Category: জয়পুরহাট

  • জয়পুরহাটে ঝগড়া থামাতে বলায় প্রতিবেশির ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু

    জয়পুরহাটে ঝগড়া থামাতে বলায় প্রতিবেশির ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু

    জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে পুকুরে মাছ মারাকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে প্রতিবেশীদের মাঝে লাগা ঝগড়া থামাতে গেলে এক পক্ষের ধাক্কায় আব্দুল খালেক (৭০) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের উচাই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খালেক ঐ গ্রামের মৃত আব্দুল গনির পুত্র। শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পাঁচবিবি থানার অফিসার ইনচার্জ নিয়ামুল হক। স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার দুপুরে উপজেলার উচাই গ্রামের খালেকের পুত্র আনোয়ার হোসেনের পুকুরে নেমে তারই বোন আঞ্জুয়ারা মাছ ধরেন। এটি জানতে পেরে আনোয়ার তার বোনকে গালিগালাজ করেন। পরবর্তীতে এ নিয়ে আবারও রাত ১১ টার সময় আনোয়ার, তার বন্ধু ও প্রতিবেশি নুর ইসলাম ও তার স্ত্রী সেলিনা আঞ্জুয়ারার উঠানে গিয়ে ঝগড়াঝাটি শুরু করেন। এসময় বৃদ্ধ আব্দুল খালেক এত রাতে ঝগড়াঝাটি না করতে তাদের নিষেধ করতে গেলে প্রতিবেশি নুর ইসলাম ও তার স্ত্রী সেলিনা বৃদ্ধ খালেককে সজোরে ধাক্কা দেয়। তাদের ধাক্কায় আব্দুল খালেক মাটিতে রাখা বাঁশের উপর পড়ে মাথায় গুরুত্বর আঘাত পেয়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। পরে তার অবস্থা অবনতি হলে রাতেই পরিবারের লোকজন তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পাঁচবিবি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, এব্যাপারে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেটে শতভাগ পাস ॥ ৫২ জনে ৫১ জনই জিপিএ-৫

    জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেটে শতভাগ পাস ॥ ৫২ জনে ৫১ জনই জিপিএ-৫

    এইচএসসি পরীক্ষায় এবারও ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছে জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রতিষ্ঠানটির ৫২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছে। তাদের মধ্যে ৫১ জন পেয়েছে জিপিএ-৫। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর একটার দিকে ক্যাডেট কলেজ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এইচএসসি পরীক্ষায় জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজের পরীক্ষার্থীদের পাশের হার শতভাগ। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৫২ জন ক্যাডেটের মধ্যে ৫১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। আর একজন পেয়েছে জিপিএ-৪.৮৩। ২০০৬ সালে জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৫টি ব্যাচ পরীক্ষা দিয়েছে। পূর্বের ১৪টি ব্যাচের মতো ১৫তম ব্যাচ আশাব্যঞ্জক ফলাফল অর্জন করেছে। জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুন্ন রেখেছে। জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আরিফুল হক বলেন, এ জেলার মধ্যে জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ ফলাফলে শীর্ষস্থান দখল করেছে। রাজশাহী বোর্ডের মধ্যে জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ ধারাবাহিকভাবে শীর্ষস্থান দখল করে থাকে। এবারও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। তবে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি। ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফলের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

  • জয়পুরহাটে শিশু শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার ॥ দুই নারী আটক

    জয়পুরহাটে শিশু শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার ॥ দুই নারী আটক

    জয়পুরহাটে শিশু শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার ॥ দুই নারী আটক

    জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর তাসনিয়া (১০) নামে এক শিশু শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এঘটনায় প্রতিবেশী একরামুল হকের স্ত্রীসহ দু’নারীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে উপজেলার বরতারা ইউনিয়নের শালবন গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত তাসনিয়া ওই গ্রামের এরশাদ হোসেনের মেয়ে ও স্থানীয় বটতলী বাজারের সানরাইজ মডেল স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। ওই ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আসামী করে ক্ষেতলাল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তাসনিয়ার বাবা এরশাদ। মুহূর্তে গ্রামবাসীরা অভিযুক্ত একরামুলের বাড়িটি ঘিরে রাখে। পরে লাশ ও আটক ব্যক্তিদের উদ্ধারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। উত্তেজিত জনতাকে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়ে তারা লাশ ও আটক ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। আটককৃতরা হচ্ছে, উপজেলার বরতারা ইউনিয়নের শালবন গ্রামের পশ্চিমপাড়ার একরামুল হকের স্ত্রী হাবিবা আক্তার কুমকুম (৩০) (২৫) ও একই এলাকার রাজ্জাকের স্ত্রী আজুয়ারা (৬০)।
    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধা ৬টার দিকে বসতবাড়ীর সামনে খেলাধুলা করাকালীন সময়ে বাড়ীতে না আসিয়া নিখোঁজ হয় শিশু শিক্ষার্থী তাসনিয়া। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো খোঁজ মেলেনি। তিনদিন পর শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রতিবেশী একরামুল ইসলামের বাড়ী থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয়রা খুঁজতে থাকেন। পরে ওই বাড়ীর গোয়ালঘরে তল্লাশির সময় একটি বস্তার ভেতর শিশুটির মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার সময় কৌশলে পালিয়ে যায় একরামুল হক। তবে স্থানীয়রা একরামুল হকের স্ত্রী হাবিবাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে সেখান থেকে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। পরে একরামুলের স্ত্রীর তথ্যমতে অপর এক প্রতিবেশী এক নারীকেও আটক করে পুলিশ। এদিকে, মর্মান্তিক এ হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘাতকদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় শনিবার ভোরে বিক্ষুব্ধ জনতা খুনি একরামুলের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে। এ বিষয়ে ক্ষেতলাল থানার ওসি আব্দুল করিম বলেন, শিশুর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে এঘটনায় দু’জন নারীকে আটক করা হয়েছে। তবে এখনও তদন্ত চলমান রয়েছে।

  • জয়পুরহাটে ৩৫০ জন পল্লী বিদ্যুৎ কর্মী অনুপস্থিত ॥ গ্রাহকদের ভোগান্তি

    জয়পুরহাটে ৩৫০ জন পল্লী বিদ্যুৎ কর্মী অনুপস্থিত ॥ গ্রাহকদের ভোগান্তি

    জয়পুরহাটে ৩৫০ জন পল্লী বিদ্যুৎ কর্মী অনুপস্থিত ॥ গ্রাহকদের ভোগান্তি

    সারাদেশ ব্যাপী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৪ দফা দাবি আদায়ের আন্দোলন চলছে। এর অংশ হিসেবে জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) কর্মকর্তারাও গণছুটি নিয়েছেন। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সমিতির ৪১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে প্রায় ৩৫০ জন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে সমিতির অধীনস্থ ১০টি সাব-স্টেশনের মধ্যে ৯টিতে কোনো লোকবল ছিল না, যা বিদ্যুৎ সেবায় চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার প্রায় ২ লাখ ৮৮ হাজার গ্রাহক। জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় রয়েছে তিনটি আঞ্চলিক কার্যালয়, একটি উপ-আঞ্চলিক কার্যালয় এবং ১০টি সাব-স্টেশন। এখানে মোট ৪১১ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত। চার দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনের অংশ হিসেবে বুধবার গণছুটি নেন ৩৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। বিদ্যুৎ বিভাগের কড়া নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তারা কাজে যোগ দেননি। অভিযোগ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরা মোবাইল ফোন জমা দিয়ে চলে গেছেন, ফলে গ্রাহকদের অভিযোগ গ্রহণ ও সমাধান কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
    জয়পুরহাট সদর দপ্তরে সকাল ১১টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ কর্মী অনুপস্থিত। গ্রাহকরা বিভিন্ন সেবা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স (ও অ্যান্ড এম) বিভাগে মাত্র ৫-৬ জন কর্মকর্তা কর্মরত ছিলেন। বিভাগটির একজন প্রকৌশলী জানান, এখানে একজন এজিএমসহ মোট ২১ জন কর্মরত থাকার কথা, কিন্তু ৮ জন ছুটির দরখাস্ত দিয়ে এবং আরও ৫ জন ছুটি ছাড়াই কাজে অনুপস্থিত রয়েছেন। মঙ্গলবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আবু কাহার অভিযোগ করে বলেন, আমার বাড়ির মিটারে বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক বেশি এসেছে। তাই সদর দপ্তরে এসে অভিযোগ জানাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখানে এসে দেখি, কেউ নেই। একজন বললেন, আন্দোলনের কারণে কেউ আসেনি। গ্রাহকদের জিম্মি করে এভাবে আন্দোলন করা মোটেও যৌক্তিক নয়।
    পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আবু উমাম মো. মাহবুবুল হক জানান, আজ (বুধবার) ৩৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে আসেননি। ৯টি সাব-স্টেশন সম্পূর্ণ লোকবলশূন্য। অভিযোগ কেন্দ্রের মোবাইল জমা দেওয়ায় সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যেই আবার লোডশেডিং শুরু হয়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

  • জয়পুরহাট জেলা ক্রীড়া সংস্থার এ্যাডহক কমিটি সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন

    জয়পুরহাট জেলা ক্রীড়া সংস্থার এ্যাডহক কমিটি সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন

    জয়পুরহাট জেলা ক্রীড়া সংস্থার এ্যাডহক কমিটি সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন

    জয়পুরহাট জেলা ক্রীড়া সংস্থার এ্যাডহক কমিটি সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে জেলার বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠক ও খেলোয়ারা। সোমবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যার আগে জয়পুরহাট স্টেডিয়ামের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বক্তব্য রাখেন, জেলা ফুটবল খেলোয়ার সমিতির সভাপতি মতিউর রহমান হবু, সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়ার টুটুল হোসেন বাদশা, ক্রীড়া সংগঠক আরিফুল ইসলাম ও ছাত্র প্রতিনিধি হাসিবুল হক সানজিদ। বক্তারা বলেন, গত ৩১ আগস্ট জেলা প্রশাসককে আহবায়ক ও জেলা ক্রীড়া অফিসারকে সদস্য সচিব করে জেলা ক্রীড়া সংস্থার ৯ সদস্য বিশিষ্ট এ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু খেলার সাথে সম্পৃক্ত নেই এমন ব্যক্তিকেও এই কমিটিতে রাখা হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনে দলীয়করণ ও কর্মমূল্যায়নহীন এ্যাডহক কমিটির কারণে খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। ফলে জেলার ক্রীড়া উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এজন্য আমাদের তিন দফা দাবি মানতে হবে। দাবিগুলো হচ্ছে দলীয়করণ মুক্ত ক্রীড়াঙ্গন চাই, আগামী ৩ দিনের মধ্যে জয়পুরহাট জেলা ক্রীড়ার এ্যাডহক কমিটির সংস্করণ চাই। যেখানে ক্রীড়াঙ্গনের সকলের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করতে হবে ও বিগত দিনে জয়পুরহাট জেলার ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট সংগঠক ও খেলোয়াড়দের কর্মমূল্যায়নের ভিত্তিতে এ্যাডহক কমিটির সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এসব দাবি মানা না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। পরে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও জেলা ক্রীড়া অফিসারকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

  • জয়পুরহাটে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে এক প্রাথমিক শিক্ষকের আত্মহত্যা

    জয়পুরহাটে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে এক প্রাথমিক শিক্ষকের আত্মহত্যা

    জয়পুরহাটে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে এক প্রাথমিক শিক্ষকের আত্মহত্যা

    জয়পুরহাটে ঋণের বোঝা সইতে না পেরে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ফারুক হোসেন (৪৯) নামে এক সহকারী শিক্ষক। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার পুরানাপৈল রেলগেটে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে জয়পুরহাট সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সান্তাহার রেলওয়ে থানাকে জানায়। নিহত সহকারী শিক্ষক ফারুক হোসেন কালাই উপজেলার হারুঞ্জা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তিনি উপজেলার হারুঞ্জা পূর্বপাড়া এলাকার মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ফারুক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিস রোগে ভুগছিলেন। এক হাত সম্পূর্ণ অবশ থাকায় স্বাভাবিক চলাফেরা করতেও তার কষ্ট হতো। অসুস্থতার কারণে নিয়মিত চিকিৎসা ও ব্যয়বহুল ঔষধের খরচ চালাতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন এনজিও, সমবায় সমিতি ও স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে একাধিকবার ঋণ গ্রহণ করেন। অভাব-অনটনের কারণে তার মাসিক বেতনের বেশিরভাগ অংশই কিস্তি ও উচ্চ সুদের ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়ে যেত। ফলে সংসার চালাতে গিয়ে তাকে চরম আর্থিক সংকটে পড়তে হয়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কোনো পথ না দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। বুধবার বিকেলে বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়িতে ফিরে পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে তিনি বাইরে বের হয়ে যান। পরে জয়পুরহাট শহর হয়ে পাঁচবিবি যাওয়ার পথে পুরানাপৈল রেলগেটে গিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন। নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী ঋণের বোঝা আর মানসিক চাপ সইতে না পেরে এই পথ বেছে নিয়েছে। এখন আমি সন্তানদের নিয়ে কিভাবে চলব। ওরা বাবাকে হারাল, আমি হারালাম স্বামীকে। জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তামবিরুল ইসলাম জানান, রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে ঝাপ দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার এবং সান্তাহার রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে। সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে।

  • শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের হুমকি

    শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের হুমকি

    নবম শ্রেণির ৩৩ জন শিক্ষার্থীকে মারধর

    শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের হুমকি

    স্যার দেরিতে ক্লাসে যাচ্ছে ছাত্র, একথা বলায় কালাই ময়েন উদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক এম এ জি নাফসি তালুকদার গত ২৬ আগস্ট ৩৩ জন শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারপিট, সরকারি জায়গা দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে নানা গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পরই সেই সাংবাদিকদের হত্যাসহ নানা রকম হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ৩৩ জন শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর থেকে ওই শিক্ষক নাফসি তালুকদার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর মুঠোফোনসহ বিভিন্নভাবে তিনি সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সংবাদকর্মী ও তাদের পরিবারকে স্ব-শরীরে হুমকি দেন। সাংবাদিক মহল বলছে, শিক্ষার্থীদের নির্যাতন ও অন্যায় কর্মকান্ড ধামাচাপা দিতে গিয়ে এখন সংবাদকর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে, যা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার উপর সরাসরি আঘাত। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। দৈনিক বাংলা ও নিউজ বাংলা২৪ এর জেলা প্রতিনিধি রাব্বিউল হাসান রমি, নাগরিক টেলিভিশন ও দৈনিক শিক্ষাডটকম এর জেলা প্রতিনিধি মাহফুজার রহমান, দৈনিক ভোরের দর্পনের জেলা প্রতিনিধি কাজী তানভিরুল ইসলাম রিগ্যানের স্ত্রীকে মুঠোফোনে হুমকি দেন। এছাড়াও কালাই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গত ২৬ আগস্ট ও ২৭ আগস্ট কয়েকজন সাংবাদিককে সরাসরি বিভিন্ন রকম হুমকি দেন।
    এ ঘটনা নিয়ে রাব্বিউল হাসান রমি তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে খোলা চিঠি লেখেন। ‘খোলা চিঠি-নিউজ করায় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করায় আমাকে কিছুক্ষণ আগে মেরে ফেলে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন কালাই ময়েন উদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও সাবেক পৌর যুবদলের সভাপতি নাফসি তালুকদার। আমার জীবনে কোন ক্ষতি ও পরিবারের কোন ক্ষতি হলে তার দায়ভার নাফসি তালুকদারকে নিতে হবে। গতকাল যারা তার ব্যবহার নিয়ে মুখে ফেনা তুলছেন, আজ তারা কি বলবেন?’
    এছাড়াও দৈনিক কালের কণ্ঠের কালাই প্রতিনিধি সাউদ আব্দুল্লাহ ফেসবুকে দুঃখ প্রকাশ করে লেখেন, সাংবাদিকতায় সত্য বলার দায়, এখন ভয়! সমাজের আয়নায় এক ভয়ানক প্রতিচ্ছবি!! পরিবার ও সাংবাদিকতা পেশার ঝুঁকি নিয়ে বিস্তর বিবৃতি দিয়েছেন তিনি।
    হুমকির বিষয়ে আরও কয়েকজন স্থানীয় বিভিন্ন গনমাধ্যমের সাংবাদিকরা বলেন, আমরা শুধুমাত্র শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কারণ দর্শানোর নোটিশ, তথ্য ও ভিডিও বক্তব্য অনুযায়ী সংবাদটি স্ব-স্ব মিডিয়াতে পাঠানো হয়েছে। যা মিডিয়া কর্তৃপক্ষ যাচাই বাচাই করে প্রকাশ করেছে। অথচ নাফসি তালুকদার এখন আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এতে আমরা পেশাগতভাবে মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতা ও ঝুঁকির মধ্যে আছি। এসব নিউজ সংক্রান্ত কোন তথ্যাদির বিষয়ে নাফসি তালুকদার যদি সংক্ষুব্ধ হন তিনি প্রতিবাদ জানাতে পারেন। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দিতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা গুরুত্ব সহকারে ব্যবস্থা নিবেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্কুলটি সরকারি হওয়ার আগে নাফসি তালুকদার একটি রাজনৈতিক দলের নেতা ছিল। সেই প্রভাবেই এখনও প্রভাব বিস্তার করছেন স্কুলসহ সর্ব মহলে। এ ব্যাপারে জানতে শিক্ষক নাফসি তালুকদারের মুঠোফোনে একাধিক সাংবাদিক কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আক্তার জাহান বলেন, ইতিমধ্যে স্কুলের ব্যাপারে কারণ দর্শানোর জবাব পেয়েছি। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে হাসপাতালের ডাক্তার নার্স, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে অসৎ আচরণ ও এসিল্যান্ডের সঙ্গেও অসৎ আচরণের অভিযোগ রয়েছে। এ গুলো বিষয়ের সাথে সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে তদন্ত করে ডিজির কাছে পাঠানো হবে।
    কালাই থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদ হোসেন বলেন, সাংবাদিকদের বিষয়ে আমি শুনেছি। যারা ভুক্তভোগী তারা লিখিত অভিযোগ দিলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • আক্কেলপুরে আ’লীগ নেতা স্বাধীন মাস্টার গ্রেপ্তার

    আক্কেলপুরে আ’লীগ নেতা স্বাধীন মাস্টার গ্রেপ্তার

    জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম স্বাধীন ওরফে স্বাধীন মাস্টারকে গ্রেপ্তার করেছে আক্কেলপুর থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দুপুরে আক্কেলপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বিদ্যালয় থেকে স্বাধীনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তার নামে জয়পুরহাট সদর থানায় হত্যা ও হত্যা চেষ্টা মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের পরে তাকে জয়পুরহাট সদর থানায় পাঠানো হয়েছে। আওয়ামীলীগ নেতা স্বাধীনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম।

  • পাঁচবিবিতে হজ বিষয়ক উদ্বুদ্ধকরন সভা অনুষ্ঠিত

    পাঁচবিবিতে হজ বিষয়ক উদ্বুদ্ধকরন সভা অনুষ্ঠিত

    জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে সরকারী যাকাত ফান্ডে যাকাত সংগ্রহ ও সরকারী ব্যবস্থাপনায় হজ বিষয়ক উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে উদ্বুদ্ধকরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) পরিচালক মোঃ সাজেদুর রহমান। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা রিয়াজ। এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপাইভাইজার মোঃ রবিউল ইসলাম, ফিল্ড অফিসার মোঃ মোত্তাকিনুল ইসলাম, মাস্টার ট্রেইনার আব্দুল ফাতাহ, উপজেলা প্রকৌশলী মোবারক হোসেন। পরিশেষে অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মডেল মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মোঃ বোরহান উদ্দিন। মুসলিম ধর্মের মানুষের জন্য হজ্ব পালন করা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু অনেক সময় শোনা যায় দালালের খপ্পরে পড়ে টাকা-পয়সা খোয়া যায়। এসব ঝামেলা থেকে রক্ষা পেতে সরকারীভাবে হজ্ব পালনের ব্যবস্থা আছে। আপনারা যারা আল্লাহর পবিত্র ভূমি কাবা শরীফ হজ্বের জন্য যেতে ইচ্ছুক ইসলামী ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে যাবেন কোন প্রকার সমস্যা বা জটিলতা ছাড়াই সভার প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা রিয়াজ উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে বলেন।

  • জয়পুরহাটে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারপিট ॥ চাঁদা দাবীর হাস্যকর অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের

    জয়পুরহাটে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারপিট ॥ চাঁদা দাবীর হাস্যকর অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের

    জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ছড়া লেখা খারাপ হওয়াই তাছিন তালহা (০৭) নামের দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশুকে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলার অনন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগের দায় এড়াতে ওই শিশু শিক্ষার্থীকে উল্টো চাঁদাবাজ অ্যাখ্যা দিয়ে অভিভাবককে গালমন্দ করেছেন প্রধান শিক্ষকন। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় রোববার দুপুরে ওই শিক্ষার্থীর মা এবং ওই বিদ্যালয়ের ২৫ জন অভিভাবক স্বাক্ষর করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। রোববার বিকেলে ওই বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং অভিভাবকরা অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে অন্যত্র বদলীর দাবি জানান। পরে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন কর্মকর্তারা। অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ১২ আগষ্ট উপজেলার অনন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র তাছিন তালহা প্রতিদিনের মতো স্কুলে যায়। ওই দিন প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম ক্লাসে গিয়ে ক্লাস টেষ্ট অনুশীলনের অংশ হিসাবে সবাইকে ‘আমাদের ছোট নদী’ ছড়া লিখতে দেন। ছড়া লেখায় তালহা বেশ কয়েকটি বর্ণ ছোট বড় করে লিখে শিক্ষককে জমা দেন। কিছু লেখা ছোট বড় এবং ক্লাসে বিশৃঙ্খলা করায় তাকে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে বেধরক মারধর করেন। এসময় ছাত্রটির পিঠ এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর জখম হয়। পরে সমাবেশ চলাকালীন লাইন বাঁকা হওয়াই আবারও তালহাসহ আরও বেশ কিছু শিক্ষার্থীর হাতে কঞ্চি দিয়ে মারেন ওই প্রধান শিক্ষক। বিষয়টি সে বাড়িতে এসে মাকে জানালে তার মা মারধরের কারণ জানতে স্কুলের ওই শিক্ষকের কাছে যান। এসময় গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে তাকে ও তার ছেলেকে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে গালিগালাজ করেন ওই শিক্ষক। এরপর থেকে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা। ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ থেকে মুক্ত হতে তিনি শিশু ছাত্রকে চাঁদাবাজ বানানোর চেষ্টা করছেন বলে জানান স্থানীয়রা। শিশুটির মা তাসলিমা আকতার শাপলা বলেন, আমার ছেলে ওই দিন দুপুরে বাড়িতে এসে কান্না করতে করতে আমাকে মারধরের বিষয়টি জানায়। পরে আমি ওই শিক্ষকের কাছে মারধরের কারণ জানতে গেলে তিনি আমাকে বলেন, আপনার ছেলে আমার কাছে এক মাস আগে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছে। তার উপর লেখা খারাপ করেছে বলে, আমাকে ও আমার ছেলেকে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে গালিগালাজ করেছে। দ্বিতীয় শ্রেণির একজন ছাত্র কিভাবে চাঁদা চাইতে পারে? ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে আমার ছেলের বিরুদ্ধে চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ওই শিক্ষক। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। স্থানীয় বাসিন্দা মনজুর ইসলাম কবির বলেন, প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম সবসময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। সামান্য ভুলেও বাচ্চাদের পেটান, সমাবেশে লাইন বাঁকা হলেও ছাড় দেন না। এমনকি প্রশংসাপত্র দিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে টাকা নেন। তার এই আচরণে স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। দ্বিতীয় শ্রেণির শিশু চাঁদা চাইবে এটা অবিশ্বাস্য। সেবা আক্তার নামের এক অভিভাবক বলেন, ওই প্রধান শিক্ষক কোমলমতি শিশুদের সাথে প্রায় সময় খারাপ আচরণ করেন। সে ছোট খাটো ব্যাপারে শিশু শিক্ষার্থীদের গালমন্দ করে মারধর করেন। তাকে আমরা এই স্কুলে দেখতে চাইনা। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, মাস খানেক আগে ওই ছাত্র আমার কাছে এসে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দাবি করেছিল। সেদিন ক্লাসে হট্টোগোল করায় ক্লাস নিয়ন্ত্রণ করতে মেরেছি। এটা আমার ঠিক হয়নি। প্রশংসাপত্র কম্পিউটার থেকে তৈরী করতে খরচ হয়। তাই অল্প পরিমানে টাকা আদায় করি। তবে সবার কাছে নয়। দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র চাঁদা চেয়েছে বিষয়টি বিশ্বাস যোগ্য কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ সে ৫০ হাজার টাকা চেয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে ঘটনাটি আমরা সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট বাচ্চাটির অভিভাবক একটি অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবো। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুরুল আলম বলেন, দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রকে মারধরের ঘটনায় ছাত্রটির মা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হবে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।