রাজশাহীতে ছাত্রলীগ-যুবলীগ সংঘর্ষে যুবলীগকর্মী গুলিবিদ্ধ

রাজশাহীতে ছাত্রলীগ-যুবলীগ সংঘর্ষে যুবলীগকর্মী গুলিবিদ্ধ

এলাকার আধিপত্য নিয়ে পুরনো বিরোধের জেরে রাজশাহী নগরীতে আওয়ামীলীগের সহযোগী দুই সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বালিয়াপুকুর ছোট বটতলা এলাকায় ওই সংঘর্ষের সময় আহত হয়েছেন তিনজন। এদের মধ্যে যুবলীগকর্মী একরামুল হক গুড্ডুর (৩৫) ডান পায়ে গুলি লেগেছে। বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি সোহরাওয়ার্দী হোসেন জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে। সে সময় একজন গুলিবিদ্ধ হয়। নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা মুনিরুজ্জামান মনি ও নগর ছাত্রলীগের সাবেক (বহিষ্কৃত) শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক তরিকুল ইসলাম তরিক সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখা নিয়ে আগে থেকেই তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সন্ধ্যায় ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে স্থানীয় দুই যুবকের মধ্যে মারামারির ঘটনা নিয়ে সালিশ বসে। সেখানে তরিকুল ইসলাম তরিক এক পক্ষের হয়ে কথা বলেন। এক পর্যায়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তরিক উত্তেজিত হয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনিরুজ্জামানকে গালাগালিজ করে সালিশ থেকে চলে যান। পরে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বাবাসহ তার লোকজন তরিকের বাড়িতে গিয়ে কাউন্সিলরকে গালাগালি করার কৈফিয়ত চান। বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে দুপক্ষ সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়ে। এ সময় দুই পক্ষই ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে গোলাগুলি শুরু হলে গুলিবিদ্ধ হন চন্দ্রিমা থানার ছোটবনগ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে গুড্ডু। তাকে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসকের পরামর্শে রাতেই ঢাকার পুঙ্গ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিল্লাল উদ্দিন বলেন, গুড্ডুর ডান পায়ের হাঁটুর উপরে গুলি লেগে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় তাকে রাতেই ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের জন্য তরিকুল ইসলাম তরিককে দায়ী করে কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মনি বলেন, আমাকে লক্ষ্য করে তরিক কয়েক রাউন্ড গুলি করে। কিন্তু গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে একটি গুড্ডুর ডান পায়ে লাগে। তবে এ বিষয়ে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা তরিকুল ইসলাম তরিকের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। সংঘর্ষের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে ওসি সোহরাওয়ার্দী বলেন, ঘটনার সময় কে গুলি চালিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *