গাইবান্ধায় দেশাত্মবোধক গান-কবিতা আবৃত্তি, গণসঙ্গীত ও আলোচনা অনুষ্ঠান
২৫ মার্চের কালরাত বাংলাদেশের ইতিহাসে এক শোকাবহ ও কলঙ্কিত হত্যাযজ্ঞের অধ্যায়। ১৯৭১ সালের এই রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যা কেবল একটি জাতিকে স্তব্ধ করে দেয়নি, রেখে গেছে অসংখ্য বধ্যভূমি ও গণকবর, যা আজও সেই নৃশংসতার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও দেশের বহু বধ্যভূমি-গণকবর এখনো অবহেলা ও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। তাই এসব স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ এখন শুধু সময়ের দাবি নয় বরং এক অনিবার্য জাতীয় দায়বদ্ধতা।কালরাত ও জাতীয় গণহত্যা দিবস এবং গাইবান্ধা স্টেডিয়াম সংলগ্ন বধ্যভূমিতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের দাবিতে গাইবান্ধায় প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনা, কবিতা, গণসংগীত ও আলোর মিছিল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ও বক্তারা এসব কথা বলেন।বুধবার বিকেল ৫টায় গাইবান্ধা পৌর শহিদ মিনার চত্বরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের অংশ গ্রহণে অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয় শহীদদের প্রতি। পরে দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃত্তি, গণসংগীত ও আলোচনা সভায় বক্তারা ২৫ মার্চের ভয়াল স্মৃতি তুলে ধরেন এবং নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার আহ্বান জানান।আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন রাজনীতিবিদ ওয়াজিউর রহমান রাফেল, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক জহুরুল কাইয়ুম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুল হক শাহজাদা ও ওয়াশিকার ইকবাল মাজু, গাইবান্ধা বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু, রাজনীতিক মিহির ঘোষ, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘের জেলা সভাপতি কবি দেবাশীষ দাশ দেবু, নারীনেত্রী সাংবাদিক রিক্তু প্রসাদ, শহীদ পরিবারের সদস্য উন্নয়নকর্মী প্রবীর চক্রবর্তী, কর্মসূচি সংগঠক মুরাদজ্জামান রব্বানী, সাবেক ভিপি দিলিপ সরকার, নওশাদুজ্জামান নওশাদ, শিরিন আকতার, সোমাসেন, রামকৃষ্ণসহ অনেকে। বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল একটি অসাম্প্রায়িক, মানবিক রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে ইতিহাস ও ত্যাগের স্মৃতি যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষিত থাকবে।তারা আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বধ্যভূমি ও গণকবরগুলো এখনো অনেক ক্ষেত্রে চিহ্নিত নয় বা যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি। অনেক জায়গা দখল, অবহেলা কিংবা অজ্ঞতার কারণে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব স্থান শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা ও সচেতনতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আলোচনা শেষে সন্ধ্যায় একটি আলোর মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্টেডিয়াম সংলগ্ন গাইবান্ধার প্রধান বধ্যভূমিতে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

Leave a Reply