Category: স্বাস্থ্য

  • রবিবার থেকে জেলায় ‘হাম’র টিকা কার্যক্রম শুরু- চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে করণীয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সভা-৪৫ হাজার টিকার প্রস্তুতি

    রবিবার থেকে জেলায় ‘হাম’র টিকা কার্যক্রম শুরু- চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে করণীয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সভা-৪৫ হাজার টিকার প্রস্তুতি

    রবিবার থেকে জেলায় ‘হাম’র টিকা কার্যক্রম শুরু

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে করণীয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সভা-৪৫ হাজার টিকার প্রস্তুতি

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় শিশুদের প্রাণঘাতি রোগ ‘হাম’ রোগের বর্তমান অবস্থা ও করনীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোঃ হাবিবুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক সাবেক এমপি মোঃ হারুনুর রশীদ এবং পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাবুদ্দীন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী।

    সভায় জানানো হয়, জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব রোধে আগামী রবিবার থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪৫ হাজার ডোজ টিকা প্রয়োগ করা হবে। প্রধান অতিথি ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, “‘হাম’ একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সময়মতো টিকা নিশ্চিত করতে পারলে এ রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।” জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় হাম প্রতিরোধে লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত শিশুর সংখ্যা ৩ লাখ ৬০ হাজার ৮১৪ জন। এ বিপুল সংখ্যক শিশুকে টিকার আওতায় আনতে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। সভায় সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাবুদ্দীন এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোঃ মশিউর রহমান টিকাদান কর্মসূচির প্রস্তুতি ও বাস্তবায়ন কৌশল তুলে ধরেন। তারা জানান, প্রত্যন্ত এলাকাতেও টিকা পৌঁছে দিতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং ভ্যাকসিন সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    সভা শেষে হামের (Measles) রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং টিকা ক্রয়ের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি চেক জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অতিথিরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে এমন সহযোগিতা টিকাদান কর্মসূচিকে আরও গতিশীল করবে। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ নাকিব হাসান তরফদার, বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব মোঃ জুবায়ের হোসেন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবু সালেহ্ মোহাম্মদ হাসনাত, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ ইকরামুল হক নাহিদ, গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাকির মুন্সি, শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ তৌফিক আজিজ, ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাহীন মাহমুদ,

    জেলা তথ্য অফিসার রুপ কুমার বর্মণ, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রটগণসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ গোলাম মোস্তফা মন্টু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হোসেন শাহ নেওয়াজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ টেলিভিশন জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ রফিকুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন জুয়েল, সিনিয়র সাংবাদিক ডাবলু কুমার ঘোষ, দৈনিক চাঁপাই দর্পণ ও দৈনিক অধিকার ডট কমের নিজস্ব প্রতিনিধি মোঃ ইসাহাক আলীসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকর্মীরা। সভা থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় এনে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে হামমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব ॥ ৩ মাসে আক্রান্ত ২৯৩ শিশু-মৃত্যু ৪

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব ॥ ৩ মাসে আক্রান্ত ২৯৩ শিশু-মৃত্যু ৪

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব ॥ ৩ মাসে আক্রান্ত ২৯৩ শিশু-মৃত্যু ৪

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম বা মেজলস আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। গত তিন মাসে জেলা হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৯৩ শিশু ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৭ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ৭৭ জন শিশু আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. রেজাউল করিম জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন: জানুয়ারি/২৬ থেকে আমরা কিছু সাসপেক্টেড মেজলস পাচ্ছি। বর্তমানে হাসপাতালে ৭৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন। এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় আইসোলেশন জরুরি। অনেক শিশুর হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও চোখের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসার বিষয়ে তিনি আরও যোগ করেন, গাইডলাইন অনুযায়ী ভিটামিন-এ ক্যাপসুলসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। তবে জনবল সংকটের কারণে গুরুতর শিশুদের রাজশাহীতে রেফার্ড করতে হচ্ছে। ডা. রেজাউল করিমের মতে, আক্রান্ত শিশুদের বড় অংশই টিকার আওতার বাইরে ছিল। তিনি বলেন, অনেক শিশু এক ডোজ টিকা নিলেও দ্বিতীয় ডোজ নেয়নি। আবার দুর্গম এলাকা ও ইনজেকশন ফোবিয়ার কারণে কেউ কেউ পুরোপুরি বাদ পড়েছে। ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে, যারা এখনো ইপিআই শিডিউল অনুযায়ী টিকার আওতায় আসেনি। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে রুট লেভেলে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে র‌্যালি-আলোচনা সভা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে র‌্যালি-আলোচনা সভা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে র‌্যালি-আলোচনা সভা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ নানা আয়োজনে মধ্যে দিয়ে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকালে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও ব্রাক স্বাস্থ্য কর্মসূচির উদ্যোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। পরে সিভিল সার্জন এর সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, সিভিল সার্জন ডা. এ.কে.এম. শাহাব উদ্দিন, সিভিল সার্জন অফিসে মেডিকেল অফিসার ডাঃ মো. ইনজামাম উল হক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতির প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা মন্টু, ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচির চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ব্যবস্থাপক নাজিম উদ্দীন, এরিয়া ম্যানেজার আব্দুল কুদ্দুসসহ অন্যরা। সিভিল সার্জন ডা. এ.কে.এম. শাহাব উদ্দিন বলেন, ডায়াবেটিস এখন বৈশ্বিক সমস্যা। সারাবিশ্বে বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোয় ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। আমাদের দেশে ১৩ শতাংশের বেশি মানুষ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। তবে গ্রামগঞ্জের থেকে শহরের মানুষ ডায়াবেটিসে বেশি আক্রান্ত। এই রোগের কারণে চোখ, কিডনি, হার্টসহ বিভিন্ন রোগের সমস্যা দেখা দেয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন হাটাহাটির পাশাপাশি সবাইকে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পরামর্শ দেন তিনি। এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালুগ্রামে ডায়াবেটিস স্কিনিং ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত হয়।

  • ৫ লাখ শিশু-কিশোরকে দেয়া হবে টিসিভি টিকা- টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে কর্মশালা

    ৫ লাখ শিশু-কিশোরকে দেয়া হবে টিসিভি টিকা- টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে কর্মশালা

    ৫ লাখ শিশু-কিশোরকে দেয়া হবে টিসিভি টিকা

    টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে কর্মশালা

    টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা হয়েছে। “টাইফয়েডে জ্বর প্রতিরোধে-টিকা নেবো দল বেঁধে” এ প্রতিপাদ্য নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় শুরু হতে যাচ্ছে ব্যাপক টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি। আগামী ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে পুরো এক মাসব্যাপী এ কর্মসূচির আওতায় ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ শিশু টাইফয়েড টিকা দেয়া হবে। এই উপলক্ষে সাংবাদিকদের নিয়ে কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক (যুগ্ম সচিব) মো. আব্দুস সামাদ। মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫’শ শিশু-কিশোরকে দেয়া হবে টিসিভি টিকা বলে জানানো হয় কর্মশালায়। সোমবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে এই কর্মশালা হয়।

    গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় হওয়া কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক উজ্জল কুমার ঘোষ। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক (কারিগরি ও প্রশিক্ষণ) অনসূয়া বড়ুয়া। স্বাগত বক্তব্যে কর্মশালায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা তথ্য অফিসার রূপ কুমার বর্মন। টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন এবং টিসিভি টিকার উপকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা বিষয় তুলে ধরেন সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দ সুমন। এছাড়াও টিকা বিষয়ে বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো. গোলাম মোস্তফা। এসময় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রায় অর্ধশত গণমাধ্যকর্মী কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।

    কর্মশালায় জানানো হয়, “শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে টাইফয়েড টিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার চাইছে, কোনো শিশুই যেন টিকার বাইরে না থাকে।” “টাইফয়েড প্রতিরোধে এই টিকাদান কর্মসূচি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের একটি মাইলফলক উদ্যোগ।” কর্মশালায় আরও জানানো হয়, জেলার সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে এই টিকা দেওয়া হবে। শিশুদের টিকা প্রদানে স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, শিক্ষা বিভাগ ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা একযোগে কাজ করবে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তা ডাঃ সৈয়দ সুমন বলেন, টাইফয়েড টিকা নিরাপদ ও কার্যকর, এটি শিশুর শরীরে দীর্ঘমেয়াদে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টাইফয়েড হলো পানিবাহিত একটি সংক্রামক ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা শিশুদের মধ্যে জ্বর, ডায়রিয়া ও মারাত্মক শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করে। সময়মতো টিকা না পেলে এ রোগ প্রাণঘাতী হতে পারে। সরকারের এই উদ্যোগ শিশু মৃত্যু হ্রাস, জনস্বাস্থ্যের মানোন্নয়ন এবং রোগপ্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

    কর্মশালায় বক্তারা বলেন, “প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। শিশুদের সুস্থ রাখতে এই টিকা একটি জীবনরক্ষাকারী সুরক্ষা।” আরও বলা হয়, এরই মধ্যে লক্ষমাত্রার ৩৮ শতাংশ শিশু-কিশোরের নিবন্ধনও সম্পন্ন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সকলে মিলেই আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে, কর্মসূচী সফল হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা। কর্মশালায় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আয়োজক কর্তৃপক্ষ। প্রথম দুই সপ্তাহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টিকা দেয়া হবে। পরের দুই সপ্তাহ বিভিন্ন কমিউনিটিতে গিয়ে টিকা দেয়া যাবে।

    কর্মশালায় আরও বলা হয়, টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন বা টিসিভি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রি-কোয়ালিফায়েড। বাজারে টাইফয়েডের যেসব টিকা আছে তার তুলনায় আরও বেশি কার্যকর। এই টিকা শিশু-কিশোরদের পরবর্তী ৫ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেবে। এছাড়াও নতুন এই টিকা সম্পূর্ণ হালাল। টিকার গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমকর্মীদের গুরুত্ব অপরীসিম বলে জানানো হয় কর্মশালায়। জেলায় সঠিকভাবে এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সাংবাদিকদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন আয়োজক কর্তৃপক্ষ।

  • ডেঙ্গুতে ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১৭৩

    ডেঙ্গুতে ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১৭৩

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৭৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যাদের মধ্যে ঢাকায় ৪১ জন এবং ঢাকার বাইরে ১৩২ জন। শুক্রবার (২২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২৭ হাজার ৯৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মোট ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৮ শতাংশ পুরুষ এবং ৪১.৮ শতাংশ নারী। অন্যদিকে, আক্রান্তদের মধ্যে ৫৯.২ শতাংশ পুরুষ এবং ৪০.৮ শতাংশ নারী।

  • ভয়ংকর রূপে ফিরেছে করোনা ॥ ভারতসহ কয়েকটি দেশে ভ্রমণে সতর্কতা

    ভয়ংকর রূপে ফিরেছে করোনা ॥ ভারতসহ কয়েকটি দেশে ভ্রমণে সতর্কতা

    করোনাভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্ত ও সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ কয়েকটি দেশে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সোমবার অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশিদের স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ সতর্কবার্তা জারি করা হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের নতুন সাব-ভেরিয়েন্ট, বিশেষ করে অমিক্রন এলএফ.৭ (LF.7), এক্সএফজি (XFG), জেএন-১ (JN.1) এবং এনবি ১.৮.১ (NB 1.8.1) এর সংক্রমণ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে এই ভাইরাস বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকায়, ভারত ও অন্যান্য সংক্রামক দেশ থেকে ভ্রমণকারীদের উপর বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের সব স্থলবন্দর, নৌবন্দর ও বিমানবন্দরের আইএইচআর (IHR) ডেস্কে স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং ও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সংক্রমণ রোধে ঝুঁকি মোকাবিলায় অতিরিক্ত কিছু কার্যক্রম গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে নির্দেশনায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মনে করছে, করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখা জরুরি।

  • দেশে প্রথম জিকা ভাইরাসের ‘ক্লাস্টার’ শনাক্ত

    দেশে প্রথম জিকা ভাইরাসের ‘ক্লাস্টার’ শনাক্ত

    দেশে প্রথমবারের মতো জিকা ভাইরাসে ক্লাস্টার (গুচ্ছ) সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ এক স্থানে একাধিক ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসটির অস্তিত্ব মিলেছে। সোমবার আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর.বি)-এর ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়। এক দশক আগে বাংলাদেশে প্রথম জিকা ভাইরাস শনাক্তের পর এবার গুচ্ছ সংক্রমণের দেখা মিলল। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যানুযায়ী, একই এলাকার পাঁচ ব্যক্তি এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এলাকাটির নাম প্রকাশ করেনি সংস্থাটি। ক্লাস্টার সংক্রমণের বিষয়ে আইসিডিডিআর.বি বলছে, গবেষকরা ২০২৩ সালে ঢাকার রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে আসা জ্বরে আক্রান্ত ১৫২ রোগীর নমুনা পিসিআরভিত্তিক পরীক্ষা করেন। এতে পাঁচজনের নমুনায় জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়, যাদের বসবাস এক কিলোমিটারের মধ্যে। এই রোগীদের কেউ-ই দুই বছরের মধ্যে বিদেশ ভ্রমণ করেননি। তারা পরীক্ষা করানও একই সময়ে। ফলে বিষয়টি একই সংক্রমণ চক্রের অংশ হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এ ছাড়া পাঁচজন আক্রান্তের মধ্যে একজন ডেঙ্গু ভাইরাসেও সংক্রমিত হয়েছিলেন। আইসিডিডিআর.বির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, সমগ্র জিনোম সিকোয়েন্সিং এবং তুলনামূলক বিশ্লেষণ ব্যবহার করে দেখা যায়, বাংলাদেশি এই স্ট্রেইন (অণুজীবের উপপ্রকার) এশিয়ান লাইনেজের অন্তর্গত। এতে আক্রান্ত হলে মাইক্রোসেফালি ও অন্যান্য স্নায়বিক রোগের মতো গুরুতর সংকট দেখা দিতে পারে। এই স্ট্রেইন ২০১৯ সালে কম্বোডিয়া ও চীনে দেখা যায়। এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ু, উষ্ণ তাপমাত্রা ও দীর্ঘ বর্ষাকাল এডিস মশার জন্য সর্বোত্তম প্রজনন পরিস্থিতি তৈরি করে। এ কারণে মশাবাহিত অনেক রোগ হয়। ডেঙ্গু ছাড়াও এখানে চিকুনগুনিয়া দেখা গিয়েছিল। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো জিকাও এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। ১৯৪৭ সালে উগান্ডায় প্রথম জিকা ভাইরাস শনাক্ত হয়, তবে তা বানরের শরীরে। এর পর ১৯৫২ সালে প্রথম মানবদেহে শনাক্ত হয়। এর পর তা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের অনেক দেশে। জিকা আক্রান্তের লক্ষণ ডেঙ্গুর মতো হলেও ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই ধরা পড়ে না। বছরজুড়ে মানুষের শরীরে সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। জিকা ভাইরাসে আক্রান্তের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের মাধ্যমেও সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। জিকা আক্রান্ত হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হলে অথবা পরে জিকা আক্রান্ত হলে শারীরিক নানা জটিলতা নিয়ে শিশুর জন্ম হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০১৬ সালে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালিত একটি পর্যালোচনা গবেষণায় প্রথমবারের মতো দেশে জিকা ভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি উঠে আসে। ওই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল ২০১৪ সালে। যদিও এই রোগীর বিদেশ ভ্রমণের কোনো ইতিহাস ছিল না। বিষয়টিতে ধারণা করা হয়, ২০১৫ সালে ব্রাজিলে প্রাদুর্ভাবের আগেই বাংলাদেশে জিকা ভাইরাস গোপনে সংক্রমিত হচ্ছিল।

  • মাঙ্কিপক্সের প্রথম টিকার অনুমোদন দিয়েছে ডব্লিউএইচও

    মাঙ্কিপক্সের প্রথম টিকার অনুমোদন দিয়েছে ডব্লিউএইচও

    করোনা মহামারির পর এই মুহূর্তে বৈশ্বিক আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে মাঙ্কিপক্স। আফ্রিকা ছাড়িয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী ভাইরাসটি। গত মাসেই ভাইরাসটির সংক্রমণের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক জরুরি সতর্কতা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। মহামারির আকার ধারণ করার আগেই ভাইরাসটি মোকাবিলার জন্য এবার প্রথম টিকার অনুমোদন দিয়েছে সংস্থাটি। শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ডব্লিউএইচওর প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র থেকে মাঙ্কিপক্সের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে চলতি বছর। এ দেশটিতেই মাঙ্কিপক্সের প্রথম টিকা এমভিএ-বিএন পৌঁছানোর পর এর প্রাথমিক অনুমোদন দিল ডব্লিউএইচও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক বিবৃতিতে বলেন, ‘মাঙ্কিপক্সের প্রথম টিকার প্রাথমিক অনুমোদন ভাইরাসজনিত রোগটি মোকাবিলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। এখন আমাদের টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে গতি বাড়াতে হবে। এই রোগের সংক্রমণ, বিস্তার এবং এতে প্রাণহানি ঠেকানোর জন্য যেসব স্থানে টিকা এখন সবচেয়ে জরুরি, সেসব স্থানের মানুষ যাতে সবার আগে টিকা পান, আমাদের তা নিশ্চিত করতে হবে।’ ডব্লিউএইচওর প্রাথমিক অনুমোদনের অর্থ এখন মাঙ্কিপক্সের এই টিকার মান, সুরক্ষা ও কার্যকারিতার বিষয়টি যাচাই করে দেখা হয়েছে। সংস্থাটির প্রাথমিক অনুমোদন থাকায় এই টিকা জাতিসংঘসহ সব আন্তর্জাতিক সংস্থা সংগ্রহ করতে পারবে। এর পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্বল্প আয়ের দেশগুলো নিজেরা টিকার মান, সুরক্ষা ও কার্যকারিতা যাচাইয়ে সময় অপচয় না করে দ্রুত টিকা সংগ্রহ করতে পারবে। চলতি বছরের শুরুতে কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে প্রথম মাঙ্কিপক্স আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। গত জানুয়ারি থেকে দেশটিতে প্রায় ২২ হাজার মানুষের মধ্যে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে মাঙ্কিপক্স আক্রান্ত হয়ে ৭১৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পর আফ্রিকার দেশগুলোতেও মাঙ্কিপক্সের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। পরে ইউরোপ ও এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। চলতি বছর ভাইরাসটির নতুন ধরন ক্লেড১ বি বেশি সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত মাসে মাঙ্কিপক্স সংক্রমণ নিয়ে আন্তর্জাতিক জরুরি সতর্কতা জারি করে ডব্লিউএইচও। ভাইরাসটি মোকাবিলায় এবার প্রাথমিকভাবে প্রথম টিকার অনুমোদন দিল সংস্থাটি।

  • এক সপ্তাহে দেশে হিটস্ট্রোকে ১০ জনের মৃত্যু

    এক সপ্তাহে দেশে হিটস্ট্রোকে ১০ জনের মৃত্যু

    দেশ জুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে গরমের অনুভূতি বেড়েছে আরও বেশি। এই তাপপ্রবাহের কারনে সবচেয়ে বেশি হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিতে আছেন শিশু বৃদ্ধ এবং কায়িক শ্রমজীবী মানুষ।
    চলমান এই বৈরী আবহাওয়ায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গত ৭ দিনে সারা দেশে হিটস্ট্রোকের কারনে ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই ১০ জনের মধ্যে সোমবার (২৯ এপ্রিল) মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম এ তথ্য জানিয়েছে। এদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত তাদের সংগৃহীত তথ্যে হিটস্ট্রোকে ১০ জনের মৃত্যু ও ৫ জনের হাসপাতালে ভর্তির তথ্য পাওয়া গেছে। অধিদপ্তর জানায়, হিটস্ট্রোকে নতুন করে মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুজনের মাদারীপুরে ও আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রামে। আর এক সপ্তাহের মধ্যে মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে দুজন মাদারীপুরের। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গা, খুলনা, হবিগঞ্জ, রাজবাড়ী, ঝিনাইদহ, লালমনিরহাট, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম জেলায় একজন করে মারা গেছেন।
    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম গত ২২ এপ্রিল থেকে সারা দেশের সরকারি হাসপাতালে হিটস্ট্রোকের রোগীর তথ্য সংগ্রহ করা শুরু করেছে। সবমিলিয়ে বর্তমানে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত পাঁচজন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন বলেও জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

  • তামাকের ব্যবহার রোধে শক্তিশালী আইনের বিকল্প নেই-স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    তামাকের ব্যবহার রোধে শক্তিশালী আইনের বিকল্প নেই-স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    তামাকের ব্যবহার রোধে শক্তিশালী আইনের বিকল্প নেই-স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    তামাক ব্যবহারজনিত মৃত্যু রোধ ও ক্ষয়-ক্ষতি কমাতে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কোনও বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি-টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স-আত্মা’র একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী একথা বলেন। এসময় মন্ত্রী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনীর উদ্যোগকে ‘সময়োপযোগী’ বলে আখ্যা দেন। সভায় প্রজ্ঞা ও আত্মা’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে ৩৫.৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তামাকের এই ভয়াবহতা রোধে ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং এ লক্ষ্যে তিনি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন যুগোপযোগী করার নির্দেশনা দেন। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের খসড়া সংশোধনীতে যেসব প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তারমধ্যে রয়েছে— সকল পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধুমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান রাখার বিধান বিলুপ্ত করা, বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্য বা প্যাকেট প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা, তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা, সব ধরনের খুচরা বা খোলা তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করা; ই-সিগারেট, ভ্যাপিং, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টসহ এ ধরনের সকল পণ্য উৎপাদন, আমদানি ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা, এবং তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট বা মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা ইত্যাদি। বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে আলোচনায় অংশ নেন সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের, কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার, আত্মা’র কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের বাংলাদেশ প্রোগ্রামস ম্যানেজার আব্দুস সালাম মিয়া।