রাজশাহীতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে মারধরসহ নানা অভিযোগ
রাজশাহী মহানগরীর হেলেনাবাদ-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মারধর, অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে অভিভাবকরা লিখিত অভিযোগ রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক হারুনুর রশিদ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লাথি মারা, মাথায় কিল মারা, মেয়ে শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলা, পিঠে কিল মারা এবং তাদের পায়ের ওপর পা দিয়ে চাপা দেওয়ার মতো কাজ করেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অভিভাবকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা, সাময়িক পরীক্ষার খাতা জালিয়াতির মাধ্যমে ফলাফল পরিবর্তন করা এবং বিদ্যালয়ের গোপন তথ্য ফাঁস করার মতো অভিযোগও রয়েছে। স্কুলের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে অভিভাবকরা এই শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেছেন। এক শিক্ষার্থীর মা মিনা বেগম জানান, সামান্য কারণে তার ছেলেকে শিক্ষক হারুনুর রশিদ মাথায় মেরেছেন এবং পড়ে গেলে লাথিও মেরেছেন। তিনি বলেন, এই শিক্ষক কখনও কখনও মেয়ে শিক্ষার্থীদের মুখে ডাস্টার ছুঁড়ে মারেন এবং খারাপ উদ্দেশ্যে তাদের গায়ে হাত দেন। এসব বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। শুধু মিনা বেগম নন, আরও বেশ কয়েকজন অভিভাবক একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক হারুনুর রশিদ জানান, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার জন্যই শাসন করা হয়। তিনি বলেন, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মারবে এটা স্বাভাবিক। গত বৃহস্পতিবার তিনি এক শিক্ষার্থীকে শাসন করেছেন বলেও স্বীকার করেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ জানান, তিনি অভিভাবকদের অভিযোগের বিষয়ে অবগত আছেন। গত বৃহস্পতিবার এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় তিনি শিক্ষক হারুনুর রশিদকে সতর্ক করেছেন। এর আগেও তিনি এমন বিষয়গুলো নিজে সমাধান করেছেন। কিন্তু বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও শিক্ষকের আচরণের কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, যেহেতু অভিভাবকরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। বোয়ালিয়া থানা শিক্ষা অফিসার মখলেসুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা এমন অভিযোগ আশা করি না। তিনি বলেন, সহকারী শিক্ষক হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো গুরুতর। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply