গাইবান্ধার ভাসানী সেতুর তার চুরির পর ‘রিফ্লেক্টর লাইট’ চুরি-এলাকাবাসীর ক্ষোভ

গাইবান্ধার ভাসানী সেতুর তার চুরির পর ‘রিফ্লেক্টর লাইট’ চুরি-এলাকাবাসীর ক্ষোভ

গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জের হরিপুরঘাটে তিস্তা নদীর উপর নির্মিত মওলানা ভাসানী সেতুর বিদ্যুতের তার চুরির পর রিফ্লেক্টর লাইটও চুরি হয়েছে। শনিবার রাতে চুরির ঘটনা ঘটলেও রবিবার বিকালে বিষয়টি জানা যায় বলে জানিয়েছেন গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশল উজ্জ্বল চৌধুরী। তিনি বলেন, রিফ্লেক্টর লাইট চুরির বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। সুন্দরগঞ্জের হরিপুরঘাটে তিস্তার ওপর বুধবার এ সেতুর উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের চিলমারীকে যুক্ত করা মোট ৯২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ ও ৯ দশমিক ৬ মিটার প্রস্থের এ সেতুটির অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ সরকার (জিওবি), সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ওফিড)। গত বুধবার চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়ার রাতেই পুরো সেতু এলাকা অন্ধকার হয়ে পড়েছিল। বৃহস্পতিবার সেতুর ল্যামপোস্টের হরিপুর পয়েন্ট থেকে সংযোগ নেওয়া ৩১০ মিটার বৈদ্যুতিক তার দুর্বৃত্তরা কেটে নিয়ে যায়। তরা চুরির বিষ য়টি সমাধান হওয়ার আগেই চুরি হল সেতুর রিফ্লেক্টর লাইট। সেতুর রেলিংয়ে লাগানো এসব লাইট রাতে চালকদের সেতুর সীমানা চিহ্নিত করে দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচতে সহযোগিতা করে। এমন চুরির ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এদিকে বুধবার থেকে বিদ্যুৎহীন থাকলেও এখনো পুনরায় বিদ্যুৎসংযোগ দিতে পারেনি সেতু কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, এখন পর্যন্ত বৈদ্যুতিক তার সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তার পেলে পুনসংযোগ দেওয়া যাবে। সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, রিফ্লেক্টর লাইট চুরির কথা জানতে পেরেছি। এর আগে তার চুরির ঘটনায় সেতুর সিকিউরিটি ইনচার্জ নূর আলম বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় শুক্রবার রাতে মামলা করেছেন। চোরচক্রকে শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত আছে। সেতু এলাকায় যানজট নিরসন ও সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তার জন্য ওই এলাকায় দ্রুত পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের কাজ চলমান।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *