রংপুরে সড়ক সংস্কারে অনিয়ম ॥ ধরা পড়লো সেনা কর্মকর্তার কাছে-সদুত্তর নেই প্রকৌশলীর
রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের সংস্কার কাজ ডিবিএসটি চলছে। রাস্তার কাজে অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়ে রংপুর সেনানিবাসের ৬৬ ডিভিশনের লেফট্যানেন্ট নাজমুলের চোখে। তিনি অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি রংপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান। জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরে রংপুর সেনানিবাসের ৬৬ ডিভিশনের একটি নিয়মিত টহল দল লেফট্যানেন্ট নাজমুলের নেতৃত্বে তারাগঞ্জ থেকে রংপুর সেনানিবাসে ফিরছিলেন। মন্থনা নামক স্থানে তারা হঠাৎ কৌতূহল বশত মহাসড়কের সংস্কার কাজ ডিবিএসটি পরিদর্শনে নেমে পড়েন। প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ পাথর ব্যবহার না করে প্রতি স্কয়ার ফিটে ২৪ কেজির স্থানে ১৯ কেজি দেয়া হচ্ছে। ৫ কেজি পাথর কম দেয়া হচ্ছে, বিষয়টির সত্যতা পেয়ে যান সেনাবাহিনীর একটি নিয়মিত টহল দলটি। খবর পেয়ে ছুটে আসেন সাংবাদিকরাও। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রংপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান। রাস্তা সংস্কারে কেন এরকম অনিয়ম? সেনা কর্মকর্তার এমন প্রশ্নের কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেননি তিনি। রংপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের রংপুর চাকঘর থেকে তারাগঞ্জের চিকলী বাজার পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে ডিবিএসটি ও পাগলাপীর বন্দরে রিজিড পেভমেন্ট করার প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ পায় রাজশাহীর ঠিকাদার ডন এন্টারপ্রাইজ। বরাদ্দ ছিল ২৬ কোটি ৮৯ লাখ ৫৯ হাজার ৯৪৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি কাজটি পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। পূর্বপরিচিত ডন এন্টারপ্রাইজ কাজটি পাওয়ায় জয়পুরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে রংপুরে বদলী হয়ে আসেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান। পূর্ব পরিচিত ডন এন্টারপ্রাইজের সাথে মিলেমিশে লুটপাটের উৎসবে মতে উঠেন তিনি। এরই মধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানের ইশারায় অনিয়ম করেই ১০ কিলোমিটার সড়কে ডিবিএসটি শেষ করেছেন। সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল দলটি অনিয়ম ধরতে না পারলে অনিয়মের মধ্যেই শেষ হতো প্রকল্পটি এমনটি জানিয়েছে স্থানীয় জনগণ। এদিকে, পাগলাপীর বন্দরের রিজিড পেভমেন্ট করার কাজটি চলছে জোড়াতালি দিয়ে। সেখানে রড, সিমেন্ট ও বালু পরিমাপ মতো দেয়া হচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বিষয়টি তদন্ত করার দাবিও জানান স্থানীয়রা। অন্যদিকে, ডন এন্টারপ্রাইজের প্রজেক্ট ম্যানেজার শাহিনুর রহমান সেনা কর্মকর্তা, নির্বাহী প্রকৌশলী ও জনগণের সামনে স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করে বলেছেন, প্রতি স্কয়ার ফিটে পাথর কম দেয়া হচ্ছে। বেশি জায়গা না, ৮০০ মিটারে ৫ কেজি করে পাথর কম দেয়া হয়েছে। আমরা এটা আবার রিপায়ার করে দিব। স্থানীয় জনগণের দাবি, সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ কামাল পাশা, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আবু হেনা উপস্থিতি থাকার পরও কী ভাবে সংস্কার কাজে অনিয়ম হয়? রংপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানের প্রচ্ছন্ন নির্দেশনায় সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়ম হচ্ছে। অনিয়ম করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ডন এন্টারপ্রাইজের কাছ থেকে মোটা অংকের সুবিধা নেয়ার কৌশল করেছেন রংপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান। তবে এব্যাপারে রংপুর সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ডিজাইনে ছিল ২৩ কেজি, সেখানে ১৮ কেজি পেয়েছে। আমাদের দেখভাল করার লোকজন রয়েছে। যেহেতু দীর্ঘ একটা এরিয়া, কমবেশি হতে পারে। সেটা অবশ্যই আমরা ঠিক করে দিব। দরপত্র মোতাবেক সঠিকভাবে কাজ বুঝে নেয়া হবে।
Leave a Reply