Category: চাঁপাইনবাবগঞ্জ

  • সর্বোচ্চ সতর্কতায় জেলা প্রশাসন- জেলায় জ্বালানী সরবরাহ স্বাভাবিক ॥ সংকট সৃষ্টি ও পাচার গুজবে ব্যস্ত একটি মহল-চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী

    সর্বোচ্চ সতর্কতায় জেলা প্রশাসন- জেলায় জ্বালানী সরবরাহ স্বাভাবিক ॥ সংকট সৃষ্টি ও পাচার গুজবে ব্যস্ত একটি মহল-চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী

    সর্বোচ্চ সতর্কতায় জেলা প্রশাসন

    জেলায় জ্বালানী সরবরাহ স্বাভাবিক ॥ সংকট সৃষ্টি ও পাচার গুজবে ব্যস্ত একটি মহল-চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বজায় রেখেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারী ব্যবস্থাপনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়ও জ্বালানী সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। গত বছরের এই সময়ের মতই (মার্চ-এপ্রিল মাস) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৩১টি তেল পাম্পে জ্বালানি তেল পেট্রোল-অকটেন, ডিজেল সরবরাহ দেয়া হলেও সংকট সৃষ্টি ও পাচার গুজবে ব্যস্ত একটি মহল। পাশ্ববর্তী দেশে কোন তেল পাচার না হলেও স্থানীয়ভাবে খোলা বাজারে বেশী দামে তেল বিক্রি করার ষড়যন্ত্র হিসেবেও একটি চক্র বিষয়টিকে ভিন্নভাবে প্রচারনা চালাচ্ছে বলেও জানা গেছে। জেলার পাম্প মালিকদের দাবী, প্রয়োজনীয় তদারকি এবং নিয়মের মধ্যে নিয়ে তেল বিক্রি বা বিতরণের ব্যবস্থা করলেই জেলায় জ্বালানীর কোন অস্থিরতা থাকবে না। থাকবেনা মোটরসাইকেল চালকদের কোন ভীড়ও। তাদের ভাষ্য, সরকারীভাবে তেলের সরবরাহ থাকার পরও একটি চক্র বা মটরসাইকেল মালিকদের নিজেদের সৃষ্টি করা আতংক ও অস্থিরতা জেলাবাসীকে দুশ্চিন্তায় ফেলছে। মোটরসাইকেলে প্রয়োজনীয় তেল থাকার পরও এক শ্রেণীর মোটরসাইকেল বা অন্য যানবাহনের মালিকরা তেল দেয়ার খবর শোনামাত্রই তেল নেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে জটলা তৈরী এবং দীর্ঘ লাইন ধরে তেল নেয়ার প্রবণতা সৃষ্টি করছে। এক শ্রেনীর মোটরবাইকের চালকরা সকাল হলেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন তেল নেয়ার জন্য। এক পাম্পে তেল নিয়ে, সেই তেল অন্য পাত্রে ঢেলে নিয়ে আবার অন্য পাম্পে গিয়ে তেল নেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ভীড় করছে এক শ্রেনীর অসাধ্য মটরবাইক চালক ও অন্য যানবাহনের মালিকরা। এসব মোটরসাইকেল মালিকদের নিয়ম এবং জবাবদিহিতার মধ্যে আনলেই বিষয়গুলো ঠিক হয়ে যাবে। অন্যদিকে, ডিজেলের কিছু সমস্যা রয়েছে, কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য ডিজেলের সরবরাহ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলেও বলছেন পাম্প মালিকরা। তাই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া জরুরী হয়েছে পড়েছে বলে মনে করছেন পাম্প মালিক ও বিশিষ্ট জনেরা।
    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় পেট্রোল-অকটেন ও ডিজেল তেলের বাজারে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কখনো হঠাৎ পাম্পে তেল শেষ, কখনো আবার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, স্থানীয় পরিবহন চালক থেকে শুরু করে কৃষকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। প্রশ্ন উঠছে, এই সংকট কি বাস্তব, নাকি কৃত্রিমভাবে তৈরি? জেলার একাধিক ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও অনেক সময় হঠাৎ করে তেল “শেষ” হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে তেল কিনতে বা দূরের পাম্পে যেতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল কৃষিখাত এখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সেচ মৌসুমে সময়মতো ডিজেল সরবরাহ না পাওয়ায় কৃষকদের জন্য বড় ধরনের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রথমতঃ জ্বালানি তেল আমদানিতে বিলম্ব হলে সরবরাহ শৃঙ্খল দুর্বল হয়ে পড়ে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে পাম্পগুলোতে। দ্বিতীয়ত, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা। চট্টগ্রাম থেকে তেল ডিপো হয়ে জেলায় পৌঁছাতে বেশী সময় লাগার কারণে পরিবহন সংকট এবং সমন্বয়হীনতা প্রায়ই পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। ফলে পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও বাস্তবে পাম্পে তেল পেতে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো-সিন্ডিকেট ও মজুতদারির অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে তেল সরবরাহ কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এতে করে দাম বাড়ার সুযোগ তৈরি হয় এবং অতিরিক্ত মুনাফা লুটে নেওয়া হয়। প্রশাসনের নজরদারি থাকলেও প্রশ্ন উঠছে, কেন এই চক্র থামানো যাচ্ছে না?
    এদিকে, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণে দেরি বা নীতিগত জটিলতাও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। ফলে অনেকেই ঝুঁকি এড়িয়ে চলছেন, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
    সচেতন মহলের মতে, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। জেলা পর্যায়ে তেল সরবরাহ মনিটরিং জোরদার, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং সরবরাহ পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এই অস্থিরতা বা সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে।
    চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাধারণ মানুষের এখন একটাই প্রশ্ন, তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কে এই অস্থিরতা? কেন-তিন দিনের সমপরিমান তেল, কয়েক ঘন্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে? এতগুলো তেল যাচ্ছে কোথায়? কোন সিন্ডিকেটের কবলে থাকছে তেল। পাম্পগুলোতে জরুরী প্রয়োজনে এবং সর্বনিম্ন স্থিতি রাখার নিয়ম থাকলেও কোন স্বার্থে তেলের মৌজুদ শুনে না আসা পর্যন্ত তেলের লাইন থেকে সরছেনা মোটরবাইক চালক বা মালিকরা? তেল না পেলেই হট্টোগোল সৃষ্টিতেও পারদর্শী এসব অসাধু বাইক চালকরা? তাহলে কি নিজ স্বার্থেই এমন অস্থিরতা সৃষ্টি? এসব অসাধু ব্যক্তিদের কারণে প্রকৃত তেল প্রয়োজন হওয়া চাকুরীজীবি বা বাইক চালকরা পাচ্ছে না জ্বালানি তেল। কেন জেলাজুড়ে হাহাকার? মানব সৃষ্ট এই অস্থিরতা নিরসনে অবশ্যই কার্যকরি ব্যবস্থা এখনই নেয়া দরকার বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
    এব্যাপারে জেলা পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ রাসিদুল ইসলাম ‘চাঁপাই দর্পণ’ কে বলেন, অন্য সময়ের মতই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সবকটি তেল পাম্পে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু তারপরও জ্বালানি তেল নিয়ে মোটরবাইক চালক ও মালিকদের মাঝে অস্থিরতা নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ জেলার পাম্প মালিকরা। তিনি বলেন, পেট্রোল-অটকেন এর সরবরাহ খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু ডিজেল এর চাহিদা বেশী, সেই তুলনায় বরাদ্দ বৃদ্ধি হয়নি। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, জেলায় কিছু অসাধু তরুন বাইকাররা সকাল হলেই যে পাম্পে তেল দেয়ার কথা শুনছে, সেখানেই গিয়ে ধর্ণা দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে হলেও তেল নিয়ে নিচ্ছে, আবার এক শ্রেনীর মটরসাইকেল চালিক বা মালিকরা তেল দেয়ার খবর পেলেই বাইক নিয়ে এসে লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে দিচ্ছে। অন্যদিকে, এক শ্রেনীর বাইকাররা তেল নিয়ে ব্যবসা শুরু করছে, এক পাম্পে তেল নিয়ে-আরেক পাম্পে চলে যাচ্ছে তেল নিতে, ফলে আরও বেশী সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া রেজিস্ট্রেশনবিহীন মটরসাইকেল মালিকদের বেশী ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং এরা তরুন, বখাটে এবং জটলা সৃষ্টিকারী। অন্যদিকে, প্রশাসনের পর্যাপ্ত তদারকি নেই, পুলিশের পক্ষ থেকেও তেমন ভূমিকা নেই। তিনি আরও বলেন, পাম্পগুলোতে ট্যাগ অফিসার দেয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ট্যাগ অফিসার কি করবে, শত শত বাইক ও যানবাহন সামলানো সম্ভব হয়না। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশের যথাযথ ভূমিকা প্রয়োজন। সেটা হচ্ছে না। এদিকে, বর্তমান সংকট সময়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা এবং ভামমূর্তি নষ্ট করার ষড়যন্ত্রেও একটি মহল জড়িত, নিজেরা তেল মৌজুদ করে এবং অপরকে তেলের সংকট বলে আতংকিত করার কাজও করছে এসব ষড়যন্ত্রকারীরা। কোন অসাধূ সিন্ডিকেটের দখলে তেল কিনা? বিষয়টিও খতিয়ে দেখা দরকার। তিনি বলেন, প্রশাসনের প্রয়োজনীয় তদারকি, জবাবদিহিতা এবং তেল বিক্রি বা বিতরনে নিয়ম-শৃঙ্খলা নিয়ে আসা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ নিতে হবে, তাহলেই জ্বালানি নিয়ে সৃষ্ট অস্থিরতা বা জটিলতা কেটে যাবে।
    নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলার এক পাম্প মালিক জানান, জেলায় অন্য সময়ের মতই সরকারীভাবে তেল সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু তেল নিয়ে আসার পরই বিতরন বা বিক্রি করে দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, যেখানে ৩ হাজার লিটার তেল বিক্রি করতে ২-৩দিন লেগে যেতো, সেখানে তেল দিতে শুরু করে ২-৩ ঘন্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে। তেল শেষ হয়ে গিয়ে মেশিন দিয়ে হাওয়া বের হওয়া শুরু না হওয়া পর্যন্ত ছাড়ছে না মটরসাইকেল ওয়ালারা। তিনি বলেন, “ফুয়েল স্টেশনের ট্যাংকে অন্তত ৭৫০ লিটার পেট্রোল-অকটেন, ১৪০০ লিটার ডিজেল জ্বালানি মজুদ থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু আমরা সেটাও রাখতে পারছিনা। এমন পরিস্থিতিতে তেল উত্তোলন করলে ওজনে সমস্যা সৃষ্টি হয় এবং পাম্পের যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে, তেল গ্রহিতাদের সাথে প্রায়শই বাক-বিতন্ডার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তিনি বলেন, অন্য সময়ের মতই তেল সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু তেল আসার পরই মোটরসাইকেলে তেল গ্রহীতাদের ভীড়। এই ভীড় সামলাতে কস্ট পেতে হচ্ছে। তেল আসার সাথে সাথেই প্রচুর পরিমানে মোটরসাইকেল জমায়েত হচ্ছে এবং দ্রুত সময়ের মধেই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। তেলের সর্বনিম্ন মৌজুদও রাখতে পারছিনা আমরা। এছাড়া জ্বালানির প্রয়োজনীয় মজুদ রেখেও প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা ভোগ করতে হচ্ছে। একদিকে জ্বালানীর সংকট, অন্যদিকে প্রশাসনিক চাপ এই দুই কারণে মারাত্মক চাপে রয়েছেন পাম্প মালিকরা। তিনি আরও বলেন, স্বাভাবিক সময়ের মতোই তেল সরবরাহ পেলেও, বর্তমান সময়ে তেলের জন্য আতংক সৃষ্টি করছে এক শ্রেনীর মটরসাইকেল মালিকরা। প্রতিদিনই দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিয়ে যাচ্ছেন মটর বাইক মালিকরা। কিন্তু তেলের হাহাকার মিটছে না। বিষয়টি অত্যন্ত দুশ্চিন্তার এবং প্রয়োজনীয় তদারকি দরকার। সরকারীভাবে সঠিকভাবে নিয়ম-শৃঙ্খলা মানাতে বাইকারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি প্রশ্ন করেন, এত তেল কোথায় যাচ্ছে? জেলায় তো মটরসাইকেল বৃদ্ধি পায়নি। তেল নিয়ে গিয়ে বাইকাররা কি করছে তেল? এসব বিষয় চিহ্নিত করা দরকার। তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় করা জরুরি বলেও মনে করছেন বিভিন্ন পাম্প মালিকরা।
    এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান ‘চাঁপাই দর্পণ’ কে বলেন, জেলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ থাকলেও একটি অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে মটরসাইকেল চালক বা মালিকদের মধ্যে বিষয়টি বেশী। জেলায় তেল নিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি বা আতংক বিষয়ে তিনি বলেন, তেল বিতরণ বা বিক্রি ক্ষেত্রে জেলার পাম্প মালিকদের নিয়ে দই/এক দিনের মধ্যেই আলোচনা করে প্রয়োজনীয় করনীয় ঠিক করা হবে। মটরবাইক চালক বা মালিকদের শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসার জন্য শীঘ্রই একটি ‘ডিজিটাল এ্যাপ’ চালু করা হবে। যেন কোন অসাধু মটরসাইকেল মালিক এক পাম্প থেকে অন্যা পাম্পে গিয়ে বার বার তেল নিতে না পারে এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল নিতে না পারে। এছাড়া বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পাম্পে একজন করে ট্যাগ অফিসার দেয়া হয়েছে, তাঁরাও বিষয়টি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে অবৈধ বা রেজিস্ট্রেশন ছাড়া বা নিয়মের মধ্যে না থাকা বাইকাররা যেন জটলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্যও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জেলা জ্বালানি তেল নিয়ে যেক কোন অসাধু বা ষড়যন্ত্রকারী কোন অস্থিরতা বা সংকট সৃষ্টি এবং সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে না পারে, সেদিকে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
    জানা গেছে, জেলায় মোট পাম্প রয়েছে ৩১টি। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১২টি, শিবগঞ্জ উপজেলায় ৮টি, গোমস্তাপুর উপজেলায় ৮টি, নাচোল উপজেলায় ২টি এবং ভোলাহাট উপজেলায় ০১ টি তেল পাম্প রয়েছে। জেলার পাম্পগুলো হচ্ছে-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে-মেসার্স পরিবহণ শ্রমিক কল্যাণ ফিলিং স্টেশন, হরিপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স সামাদ এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশন-হরিপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স ইসলাম ফিলিং স্টেশন-স্বরূপনগর বাসস্ট্যান্ড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স হোসেন পেট্রোলিয়াম-বিশ্বরোড মোড়, রাজশাহী রোড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স এমদাদুল হক এন্ড সব্দ ফিলিং স্টেশন-মহানন্দা বাসস্ট্যান্ড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স সায়েরা ফিলিং স্টেশন-নায়াগোলা মোড়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স এরফান সুপার ফিলিং স্টেশন-বুলোনপুর নয়াগোলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স মা ফিলিং স্টেশন-নায়ানগর, আমনুরা রোড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স রাবেয়া ফিলিং স্টেশন-আমনুরা বাজার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স এ.কে খান ফিলিং স্টেশন-পি.টি.আই চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স আলিজ ফিলিং স্টেশন-লাহারপুর, বারোঘরিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স নাহালা ফিলিং স্টেশন-মহারাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
    শিবগঞ্জে-মেসার্স কেয়া ফিলিং স্টেশন-বহালাবাড়ি মোড়, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স প্রিয়া ফিলিং স্টেশন-ছত্রাজিতপুর, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স মাউলানা আব্দুল লতিফ ফিলিং স্টেশন-মেহেদিপুর শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স শিবগঞ্জ ফিলিং স্টেশন-শিবগঞ্জ বাজার, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স মির্জা ফিলিং স্টেশন-দাদনচক হল রোড, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স নয়ন ফিলিং স্টেশন-পুকুরিয়া, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স সুমন ফিলিং স্টেশন-কানশার্ট মোড়, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স রাকিব এন্ড ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশন-ধুপপুকুর কানসাট, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
    গোমস্তাপুরে-মেসার্স পলাশ ফিলিং স্টেশন-চৌডালা, গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স রাইহান ফিলিং স্টেশন-রহনপুর, গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স লতিফুর রহমান ফিলিং স্টেশন-রহনপুর, গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স বিজলী ফিলিং স্টেশন-তেতুলতলা, রহনপুর, গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স আজিজ ফিলিং স্টেশন-সন্তোষপুর বাজার, গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স মানিক রতন ফিলিং স্টেশন-আড্ডা, গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স ব্রাদার্স এন্ড সিস্টার ফিলিং স্টেশন-বড় দাউদপুর, বহরমপুর, রাজশাহী। মেসার্স ধানশুড়া ফিলিং স্টেশন-বহরমপুর, রাজশাহী। নাচোলে-মেসার্স মন্ডল ফিলিং স্টেশন-মোল্লিকপুর বাজার, নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং মেসার্স সুইটি ফিলিং স্টেশন-নাচোল বাজার, নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। ভোলাহাটে-মেসার্স ভোলাহাট ফিলিং স্টেশন-মেডিকেল মোড়, সন্ন্যাসীতলা, ভোলাহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
    উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বজায় রাখতে ধারাবাহিকভাবে তেলের জাহাজ বন্দরে আসছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট ৩৮টি জাহাজ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে। এছাড়া চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে আরও ৬টি জাহাজ জ্বালানি তেল নিয়ে বন্দরে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত এই জ্বালানি সরবরাহ বজায় থাকায় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের সংকট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছেহামের প্রকোপ ॥ নতুন ভর্তি ২২ জন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছেহামের প্রকোপ ॥ নতুন ভর্তি ২২ জন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছেহামের প্রকোপ ॥ নতুন ভর্তি ২২ জন

    উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রকোপ। প্রতিদিনই নতুন করে রোগী ভর্তি হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগে বাড়ছে দুশ্চিন্তা। মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল/২৬) ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২২ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর আগে হাসপাতালে ভর্তি মোট রোগীর সংখ্যা ছিল ৬৪ জন। নতুন রোগী যোগ হওয়ায় বর্তমানে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ জনে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে ২১ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তবে এ সময়ে কাউকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার্ড করা হয়নি।হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত জেলায় মোট ৪৪৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ জনে। যা পরিস্থিতির অবনতি। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মশিউর রহমান বলেন, হামের সংক্রমণ ঠেকাতে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সময়মতো টিকাদান অত্যন্ত জরুরি। অভিভাবকদের উচিত শিশুদের নির্ধারিত টিকা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা গেলে জটিলতা কমানো সম্ভব। তিনি আরও জানান, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ রোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরী।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড ও মাসিক কল্যান সভা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড ও মাসিক কল্যান সভা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড ও মাসিক কল্যান সভা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও মাসিক কল্যান সভা হয়েছে।
    মঙ্গলবার (০৭ মার্চ) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাঠে মাষ্টার প্যারেডে সালাম গ্রহণ শেষে মাসিক কল্যান সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।জেলা পুলিশ লাইন্সে ড্রিল শেডে মাসিক কল্যান সভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার উপস্থিত অফিসার ও পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং অফিসার ও ফোর্সদের সার্বিক কল্যাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট ইনচার্জবৃন্দকে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

    কল্যাণ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ একরামুল হক, পিপিএম,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ ইয়াসির আরাফাত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোমস্তাপুর সার্কেল) মোঃ হাসান তারেক, এএসপি (প্রবিঃ) সহ জেলার অফিসার ইনচার্জবৃন্দ, ইন্সপেক্টরবৃন্দ এবং জেলার অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।

  • বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রস্তুতি সভা

    বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রস্তুতি সভা

    বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রস্তুতি সভা

    বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (০৬ এপ্রিল) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় নববর্ষ উদযাপনকে ঘিরে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী।

    তিনি নববর্ষ উদযাপনকে সুষ্ঠু, নিরাপদ ও বর্ণাঢ্য করতে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন। সভায় নববর্ষের দিন বৈশাখী শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গ্রামীণ খেলাধুলা এবং বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজনের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যানজট নিরসন এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার, স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ নাকিব হাসান তরফদার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মারুফ আফজাল রাজন, জেলা তথ্য অফিসার রুপ কুমার বর্মন, জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল মতিন, আনসার ভিডিপির জেলা কমান্ডেন্ট মোঃ আরিফুল ইসলাম, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি পুলিশ পরিদর্শক মোঃ মজিবুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারি উপ-পরিচালক শেখ মোঃ মাহবুবুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এর জেলা সভাপতি লেখক-গীতিকার মোহাঃ জোনাব আলী,

    জেলা কারাগারের জেল সুপার মো: আমজাদ হোসেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মোঃ গোলাম মোস্তফা, জেলা কালচারাল অফিসার মোঃ শাহাদৎ হোসেন, জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান সাজিয়া আফরিন, দৈনিক চাঁপাই দর্পণ ও দৈনিক অধিকার ডট কমের নিজস্ব প্রতিনিধি মোঃ ইসাহাক আলী, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটগণ, সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের বাংলা নববর্ষ উদযাপন হবে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রশাসনের অভিযান- ২টি ট্র্যাক্টর ও ১টি এস্কেভেটরসহ ২ মাটিখেকো গ্রেফতার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রশাসনের অভিযান- ২টি ট্র্যাক্টর ও ১টি এস্কেভেটরসহ ২ মাটিখেকো গ্রেফতার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রশাসনের অভিযান

    ২টি ট্র্যাক্টর ও ১টি এস্কেভেটরসহ ২ মাটিখেকো গ্রেফতার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের হোসেন ড্যাং এলাকায় রাতের আধাঁরে কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে ২ মাটিখেকো কে গ্রেপ্তার করেছে প্রশাসন। এসময় অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবহনের দায়ে মাটি ভর্তি ২টি ট্র্যাক্টরসহ ১টি এস্কেভেটর জব্দ করা হয়। সোমবার (০৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৩টার দিকে সদর উপজেলার হোসেন ড্যাং এলাকায় ডিবি পুলিশের এস.আই পলাশ চন্দ্র চৌধুরী ও সদর মডেল থানার এস.আই শাহাদাত হোসেন এর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ডের কল্যাণপুরের মৃত শুকুরুদ্দীন ছেলে রমজান আলী (৪০) ও নয়াগোলা হাটপাড়ার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে মোঃ হানিফ আলী (৩২)। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কৃষি জমি কেটে পুকুর খনন, বিভিন্ন এলাকায় কৃষি জমির মাটি কেটে একটি চক্র ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়ছে। মাটিবাহী ট্রলি ও ট্রাক্টর চলাচলের কারণে পাকা সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কৃষি জমি ও পরিবেশ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধভাবে মাটি কাটা শুধু কৃষির ক্ষতিই করে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বড় হুমকি সৃষ্টি করে। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওবাইদুল হক জানান, পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস মহোদয়ের নির্দেশনায় প্রশাসনের সাথে যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশের এস.আই সাজ্জাদ হোসেন এবং সদর মডেল থানার এস.আই শাহাদাত হোসেন এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সোমবার গভীর রাতে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে ২জনকে গ্রেফতার করে এবং ২টি ট্র্যাক্টরসহ ১টি এস্কেভেটর জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
    এঘটনায় ডিবি পুলিশের এস.আই সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন এবং আসামীদের আদালতে মাধ্যমে জেল হাজতে পেরণ করা হয়।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে উদ্ধার হওয়া ১৪টি মোবাইল ফোন মালিকের কাছে হস্তান্তর

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে উদ্ধার হওয়া ১৪টি মোবাইল ফোন মালিকের কাছে হস্তান্তর

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে উদ্ধার হওয়া ১৪টি মোবাইল ফোন মালিকের কাছে হস্তান্তর

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের দ্বারা উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার (০৬ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মোবাইল মালিকের হাতে মোবাইল তুলে দেন পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস। জেলা পুলিশের এক প্রেসনোটে জানানো হয়, গত মার্চ/২৬ মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সকল থানায় মোবাইল হারানো জিডির প্রেক্ষিতে অনলাইন মনিটরিং এর মাধ্যমে সদর থানার এ.এস.আই আব্দুল মোতালেব ০৯ (নয়) টি ফোন উদ্ধার করেন।

    নাচোল থানার এ.এস.আই মোঃ ফরহাদ হোসেন ০৩ টি ফোন এবং ডিবির এস.আই কামরুল হাসান ০২ (দুই) টি ফোনসহ মোট ১৪ টি ফোন উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত ফোনগুলি মালিকদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উপস্থিত হলে পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বা নিজ হাতে ফোনগুলি হস্তান্তর করেন। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজসহ অন্যরা। হারানো মোবাইল ফিরে পেয়ে জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান মোবাইল মালিকরা।

  • “শিশু শরিফা হত্যায় ক্ষোভে ফুঁসছে গোমস্তাপুর ॥ বিচার দাবিতে মানববন্ধন”

    “শিশু শরিফা হত্যায় ক্ষোভে ফুঁসছে গোমস্তাপুর ॥ বিচার দাবিতে মানববন্ধন”

    “শিশু শরিফা হত্যায় ক্ষোভে ফুঁসছে গোমস্তাপুর ॥ বিচার দাবিতে মানববন্ধন”

    নৃশংস শিশু হত্যা যেন আরেকবার নাড়া দিল মানবতাকে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে শিশু শরিফার নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে জনপদ। বিচার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সর্বস্তরের মানুষ। সোমবার (০৬ এপ্রিল) সকাল ১১টায় উপজেলার বাংগাবাড়ি তেলিপাড়া বাজারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংগাবাড়ি দাড়িপাতা নুরানি মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকবৃন্দ। নিহত শরিফা ওই মাদ্রাসার শিশু শ্রেণির ছাত্রী ছিল। কোমলমতি এই শিশুর এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।
    মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হক। এতে বক্তব্য রাখেন বাংগাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সারিকুল ইসলাম সাদ্দাম, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বুলবুল, বাংগাবাড়ি স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল, জামায়াতে ইসলামীর নেতা ডা. আবদুল গনি, ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা মেসবাহুল হক বুলেট, মুনিরুল ইসলাম, আনারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিন এবং দাড়িপাতা নুরানি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিশু শরিফার এই হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজের ওপর আঘাত।

    ” তারা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি স্থানান্তর করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি—দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করার জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন নৃশংসতা রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেন। উল্লেখ্য, রোববার (৫ এপ্রিল) উপজেলার আলিনগর ইউনিয়নের বিজলি পাড়া এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে নিখোঁজ শিশু শরিফার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায়, গত শুক্রবার সে তার নানার সঙ্গে আলিনগর মক্রমপুরে একটি তাফসীর মাহফিলে অংশ নিতে ফুফুর বাড়িতে যায়। সেখানেই তার দুলাভাই তাকে হত্যা করে ধানক্ষেতে লাশ ফেলে রাখে বলে অভিযোগ ওঠে। গোমস্তাপুর থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস.আই আওয়াল জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত অন্তর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। একটি নিষ্পাপ প্রাণের এমন নির্মম পরিণতি শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা সমাজের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। এখন সবার একটাই দাবি—দ্রুত বিচার, কঠোর শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর উদ্যোগ।

  • নাচোলে বন্ধ পেট্রোল পাম্প চালুর দাবিতে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন

    নাচোলে বন্ধ পেট্রোল পাম্প চালুর দাবিতে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন

    নাচোলে বন্ধ পেট্রোল পাম্প চালুর দাবিতে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন

    জনভোগান্তি দুরীকরণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের প্রাণকেন্দ্র দক্ষিণ সাঁকো পাড়ায় অবস্থিত সুইটি ফিলিং স্টেশনটির মালিকদের পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নাচোলের সর্বস্তরের জনগণ। জনগণসহ সকলের এই ভোগান্তি কমাতে পূণরায় অবিলম্বে পাম্পটি চালু করার দাবিতে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করেছেন নাচোলের উপজেলার সর্বস্তরের ভুক্তভোগী জনসাধারণ। (এনমাস) নাচোল মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি ও নাচোল উন্নয়ন ফোরাম এর যৌথ আয়োজনে সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে বাসস্ট্যান্ডে আধাঘণ্টা ব্যাপী এ মানববন্ধন করেন তারা। মানববন্ধনে নাচোল উন্নয়ন ফোরাম এর সভাপতি আমানুল্লাহ আল মাসুদ, এনমাস টিম এর সভাপতি শাকিল রেজা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নুর কামাল,

    জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক তন্ময় আহম্মেদ, উপজেলা বিএনপির সমবায় সম্পাদক বাবুল আখতার বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও নাচোলের সর্বস্তরের জনগণ মানববন্ধন অংশগ্রহণ করেন। পাম্প মালিকদের সাতদিনের আল্টিমেটাম দিয়ে বক্তারা বলেন, এখন জ্বালানী তেলের সংকটময় সময়ে আমাদের যদি ভোগান্তি পোহাতে হয়, তাহলে এই পাম্প থেকে লাভ কি! নাচোল উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি বলেন, পাম্প কর্তৃপক্ষ যদি চালু করতে ব্যর্থ হয়ে থাকে, তাহলে বিক্রি অথবা ভাড়া দিতে পারেন। আমরা কিনে নিয়ে চালু করবো। কিন্তু এভাবে জনসাধারণকে কষ্ট দিতে পারেন না। নাচোলের সর্বস্তরের মানুষের ভোগান্তি কমাতে বক্তরা বলেন যে, পারিবারিক দ্বন্দ্ব বুঝিনা, পুনরায় পাম্পটি চালু দেখতে চাই। তারা আরও বলেন যে, এক সপ্তাহের মধ্যে পাম্পটি চালু না করলে ক্ষুব্ধ জনগণ যে কোন প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এনমাস টিমের প্রচার সম্পাদক হায়দার আলী। মানববন্ধন শেষে নাচোল উপজেলা প্রশাসন ও প্রশাসনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে আন্তঃজেলা চোরচক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার ॥ জব্দপিকআপসহ সরঞ্জামাদি

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে আন্তঃজেলা চোরচক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার ॥ জব্দপিকআপসহ সরঞ্জামাদি

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে আন্তঃজেলা চোরচক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার ॥ জব্দপিকআপসহ সরঞ্জামাদি

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় গরু চুরির ঘটনায় জড়িত একটি আন্তঃজেলা চোরচক্রের মূল হোতাসহ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করে পুলিশ। শিবগঞ্জ থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, গত ৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের কালুপুর পাইকড়তলা এলাকার খামারি রাসেল ইসলামের খামার থেকে প্রায় ১৬ লাখ টাকা মূল্যের ৫টি গরু চুরি হয়। এ ঘটনায় ৩ মার্চ মামলা দায়েরের পর পুলিশ কাজ শুরু করে। গত ৩ ও ৪ এপ্রিল রাজশাহী, বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে র‌্যাবের সহায়তায় ওই চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে, চোর চক্রের মূল হোতা বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আলাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন জুয়েল ওরফে মালু (৩৮), সোনাতলা উপজেলার তারাজুল ইসলাম (৩০), শিবগঞ্জ উপজেলার সজল মন্ডল (৩৯), একই উপজেলার ওমর সানি ওরফে সজিব (২৮) এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শরিফুল (২৪)। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ আরো জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ, দুটি কাটার, টর্চ ও রশিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।তবে চুরি হওয়া গরুগুলো কসাইদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ায় সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার (০৫ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে হামের টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো: মুসা জঙ্গী। এসময় উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক উজ্জল কুমার ঘোষ, সিভিল সার্জন ডা. মো: একে এম শাহাব উদ্দীন, জেলা পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক শুকলাল বৈদ্য, ২৫০ শষ্যা বিশিষ্ঠ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা: মো: মশিউর রহমান, জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো: আব্দুস সামাদসহ অন্যরা। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় হাম প্রতিরোধে লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত শিশুর সংখ্যা ৩ লাখ ৬০ হাজার ৮১৪ জন। এ বিপুল সংখ্যক শিশুকে টিকার আওতায় আনতে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলার মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৮৭ জন শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    প্রত্যন্ত এলাকাতেও টিকা পৌঁছে দিতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং ভ্যাকসিন সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এর আগে হাম (Measles) রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং টিকা ক্রয়ের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি চেক জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের ২০ জেলার ৩০ স্থানকে হামের ‘হটস্পট’ ঘোষণা করা হয়েছে সরকারীভাবে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা, শিবগঞ্জ উপজেলা ও ভোলাহাট উপজেলা কে হামের ‘হটস্পট’ ঘোষণা করা হয়েছে। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই, অর্থাৎ ২১ মে ২০২৬-এর মধ্যে এই কর্মসূচি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় শিশুদের প্রাণঘাতি রোগ ‘হাম’ রোগের বর্তমান অবস্থা ও করনীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জে। গত বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোঃ হাবিবুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক সাবেক এমপি মোঃ হারুনুর রশীদ এবং পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাবুদ্দীন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী। সভায় দ্রুত সময়ের মধ্যে শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় এনে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে হামমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা। এদিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব শিশু জ্বরে আক্রান্ত বা অন্য কোনো অসুস্থতায় ভুগছে, তাদের তাৎক্ষণিকভাবে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হবে, যা রোগের জটিলতা কমাতে সহায়ক। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকাদান ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে হামের বিস্তার সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এজন্য অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী শিশুদের টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।