অ্যাপে বাঁধা তেল সিন্ডিকেট ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিজিটাল নজরদারিতে ভাঙছে কৃত্রিম সংকটের কারসাজি

অ্যাপে বাঁধা তেল সিন্ডিকেট ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিজিটাল নজরদারিতে ভাঙছে কৃত্রিম সংকটের কারসাজি

জ্বালানি তেল নিয়ে দীর্ঘদিনের কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত ভিড় আর সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে নাকাল চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাধারণ মানুষ। তবে এবার সেই চক্রে লাগাম টানতে জেলা প্রশাসনের সাহসী ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ-অ্যাপভিত্তিক তেল বিক্রয় ব্যবস্থা-নিয়ে এসেছে নতুন আশা। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও নাচোল উপজেলায় এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী। তিনি জানান, “তেলের প্রকৃত কোনো ঘাটতি নেই, সমস্যা তৈরি হয়েছিল কৃত্রিমভাবে-অতিরিক্ত মজুত, পুনঃবিক্রি ও অসাধু চক্রের অপতৎপরতার কারণে।”স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তা ঈদুল হাসান জনি-এর উদ্ভাবিত এই ডিজিটাল সিস্টেমে প্রতিটি মোটরসাইকেল নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় আনা হয়েছে।

একটি মোটরসাইকেল ৫ দিনে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেল নিতে পারবে। একবার তেল নেওয়ার পর পরবর্তী ৫ দিন একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে জেলার অন্য কোনো পাম্প থেকে তেল নেওয়া যাবে না। প্রতিটি লেনদেন অ্যাপে রেকর্ড হওয়ায় ডুপ্লিকেট বা জালিয়াতির সুযোগ কমে যাচ্ছে।সিন্ডিকেটে আঘাত, বাজারে স্বস্তি জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এতদিন অনেকেই একাধিকবার তেল নিয়ে তা বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছিলেন। এতে সাধারণ গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছিলেন এবং বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছিল। নতুন এই ব্যবস্থায় সেই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।ইতোমধ্যে শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর উপজেলায় সফলভাবে পাইলটিং শেষ হয়েছে। সেখানে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ায় এখন জেলার ৩২টি ফিলিং স্টেশনে পর্যায়ক্রমে এই অ্যাপ চালু করা হচ্ছে। প্রশাসন আশা করছে, খুব দ্রুতই পুরো জেলায় এই ব্যবস্থা চালু হবে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন,“এটি শুধু একটি প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নয়, বরং বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ফেরানোর একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ।

এতে সাধারণ মানুষ ন্যায্য অধিকার পাবে, আর অসাধু ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হবে।”আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ছেএকই সঙ্গে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তেল মজুত, অবৈধ পরিবহন বা পুনঃবিক্রির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও শাস্তির আওতায় আনা হবে সংশ্লিষ্টদের।বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের অ্যাপভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শুধু তেল খাতেই নয়, ভবিষ্যতে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যেতে পারে। এতে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে, ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত হবে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ কমবে।সব মিলিয়ে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে অ্যাপভিত্তিক তেল বিক্রির এই উদ্যোগ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—এটি সফল হলে দেশের অন্যান্য জেলাতেও হতে পারে এক নতুন দৃষ্টান্ত।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *