দিনাজপুরে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে সাফল্য কৃষকের ॥ আগ্রহী অন্য চাষীরাও

দিনাজপুরে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে সাফল্য কৃষকের ॥ আগ্রহী অন্য চাষীরাও

উত্তরের শষ্যভান্ডার খ্যাত দিনাজপুরে শীতকালীন সবজি শিম এখন গ্রীষ্মকালেও বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় এ জাতের শিম চাষ করে ঘুরছে অনেক কৃষকে ভাগ্যের চাকা। এ সাফল্য দেখে অনেকে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে। সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জমিতে সাদা-বেগুনী শিমের ফুল আর সবুজ শিমে মুখে হাসি ভরে উঠেছে কৃষক সোহরাব আলীর। দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ভাড়াডাঙ্গী এলাকায় কৃষক সোহরাব আলী গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন। ভাড়াডাঙ্গী টেকসই কৃষি উন্নয়ন কৃষক/কৃষাণী দলের সহায়তায় কৃষক সোহরাব আলী ৩৩ শতাংশ জমিতে আর্লি ৪৫ জাতের গ্রীষ্মকালীন এই শিম চাষ করেন। আর এতেই তিনি বাজিমাত করেছেন। শুধু সোহরাব আলী নয়, দিনাজপুরের অনেক কৃষক এখন চাষ করছেন গ্রীষ্মকালীন শিম।

শিমের ভালো ফলনের পাশাপাশি দামও পাচ্ছেন ভালো। উৎপাদিত এসব শিম এ অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি হচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন এ শিম চাষে কৃষকদের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিচ্ছে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প ও কৃষি বিভাগ। টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প প্রকল্প পরিচালক আবু রেজা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রীষ্মকালীন এ শিম চাষে কৃষকদের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিচ্ছে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প ও কৃষি বিভাগ। কৃষকরা এই শিম চাষ করে ভালো ফলনও পেয়েছেন, দামও ভালো পাচ্ছেন। অধিক লাভোবান হচ্ছেন শিম চাষীরা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, দিনাজপুরের মাটি ও আবহাওয়া গ্রীষ্মকালীন শিম চাষের জন্য খুবই উপযোগি। আর্লি-৪৫ জাতের গ্রীষ্মকালীন শিমের বীজ জুন-জুলাই মাসে রোপণ করা হয়। জৈবিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হচ্ছে এই শিম। স্বল্প সময়ে বিষমুক্ত নিরাপদ এই শিম চাষের সাফল্য আগামীতে আরও চাষাবাদের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে চাষিদের। গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ সম্প্রদায়ের লক্ষে মাঠ পরিদর্শন ও চাষিদের উদ্ধুদ্ধ করছেন কৃষি মন্ত্রণালয়সহ কৃষি দপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তারা।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *