Category: কৃষি

  • ভালুকায় আধুনিক পদ্ধতিতে আদা চাষে নতুন সম্ভাবনা

    ভালুকায় আধুনিক পদ্ধতিতে আদা চাষে নতুন সম্ভাবনা

    ভালুকায় আধুনিক পদ্ধতিতে আদা চাষে নতুন সম্ভাবনা

    প্রবাস জীবন ছেড়ে নিজ দেশের মাটিতে ফিরে এসে কৃষিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের মো. আক্তার হোসেন। আধুনিক পদ্ধতিতে বস্তায় আদা চাষ করে তিনি এখন এলাকায় বেশ আলোচিত। ইউটিউব দেখে ধারণা নিয়ে তিনি এই চাষ শুরু করেন। আশা করছেন, মৌসুম শেষে আদা বিক্রি করে অন্তত পাঁচ লাখ টাকা লাভ হবে। তাঁর এই সাফল্যে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন আশপাশের কৃষক ও তরুণরা। আক্তার হোসেন উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের মরহুম শুক্কুর আলীর ছেলে। জীবনের শুরুটা ছিল একেবারেই সাধারণ। অল্প পড়াশোনা শেষে তিনি স্থানীয় বিভিন্ন ওয়েল্ডিং শপে কাজ করতেন। পরিশ্রম ও দক্ষতার মাধ্যমে ধীরে ধীরে এই পেশায় তিনি অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। উন্নত জীবনের আশায় ২০০৭ সালে পাড়ি জমান সিঙ্গাপুরে। সেখানে দীর্ঘ ১০ বছরের প্রবাসজীবনে তিনি শিখেছেন শৃঙ্খলা, পরিশ্রম ও আত্মনির্ভরতা। ২০১৭ সালে দেশে ফিরে এসে সিডস্টোর বাজারে হার্ডওয়ারের ব্যবসা শুরু করেন। তবে, কৃষির প্রতি তাঁর টান থেকেই যায়। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে মাঠে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে কৃষিতে ফিরে আসার অনুপ্রেরণা জোগায়। ব্যবসার পাশাপাশি অবসর সময়ে ইউটিউবে কৃষি বিষয়ক ভিডিও দেখে তিনি বস্তায় আদা চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ও নিজের উদ্যোগে তিনি এ বছর বাবার কাছ থেকে পাওয়া সাড়ে পাঁচ কাঠা জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে সাড়ে চার হাজার বস্তায় আদা চাষ শুরু করেন।

    চাষের কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর ক্ষেতজুড়ে সবুজের সমারোহ। এপ্রিল-মে মাসে লাগানো চারা এখন হৃষ্টপুষ্ট হয়ে উঠেছে। বড় হওয়া আদার চাপে কিছু বস্তা ফেটে যাওয়াকে কৃষি কর্মকর্তারা ফলনের ভালো লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। আক্তার হোসেন জানান, বস্তা তৈরি, বীজ রোপণ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, সেচ ও আগাছা পরিষ্কারে এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ ৮১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে আদা উত্তোলনের সময় পর্যন্ত আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। তবে আশা করছি অন্তত পাঁচ মেট্রিক টন আদা উৎপন্ন হবে, যা কেজিপ্রতি ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করলে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা পাওয়া যাবে। সব খরচ বাদে অন্তত পাঁচ লাখ টাকা লাভ থাকবে। চাষপদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতিটি বস্তায় চুন, জৈব সার ও কাঠের গুড়ো মিশিয়ে মাটি তৈরি করে বীজ রোপণ করেছি। প্রথমে পানি সেচ দিয়ে এক সপ্তাহ রাখার পর ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে চারা গজিয়েছে। দুই মাস পর সার দিয়েছি, পোকামাকড়ের আক্রমণ হলে কীটনাশক স্প্রে করেছি। নিয়মিত পরিচর্যা করায় গাছগুলো এখন খুব ভালো অবস্থায় আছে। হবিরবাড়ি ইউনিয়নের পাড়াগাঁও ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন বলেন, বস্তায় আদা চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ছত্রাকের আক্রমণ তুলনামূলক কম হয় এবং অতিরিক্ত বৃষ্টিতেও আদা পঁচে না। জমিতে চাষের চেয়ে বস্তায় চাষ অনেক বেশি লাভজনক। আক্তার হোসেনের সফলতা দেখে এলাকায় অনেকেই এখন বস্তায় আদা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত জামান বলেন, বস্তায় আদা চাষের অন্যতম সুবিধা হলো এটি অল্প জায়গায় করা যায়। চাইলে ঘরের ছাদেও করা সম্ভব। রোগবালাই কম হয় বলে ফলন ভালো হয়। আক্তার হোসেনকে আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন নিয়মিত পরামর্শ দিয়েছেন। এ বছর ফলন ভালো হয়েছে, যদি বাজারে দাম ভালো পাওয়া যায়, তবে তিনি বাণিজ্যিকভাবে এ চাষ আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিতে পারেন।

  • নওগাঁয় বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নবান্ন উৎসব

    নওগাঁয় বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নবান্ন উৎসব

    নওগাঁয় বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নবান্ন উৎসব

    নবান্ন উৎসবের সঙ্গে মিশে আছে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। নতুন ধান কাটা আর সেই ধানের প্রথম অন্ন খাওয়াকে কেন্দ্র করে পালিত হয় নবান্ন উৎসব। নবান্ন উৎসবকে ঘিরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন ধানের মিষ্টি ঘ্রাণ। বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যের এই উৎসব ঘিরে সর্বত্র বিরাজ করছে আনন্দ, উচ্ছ্বাস এবং নতুন ধারার প্রাণচাঞ্চল্য। আর এ নবান্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে নওগাঁয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার রাত সাড়ে ৭টায় নওগাঁর ঐতিহ্যবাহী প্যারিমোহন গ্রন্থাগার মিলনায়তনে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন একুশে পরিষদ এর আয়োজন করে। নবান্ন উৎসবে আমনের নতুন ধানের চালের তৈরি পায়েস, খাগড়াই ও বাতাসা এবং মুড়ি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় অতিথিদের। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে লালন, রবীন্দ্র, দেশাত্মবোধক ও আধুনিক গান পরিবেশিত হয়। আয়োজকরা জানান-বাঙালির পুরোন ঐতিহ্য সংস্কৃতি নতুন ধানের চালের পায়েস খাওয়ার প্রথা বিলিন হয়ে যাওয়ার পথে। যারা নতুন প্রজন্ম তাদের জানান দিতে নবান্ন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। নতুন চালের তৈরি পায়েশ- পোলাও, পিঠা-পুলিসহ রকমারি খাদ্য পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন সবাইকে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানাটাও যেন আনন্দের। পাশাপাশি পালন করা হয় সামাজিকভাবে প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী নানা আচার-অনুষ্ঠান। দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠ। চারিদিকে সোনালী রঙের আমন ধানের মৌ মৌ গন্ধ। হেমন্ত এলেই বাংলার দিগন্তজোড়া প্রকৃতিতে ছেয়ে যায়। অবারিত প্রান্তরে শস্যের দোলা হাসি ফোটায় কৃষকের মুখে। আর নতুন ধানে নবান্ন তো কৃষকের জন্য এক আনন্দের উৎসব। নতুন ফসল ঘরে উঠাতে বাংলার কৃষকরা কাটা মাড়াইয়ে আনন্দে মেতে উঠেছে। শরতের বিদায় হতে না হতেই হেমন্তকে পাশ কাটিয়ে যেন আগাম বার্তা দিচ্ছে শীত। ফসলের খেতসহ শিশিরে ভেজা ঘাস আর কুয়াশার চাদর জানান দিচ্ছে হেমন্ত এসেছে প্রকৃতিজুড়ে। প্রকৃতিতে অনুভূত হচ্ছে হালকা শীতের আমেজ। দরজায় কড়া নাড়ছে শীত। নতুন ধান কাটা আর সেই ধানের প্রথম অন্ন খাওয়াকে কেন্দ্র করে পালিত হয় নবান্ন উৎসব। নতুন চালের তৈরি পায়েশ-পোলাও, পিঠা-পুলিসহ রকমারি খাদ্য পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন সবাইকে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানাটাও যেন আনন্দের। পাশাপাশি পালন করা হয় সামাজিকভাবে প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী নানা আচার-অনুষ্ঠান। শহরের বাসীন্দা শিক্ষার্থী মরিয়ম জান্নাত জানান-শহরের বসবাস করার সুবাদে গ্রামের অনেক আচার-অনুষ্ঠানের বিষয়ে অবগত না। কখন ধান-কাটা মাড়ায় হয়ে থাকে জানতেই পারিনা। এ অনুষ্ঠানে যোগদিতে এসে জানতে পারলাম নবান্ন মানে নতুন ধানের চাল থেকে ক্ষির-পায়েস সাথে বিভিন্ন মিষ্টান্ন। যা বাঙ্গালীর ঐতিহ্য। সংগঠনের সহ-সভাপতি নাইচ পারভীন বলেন-নতুন চালের তৈরি পায়েশ-পোলাও, পিঠা-পুলিসহ রকমারি খাদ্য পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন সবাইকে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানাটাও যেন আনন্দের। পাশাপাশি পালন করা হয় সামাজিকভাবে প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী নানা আচার-অনুষ্ঠান। তবে এই ঐতিহ্য এখন হারানো পথে। সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ায় সমাজে দ্বন্দ্ব ও হানাহানি বাড়ছে। আমাদের পুরোন সংস্কৃতি ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে। একুশে পরিষদ নওগাঁর সভাপতি অ্যাডভোকেট ডিএম আব্দুল বারী বলেন, নবান্ন বাংলার আদি সংস্কৃতির একটি অংশ। আমরা যেন এ সংস্কৃতি ভুলে না যায়। আমরা এ শিকড়ের কথা নতুন প্রজন্মকে জানান দিতে চাই। নবান্ন একটি অসাম্প্রদায়িক এবং আবহমান কাল থেকে হয়ে আসছে। যা আমরা ধর্মবর্ণ নির্মিশেষে উদযাপন করি।

  • কৃষি জমি রক্ষা করতে কেমিক্যাল সারের নির্ভরতা কমাতে হবে-গোদাগাড়ি ইউএনও

    কৃষি জমি রক্ষা করতে কেমিক্যাল সারের নির্ভরতা কমাতে হবে-গোদাগাড়ি ইউএনও

    কৃষি জমি রক্ষা করতে কেমিক্যাল সারের নির্ভরতা কমাতে হবে-গোদাগাড়ি ইউএনও

    রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রবি মৌসুমে গম, সরিষা, চিনাবাদাম, শীতকালীন পেঁয়াজ, মসুর, খেসারি ও অড়হড় ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের মাঝে এই প্রণোদনা দেয়া হয়। ১৭ নভেম্বর এই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব মরিয়ম আহমেদ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ। এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও ফয়সাল আহমেদ বলেন, কৃষি জমি রক্ষা করতে কেমিক্যাল সারের নির্ভরতা কমাতে হবে। বিপরীতে জৈব সার ব্যবহার করে অর্গানিক ফসল উৎপাদন করতে হবে। আপনারা যারা এই কৃষি প্রণোদনা পাচ্ছেন তারা অবশ্যই চাষযোগ্য জমিতে এগুলো কাজে লাগাবেন। আপনাদের পরিশ্রমের ফলে দেশের মাটিতে সোনালি ফসলের দেখা মেলে।তাই আপনার এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করবেন। কৃষক ভাইদের কঠোর পরিশ্রম ও ঘামে ভেজা বাংলা আজ স্বপ্ন দেখে উন্নয়নের। আপনারাই পারেন এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে।

  • ছাদে ফলের বাগান, পাশে খামার-ওহেদুলের পরিশ্রমে স্বপ্নের সবুজ রাজ্য

    ছাদে ফলের বাগান, পাশে খামার-ওহেদুলের পরিশ্রমে স্বপ্নের সবুজ রাজ্য

    ছাদে ফলের বাগান-পাশে খামার-ওহেদুলের পরিশ্রমে স্বপ্নের সবুজ রাজ্য

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পৌরসভার হুজরাপুর মহল্লার এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত, ছাদের ওপরে গড়ে ওঠা এক সমৃদ্ধ সবুজ রাজ্য। ইসলামী ব্যাংক রহনপুর শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার ওহেদুল ইসলাম নিজের ২ হাজার স্কয়ারফুট ছাদে তৈরি করেছেন এক দৃষ্টিনন্দন ছাদবাগান ও খামার। ফল-ফুলের সৌরভে ভরা সেই বাগান এখন শুধু তার শখের জায়গা নয়, বরং আত্মনির্ভরতার এক বাস্তব উদাহরণ।

    ছাদের বিভিন্ন টবে এবং ড্রামে তিনি ফলজ, ঔষধি ও সবজির গাছ লাগিয়েছেন। পেয়ারা, আমড়া, সফেদা, নারিকেল, ডালিম, ড্রাগন ফল, মেহেদী, টিট ফল, কাঁচামরিচ, মিষ্টি আলু, ধুমমা ও লাউসহ নানা জাতের গাছ তার যত্নে বেড়ে উঠছে। সবুজ পাতার ফাঁকে ফল ঝুলছে, ফুল ফুটছে—দেখলে মনে হয় যেন ছোট্ট এক কৃষিবাগান শহরের মাঝখানে শোভা পাচ্ছে। ফল ও সবজি চাষের পাশাপাশি ওহেদুল ইসলাম গড়ে তুলেছেন মোরগ-মুরগি ও কবুতরের খামার। সকাল-বিকেল নির্দিষ্ট সময়ে তিনি খাওয়ান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন এবং যত্ন করেন নিজের পোষা প্রাণিগুলোর। এ খামার থেকেও আসে বাড়তি আয় ও মানসিক প্রশান্তি। ওহেদুল ইসলাম জানান, “প্রতিদিন অফিসের পাশাপাশি ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় দেই আমার বাগান ও খামারে। এটা আমার নেশা, ভালোবাসা। এখানে কাজ করলে মনের প্রশান্তি পাই। শহরের মধ্যেই গ্রামীণ সুখ খুঁজে পাই।” তার এই উদ্যোগ শুধু নিজস্ব প্রয়াসেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রতিবেশীরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন ছাদে চাষাবাদে। কেউ কেউ পরামর্শ নিচ্ছেন, কেউ আবার বীজ বা চারা সংগ্রহ করছেন তার কাছ থেকে। সবুজে ভরা ওহেদুল ইসলামের ছাদ যেন পরিবেশবান্ধব জীবনের এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত। শহরের ধুলোময় জীবনে তিনি যেন এক টুকরো প্রকৃতির পরশ এনে দিয়েছেন। নিজের পরিশ্রম, মমতা আর সৃজনশীলতায় তিনি প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছে থাকলে অল্প জায়গাতেও গড়ে তোলা যায় “সবুজ স্বপ্নের রাজ্য।”

  • ধানের গন্ধে জীবন-কুটিদের ঘামে গড়া স্বপ্ন!

    ধানের গন্ধে জীবন-কুটিদের ঘামে গড়া স্বপ্ন!

    ধানের গন্ধে জীবন-কুটিদের ঘামে গড়া স্বপ্ন!

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদে সকাল হতেই শোনা যায় ধান মাড়াইয়ের শব্দ। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে উঠতি সূর্যের আলোয় ঝলমল করে ওঠে এক একটি উঠান। সেখানেই ব্যস্ত হাতে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন কুটিরা। ধান থেকে চাল বানিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা। এটি শুধু একটি ব্যবসা নয়, তাদের জীবনের সঙ্গে মিশে থাকা এক সংস্কৃতি, এক সংগ্রামের ইতিহাস। কুটিদের এই ধান-চালের ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত। মৌসুম এলেই ধান ক্রয় করে মজুদ রাখা হয়। তারপর স্থানীয় চাতালে ধান ভেজানো, শুকানো, মাড়াই ও চাল বাছাই—সবকিছুতেই থাকে কুটিদের কঠোর পরিশ্রম। অনেক সময় রাতে বাতির আলোয় চাল বাছাইয়ের কাজ করতে দেখা যায় তাদের। চোখ জ্বালা, ঘাম ঝরা পরিশ্রম, তবু হাসিমুখে দিন কাটে। কারণ, এই পরিশ্রমেই লুকিয়ে আছে তাদের জীবনের আশা। তবে লাভজনক এই ব্যবসার পথ মোটেও সহজ নয়। একদিকে বাজারে ধানের অস্থির দাম, অন্যদিকে চাতাল ও পরিবহন ব্যয়ের বৃদ্ধি—সবকিছু মিলিয়ে কুটিদের টিকে থাকা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অনেকেই ব্যাংক ঋণ বা ধার করে ব্যবসা শুরু করলেও ক্ষতির আশঙ্কায় অনেক সময় পিছিয়ে যান। চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট এলাকায় এখনো অনেক পরিবার এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। নারী-পুরুষ মিলে কাজের ভাগাভাগি করেন। কেউ ধান শুকান, কেউ চাল বাছেন, কেউ বা বাজারে বিক্রি করেন। এতে গ্রামীণ নারীরাও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। কুটিদের এই ব্যবসা শুধু জীবিকা নয়—এটি এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে চলমান সংগ্রামের প্রতীক। ধানের গন্ধে ভরে থাকে তাদের উঠান, চালের ঝলকে জেগে থাকে স্বপ্ন। কুটিদের ঘামে যে চাল আমরা খাই, সেই ঘামের প্রতিটি বিন্দুতে আছে এক অনন্য গর্বের গল্প—বাংলার মাটির গল্প।

  • ভোলাহাটে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন

    ভোলাহাটে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন

    ভোলাহাটে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ করা হয়েছে। ২০ অক্টোবর সোমবার ১০:০০ টার সময় রবি প্রণোদনা/২০২৫-২৬ কর্মসূচির শূভ উদ্বোধন করেছেন সদ্য যোগদানকৃত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ শামীম হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ সুলতান আলী। উদ্ভিদ সংরক্ষণ উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ আখতারুল ইসলামের সঞ্চালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ সাইদুর রহমান, সমাজসেবা অফিসার মোঃ নাসিম উদ্দিন, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার মোঃ সবুজ আলী, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম কবিরাজ, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা, একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ হারুনর রশিদ সহ বিভিন্ন এলাকার সুবিধাভোগী কৃষকবৃন্দ। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে রবি মৌসুমে গম, সরিষা, চিনাবাদাম, শীতকালীন পেঁয়াজ, মসুর, খেসারি ও অড়হড় ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার সহায়তা প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ভোলাহাট উপজেলায় ৪৪৯০ (চারহাজার চারশত নববই) জন/বিঘা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। রবি মৌসুমে গম, সরিষা, চিনাবাদাম, শীতকালীন পেঁয়াজ, মসুর, খেসারি ও অড়হড় চাষে সহযোগিতার জন্য অনুমোদিত অগ্রাধিকার তালিকাভূক্ত একজন কৃষক একটি মাত্র ফসল পাবেন। একজন কৃষক ১ বিঘা জমির জন্য ২০ (বিশ) কেজি করে গম বীজ অথবা ০১ (এক) কেজি করে সরিষা বীজ অথবা ১০ (দশ) কেজি করে চিনাবাদাম বীজ অথবা ০১ (এক) কেজি করে শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ সাথে ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার অথবা ০৫ (পাঁচ) কেজি করে মুগ বীজ অথবা ০৫ (পাঁচ) কেজি করে মসুর বীজ অথবা ০৮ (আট) কেজি করে খেসারি বীজ অথবা ০২ (দুই) কেজি করে অড়হড় বীজ সাথে ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে।

  • ভোলাহাটে বিনামূল্যে ৫৫০ কৃষক’কে মাসকালাই বীজ ও সার প্রদান

    ভোলাহাটে বিনামূল্যে ৫৫০ কৃষক’কে মাসকালাই বীজ ও সার প্রদান

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে বিনামূল্যে মাসকালাই বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে উপজেলা কৃষি অফিসের সামনে চার ইউনিয়নের মোট ৫৫০ জন কৃষকের মাঝে জন প্রতি ৫ কেজি মাসকালাই বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়। খরিপ-২ মৌসুমে ২০২৫/২৬ অর্থ বছরে মাসকালাই এর আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান। এসময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সুলতান আলী। এসময় তিনি কৃষির উপর বিভিন্ন দিকনির্দেশনামুলক বক্তব্য দেন। উদ্ভিদ সংরক্ষণ উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ আখতারুল ইসলামের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিএমডিএ’র সহকারী প্রকৌশলী মোঃ লোকমান হাকিম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ নাসিম উদ্দিন, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ সবুজ আলী, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম কবিরাজ, উপজেলা তথ্য কর্মকর্তাসহ উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা এবং কৃষকবৃন্দ।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের বৃক্ষরোপন কর্মসূচী ও চারা বিতরণ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের বৃক্ষরোপন কর্মসূচী ও চারা বিতরণ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের বৃক্ষরোপন কর্মসূচী ও চারা বিতরণ

    ‘সবুজে সাজাই বাংলাদেশ’ শ্লোগানে বৃক্ষরোপণ ও বিভিন্ন জাতের গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচী পালিত হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। বৃহস্পতিবার (২৮ আগষ্ট) সকাল থেকে শুরু করে দুপুর পর্যন্ত জেলা শহরের ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতাধিক বনজ, ঔষধী ও ফলজ গাছের চারা রোপন এবং ১৫০০ বিভিন্ন গাছের চারা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব এর উদ্যোগে এবং বাংলালিংক টেলিকম এর সহায়তায় সকালে জেলা শহরের জেলা আদর্শ স্কুল মাঠে গাছের চারা রোপনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচী শুরু করেন অতিথিগণ। কর্মসূচীতে সহায়তা করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের মনামিনা কৃষি খামারও।

    প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় প্রতিবছর দেশব্যাপী সবুজ বেষ্টনী গড়ার অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব এর উপদেষ্টা পরিষদ বৃক্ষরোপণ করেছে। এই কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছে বাংলালিংক, মনামিনা কৃষি খামার।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব এর এমন পরিবেশ বান্ধব কর্মসূচী গ্রহণ করায় কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন অতিথিগণ ও সুধিজন এবং শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচীতে সহাযোগিতা করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব এর উপদেষ্টাগণ ও স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা।

    সকালে জেলা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপ-সচিব) মোঃ আফাজ উদ্দিন। অতিথি হিসেবে ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহিলা সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার, জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আব্দুল মতিন, নবাবগঞ্জ সরকারী কলেজের আরবী ও ইসলামী স্টাডিজ এর প্রভাষক হাবিবুল্লাহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হারুন-অর-রশিদ, বৃক্ষপ্রেমি কার্তিক পরামানিক।

    এসময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব এর উপদেষ্টা পরিষদের সম্মানিত সদস্য কবি এনামুল হক তুফান, অব. প্রধান শিক্ষক ফারুকা বেগমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৃক্ষারোপন কর্মসূচীর সার্বিক তত্বাবধান ও পরিচালনা করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব এর জেলা সমন্বয়ক চ্যানেল আই’র জেলা প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু।

    এদিকে, বাংলালিংক টেলিকম কর্তৃপক্ষের বগুড়ায় বিশেষ জরুরী সভা থাকায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচীতে উপস্থিত থাকতে পারেন নি জেলার দায়িত্বরত কর্মকর্তা (পিওসি) মোঃ মাজহারুল ইসলাম। তবে তিনি পরামর্শ দিয়ে সার্বিকভাবে সহায়তা করেছেন। পরে পার্শ্ববর্তী ইম্পেরিয়াল স্কুলে বৃক্ষরোপন করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণ করা হয়। এই কর্মসূচীতে স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকগণ ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

    এছাড়াও স্থানীয় একটি তাহ্ফিজুল কুরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির চারা বিতরণ করা হয়। এদিকে, নবাবগঞ্জ সরকারী কলেজেও বৃক্ষরোপন করা হয়। কর্মসূচীতে অংশ নেয় ৪টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ ও শিক্ষার্থীরা। সকল কর্মসূচীতে ‘দৈনিক চাঁপাই দর্পণ’ এর নিজস্ব প্রতিনিধি মোঃ ইসাহাক আলী, কম্পিউটার সহকারী রাশিদা রুমকিসহ জেলা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ সার্বিকভাবে সহায়তা করেন।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব এর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যগণ এবং জেলা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব এর সেচ্ছাসেবী সদস্য আহমেদ বিপ্লব, আব্দুল জাব্বার, হাইউল ইসলাম, অহেদা খানম, খাদিজাতুল কুবরাসহ অন্যরা কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন।

    প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের উদ্যোগে শহরের ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাটিমন আম, বেল, শিউলি ফুল, বকুল ফুল, বাসক, কাঠাল, মেহগনি, ডালিম, অর্জুন, ছাতিয়ান, আমলকি, বহেড়া, চালতা, কানাইডিংগা, বদ্যনারকেল, হরিতকি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব ও সকলের প্রচেষ্টায় আগামীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সবুজ বেষ্টনীর এক অন্যতম জেলা হিসেবে গড়ে উঠবে বলেও আশাবাদ বিশিষ্টজনদের।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমবাগান পরিদর্শনে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতগণ- চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুমিষ্ট আম বিদেশে রপ্তানি বাড়াতে কাজ করছে সরকার-নাচোলে কৃষিমন্ত্রী

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমবাগান পরিদর্শনে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতগণ- চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুমিষ্ট আম বিদেশে রপ্তানি বাড়াতে কাজ করছে সরকার-নাচোলে কৃষিমন্ত্রী

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমবাগান পরিদর্শনে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতগণ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুমিষ্ট আম বিদেশে রপ্তানি বাড়াতে কাজ করছে সরকার-নাচোলে কৃষিমন্ত্রী

    আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাসহ বিভিন্ন জেলার আম রপ্তানি বাড়াতে কাজ করছে, কৃষিবান্ধব সরকার কৃষি ও কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো: মো. আব্দুস শহীদ। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কসবা ইউপির কেন্দবোনা এলাকায় কৃষি উদ্যোক্তা রফিকুল ইসলামের আমবাগান পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের আম অত্যন্ত সুমিষ্ট। তাই আরও বেশি করে বিদেশে আম রপ্তানি করতে চাই। আমের ব্র্যান্ডিং প্রয়োজন। আর আমরা সে লক্ষেই কাজ করছি। এজন্য বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের এখানে নিয়ে আসা। তিনি আরও বলেন, আমাদের কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে চাষিদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনের জন্য। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমবাগান দেখে মুগ্ধ হয়েছি, জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, এখানে বিভিন্ন আমের জাত রয়েছে। সবগুলোই সুন্দর এবং সুমিষ্ট। এ আমের প্রচার অত্যন্ত প্রয়োজন।

    প্রচার বাড়লে আম উৎপাদন বাড়বে। তিনি আরও বলেন, এজন্য ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের আমরা আমবাগান পরিদর্শনের আয়োজন করেছি। তারা নিজেরা চোখে দেখে সুপারিশ করবে এতে আম রপ্তানি বাড়বে। চাঙ্গা হবে আমাদের অর্থনীতি। কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি’র নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমবাগান পরিদর্শনে আসেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত। বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কান্দবোনা গ্রামে উত্তম কৃষি চর্চা (গ্যাপ) অনুসরণ করে পরিচালিত আম বাগান পরিদর্শন করেন প্রতিনিধি দল।

    এর আগে সকালে নাচোল উপজেলার কান্দবোনা গ্রামে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুস শহীদের নেতৃত্বে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল ওয়াদুদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুহা. জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ মো বখতিয়ার, কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তার, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং ব্রুনাই, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভুটান, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও লিবিয়ার রাষ্ট্রদূতগণ আমবাগান পরিদর্শন করেন।

    এছাড়া, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি পরিদর্শন টিমে অংশ নেয়। পরে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর আম ব্র্যান্ডিং এর কাজ কৃষি, বানিজ্য এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগ নেয়া হবে। গুড এগ্রিকালচার প্র্যাকটিস (গ্যাপ) এর মাধ্যমে আম বিদেশে রপ্তানীর সকল ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, যেখানে রেললাইন আছে, সেখান থেকে কৃষি পন্য রেলযোগে পরিবহন করা হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক একে এম গালিভ খাঁন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক দেবেন্দ্রনাথ উরাঁওসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার মোঃ ছাইদুল হাসান বিপিএম-পিপিএম সেবাসহ পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, র‌্যাব সদস্যরা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নীলুফা সরকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সবুজ হাসান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, নাচোল পৌর মেয়র আব্দুর রশিদ খান ঝালু,

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. পলাশ সরকার, উপজেলা কৃষি অফিসার সলেহ আকরামসহ কৃষি বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোজাহার আলী প্রাং, কৃষি উদ্যোক্তা রফিকুল ইসলাম, জেলা মহিলা লীগের সভাপতি সাকিনা খাতুন পারুলসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।

    এছাড়াও বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর, আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল এর কান্ট্রি ডিরেক্টর, জাতি সংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এর ডিপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর, জাতি সংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এর বাংলদেশ প্রতিনিধি এবং কৃষি মন্ত্রনালয়ের অধিন সংস্থা প্রধানগণও এ পরিদর্শন টীমে অংশগ্রহণ করেন। এসময় মন্ত্রীর সফরসঙ্গী বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদল এবং জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুস শহীদ’র নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমবাগান পরিদর্শনে আসছেন রাষ্ট্রদূতগণ

    কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুস শহীদ’র নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমবাগান পরিদর্শনে আসছেন রাষ্ট্রদূতগণ

    কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুস শহীদ’র নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমবাগান পরিদর্শনে আসছেন রাষ্ট্রদূতগণ

    কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি’র নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমবাগান পরিদর্শনে আসছেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত। বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কান্দবোনা গ্রামে উত্তম কৃষি চর্চা (গ্যাপ) অনুসরণ করে পরিচালিত আম বাগান পরিদর্শন করবেন প্রতিনিধি দল।

    কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি’র সাথে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃহস্পতিবার আসছেন কৃষি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও চ্যানেল আই এর বার্তা প্রধান সাইখ সিরাজ। সিনিয়র তথ্য অফিসার মো: কামরুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেসনোটে জানা গেছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের সুস্বাদু ও সম্ভাবনাময় আম রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে উত্তম কৃষি চর্চা (গ্যাপ) অনুসরণ করে নিরাপদ আমের উৎপাদন কার্যক্রম ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত/মিশনপ্রধানদের নিকট তুলে ধরতে আমবাগান পরিদর্শনের আয়োজন করেছে মন্ত্রণালয়। কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপির নেতৃত্বে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল ওয়াদুদ এমপি, কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তার, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, এবং ব্রুনাই দারুস সালাম, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভুটান, ভিয়েতনাম, শ্রীলংকা, মিয়ানমার ও লিবিয়ার রাষ্ট্রদূতগণ এ পরিদর্শনে অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া, বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর, আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ওঋঅউ) এর কান্ট্রি ডিরেক্টর, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডঋচ) এর ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ঋঅঙ) এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাপ্রধানগণও এ পরিদর্শন টিমে রয়েছেন। সফরকারীগণ ২৭ জুন বৃহস্পতিবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কান্দবোনা গ্রামে উত্তম কৃষি চর্চা (গ্যাপ) অনুসরণ করে পরিচালিত আম বাগান পরিদর্শন করবেন।