিদের সঙ্গে ড. ইউনূসকে আপসও করতে দেখা গেছে। আইসিজির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসিনার ক্ষমতাকাল থেকে একটি শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, দেশের রাজনৈতিক কাঠামো থেকে ইসলামপন্থি দলগুলোকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করাটা হিতে বিপরীত হতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে জনসমর্থন ধরে রাখতে হবে এ সরকারকে। এ জন্য ধীরগতিতে হলেও সরকার যে কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে পেরেছে, তা দেখাতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে অন্তর্বর্তী সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে। এর মধ্যে একটি হতে পারে, রাষ্ট্রীয় সেবাদানের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে গেড়ে বসা দুর্নীতি মোকাবিলা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা, পুলিশকে ঢাকার সড়কে ফেরানো। বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
    শেখ হাসিনার আমলে হওয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলাগুলো প্রত্যাহার, তা কেবল জনপ্রিয় হবে না, প্রভাবমুক্ত হয়ে বিচারকদের জন্য সত্যিকারের দায়িত্ব পালনের পথ তৈরি হবে। এ ছাড়া সংস্কার কমিশনের সদস্যদের বিষয়টি পর্যালোচনা করা উচিত, যাতে সব পক্ষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যায়। অন্তর্র্বতী সরকার ও সংস্কার কমিশনগুলোর উচিত হবে, শিক্ষার্থী ও সেনাবাহিনীর মতো মিত্রপক্ষ ছাড়াও বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মতো প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসা। সংবিধান ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের ক্ষেত্রে সব পক্ষের একমত হওয়াটা সহজ হবে না। এ ক্ষেত্রে সব পক্ষকেই ছাড় দিতে হবে। পাশাপাশি কবে নির্বাচনের আয়োজন করা হবে, দ্রুত এ-সংক্রান্ত একটি পথরেখা ঘোষণা করা উচিত অন্তর্র্বতী সরকারের। অনেকে দাবি করছেন, বর্তমানে অন্তর্র্বতী সরকার যে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে, তাতে দেড় বছরের সময়সীমা বেশি বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে। আইসিজির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। সেটা সাম্প্রতিক আন্দোলনের সময়ে হওয়া মামলা ও শেখ হাসিনার শাসনামলে পুরোনো মামলা উভয় ক্ষেত্রে করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় বিচার ব্যবস্থার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পক্ষকে যুক্ত করা ভালো হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব মামলার বিচার করতে হলে ১৯৭৩ সালের যে আইনে এই ট্রাইব্যুনালের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, সেই আইনে সংস্কার আনতে হবে। এই ট্রাইব্যুনালে অন্তত একজন আন্তর্জাতিক বিচারক রাখতে হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে জাতিসংঘের সমর্থন অব্যাহত রাখা উচিত। সরকারের উচিত হবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে কথিত ‘শুদ্ধি অভিযান’ চলছে, তার লাগাম টেনে ধরা। শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অনেককে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর ড. ইউনূস নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন, সংস্কারের জন্য গঠিত ছয়টি কমিশনের মধ্যে পাঁচটিরই কাজ হবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন বিষয়ক। ভবিষ্যতে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে অন্তর্র্বতী সরকারকে তার বিস্তৃত রাজনৈতিক সংস্কারের নীতি সফলভাবে এগিয়ে নিতে হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এমন একটি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে, যাদের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা আছে। সেই সঙ্গে তাদের নির্দলীয় ব্যক্তি হতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বাংলাদেশের অন্তর্র্বতী সরকারের সংস্কারকাজে অব্যাহত সমর্থন রাখার আশ্বাস দেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই রাজনৈতিক সমর্থন বেশ গুরুত্ববহ। ড. ইউনূসের উচিত, সরকার ও এর সংস্কার পরিকল্পনায় আরও সমর্থন আদায়ে তার ব্যক্তিগত পরিচিতি কাজে লাগানো। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা। অন্তর্র্বতী সরকারকে দুর্বল করতে পারে, এমন পদক্ষেপ এড়াতে নয়াদিল্লির এখন সাবধানে পা বাড়ানো উচিত। ভারতের উচিত বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা, যাদের সঙ্গে দেশটির তেমন কোনো সম্পর্ক নেই বললেই চলে।
    এখন পর্যন্ত বিদেশি শক্তিগুলোর মৌখিক সমর্থন আশাব্যঞ্জক। যেমন কয়েক’শ কোটি ডলার ঋণসহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা বাড়ানো উচিত। কারণ, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা এ সরকারের জন্য বড় হুমকি। দাতারা প্রতিশ্রুত কয়েক শ কোটি ডলারের অতিরিক্ত সহায়তা দিলে তা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার সমাধানে জাতিসংঘের উচিত অন্তর্র্বতী সরকার ও আন্তর্জাতিক দাতাদের সঙ্গে কাজ করা। বাংলাদেশ থেকে গত ১৫ বছরে সম্ভবত হাজার হাজার কোটি ডলার অবৈধভাবে সরানো হয়েছে। বেশির ভাগ সম্পদ গেছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর ও মধ্যপ্রাচ্যে। এসব দেশের বাংলাদেশ থেকে পাচার করা অর্থ জব্দে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে।

  • বাংলাদেশের সাথে সরাসরি সমুদ্রপথে যুক্ত হচ্ছে পাকিস্তান-উদ্বেগ ভারতের

    বাংলাদেশের সাথে সরাসরি সমুদ্রপথে যুক্ত হচ্ছে পাকিস্তান-উদ্বেগ ভারতের

    সম্প্রতি করাচি থেকে একটি পণ্যবাহী জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছেছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর এবারই প্রথমবারের মতো সরাসরি সমুদ্রপথে যোগাযোগ হলো বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের। এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’র অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে শুক্রবার এসব তথ্য জানানো হয়। এতে আরও বলা হয়, ভারতের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রতিবেশীদের মধ্যে এ ধরনের সরাসরি সামুদ্রিক সংযোগের ফলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। গত বুধবার করাচির ওই জাহাজটি ৩০০টির বেশি কন্টেইনার নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে। এসময় বাংলাদেশে পাকিস্তানি হাইকমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফ উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, এটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে একটি প্রধান পদক্ষেপ। এই নতুন রুটটি সাপ্লাই চেইনকে স্ট্রিমলাইন করবে, ট্রানজিট সময় কমিয়ে দেবে এবং উভয় দেশের জন্য নতুন ব্যবসার সুযোগ খুলে দেবে।
    প্রতিবদেন বলা হয়, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের নতুন শাসন ব্যবস্থা সরাসরি সমুদ্র সংযোগকে স্বাগত জানায়। পাকিস্তানের সাথে বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধিরও আশা করে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও উদ্বেগও জানিয়েছেন কেউ কেউ। প্রতিবেদন বলছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের একটি অভিযানে প্রায় ১৫০০ চীনা অস্ত্র জব্দ করা হয়, যার মূল্য আনুমানিক সাড়ে ৪ থেকে ৭ মিলিয়ন ডলার। সমুদ্রপথে ট্রলারে চট্টগ্রামে পৌঁছেছিল অস্ত্রগুলো। এই অস্ত্রগুলো ছিল আসামের নিষিদ্ধ সংগঠন উলফার।
    ভারতের নিরাপত্তা সংস্থার একটি সূত্র বলছে, গত বছর ভারত মোংলা বন্দরের একটি টার্মিনালের অপারেটিং অধিকার সুরক্ষিত করে চীনের বিরুদ্ধে কৌশলগত জয়লাভ করেছিল…, কিন্তু এখন পাকিস্তান চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশাধিকার পেয়েছে। দুটি বন্দরের সমুদ্রপথে এখন পাকিস্তানি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে। এই বিষয়টি অবশ্যই এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে, কারণ মিয়ানমারও চট্টগ্রামের খুব কাছাকাছি। মিয়ানমারের সীমান্তে উত্তেজনা রয়েছে বহুদিন ধরেই। এ অবস্থায় মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ এবং মাদক ব্যবসা নিয়ে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থায় যথেষ্ট উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। করাচি থেকে মালবাহী জাহাজটির বাংলাদেশে ঢোকা নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা একটি সূত্র বলছে, প্রথমে কিছু ৪০ ফুটের কন্টেইনার নামানো হয়। এগুলোর চারপাশে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করার জন্য স্থানীয় পুলিশকে বলা হয়। বাংলাদেশে নিষিদ্ধ জিনিসপত্র প্রবেশের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি সামুদ্রিক যোগাযোগ চালুর বিষয়টিকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্র্বতী সরকারের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ককে মসৃণ করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একজন ভারতীয় পর্যবেক্ষক বলেছেন, ড. ইউনূস ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ একটি রিসেট মুডে আছে এবং তাদের অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে একটি মনে হচ্ছে, ভারত থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখা এবং পাকিস্তানের আরও বেশি কাছাকাছি হওয়া। তিনি বলেন, পাকিস্তান প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের তুলা রপ্তানি করে এবং পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ। রপ্তানির প্রধান উৎস হিসেবে ভারতকে প্রতিস্থাপন করা বাংলাদেশের পক্ষে অসম্ভব হবে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বের কারণে আমাদের উদ্বেগ; এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক নৌ মহড়া আমান ২০২৫-এ তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। এ নিয়ে একজন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ বলেন, এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ যৌথ মহড়ায় অংশ নেবে। গত মাসে এই উদ্দেশে একটি ফ্রিগেট পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়। এই বিষয়গুলো অবশ্যই ভারতকে উদ্বিগ্ন করতে পারে, কারণ এটি বঙ্গোপসাগর এবং ভারত মহাসাগরে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

  • ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানালেন কমলা হ্যারিস

    ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানালেন কমলা হ্যারিস

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে পেরে ওঠেননি বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। তাকে বেশ বড় ব্যবধানে হারিয়েই দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউজে ঘাঁটি গাড়তে চলেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস-র বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিয়ে ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কমলা। ফোনকলের মাধ্যমে ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি। এছাড়া ট্রাম্পকে সব আমেরিকানের প্রেসিডেন্ট হয়ে ওঠার-ও আহ্বান জানিয়েছেন বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-র তথ্য অনুযায়ী, ৫৩৮ ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৯২ ভোট পেয়েছেন ট্রাম্প, কমলার ভোটের সংখ্যা ২২৪। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের জন্য ২৭০ ভোটই যথেষ্ট। নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প এবং কমলা কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলেননি। ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু করে নানাভাবে একে অপরকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পকে সরাসরি ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়েছিলেন কমলা হ্যারিস। অন্যদিকে ট্রাম্প কমলার মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে মার্কিন ভোটাররা শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকেই হোয়াইট হাউজে ফেরানোর পক্ষে রায় দিয়েছেন।

  • কলকাতায় বিশ্ব ভারতীর জাদুঘর ‘বাংলাদেশ ভবন’ বন্ধ

    ‘বাংলাদেশ ভবন’ পরিচালনার ব্যয় বহন করত হাসিনা সরকার

    কলকাতায় বিশ্ব ভারতীর জাদুঘর ‘বাংলাদেশ ভবন’ বন্ধ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের জাদুঘর ‘বাংলাদেশ ভবন’ চলতি বছরের আগস্টের পর আর চালু হয়নি। বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এই জাদুঘরটিতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ব ভারতীর এক কর্মকর্তা বলেছেন, ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন নিদর্শনের পাশাপাশি, জাদুঘরে দেশটির প্রথম রাষ্ট্রপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ও প্রতিকৃতি আছে এখানে। গণআন্দোলনের মুখে হাসিনা যখন ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন, তখন তার বাবার ভাস্কর্য (বাংলাদেশে) জনতা ভেঙে ফেলে। বিশ্ব ভারতীর ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, হাসিনা সরকার ‘বাংলাদেশ ভবন’ পরিচালনার ব্যয় বহন করত। ২০১৮ সালে হাসিনা এবং আমাদের (বিশ্ববিদ্যালয়ের) চ্যান্সেলর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে এর উদ্বোধন করেছিলেন। বাংলাদেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে না আসা পর্যন্ত জাদুঘরটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। চার মাস পেরিয়ে গেলেও, কেন্দ্র সরকার বা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার-কেউই আমাদের এটি আবার চালু করতে বলেনি। বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবছর ৭ আগস্ট রবীন্দ্রনাথে মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠান আয়োজন করা হতো বাংলাদেশ ভবনে। কিন্তু এবারে সেই আয়োজন সেখানে না করে খোলা মাঠে করা হয়েছিল। এ ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সামগ্রিক নিরাপত্তাও আগস্ট থেকে বাড়ানো হয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর, দেশটির জাতীয় সংগীত হিসেবে গৃহীত হয় ১৯০৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত গান ‘আমার সোনার বাংলা’। যদিও তিনি ১৮৬১ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট এই শহরেই মৃত্যুবরণ করেন। তারপরও তার গানকে জাতীয় সংগীত হিসেবে বেছে নেয় বাংলাদেশ। ঠাকুরের বিখ্যাত অনেক কবিতা ও গান রচনা করেছিলেন অবিভক্ত বাংলা আমলে। শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল জীবনীচিত্র ‘মুজিব, দ্য মেকিং অব আ নেশন’ তৈরি করেন। গত আগস্টে এর প্রদর্শনী হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়।

  • সাগরে নিম্নচাপ ॥ বন্দরে দূরবর্তী সতর্ক সংকেত

    সাগরে নিম্নচাপ ॥ বন্দরে দূরবর্তী সতর্ক সংকেত

    দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এই নিম্নচাপ নিয়ে আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এ তথ্য দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০কি.মি. যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কি. মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১ নম্বর নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেও য়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

  • আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বিশাল পতন

    আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বিশাল পতন

    আন্তর্জাতিক বাজারে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) তেলের দাম কমেছে চার শতাংশের বেশি। এর কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুর্বল চাহিদার পূর্বাভাস ও ইরানের তেল স্থাপনায় ইসরায়েল হামলা করবে না এমন ঘোষণায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ২৮ ডলার বা ৪ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৭৪ দশমিক ১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৩ দশমিক ৩৩ ডলার বা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৭০ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে উভয় বেঞ্চমার্কের দাম কমে অন্তত চার ডলার। এতে অক্টোবরের পর তেলের দাম কমে সর্বনিম্ন হয়। ইরানের হামলার প্রতিশোধ নিতে দেশটির তেল ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার কথা জানিয়ে আসছিল ইসরায়েল। এতে তেলখাতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ও তেলের দাম বেড়ে যায়। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আলোচনা চলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। সবশেষ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছেন, তার দেশ ইরানের তেল অথবা পারমাণবিক স্থাপনায় নয়, বরং সামরিক স্থাপনায় হামলা চালাতে চায়।

  • টাঙ্গাইলে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৪ ॥ আহত ১০

    টাঙ্গাইলে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৪ ॥ আহত ১০

    টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হয়েছেন। এঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। এর মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শুক্রবার ভোরে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার লিংক রোড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত চার জনের মধ্যে দু’জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, জেলার ধনবাড়ী উপজেলার ঘাগড়া গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান (৩৩) ও জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার মহিষ বায়ান গ্রামের মৃত আ. ওয়াজেদের ছেলে জিয়াউল (৩৫)। এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ নান্নু খান জানান, শুক্রবার ভোরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ময়মনসিংহগামী একটি বাস ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ময়মনসিংহ লিংক রোডে পৌঁছালে কালিহাতী থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ২ জনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে আরও দুইজন মারা যান। এঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।