রাজশাহীতে তুলা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের
উত্তরাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি তুলা চাষ হচ্ছে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায়। আমের পর অর্থকারী ফসল হিসেবে তুলা চাষ এ অঞ্চলের চাষিদের কাছে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ধান-আখসহ অন্যান্য ফসলে অব্যাহত লোকসান ও সেচ সংকটের কারণে উপজেলার কৃষকরা কয়েক বছর ধরে কার্পাস তুলা আবাদে ঝুঁকেছেন বেশি। তুলা উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে চারঘাট উপজেলায় ৪৩০ হেক্টর জমিতে তুলা চাষ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে বেশি এবং তুলনামূলক কম খরচ ও অধিক লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছর নতুন নতুন কৃষক তুলা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। ১৪টি গ্রামকে ৪টি ব্লক এ প্রায় কয়েক প্রকার তুলা চাষ করছেন। এছাড়া কম বেশি প্রত্যেকটি গ্রামেই তুলা হচ্ছে।সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আম বাগান, পেয়ারা বাগান, সবজিক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসলের সাথী ফসল হিসেবে তুলা আবাদ হয়েছে। এখন চলছে ক্ষেত থেকে তুল্য সংগ্রহের কাজ। এক কৃষক বলেন, গত বছর আম বাগানের ছয় বিঘা জমিতে তুলা আবাদ করেছিলাম। প্রতি বিঘায় ১৪ থেকে ১৫ মণ তুলা পেয়েছি। খরচ পড়েছিল ১২ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে একই পরিমাণ জমিতে আবাদ করে ৩৫ মণ তুলা সংগ্রহ হয়েছে। আরও ৫০ মণ পাবো।তুলা চাষী শরিফুল, টুটুল, আমজাদ জানান, তুলা চাষে প্রনোদনা হিসেবে তুলা উন্নয়ন বোর্ড থেকে ইউরিয়া, ডিএপি, কীটনাশক, পিজিআরসহ হাইব্রিড বীজ পেয়েছি। তুলা উন্নয়ন বোর্ড এর কর্মকর্তারা ভালো ফলন নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করেন। জমি প্রস্তুত, সার, সেচ, কীটনাশক পরিচর্যাসহ উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভজনক হবে।চারঘাট উপজেলার কটন ইউনিট অফিসার হোসেন আলী প্রতিবেদককে বলেন, গত ৫-৬ বছর ধরে চারঘাটে কার্পাস তুলার আবাদ বাড়ছে। গত বছর ৪০০ হেক্টর জমিতে তুলা চাষ করা হয়েছিলো। চলতি মৌসুমে ৪৩০ হেক্টর জমিতে তুলা চাষ হয়েছে। গত বছর তুলার মূল্য ছিলো ৩৯০০ টাকা মণ। চলতি মৌসুমে মূল্য হয়েছে ৪ হাজার টাকা মণ। উপজেলায় কার্পাস তুলা চাষে ব্যাপক ফলন হয়েছে। তুলনামূলক খরচ কম ও অধিক লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছর নতুন নতুন কৃষক তুলা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন এলাকার কৃষক।

Leave a Reply