ছাদে ফলের বাগান-পাশে খামার-ওহেদুলের পরিশ্রমে স্বপ্নের সবুজ রাজ্য
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পৌরসভার হুজরাপুর মহল্লার এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত, ছাদের ওপরে গড়ে ওঠা এক সমৃদ্ধ সবুজ রাজ্য। ইসলামী ব্যাংক রহনপুর শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার ওহেদুল ইসলাম নিজের ২ হাজার স্কয়ারফুট ছাদে তৈরি করেছেন এক দৃষ্টিনন্দন ছাদবাগান ও খামার। ফল-ফুলের সৌরভে ভরা সেই বাগান এখন শুধু তার শখের জায়গা নয়, বরং আত্মনির্ভরতার এক বাস্তব উদাহরণ।

ছাদের বিভিন্ন টবে এবং ড্রামে তিনি ফলজ, ঔষধি ও সবজির গাছ লাগিয়েছেন। পেয়ারা, আমড়া, সফেদা, নারিকেল, ডালিম, ড্রাগন ফল, মেহেদী, টিট ফল, কাঁচামরিচ, মিষ্টি আলু, ধুমমা ও লাউসহ নানা জাতের গাছ তার যত্নে বেড়ে উঠছে। সবুজ পাতার ফাঁকে ফল ঝুলছে, ফুল ফুটছে—দেখলে মনে হয় যেন ছোট্ট এক কৃষিবাগান শহরের মাঝখানে শোভা পাচ্ছে। ফল ও সবজি চাষের পাশাপাশি ওহেদুল ইসলাম গড়ে তুলেছেন মোরগ-মুরগি ও কবুতরের খামার। সকাল-বিকেল নির্দিষ্ট সময়ে তিনি খাওয়ান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন এবং যত্ন করেন নিজের পোষা প্রাণিগুলোর। এ খামার থেকেও আসে বাড়তি আয় ও মানসিক প্রশান্তি। ওহেদুল ইসলাম জানান, “প্রতিদিন অফিসের পাশাপাশি ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় দেই আমার বাগান ও খামারে। এটা আমার নেশা, ভালোবাসা। এখানে কাজ করলে মনের প্রশান্তি পাই। শহরের মধ্যেই গ্রামীণ সুখ খুঁজে পাই।” তার এই উদ্যোগ শুধু নিজস্ব প্রয়াসেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রতিবেশীরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন ছাদে চাষাবাদে। কেউ কেউ পরামর্শ নিচ্ছেন, কেউ আবার বীজ বা চারা সংগ্রহ করছেন তার কাছ থেকে। সবুজে ভরা ওহেদুল ইসলামের ছাদ যেন পরিবেশবান্ধব জীবনের এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত। শহরের ধুলোময় জীবনে তিনি যেন এক টুকরো প্রকৃতির পরশ এনে দিয়েছেন। নিজের পরিশ্রম, মমতা আর সৃজনশীলতায় তিনি প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছে থাকলে অল্প জায়গাতেও গড়ে তোলা যায় “সবুজ স্বপ্নের রাজ্য।”

Leave a Reply