সর্বোচ্চ সতর্কতায় জেলা প্রশাসন
জেলায় জ্বালানী সরবরাহ স্বাভাবিক ॥ সংকট সৃষ্টি ও পাচার গুজবে ব্যস্ত একটি মহল-চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বজায় রেখেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারী ব্যবস্থাপনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়ও জ্বালানী সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। গত বছরের এই সময়ের মতই (মার্চ-এপ্রিল মাস) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৩১টি তেল পাম্পে জ্বালানি তেল পেট্রোল-অকটেন, ডিজেল সরবরাহ দেয়া হলেও সংকট সৃষ্টি ও পাচার গুজবে ব্যস্ত একটি মহল। পাশ্ববর্তী দেশে কোন তেল পাচার না হলেও স্থানীয়ভাবে খোলা বাজারে বেশী দামে তেল বিক্রি করার ষড়যন্ত্র হিসেবেও একটি চক্র বিষয়টিকে ভিন্নভাবে প্রচারনা চালাচ্ছে বলেও জানা গেছে। জেলার পাম্প মালিকদের দাবী, প্রয়োজনীয় তদারকি এবং নিয়মের মধ্যে নিয়ে তেল বিক্রি বা বিতরণের ব্যবস্থা করলেই জেলায় জ্বালানীর কোন অস্থিরতা থাকবে না। থাকবেনা মোটরসাইকেল চালকদের কোন ভীড়ও। তাদের ভাষ্য, সরকারীভাবে তেলের সরবরাহ থাকার পরও একটি চক্র বা মটরসাইকেল মালিকদের নিজেদের সৃষ্টি করা আতংক ও অস্থিরতা জেলাবাসীকে দুশ্চিন্তায় ফেলছে। মোটরসাইকেলে প্রয়োজনীয় তেল থাকার পরও এক শ্রেণীর মোটরসাইকেল বা অন্য যানবাহনের মালিকরা তেল দেয়ার খবর শোনামাত্রই তেল নেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে জটলা তৈরী এবং দীর্ঘ লাইন ধরে তেল নেয়ার প্রবণতা সৃষ্টি করছে। এক শ্রেনীর মোটরবাইকের চালকরা সকাল হলেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন তেল নেয়ার জন্য। এক পাম্পে তেল নিয়ে, সেই তেল অন্য পাত্রে ঢেলে নিয়ে আবার অন্য পাম্পে গিয়ে তেল নেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ভীড় করছে এক শ্রেনীর অসাধ্য মটরবাইক চালক ও অন্য যানবাহনের মালিকরা। এসব মোটরসাইকেল মালিকদের নিয়ম এবং জবাবদিহিতার মধ্যে আনলেই বিষয়গুলো ঠিক হয়ে যাবে। অন্যদিকে, ডিজেলের কিছু সমস্যা রয়েছে, কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য ডিজেলের সরবরাহ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলেও বলছেন পাম্প মালিকরা। তাই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া জরুরী হয়েছে পড়েছে বলে মনে করছেন পাম্প মালিক ও বিশিষ্ট জনেরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় পেট্রোল-অকটেন ও ডিজেল তেলের বাজারে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কখনো হঠাৎ পাম্পে তেল শেষ, কখনো আবার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, স্থানীয় পরিবহন চালক থেকে শুরু করে কৃষকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। প্রশ্ন উঠছে, এই সংকট কি বাস্তব, নাকি কৃত্রিমভাবে তৈরি? জেলার একাধিক ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও অনেক সময় হঠাৎ করে তেল “শেষ” হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে তেল কিনতে বা দূরের পাম্পে যেতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল কৃষিখাত এখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সেচ মৌসুমে সময়মতো ডিজেল সরবরাহ না পাওয়ায় কৃষকদের জন্য বড় ধরনের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রথমতঃ জ্বালানি তেল আমদানিতে বিলম্ব হলে সরবরাহ শৃঙ্খল দুর্বল হয়ে পড়ে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে পাম্পগুলোতে। দ্বিতীয়ত, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা। চট্টগ্রাম থেকে তেল ডিপো হয়ে জেলায় পৌঁছাতে বেশী সময় লাগার কারণে পরিবহন সংকট এবং সমন্বয়হীনতা প্রায়ই পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। ফলে পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও বাস্তবে পাম্পে তেল পেতে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো-সিন্ডিকেট ও মজুতদারির অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে তেল সরবরাহ কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এতে করে দাম বাড়ার সুযোগ তৈরি হয় এবং অতিরিক্ত মুনাফা লুটে নেওয়া হয়। প্রশাসনের নজরদারি থাকলেও প্রশ্ন উঠছে, কেন এই চক্র থামানো যাচ্ছে না?
এদিকে, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণে দেরি বা নীতিগত জটিলতাও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। ফলে অনেকেই ঝুঁকি এড়িয়ে চলছেন, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সচেতন মহলের মতে, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। জেলা পর্যায়ে তেল সরবরাহ মনিটরিং জোরদার, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং সরবরাহ পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এই অস্থিরতা বা সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাধারণ মানুষের এখন একটাই প্রশ্ন, তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কে এই অস্থিরতা? কেন-তিন দিনের সমপরিমান তেল, কয়েক ঘন্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে? এতগুলো তেল যাচ্ছে কোথায়? কোন সিন্ডিকেটের কবলে থাকছে তেল। পাম্পগুলোতে জরুরী প্রয়োজনে এবং সর্বনিম্ন স্থিতি রাখার নিয়ম থাকলেও কোন স্বার্থে তেলের মৌজুদ শুনে না আসা পর্যন্ত তেলের লাইন থেকে সরছেনা মোটরবাইক চালক বা মালিকরা? তেল না পেলেই হট্টোগোল সৃষ্টিতেও পারদর্শী এসব অসাধু বাইক চালকরা? তাহলে কি নিজ স্বার্থেই এমন অস্থিরতা সৃষ্টি? এসব অসাধু ব্যক্তিদের কারণে প্রকৃত তেল প্রয়োজন হওয়া চাকুরীজীবি বা বাইক চালকরা পাচ্ছে না জ্বালানি তেল। কেন জেলাজুড়ে হাহাকার? মানব সৃষ্ট এই অস্থিরতা নিরসনে অবশ্যই কার্যকরি ব্যবস্থা এখনই নেয়া দরকার বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এব্যাপারে জেলা পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ রাসিদুল ইসলাম ‘চাঁপাই দর্পণ’ কে বলেন, অন্য সময়ের মতই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সবকটি তেল পাম্পে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু তারপরও জ্বালানি তেল নিয়ে মোটরবাইক চালক ও মালিকদের মাঝে অস্থিরতা নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ জেলার পাম্প মালিকরা। তিনি বলেন, পেট্রোল-অটকেন এর সরবরাহ খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু ডিজেল এর চাহিদা বেশী, সেই তুলনায় বরাদ্দ বৃদ্ধি হয়নি। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, জেলায় কিছু অসাধু তরুন বাইকাররা সকাল হলেই যে পাম্পে তেল দেয়ার কথা শুনছে, সেখানেই গিয়ে ধর্ণা দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে হলেও তেল নিয়ে নিচ্ছে, আবার এক শ্রেনীর মটরসাইকেল চালিক বা মালিকরা তেল দেয়ার খবর পেলেই বাইক নিয়ে এসে লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে দিচ্ছে। অন্যদিকে, এক শ্রেনীর বাইকাররা তেল নিয়ে ব্যবসা শুরু করছে, এক পাম্পে তেল নিয়ে-আরেক পাম্পে চলে যাচ্ছে তেল নিতে, ফলে আরও বেশী সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া রেজিস্ট্রেশনবিহীন মটরসাইকেল মালিকদের বেশী ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং এরা তরুন, বখাটে এবং জটলা সৃষ্টিকারী। অন্যদিকে, প্রশাসনের পর্যাপ্ত তদারকি নেই, পুলিশের পক্ষ থেকেও তেমন ভূমিকা নেই। তিনি আরও বলেন, পাম্পগুলোতে ট্যাগ অফিসার দেয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ট্যাগ অফিসার কি করবে, শত শত বাইক ও যানবাহন সামলানো সম্ভব হয়না। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশের যথাযথ ভূমিকা প্রয়োজন। সেটা হচ্ছে না। এদিকে, বর্তমান সংকট সময়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা এবং ভামমূর্তি নষ্ট করার ষড়যন্ত্রেও একটি মহল জড়িত, নিজেরা তেল মৌজুদ করে এবং অপরকে তেলের সংকট বলে আতংকিত করার কাজও করছে এসব ষড়যন্ত্রকারীরা। কোন অসাধূ সিন্ডিকেটের দখলে তেল কিনা? বিষয়টিও খতিয়ে দেখা দরকার। তিনি বলেন, প্রশাসনের প্রয়োজনীয় তদারকি, জবাবদিহিতা এবং তেল বিক্রি বা বিতরনে নিয়ম-শৃঙ্খলা নিয়ে আসা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ নিতে হবে, তাহলেই জ্বালানি নিয়ে সৃষ্ট অস্থিরতা বা জটিলতা কেটে যাবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলার এক পাম্প মালিক জানান, জেলায় অন্য সময়ের মতই সরকারীভাবে তেল সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু তেল নিয়ে আসার পরই বিতরন বা বিক্রি করে দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, যেখানে ৩ হাজার লিটার তেল বিক্রি করতে ২-৩দিন লেগে যেতো, সেখানে তেল দিতে শুরু করে ২-৩ ঘন্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে। তেল শেষ হয়ে গিয়ে মেশিন দিয়ে হাওয়া বের হওয়া শুরু না হওয়া পর্যন্ত ছাড়ছে না মটরসাইকেল ওয়ালারা। তিনি বলেন, “ফুয়েল স্টেশনের ট্যাংকে অন্তত ৭৫০ লিটার পেট্রোল-অকটেন, ১৪০০ লিটার ডিজেল জ্বালানি মজুদ থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু আমরা সেটাও রাখতে পারছিনা। এমন পরিস্থিতিতে তেল উত্তোলন করলে ওজনে সমস্যা সৃষ্টি হয় এবং পাম্পের যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে, তেল গ্রহিতাদের সাথে প্রায়শই বাক-বিতন্ডার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তিনি বলেন, অন্য সময়ের মতই তেল সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু তেল আসার পরই মোটরসাইকেলে তেল গ্রহীতাদের ভীড়। এই ভীড় সামলাতে কস্ট পেতে হচ্ছে। তেল আসার সাথে সাথেই প্রচুর পরিমানে মোটরসাইকেল জমায়েত হচ্ছে এবং দ্রুত সময়ের মধেই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। তেলের সর্বনিম্ন মৌজুদও রাখতে পারছিনা আমরা। এছাড়া জ্বালানির প্রয়োজনীয় মজুদ রেখেও প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা ভোগ করতে হচ্ছে। একদিকে জ্বালানীর সংকট, অন্যদিকে প্রশাসনিক চাপ এই দুই কারণে মারাত্মক চাপে রয়েছেন পাম্প মালিকরা। তিনি আরও বলেন, স্বাভাবিক সময়ের মতোই তেল সরবরাহ পেলেও, বর্তমান সময়ে তেলের জন্য আতংক সৃষ্টি করছে এক শ্রেনীর মটরসাইকেল মালিকরা। প্রতিদিনই দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিয়ে যাচ্ছেন মটর বাইক মালিকরা। কিন্তু তেলের হাহাকার মিটছে না। বিষয়টি অত্যন্ত দুশ্চিন্তার এবং প্রয়োজনীয় তদারকি দরকার। সরকারীভাবে সঠিকভাবে নিয়ম-শৃঙ্খলা মানাতে বাইকারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি প্রশ্ন করেন, এত তেল কোথায় যাচ্ছে? জেলায় তো মটরসাইকেল বৃদ্ধি পায়নি। তেল নিয়ে গিয়ে বাইকাররা কি করছে তেল? এসব বিষয় চিহ্নিত করা দরকার। তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় করা জরুরি বলেও মনে করছেন বিভিন্ন পাম্প মালিকরা।
এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান ‘চাঁপাই দর্পণ’ কে বলেন, জেলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ থাকলেও একটি অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে মটরসাইকেল চালক বা মালিকদের মধ্যে বিষয়টি বেশী। জেলায় তেল নিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি বা আতংক বিষয়ে তিনি বলেন, তেল বিতরণ বা বিক্রি ক্ষেত্রে জেলার পাম্প মালিকদের নিয়ে দই/এক দিনের মধ্যেই আলোচনা করে প্রয়োজনীয় করনীয় ঠিক করা হবে। মটরবাইক চালক বা মালিকদের শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসার জন্য শীঘ্রই একটি ‘ডিজিটাল এ্যাপ’ চালু করা হবে। যেন কোন অসাধু মটরসাইকেল মালিক এক পাম্প থেকে অন্যা পাম্পে গিয়ে বার বার তেল নিতে না পারে এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল নিতে না পারে। এছাড়া বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পাম্পে একজন করে ট্যাগ অফিসার দেয়া হয়েছে, তাঁরাও বিষয়টি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে অবৈধ বা রেজিস্ট্রেশন ছাড়া বা নিয়মের মধ্যে না থাকা বাইকাররা যেন জটলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্যও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জেলা জ্বালানি তেল নিয়ে যেক কোন অসাধু বা ষড়যন্ত্রকারী কোন অস্থিরতা বা সংকট সৃষ্টি এবং সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে না পারে, সেদিকে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
জানা গেছে, জেলায় মোট পাম্প রয়েছে ৩১টি। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১২টি, শিবগঞ্জ উপজেলায় ৮টি, গোমস্তাপুর উপজেলায় ৮টি, নাচোল উপজেলায় ২টি এবং ভোলাহাট উপজেলায় ০১ টি তেল পাম্প রয়েছে। জেলার পাম্পগুলো হচ্ছে-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে-মেসার্স পরিবহণ শ্রমিক কল্যাণ ফিলিং স্টেশন, হরিপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স সামাদ এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশন-হরিপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স ইসলাম ফিলিং স্টেশন-স্বরূপনগর বাসস্ট্যান্ড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স হোসেন পেট্রোলিয়াম-বিশ্বরোড মোড়, রাজশাহী রোড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স এমদাদুল হক এন্ড সব্দ ফিলিং স্টেশন-মহানন্দা বাসস্ট্যান্ড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স সায়েরা ফিলিং স্টেশন-নায়াগোলা মোড়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স এরফান সুপার ফিলিং স্টেশন-বুলোনপুর নয়াগোলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স মা ফিলিং স্টেশন-নায়ানগর, আমনুরা রোড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স রাবেয়া ফিলিং স্টেশন-আমনুরা বাজার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স এ.কে খান ফিলিং স্টেশন-পি.টি.আই চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স আলিজ ফিলিং স্টেশন-লাহারপুর, বারোঘরিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স নাহালা ফিলিং স্টেশন-মহারাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
শিবগঞ্জে-মেসার্স কেয়া ফিলিং স্টেশন-বহালাবাড়ি মোড়, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স প্রিয়া ফিলিং স্টেশন-ছত্রাজিতপুর, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স মাউলানা আব্দুল লতিফ ফিলিং স্টেশন-মেহেদিপুর শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স শিবগঞ্জ ফিলিং স্টেশন-শিবগঞ্জ বাজার, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স মির্জা ফিলিং স্টেশন-দাদনচক হল রোড, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স নয়ন ফিলিং স্টেশন-পুকুরিয়া, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স সুমন ফিলিং স্টেশন-কানশার্ট মোড়, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স রাকিব এন্ড ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশন-ধুপপুকুর কানসাট, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
গোমস্তাপুরে-মেসার্স পলাশ ফিলিং স্টেশন-চৌডালা, গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স রাইহান ফিলিং স্টেশন-রহনপুর, গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স লতিফুর রহমান ফিলিং স্টেশন-রহনপুর, গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স বিজলী ফিলিং স্টেশন-তেতুলতলা, রহনপুর, গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স আজিজ ফিলিং স্টেশন-সন্তোষপুর বাজার, গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স মানিক রতন ফিলিং স্টেশন-আড্ডা, গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স ব্রাদার্স এন্ড সিস্টার ফিলিং স্টেশন-বড় দাউদপুর, বহরমপুর, রাজশাহী। মেসার্স ধানশুড়া ফিলিং স্টেশন-বহরমপুর, রাজশাহী। নাচোলে-মেসার্স মন্ডল ফিলিং স্টেশন-মোল্লিকপুর বাজার, নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং মেসার্স সুইটি ফিলিং স্টেশন-নাচোল বাজার, নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। ভোলাহাটে-মেসার্স ভোলাহাট ফিলিং স্টেশন-মেডিকেল মোড়, সন্ন্যাসীতলা, ভোলাহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বজায় রাখতে ধারাবাহিকভাবে তেলের জাহাজ বন্দরে আসছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট ৩৮টি জাহাজ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে। এছাড়া চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে আরও ৬টি জাহাজ জ্বালানি তেল নিয়ে বন্দরে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত এই জ্বালানি সরবরাহ বজায় থাকায় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের সংকট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

















