গোবিন্দগঞ্জে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে ঠিকাদার কাজ চালাচ্ছে

প্রশাসন নিরব নির্বিকার। কাজের নেই সাইনবোর্ড

গোবিন্দগঞ্জে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে ঠিকাদার কাজ চালাচ্ছে

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়ন ভূমি অফিস ছাতার পাড়ায় সাব কন্ট্রাকটর কর্তৃক কাটাখালী নদীতে শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে নির্মানাধীন বিল্ডিং এর মেজে এবং মাঠ ভরাট এর কাজ চলছে। অপরদিকে কাটাখালী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ সংস্কারের জন্য জিও ব্যাগ এর কাজ চলছে। ১লা ডিসেম্বর ২০২৫ সকাল ১১ ঘটিকায় প্রত্যক্ষ করা গেছে, ছাতারপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নির্মানাধীন বিল্ডিং এর মেঝেতে এবং মাঠে মাটি ভরাটের পরিবর্তে সরকারি নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করে বালু দ্বারা মাঠ ভরাটের কাজ চলমান রয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, সাব কন্ট্রাকটর কারো তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখে উক্ত ইউনিয়ন ভূমি অফিস ছাতার পাড়ার মাঠ ভরাট কাজ অব্যাহত রেখেছে। বিষয়টি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সমালোচনা এবং প্রতিবাদের সুর লক্ষ্য করা যায়। জনগণ বলাবলি করছে সাধারণ মানুষ এবং বালু দস্যু যখন নদী এবং ভূমির অভ্যন্তর থেকে স্যালো মেশিন বালু উত্তোলন করলে অথবা ভেকু দ্বারা মাটি কাটলে প্রশাসন জেল জরিমান করে থাকেন।

কিন্তু সরকারি জায়গায় ঠিকাদারের মাধ্যমে বিল্ডিং এর মেঝেতে এবং মাঠে মাটি-ভরাটের কাজের ওয়ার্ক পারমিট পেলেও মূল ঠিকাদার মোস্তাক হোসেন রহস্যজনক ভাবে কাজটি বিক্রি করে দিয়ে যায় বলে সর্বত্র গুঞ্জন উঠেছে।
সাতারপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস এর নিকট দিয়ে একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রয়েছে এবং বাধের পার্শ্ব দিয়া বয়ে গেছে পুরানা করতোয়া এবং কাটাখালী নদী। প্রশ্ন উঠেছে নদী থেকে স্যালো এবং ড্রেজার মেসিন দ্বারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করিয়া ঠিকাদার ইউনিয়ন ভূমি অফিস এর মাঠ কিভাবে ভরাট করছেন তাও আবার মাটির পরিবর্তে বালু দ্বারা ।
বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন নিরব নির্বিকার কেন জনগণ এই প্রশ্ন তুলেছেন। মাঠ প্রশাসনের নজরদারিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলিত হচ্ছে তাও আবার ইউনিয়ন ভূমি অফিস এর কাজ।
সেই বালু দ্বারা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাঠ ভরাট কড়ায় জনগণের মধ্যে নানান ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সহকারি কমিশনার ভূমি গোবিন্দগঞ্জ মহোদয় কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি লোক পাঠাচ্ছেন বলে এই প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন।

ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, সাতারপাড়া কে বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান ঠিকাদার কাজের জন্য সাইডে আসেন না। সুজন নামে এক ভাড়াটিয়া সাব কন্ট্রাকটরের দ্বারা কাজ করাচ্ছেন। সেই সুজন গায়ের জোরে মাটির পরিবর্তে বালু দ্বারা কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
উক্ত কাজের জন্য নির্দেশিকা বোর্ড টানানো হয়নি। প্রশ্ন উঠেছে সরকারি জায়গায় ঠিকাদার কর্তৃক কাটাখালী নদী থেকে কোন ক্ষমতা বলে এবং কোন আইনে মাটির পরিবর্তে অবৈধভাবে বালু তুলে ভরাট করছে এটাই সকলের জিজ্ঞাসা। অপরদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড পলাশবাড়ী এবং গাইবান্ধার অধীন গোবিন্দগঞ্জের দরবস্তু ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী সাবগাছি হাতিয়াদহ/সাতারপাড়ায় কাটাখালী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের সংস্কার কাজ এ জিও ব্যাগ ভরাট কাজ চলছে। এতে করে বাঁধের কাজের নিকটবর্তী স্থানে গভীর খাদের সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে কাজের স্থানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোককে পাওয়া গেলেও তারা পরিচয় গোপন করেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড গাইবান্ধার অধীন পলাশ বাড়িতে কর্তব্যরত উপ সহকারী প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক কে ঘটনাস্থলে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এ কাজের টেন্ডার হয়নি অফিস থেকে করা হচ্ছে।

কাজের নির্দেশনা সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে কিনা বিষয়টি জিজ্ঞাসা করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। অপর প্রশ্নের জবাবে মোজাম্মেল হক এই প্রতিনিধিকে জানান, পঞ্চাশ মিটার স্থানের জন্য ৪ হাজার ৫০০ জিও ব্যাগ ফেলা হবে। কত টাকা বরাদ্দ তিনি জানেন না। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী গাইবান্ধা কে মুঠোফোনে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমি নতুন এসেছি অনিয়ম হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনগণ বলছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ দায় সারামত চলছে। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি ও সরকারি নির্দেশনা মতে কাজ বাস্তবায়ন করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *