ধানের গন্ধে জীবন-কুটিদের ঘামে গড়া স্বপ্ন!
চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদে সকাল হতেই শোনা যায় ধান মাড়াইয়ের শব্দ। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে উঠতি সূর্যের আলোয় ঝলমল করে ওঠে এক একটি উঠান। সেখানেই ব্যস্ত হাতে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন কুটিরা। ধান থেকে চাল বানিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা। এটি শুধু একটি ব্যবসা নয়, তাদের জীবনের সঙ্গে মিশে থাকা এক সংস্কৃতি, এক সংগ্রামের ইতিহাস। কুটিদের এই ধান-চালের ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত। মৌসুম এলেই ধান ক্রয় করে মজুদ রাখা হয়। তারপর স্থানীয় চাতালে ধান ভেজানো, শুকানো, মাড়াই ও চাল বাছাই—সবকিছুতেই থাকে কুটিদের কঠোর পরিশ্রম। অনেক সময় রাতে বাতির আলোয় চাল বাছাইয়ের কাজ করতে দেখা যায় তাদের। চোখ জ্বালা, ঘাম ঝরা পরিশ্রম, তবু হাসিমুখে দিন কাটে। কারণ, এই পরিশ্রমেই লুকিয়ে আছে তাদের জীবনের আশা। তবে লাভজনক এই ব্যবসার পথ মোটেও সহজ নয়। একদিকে বাজারে ধানের অস্থির দাম, অন্যদিকে চাতাল ও পরিবহন ব্যয়ের বৃদ্ধি—সবকিছু মিলিয়ে কুটিদের টিকে থাকা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অনেকেই ব্যাংক ঋণ বা ধার করে ব্যবসা শুরু করলেও ক্ষতির আশঙ্কায় অনেক সময় পিছিয়ে যান। চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট এলাকায় এখনো অনেক পরিবার এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। নারী-পুরুষ মিলে কাজের ভাগাভাগি করেন। কেউ ধান শুকান, কেউ চাল বাছেন, কেউ বা বাজারে বিক্রি করেন। এতে গ্রামীণ নারীরাও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। কুটিদের এই ব্যবসা শুধু জীবিকা নয়—এটি এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে চলমান সংগ্রামের প্রতীক। ধানের গন্ধে ভরে থাকে তাদের উঠান, চালের ঝলকে জেগে থাকে স্বপ্ন। কুটিদের ঘামে যে চাল আমরা খাই, সেই ঘামের প্রতিটি বিন্দুতে আছে এক অনন্য গর্বের গল্প—বাংলার মাটির গল্প।

Leave a Reply