সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হাইস্কুলে ‘এআই ও রোবটিক হ্যাকাথন’ অনুষ্ঠিত
শিক্ষার্থীদের মাঝে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক্সের জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে এবং আগামীর উদ্ভাবক হিসেবে তাদের গড়ে তুলতে সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হাইস্কুলে “আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও ‘এআই ও রোবটিক হ্যাকাথন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হাই স্কুল প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠান হয়। সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এবং এমওডি একাডেমির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সিইও নাহিদ তামান্না। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ খালেকুজ্জামান। হ্যাকাথনের বিভিন্ন সেশনে বিশেষজ্ঞ বক্তারা আলোচনা করেন। কোয়ান্টা রোবটিক্সের প্রতিষ্ঠাতা সঞ্জিত মন্ডল রোবটিক্সের উপর একটি সেশন পরিচালনা করেন। এআই সেশনে বক্তব্য রাখেন টেকনোগ্রাম ও সবজান্তা এআই-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং জাপান বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্সের ডিরেক্টর আহমেদুল ইসলাম বাবু এবং টেকনোগ্রাম লিমিটেডের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর এ.এস.এম রিয়াজ। এছাড়াও অনলাইন সেশনে অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্ত হন স্টেমসেল ফাউন্ডেশনের সিইও পেং চু এবং সিটিও মিরো কোস্টেকি। অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য, শিক্ষার্থীদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং তাদের গতানুগতিক শিক্ষার বাইরে এসে বাস্তব সমস্যা সমাধানে উদ্বুদ্ধ করা। দিনব্যাপী এই আয়োজনে রোবটিক্স এবং এআই-এর উপর বিশেষ সেশন,

ভিডিও প্রদর্শনী, শিক্ষার্থীদের প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং গ্রুপ ফটো সেশন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সিইও নাহিদ তামান্না বলেন, “আজকের এই হ্যাকাথন কেবল একটি প্রতিযোগিতামূলক আয়োজন নয়। এটি একটি বাস্তব অনুশীলন ক্ষেত্র, যেখানে আমাদের তরুণ মেধাবীরা একত্রিত হয়ে জটিল প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান খুঁজবে। আমরা চাই, আমাদের আগামী প্রজন্ম শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হবে না, তারা হবে প্রযুক্তির উদ্ভাবক ও নিয়ন্ত্রক। সেই লক্ষ্যে সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুলে একটি ইনোভেশন ও রোবটিক ল্যাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সৃজনশীল চিন্তা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বাস্তবে রূপ দিতে পারবে।”
সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ খালেকুজ্জামান তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, “আজকের এই দিনটি আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আমরা এমন এক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শেখা হবে আনন্দের, চিন্তা হবে মুক্ত এবং উদ্ভাবন হবে নিত্যনৈমিত্তিক অভ্যাস। আমরা আর শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হয়ে থাকতে চাই না, আমরা প্রযুক্তির উদ্ভাবক হতে চাই। এই হ্যাকাথন শিক্ষার্থীদের নিজেদের সক্ষমতা আবিষ্কার করার একটি মঞ্চ।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, টেকনোগ্রাম ও সবজান্তা এআই-এর প্রতিষ্ঠাতা আহমেদুল ইসলাম বাবু, অস্ট্রেলিয়ার স্টেমসেল ফাউন্ডেশনের সিইও পেং চু, এমওডি একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সজীব রায়। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ভিডিও বার্তায় বক্তব্য দেন আমেরিকায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী আরাফ ইসরাক। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিলো চ্যানেল আই, দৈনিক যুগান্তর এবং দ্য ডেইলি সান। ডকুমেন্টশন পার্টনার ইন্টেলিয়া, ব্রান্ডিং পার্টনার কমস কিউ এবং ইউনিক কমিউনিকেশন। হ্যাকাথন শেষে বিশেষজ্ঞ অতিথি এবং আয়োজকদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয় এবং একটি গ্রুপ ফটো সেশনের মাধ্যমে আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। উক্ত হ্যাকাথন ৭দিনের অনলাইন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে রোবট তৈরির প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

Leave a Reply