রাজশাহীতে ১১ দফা দাবিতে ইজিবাইক চালকদের স্মারকলিপি প্রদান

রাজশাহীতে ১১ দফা দাবিতে ইজিবাইক চালকদের স্মারকলিপি প্রদান

ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ ১১ দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন জাতীয়তাবাদী ইজিবাইক শ্রমিক দল রাজশাহী মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দ। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন সংগঠনের নেতারা। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী। এসময় ন্যায্য দাবিগুলো না মানলে আগামী ৩০ নভেম্বর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী ইজিবাইক শ্রমিক দল রাজশাহী মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেন,“বর্তমান জরিমানা ২৬০০ থেকে ৫০০০ টাকা, এটি চালকদের সাপ্তাহিক আয়ের চেয়েও বেশি। এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। আমরা দাবি করছি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় একীভূত নীতিমালা, নকশা অনুযায়ী গাড়ি উৎপাদন, টাইম ওভার মামলার পুনর্বিবেচনা এবং ভাড়ার তালিকা হালনাগাদের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হোক। আমাদের দাবি মানা না হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব। জাতীয়তাবাদী ইজিবাইক শ্রমিক দল রাজশাহী মহানগর শাখার সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, আমাদের জমা দেওয়া ১১ দফা দাবি কোনো বাড়তি সুযোগ নয়, এগুলো চালকদের ন্যায্য অধিকার। অযৌক্তিক জরিমানা, গাড়ি ডাম্পিং ও হয়রানির কারণে হাজারো পরিবার আজ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিষিদ্ধ করা হলে নিম্ন আয়ের মানুষদের জীবন আরও কষ্টকর হবে। আমরা চাই, চালকদের জন্য সহনশীল জরিমানা, নির্দিষ্ট পার্কিং এবং নিবন্ধিত গাড়ির সুরক্ষা নিশ্চিত হোক। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী ইজিবাইক শ্রমিক দল রাজশাহী মহানগর শাখার সহ-সভাপতি শ্রী গগণ কুমার রায়, শাহ আলম ও মো. অনু, যুগ্ম আহবায়ক মো. হামিদ, দপ্তর সম্পাদক মো. আলমগীর, প্রচার সম্পাদক মো. রাসেলসহ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। বক্তারা বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পরিবেশবান্ধব এবং নিম্ন আয়ের মানুষের একমাত্র জীবিকার মাধ্যম। এই যানবাহন নগরীর স্বল্প দূরত্বের পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। “অন্যায় ও অমানবিক” সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ জানান, এসব দাবি বাস্তবায়ন হলে রাজশাহীর পরিবহন ব্যবস্থা আরও শৃঙ্খলিত, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব হবে। পাশাপাশি হাজারো দরিদ্র চালকের জীবিকা সুরক্ষিত হবে। মানববন্ধনে উপস্থাপিত চালকদের ১১ দফা দাবিগুলো হলো, মামলা ও জরিমানা পুনর্বিবেচনা, অতিরিক্ত জরিমানা প্রত্যাহার, ন্যায্য মজুরি ও হালনাগাদ ভাড়ার তালিকা প্রকাশ, অতিরিক্ত যাত্রী তোলার বিরুদ্ধে কার্যকর তদারকি, নির্দিষ্ট পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামার স্থান নির্ধারণ, নিবন্ধিত গাড়ির সুরক্ষা ও অনিবন্ধিত গাড়িকে আইনের আওতায় আনা, নকশা অনুযায়ী নিরাপদ গাড়ি উৎপাদনের ব্যবস্থা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় একক নীতিমালা, টাইম ওভার মামলার পুনর্বিবেচনা, চালকদের ট্রাফিক আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণ, মাসিক সমন্বয় সভা আয়োজন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *