Category: আন্তর্জাতিক

  • বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে আহত ৪৩৯ জন এখনো হাসপাতালে

    বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে আহত ৪৩৯ জন এখনো হাসপাতালে

    বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে আহত ৪৩৯ জন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছেন। রাজধানীর সাতটি সরকারি হাসপাতালে এ রকম ৪৩৯ রোগীর চিকিৎসা চলছে। এর মধ্যে ঢাকা মেডিকেলে ১৭৫ জন, পঙ্গু হাসপাতালে ১৪৪ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪১ জন, চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ৩২ জন, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ৩০ জন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে ১২ জন আছেন। এর বাইরে বেশ কিছু আহত ব্যক্তি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
    জানা গেছে, মো. জাকির সিকদারের বাসা রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকায়। বয়স ৩৩ বছর। গুলশানের একটি পোশাকের দোকানে চাকরি করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। গত ১৮ জুলাই রাত ৯টার দিকে মেরুল বাড্ডা এলাকায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। আহত জাকির সিকদারকে প্রথমে আফতাব নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। জাকিরের আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারে সাহস করেননি। এরপর জাকিরকে আনা হয় জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল)। সেখান থেকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ঢাকা মেডিকেল থেকে আবার পঙ্গু হাসপাতালে। সেই থেকে জাকির পঙ্গু হাসপাতালে আছেন। পঙ্গু হাসপাতালের পরিচালকের দপ্তর থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে সংঘর্ষ-সহিংসতায় আহত ১৪৪ জন এখনো হাসপাতালে আছেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জনের একটি করে পা কেটে ফেলা হয়েছে। একজনের হাত কাটতে হয়েছে। এই ১১ জনকে বাকি জীবন প্রতিবন্ধী হয়ে কাটাতে হবে।
    জাকিরের বাঁ হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলেছেন চিকিৎসকেরা। বুলেটে হাড় ভেঙেছে, রক্তনালিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলেন, জীবন বাঁচাতে পা কেটে ফেলা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। মোটা বড় ব্যান্ডেজ দিয়ে পা মুড়ে রাখা হয়েছে।
    পঙ্গু হাসপাতালের পাশে রাস্তার ওপারে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। এই হাসপাতালে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩২ জন চোখে আঘাত পাওয়া রোগী ভর্তি ছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকের চোখে পুলিশের ছোড়া ছররা গুলি লেগেছিল। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি, করছি। তার পরও দুই-তিনজনের ঝুঁকি অনেক বেশি। তাঁরা দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন কি না, তা এখনো বলা যাচ্ছে না। পায়ে, হাতে, চোখে বা শরীরের অন্য কোনো স্থানে গুলি লেগে আহত অনেকেরই এখনো চিকিৎসা শেষ হয়নি। রাজধানীর সাতটি সরকারি হাসপাতালে এ রকম ৪৩৯ রোগীর চিকিৎসা চলছে। এর মধ্যে ঢাকা মেডিকেলে ১৭৫ জন, পঙ্গু হাসপাতালে ১৪৪ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪১ জন, চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ৩২ জন, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ৩০ জন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে ১২ জন আছেন। এর বাইরে বেশ কিছু আহত ব্যক্তি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, যাঁদের পা কাটা গেছে, তাঁদের কৃত্রিম পা দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আছে। একাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম পা সংযোজনের বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রোগীদের ওষুধ দেওয়ারও উদ্যোগ নিয়েছে।
    বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) অন্তর্র্বতী সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম, পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া পঙ্গু হাসপাতালে গিয়েছিলেন। হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ার আগে নুরজাহান বেগম সাংবাদিকদের বলেন, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার সব খরচ সরকার বহন করবে। আর ফরিদা আখতার বলেন, হাসপাতাল থেকে ছুটি নেওয়ার পরও কারও কারও চিকিৎসার প্রয়োজন হবে। সেই প্রয়োজন মেটাতে প্রত্যেক রোগীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।

  • ১৫ বছরে ব্যাংক থেকে আত্মসাৎ ৯২ হাজার কোটি টাকা-সিপিডি

    ১৫ বছরে ব্যাংক থেকে আত্মসাৎ ৯২ হাজার কোটি টাকা-সিপিডি

    দেশে ২০০৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ব্যাংক খাতে ৯২ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি। ব্যাংক খাতে ২৪টি বড় কেলেঙ্কারির মাধ্যমে গত ১৫ বছরে এই অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে জানায় সংস্থাটি। সোমবার এক গবেষণাপত্রে সিপিডি এসব তথ্য জানিয়েছে। গত ১৬ বছরে শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে দেশের আর্থিক খাতের অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনা নিয়ে এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করা হয়। সিপিডি জানায়, আত্মসাৎ হওয়া অর্থের পরিমাণ চলতি অর্থবছর বা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের ১২ শতাংশ এবং দেশের মোট জিডিপির দুই শতাংশের সমান।
    সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এবং এ রিপোর্টের যৌথ গবেষক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ সময়ে ধুঁকতে থাকা ব্যাংকগুলোর পুঁজির যোগান দিতে সরকারকে সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। গ্লোবাল ফাইনানন্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির এক রিপোর্টের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২০০৭ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশ থেকে ৪৭০০ থেকে ৬৭০০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে পাচার করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ব্যাংক খাতে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বহু অনিয়ম করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, অ্যানন টেক্স গ্রুপ নামে এক প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে জনতা ব্যাংক, যা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির মোট পুঁজির এক চতুর্থাংশের বেশি। আবার ২০১৭ সালে দেশের একটি মাত্র ব্যবসায়িক করপোরেশন রাজনৈতিক প্রভাবে সাতটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ নেয়। মৃতপ্রায় ব্যাংকগুলোর বর্তমান ব্যবস্থাপনায় ও পরিচালক পর্ষদে বদল করার পরামর্শ দিয়ে ফাহমিদা খাতুন বলেন, অনেক ব্যাংক ক্লিনিক্যালি ডেথ হয়ে গেছে। এসব ব্যাংক আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। স্বাভাবিকভাবে এদের মরে যেতে দেওয়া দরকার। সরকার এসব ব্যাংকগুলোকে অর্থ দিয়ে, মূলধন দিয়ে পুনর্ভরণ করে চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর ২০২১ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী ১১টি ব্যাংক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রাসেল নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন হারে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে পারেনি। তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলো ক্লিনিক্যালি ডেথ হয়ে গেছে। এক সময়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ভালো ব্যাংক ছিল। এটিকে দখলের পরে মুমূর্ষু হয়ে গেছে। ব্যাংকিং খাতের সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানে তিন মাসের জন্য জন্য ব্যাংকিং কমিশন গঠন করার সুপারিশ করে সিপিডি বলেছে, ব্যাংক খাতে দ্বৈত প্রশাসন কমাতে অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বন্ধ করতে হবে। এ বিভাগের জন্য সরকারি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নেই।

  • পুলিশের সমিতি-অ্যাসোসিয়েশন স্থগিত ॥ নতুন আইজিপির ১২ নির্দেশনা

    পুলিশের সমিতি-অ্যাসোসিয়েশন স্থগিত ॥ নতুন আইজিপির ১২ নির্দেশনা

    সরকার পতনের পর নৈরাজ্যের মধ্যে ভেঙে পড়া পুলিশ ব্যবস্থাকে দ্রুত সচল করার দায়িত্ব নতুন আইজিপির কাঁধে। পুলিশের সমিতি-অ্যাসোসিয়েশন স্থগিত এবং ১২ নির্দেশনা দিয়েছেন নবাগত আইজিপি মো. ময়নুল ইসলাম। পুলিশের সকল খোয়া যাওয়া অস্ত্র ও গুলির হিসাব করা, বাহিনীর সদস্যদের সবরকম সমিতি-অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম স্থগিত করাসহ ১২ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন নতুন আইজিপি মো. ময়নুল ইসলাম। সরকার পতনের পর নৈরাজ্যের মধ্যে সারা দেশে থানায় হামলা এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশের হতাহতের ঘটনায় পুলিশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার প্রেক্ষাপটে বুধবার এ বাহিনীর নেতৃত্ব নিয়েই এসব নির্দেশনা দেন নতুন আইজিপি। ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মধ্যে সোমবার শেখ হাসিনার পতন ঘটে। এরপর দেশজুড়ে থানাসহ পুলিশের স্থাপনাগুলোতে একের পর এক হামলা শুরু হয়। অনেক থানায় ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। থানাগুলো পরিণত হয় ধ্বংসস্তুপে। বাহিনীর অনেক সদস্য হতাহত হন। অন্যরা নিরাপদে সরে যেতে থাকেন। তাতে পুলিশি সেবাবিহীন এক নজিরবিহীন অবস্থা তৈরি হয় বাংলাদেশে। এই পরিস্থিতির মধ্যে মঙ্গলবার রাতে নতুন আইজিপি হিসেবে ময়নুল ইসলামের নাম ঘোষণা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার সকালেই আইজিপি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করে পুলিশকে কাজে ফেরানোর উদ্যোগ নেন ময়নুল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে পুলিশ সদস্যদের স্ব স্ব ইউনিটে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
    আইজিপি স্বাক্ষরিত ‘সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পুনর্বহাল সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা’ নামে একটি অফিস আদেশে বলা হয়, বিরাজমান বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিবর্তনমূলক কার্যক্রমের ফলে সদ্য সংঘটিত ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে অভূতপূর্ব গণদাবি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ‘এ আন্দোলনকে দমন-পীড়ন ও কথিত শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণের নামে পুলিশের কিছু উচ্চাভিলাষী ও অপেশাদার কর্মকর্তার কারণে বল প্রয়োগের আইনসম্মত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি, মানবাধিকারের প্রতি যথাযথ সম্মানও প্রদর্শন করা হয়নি। কর্মকৌশল এবং নেতৃত্বের ব্যর্থতায় আমাদের অনেক পুলিশ সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, আহত ও নিগৃহীত হয়েছেন। একই সাথে ধ্বংসযজ্ঞের ফলে পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা ব্যপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ আইজিপি বলেন, যারা (পুলিশ) আহত হয়েছেন, তাদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিটি হত্যার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত সকল পুলিশ সদস্যের জন্য আইন ও বিধি অনুযায়ী সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। পুলিশের চেইন অব কমান্ড ও শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের জন্য ১২ দফা নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয় আদেশে।
    ১. রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স, পিওএম, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), সকল মেট্রোপলিটন এবং জেলা পুলিশ লাইন্সসহ অন্যান্য সকল পুলিশ ইউনিটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ফোর্সের শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড পুনরুদ্ধার ও পুনপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। ২. ঢাকা মহানগর পুলিশের রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স, পিওএম, এপিবিএন, সকল মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা পুলিশ, সকল প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষায়িত সব পুলিশ ইউনিটের সব অফিসার এবং ফোর্সকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। ৩. ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব মেট্রোপলিটন, জেলা, নৌ, রেলওয়ে এবং হাইওয়ে থানার অফিসার ও ফোর্সদেরকে স্ব স্ব ইউনিটের পুলিশ লাইন্সে যোগ দিতে হবে। ৪. পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অপারেশন্স কন্ট্রোল রুম সক্রিয় করা, দায়িত্ব বণ্টন করা এবং সারা দেশের সাথে কার্যকর যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ৫. ফোর্সের মনোবল বৃদ্ধি এবং কল্যাণ নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৬. জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের দাফন/সৎকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। ৭. পুলিশের সকল অস্ত্র-গুলির হিসাব, খোয়া/হারানো অস্ত্র-গুলির হিসাব, সিসি (কমান্ড সার্টিফিকেট)সহ সকল ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করতে হবে। ৮. সকল অস্ত্রগারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় গার্ড অতি সত্ত্বর মোতায়েন করতে হবে। সিনিয়র অফিসাররা পুলিশ রেগুলেশন্স অনুযায়ী অস্ত্রাগারের নিরাপত্তা, অস্ত্র-গুলি ইস্যু ও জমা সংক্রান্ত রেজিস্ট্রার লেখার বিষয়ে বিদ্যামান বিধিবিধান পালন নিশ্চিত করবেন। ৯. মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা নিজ নিজ এলাকার জ্যেষ্ঠ নাগরিক, পেশাজীবী, ছাত্র প্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও গণমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে নাগরিক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করবেন। এই কমিটি থানা এবং থানা এলাকার নিরাপত্তা বিধানে আপদকালীন সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ১০. থানার সকল অফিসার ও ফোর্সের ব্যক্তিগত হেফাজতে থাকা অস্ত্র-গুলি স্ব স্ব পুলিশ লাইনসে বা নিকটস্থ অস্ত্রগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হল। ১১. বাংলাদেশ পুলিশের সকল সমিতি এবং অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। ১২ শৃঙ্খলার স্বার্থে সব স্তরের পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তিগত, দলীয়, ব্যাচ, সমিতি, অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে পুলিশের কার্যক্রম সংক্রান্ত কোনো প্রকার বিবৃতি, দাবি, মন্তব্য বা প্রত্যুত্তর করতে পারবে না।

  • অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে সমন্বয় করতে লিয়াজোঁ কমিটি

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে সমন্বয় করতে লিয়াজোঁ কমিটি

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয় করতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করেছে। বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মো. নাহিদ ইসলাম। লিয়াজোঁ কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন, মাহফুজ আলম (মাহফুজ আব্দুল্লাহ), নাসির আব্দুল্লাহ, ভূইয়া আসাদুজ্জামান, আকরাম হুসাইন, মামুন আব্দুল্লাহিল এবং আরিফুল ইসলাম আদিব। তবে, এ কমিটি পরবর্তীতে আরও বর্ধিত করা হবে বলে জানান সমন্বয়কেরা। সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আমরা সরকারের রুপরেখা দিয়েছিলাম। আমরা রুপরেখা প্রস্তুত করে ড. ইউনূসের কাছে উপস্থাপন করেছিলাম এবং তিনি সেটি স্বাগত জানিয়েছেন। ড. ইউনূস দেশে ফিরেছেন, রাতেই শপথ। আমরা এই কাজটির জন্য গত ৫ আগস্ট একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করেছিলাম। মূলত এই কমিটিই কাজটি করেছে। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রুপরেখা প্রণয়ন ও অংশীজন নির্ধারণের জন্যে মাহফুজ আলমকে প্রধান করে কমিটি গঠিত হয়। লিয়াজোঁ কমিটির সদস্যগণ অংশীজন, যাদের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন এবং সুশীল সমাজের সাথে কথা বলে অরাজক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সচেষ্ট হন। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অংশীজন নির্ধারণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কাছে কিছু অংশীজনের নাম প্রস্তাব করেন। ৬ তারিখ লিয়াজোঁ কমিটির দুইজন সদস্য মাহফুজ আলম ও নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বঙ্গভবনে ছাত্র-শিক্ষক প্রতিনিধি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তারা বিভিন্নভাবে সমন্বয় করেছেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, এই লিয়াজোঁ কমিটি সরকার গঠনের পরবর্তী রাষ্ট্রের নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লক্ষ্যে কাজ করে যাবে। এই কমিটি সকল অংশীজনের সাথে সংলাপ ও আলোচনা করবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এই কমিটির কাজের পরিধি বৃদ্ধি করা হবে। কমিটির সদস্য সংখ্যা সকল দলমতের সঙ্গে সংলাপের ভিত্তিতে আরও বর্ধিত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে। কমিটির প্রধান মাহফুজ আব্দুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের যত অংশীজন আছে সবার সঙ্গে আলাপ পরামর্শ ডিবেট এবং ডায়ালগের ভিত্তিতে প্রস্তাবনা হাজির করা লিয়াজোঁ কমিটির কাজ। এক্ষেত্রে সরকার নাগরিক সমাজ এবং ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে একটা সমন্বয় হিসেবে কাজ করা, সমন্বয় করা।

  • নেত্রকোনায় শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন-স্মারকলিপি প্রদান

    নেত্রকোনায় শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন-স্মারকলিপি প্রদান

    নেত্রকোনায় অবস্থিত ‘শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়’র নাম পরিবর্তন করে ‘নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়’ দিয়ে অস্থায়ী ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে ব্যানার লাগিয়েছে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের রাজুরবাজার এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টারের কাছে নাম পরিবর্তনসহ ১১ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপিও দেন তারা। শিক্ষার্থীরা জানায়, হাজার হাজার মানুষ হত্যা, মিলিয়ন-বিলিয়ন ডলার পাচার করে সব জাতীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা পুরো বিশ্বের কাছে গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে। এমন ব্যক্তির নামে বিশ্ববিদ্যালয় হলে সে পরিচয় দিতে তাদের লজ্জা হবে। তাই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় করতে হবে। এছাড়াও তারা দলভিত্তিক ছাত্র, শিক্ষক, কর্মচারীদের রাজনীতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সহকারী প্রক্টর, সহকারী প্রভোস্ট ও হাউজ টিউটরদের পদত্যাগ করার আহবান জানানো হয়। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হলে ভিসির পদত্যাগের দাবি তোলেন শিক্ষার্থীরা। এসময় এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিফাত রেজুয়ান জয়, হাফসা আক্তার মোহ, সাদমান সাকিব সুমন, মাহফুজ আকবর, মাহিন ও পলাশ প্রমুখ। এসময় শেহাবির শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ড. মো. হারুন অর রশিদ বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো অবিলম্বে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বাস্তবায়ন করা হবে।

  • আজ ও শনিবার দিনে ইন্টারনেট ফ্রি করে দিলো গ্রামীণফোন

    আজ ও শনিবার দিনে ইন্টারনেট ফ্রি করে দিলো গ্রামীণফোন

    কোনো ধরনের রিচার্জ কিংবা প্যাক কেনা ছাড়াই ইন্টারনেট চালানোর সুযোগ দিয়েছে গ্রামীণফোন। এই সুযোগের আওতায় আজ এবং শনিবার সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা করে মোট ২৪ ঘণ্টা গ্রামীণফোন গ্রাহকরা পুরোপুরি বিনামূল্যে ইন্টারনেট চালাতে পারবেন। আজ (৯ আগস্ট) বিষয়টি গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। কোম্পানির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত একটি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘এই শুক্র ও শনিবার (৯ ও ১০ আগস্ট) আমাদের নেটওয়ার্কে সবার জন্য ইন্টারনেট ফ্রি। ভোর ৬টা হতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।’ আরও বলা হয়েছে, এই সুবিধা ভোগ করতে কোনো রিচার্জ লাগবে না। তবে এটি শুধুমাত্র ৯ ও ১০ আগস্টের জন্য প্রযোজ্য হবে। প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করে গ্রামীণফোন। এছাড়া এখন বাণিজ্যিকভাবে টেলিযোগাযোগ (ভয়েস, এসএমএস, ইন্টারনেট ডাটা) সেবা দিয়ে যাচ্ছে চারটি প্রতিষ্ঠান। সেগুলো হচ্ছে- গ্রামীণফোন, রবি আজিয়াটা, বাংলালিংক এবং টেলিটক।

  • নৌ প্রধান মাহবুব আলী খানের ৪০তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত

    নৌ প্রধান মাহবুব আলী খানের ৪০তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত

    বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান এবং বাংলাদেশ সরকারের যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রী মরহুম রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের ৪০তম শাহাদাত বার্ষিকী যথাযোগ্য মযার্দায় দেশে-বিদেশে পালিত হয়েছে। ৪০ বছর আগে ৬ আগস্ট দিনটিতে তিনি জনমানবের কল্যাণে তাঁর জীবন উৎসর্গ করেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং দেশের যোগাযোগ ও কৃষি অবকাঠামো গড়ে তোলায় তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। মরহুমের স্ত্রী বিশিষ্ট সমাজসেবী বেগম মাহবুব আলী খান ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ছিন্নমূল শিশু-কিশোরদের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘সুরভি’। সততা, নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম, দানশীলতা ও আত্মত্যাগে গড়া মাহবুব আলী খানের কর্মময় জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সকালে নৌ-সদর দপ্তরের জামে মসজিদের পাশে মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও রুহের মাগফেরাত কামনায় অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র কোরআন খতম, কোরআনখানি ও বিশেষ মোনাজাত। এ উপলক্ষে ধানমন্ডি বায়তুল আমান জামে মসজিদ, তাকওয়া জামে মসজিদ, ঈদগাহ জামে মসজিদ, আজিমপুর দায়রা শরিফ জামে মসজিদ, মহাখালী ডিওএইচএস জামে মসজিদ, বায়তুল মামুর জামে মসজিদ, সোবাহানবাগ জামে মসজিদ, বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদ, বায়তুল আকসা জামে মসজিদ, গ্রিন রোড ডরমেটরি জামে মসজিদ এবং বাউনিয়াবাধ মহিলা মাদ্রাসা ও এতিমখানা মিরপুর, দামালকোর্ট মোহাম্মাদিয়া এতিমখানা, সোনারগাঁও এতিমখানা ও মাদ্রাসায় পবিত্র কোরআন খতম, দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও মরুহুমের জন্মভূমি সিলেটে হযরত শাহজালাল (রা.) ও হযরত শাহ পরান (রা.) দরগা মসজিদ, বিরাহিমপুর জামে মসজিদ, লতিফিয়া হাফেজেয়া মাদ্রাসায় খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বগুড়া বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল জামে মসজিদ ও লাঠিগঞ্জ অন্ধ এতিম খানা, জামালপুরের দুরমুটে হযরত শাহ্ কামাল (রা.)-এর মাজারে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের বাইরে দিনটি উপলক্ষ্যে যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস ইসলামিক সেন্টার ও ওয়াশিংনটন ডিসিতে দোয়া মাহফিল ছাড়াও সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফে উমরা পালন, কাবা শরীফ তোয়াফ, খতমে কোরআন, দোয়া মাহফিল; মাদ্রাসাতুল হারামায়ানে খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের স্মরণে চিকিৎসা বিজ্ঞানে অসামান্য অবদানের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এম এ খান পুরস্কার প্রদান করা হয়।
    পরিবার ও রিয়ার এ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান স্মৃতি পরিষদের পক্ষ থেকে এক প্রেসনোটে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাহিনা খান জামান।

  • ফরিদপুরে ‘পাল্টে গেল’ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাম

    ফরিদপুরে ‘পাল্টে গেল’ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাম

    ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নামফলক থেকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’ লেখাটি উঠিয়ে ফেলা হয়েছে। সেখানে সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে পুরানো নাম লেখা ব্যানার। ‘ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল’ নামকরণ করা নতুন সাইনবোর্ডেটির নিচে লেখা রয়েছে হাসপাতালটির সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সৌজন্যে তা লাগানো হয়েছে। তবে বুধবার সকালে হাসপাতালটির উপ-পরিচালক দীপক কুমার বলেছেন, বলেন, “যদিও নতুন সাইনবোর্ডের নিচে লেখা রয়েছে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ এটা করেছেন।

    তবে এটা আমাদের কেউ পরিবর্তন করেছে বলে জানা নেই। শুনেছি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারী ও স্থানীয় জনতা মঙ্গলবার বিকাল কিংবা সন্ধ্যায় এটা করে থাকতে পারেন। তিনি আরও বলেন, আমরা চাকরি করি বলে চাইলেই তো নাম পরিবর্তন করতে পারি না। এটা পরিবর্তন করতে পারেন সরকার। সরকার চাইলে এটা পরিবর্তন করবেন। আর আমাদের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এ সাইনবোর্ড পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত আছেন কি-না ভালো করে জেনে জানাতে পারব বলেন এই কর্মকর্তা। ১৯৯২ সালে ফরিদপুর শহরে প্রতিষ্ঠিত হয় ফরিদপুর সরকারি মেডিকেল কলেজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজটির সঙ্গে ছিল ২৫০ শয্যার হাসপাতাল। পরে যা উন্নিত করা হয় ৫০০ শয্যায়। পরে ২০২১ সালের এপ্রিলে কলেজ ও হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ, ফরিদপুর’ এবং ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ফরিদপুর’ নামকরণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে আওয়ামী সরকার।

  • বিএনপি নেত্রীর ভালবাসায় সাড়ে ৬ বছর পর চুল কাটলেন মোজাম্মেল!

    বিএনপি নেত্রীর ভালবাসায় সাড়ে ৬ বছর পর চুল কাটলেন মোজাম্মেল!

    বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় হাসিনা সরকার কারাবন্দি করার পর মন ভেঙে যায় নেতাকর্মীদের। নিজের প্রিয় নেত্রীকে কারাবন্দি করার পর একইভাবে কষ্ট পান বিএনপি কর্মী মোজাম্মেল হক। মনের দুঃখে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, যতদিন তার নেত্রী কারা ও মামলা মুক্ত না হবেন ততদিন নিজের মাথার চুল কাটবেন না। অবশেষ সাড়ে ৬ বছর পর খালেদা জিয়া মামলা থেকে অব্যাহতি ও কারা মুক্ত ঘোষণার পর নিজের প্রতিজ্ঞা মোতাবেক মাথার চুল কাটলেন সেই মোজাম্মেল। বুধবার (০৭ আগস্ট) সেলুনে গিয়ে মাথার চুল কেটে নিজের প্রতিজ্ঞা পূরণ করেন তিনি।

    মোজাম্মেল হক (৫৩) পাবনার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের ভাদড়া গ্রামের মৃত ইন্তাজ আলী মোল্লার ছেলে। পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান। আলাপকালে বিএনপি কর্মী মোজাম্মেল হক বলেন, বিএনপি দলকে আমি ভালবাসি। এক সময়ে আমি ছাত্রদলের কর্মী হয়ে রাজনীতি করেছি। এই দলটি আমার রক্তে মিশে আছে। দলের নেত্রীকে আমি মায়ের মত শ্রদ্ধা করি। সেই নেত্রীকে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকার যখন মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করলো তখন নিজেকে আর ধরে রাখতে পারছিলাম না। তিনি বলেন, ওই সময় প্রতিবাদ জানানোরও কোন ভাষা ছিল না আমার। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমার নেত্রী যতদিন কারামুক্ত ও মামলা থেকে অব্যাহতি না পাবেন, ততদিন আমি আমার মাথার চুল কাটবো না। অনেকেই বলতো মাথার চুল বড় রাখছি কেন। কিন্তু কাউকে বলতে পারিনি। অবশেষ আমার নেত্রী মুক্ত হয়েছেন। তাই বুধবার মাথার চুল কেটে আমি আমার প্রতিজ্ঞা রাখছি। উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দি হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দুই বছরের বেশি সময় কারাবন্দি ছিলেন তিনি। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে। তখন থেকে ছয় মাস অন্তর অন্তর আবেদন সাপেক্ষে তার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়াচ্ছিল আ.লীগ সরকার। মঙ্গলবার (০৬ আগস্ট) নির্বাহী আদেশে দণ্ডাদেশ মওকুফ করে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপ-সচিব মোহাম্মদ আবু সাঈদ মোল্লা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়।

  • আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের সরাসরি গুলি ছোড়া বন্ধের রিট খারিজ

    আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের সরাসরি গুলি ছোড়া বন্ধের রিট খারিজ

    বিক্ষোভ দমনে বিক্ষোভকারী বা আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী গুলি না চালানোর নির্দেশনা চেয়ে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। রোববার (৪ আগস্ট) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসাইন দোলনের বেঞ্চ রিটটি খারিজ করে দেন। তবে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পুলিশ প্রবিধান (পিআরবি) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলেছেন আদালত। আদালতে আইনজীবীরা বলেছেন, পিআরবিতে বলা আছে, গুলি করার আগে পুলিশকে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়। জীবন রক্ষার্থে সর্বশেষ ধাপ হিসেবে পুলিশ গুলি করতে পারবেন। তবে নির্বিচারে গুলি করা যাবে না।
    এর আগে, গত ১ আগস্ট এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সংশিষ্ট আদালতের কনিষ্ঠ বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলন অসুস্থতার কারণে ওইদিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী গুলি না চালাতে এবং ডিবি হেফাজতে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককে মুক্তি দিতে নির্দেশনা চেয়ে গত ২৯ জুলাই রিটটি করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মানজুর আল মতিন প্রীতম ও আইনুন্নাহার সিদ্দিকা লিপি রিটটি করেন। গত ২৯ ও ৩০ জুলাই রিটের ওপর শুনানি হয়।a