দিনাজপুরে লাচ্ছা সেমাই তৈরির ধুম-ব্যস্ত শ্রমিকরা

দিনাজপুরে লাচ্ছা সেমাই তৈরির ধুম-ব্যস্ত শ্রমিকরা

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে মানুষের চাহিদা পুরণে দিনাজপুরে লাচ্ছা সেমাই তৈরির ধুম পড়েছে। এবার স্থানীয় প্রশাসন ও বেকারি মালিক সমিতি প্রতিনিয়ত লাচ্ছা সেমাই তৈরীর কারখানাগুলো পরিদর্শন অব্যাহত রাখায় স্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে মান সম্পনন লাচ্ছা সেমাই। ‘এখন পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ছাড়া কোন শ্রমিক প্রবেশ করতে পারেনা লাচ্ছা তৈরির কারখানাগুলোতে’ এমনি কথা জানালেন দিনাজপুর শহরের উপকন্ঠ বাজবাটীর গুঞ্জাবাড়ীতে অবস্থিত হৃদয় বেকারিতে লাচ্ছা সেমাই প্যাকেটজাতে কর্মরত নারী শ্রমিক আখি কর্মকার। আখি বলেন, ‘লাচ্ছা সেমাই তৈরির মৌসুমে এই কারখানায় প্রায় শতাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়। উপার্জিত টাকা আমরা সন্তানদের পড়া-লেখার পাশাপাশি সংসারের কাজে লাগাই। পরিস্কার না থাকলে কারখানায় প্রবেশ করতে দেয় না মালিক পক্ষ।’ লাচ্ছা তৈরির কারিগর আবুল হোসেন জানান, শুধু ঈদের জন্য নয়, এই কারখানায় সব সময় লাচ্ছা সেমাই তৈরি করি আমরা। তবে ঈদে বেশি চাহিদা থাকায় বেশি লাচ্ছা তৈরি হয়। বেশি মানুষ কাজ করি। আমাদের লাচ্ছার চাহিদা প্রচুর।’ বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে সরজমিনে লাচ্ছা তৈরী’র কারখানা ঘুরে দেখা যায়, লাচ্ছা তৈরির ময়দা খামিরের কাজ মেশিনে করছে শ্রমিকরা। সুষ্ঠু ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে লাচ্ছা তৈরী ও ভাজার কাজ। প্যাকেটজাত করতেও নেওয়া হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতি। স্থানীয় প্রশাসন ও বেকারি মালিক সমিতি প্রতিনিয়ত লাচ্ছা সেমাই তৈরীর কারখানাগুলো পরিদর্শন করছেন। কিন্তু আগে আকর্ষনীয় মোড়কে মোড়ানো,দেখতে সুন্দর এসব লাচ্ছা দেখে বোঝার উপায় ছিলো না, এসবে ব্যবহার হচ্ছিলো বিষাক্ত তেল ও রং ছাড়াও মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বিভিন্ন উপাদান। এসব লাচ্ছা সেমাই তৈরির কারখানাগুলোতে লাচ্ছা উৎপাদনের নামে চলতো, জনস্বাস্থ্য ধবংসের এমন তৎপরতা। তবে এখন আর এসব করতে পারছেনা কেউ। বিগত বছরগুলোতে মিডিয়া এনিয়ে ব্যাপক লেখা-লেখি এবং রিপোর্ট প্রচার হওয়ার পর টনক নড়ে সবার। বেকারি মালিক সমিতির প্রচেষ্টায় প্রশাসন বেকারি ও লাচ্ছা তৈরির কারখানাগুলোতে ব্যাপক অভিযান চালায়। ভেজাল লাচ্ছা তৈরির উপাদান ও লাচ্ছা বিনষ্ট ছাড়াও জরিমানা করে বেশকিছু কারখানা মালিককে। এবার পবিত্র ঈদ উল ফিতরকে সামনে রেখে মানুষের চাহিদা পুরণে চলছে রূচিসম্মত ও মান সম্পন্ন লাচ্ছা তৈরীর প্রচেষ্টা। অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে লাচ্ছা তৈরি করা হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জেলা বেকারী মালিক সমিতির। সমিতির সভাপতি মো. সাইফুল্লাহ জানিয়েছেন, এনিয়ে তারা দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স এ বেশ কয়েকবার মিটিং করেছেন। সর্বোশেষ মিটিং এ স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন। সংসদ সদস্য সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, ভেজাল লাচ্ছা বা পণ্য তৈরি করা যাবেনা। তা তদারকি করার জন্য কঠোর নজরদারি রাখতে বলেছেন তিনি। তাই জেলায় লাচ্ছা তৈরির কারখানাগুলো আমরা নিয়মিত পরিদর্শন করছি। আমাদের লাচ্ছা মান সম্পন্ন হওয়ায় জেলার চাহিদা মিটিয়ে তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান মেশানো বা অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে লাচ্ছা সেমাই অথবা কোন পণ্য তৈরি করা হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য নিয়মিত মনিটরিং চলছে। কোন অব্যবস্থা পরিলক্ষিত হলে জেল-জরিমানা দেওয়া হচ্ছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *