চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবী জোরালো হচ্ছে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট এই তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক এমপি আমিনুল ইসলাম। কিন্তু বিএনপি’র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘোষণা নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। প্রার্থী বাছাইয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষিত হওয়ায় এমন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাকে মনোনয়ন দেওয়ার পরপরই লাগাতার আন্দোলন করে যাচ্ছে বিএনপির বঞ্চিত নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। প্রায় প্রতিদিন নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলার বিভিন্ন স্থানীয় নেতা কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন। নেতা- কর্মীদের দাবী, তৃণমূলের কোনো সমর্থন না নিয়ে আমিনুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাটবাসী চান, যার জনপ্রিয়তা বেশি ও জনগণের কল্যাণে কাজ করবেন, তাকে মনোনয়ন দেওয়া হোক। যে পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি’র মনোনয়ন পরিবর্তন করা না হবে, সেই পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করা অনেক নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু কেন্দ্র থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনি জনবান্ধব নেতা নন। বিগত সময়গুলোতে এলাকায় তার অনুপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। তাছাড়া তিনি এলাকার বাসিন্দা নন। তিনি লালমনিরহাট জেলার অধিবাসী ও ব্যবসার কাজে প্রায়ই ঢাকা, চট্টগ্রাম থাকেন এমন অভিযোগ তাদের। এ আসনে দীর্ঘদিন ধরে মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আসাদুল্লাহ আহমদ। দলের জন্য রয়েছে তার অপরিসীম ত্যাগ। এলাকার সন্তান হয়ে দল ও মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ১৯৮১ সাল থেকে দলের সাথে আছি। ছাত্রদল, যুবদল, জাসাস ও বিএনপির দায়িত্ব পালন করেছি। দলের সিদ্ধান্ত সবসময় মেনে চলেছি। কোন গ্রুপিংয়ের সাথে জড়িত হইনি। মনে করেছিলাম মনোনয়ন পাবো। কিন্তু পাইনি। সিদ্ধান্ত পূর্নবিবেচনা করার জন্য দলের নিকট আবেদন করছি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম তুহিন বলেন, ‘আমরা যারা মাঠে আছি, আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছি, আমাদের মতামত না নিয়ে বাইরের কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তৃণমূল তা মেনে নেবে না।’ জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মাসউদা আফরোজ হক শুচি বলেন, “আমরা এলাকার মানুষের সঙ্গে দিনরাত কাজ করি। কিন্তু যাকে এলাকায় দেখা যায়নি, তিনি হঠাৎ এসে মনোনয়ন পেয়ে গেলে সংগঠনের ভেতরে ভাঙন ধরবে। বিএনপি’র অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার ইমদাদুল হক মাসুদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দল বাঁচাতে হলে এলাকার পরীক্ষিত নেতাদের মধ্যে থেকে যে কোন একজনকে মনোনয়ন দিতে হবে। বাইরে থেকে এনে প্রার্থী দিলে কর্মীরা হতাশ হবেন। আমিনুল ইসলামকে বাদ দিয়ে প্রার্থী না দিলে কেউ মেনে নেব না।’ নাচোল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের খোকন বলেন, ‘আমরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি অনুরোধ জানাই, তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দিন। তৃণমূলই বিএনপির শক্তি। তাদের উপেক্ষা করলে নির্বাচনী মাঠ দুর্বল হয়ে পড়বে। গোমস্তাপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ( ভারপ্রাপ্ত) মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, কোন জনবিচ্ছিন্ন নেতাকে মনোনয়ন দিলে জনগন ও দলীয় নেতাকর্মী মেনে নিবে না। দূর্বল প্রার্থীর কারণে দলই ক্ষতির সম্মুখীন হবে। ভোলাহাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইয়াজদানী আলীম আল রাজী জজ বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপর আমাদের আস্থা আছে। তিনি অবশ্যই এলাকার মানুষের সেন্টিমেন্ট বুঝে সিদ্ধান্ত নিবেন। আমাদের দাবী অযোগ্য প্রার্থীর পরিবর্তন চাই। উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩ নভেম্বর রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২৩৭টি আসনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সে সময় এ আসনে আমিনুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়ার ঘোষণা করা হয়।