রাজশাহী নার্সিং কলেজ বন্ধ ঘোষণা ॥ শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ
শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ক্যাম্পাসে ভাঙচুরের ঘটনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে রাজশাহী নার্সিং কলেজ। বুধবার সকালে কলেজটির অধ্যক্ষ মোসা. মতিয়ারা খাতুন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার রাজশাহী নার্সিং কলেজে ডিপ্লোমা সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং বিএসসি বেসিক নার্সিং ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কলেজের সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বুধবার দুপুরের মধ্যে সব শিক্ষার্থীকে আবাসিক হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় নোটিশে। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মতিয়ারা খাতুন বলেন, আগামী ১৬ তারিখ থেকে পরীক্ষা। আরও বিশৃঙ্খলা যদি হয়ে যায়-আমি দুটা ট্যাকেল দিতে পারছি না। সেজন্য সমন্বয় করে আমি অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সবকিছু স্বাভাবিক হলে শিক্ষা কার্যক্রম আবারও চালু হবে। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী নার্সিং কলেজের চার বছর মেয়াদি বেসিক বিএসসি কোর্সের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ডিপ্লোমা সিনিয়র স্টাফ নার্স শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষক নিয়োগসহ নানা দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আলাদা ব্যানারে আন্দোলন করে আসছিলেন বিএসসি ও ডিপ্লোমা ইন নার্সিংয়ের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকালে দাবি আদায় নিয়ে আলোচনা সভা চলার সময় দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে দুপুরে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী কলেজের অডিটোরিয়ামে যান, যারা বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত। সেখানে বিএসসি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি ও অশোভন আচরণ নিয়ে উত্তেজনা শুরু হয়। পরে বিএসসি শিক্ষার্থীরা কলেজের মূল গেইট বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান নেয়, আর ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা গেইটের বাইরে অবস্থান নেন। এ সময় গেইট ভাঙচুর ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ইট নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ শিক্ষার্থী আহত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ।
এ সময় প্রতিপক্ষের হাতে মারধরের পাশাপাশি হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক নারী শিক্ষার্থী। এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘‘আমাদের ন্যায্য দাবি ও বর্বরোচিত হামলার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই নার্সিং শিক্ষায় এসে কেউ নিজের জীবন ক্ষতিগ্রস্থ করুক, সেইটা যেন না হয়।’
Leave a Reply