চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএসটিআই এর প্রতিনিধিদল
ফুয়েল স্টেশনে অন্ততঃ ৭৫০ লিটার জ্বালানি মজুদ থাকা বাধ্যতামূলক-বিএসটিআই কর্মকর্তা
জ্বালানী নিয়ে বিভিন্ন সমস্যার নিয়ে তদারকির অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ‘মেসার্স হোসেন পেট্রোলিয়াম পাম্প’ এ আসেন ৩ সদস্যের বিএসটিআই এর একটি প্রতিনিধিদল। মঙ্গলবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনে আসেন বিএসটিআই কর্মকর্তারা। এতে নেতৃত্ব দেন বিএসটিআই এর রাজশাহী বিভাগীয় সহকারী পরিচালক আজিজুল হাকিম।

পরিদর্শন শেষে বিএসটিআই এর রাজশাহী বিভাগীয় সহকারী পরিচালক আজিজুল হাকিম সাংবাদিকদের বলেন, পর্যাপ্ত তেল না থাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের অধিকাংশ ফুয়েল স্টেশনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ফুয়েল স্টেশনের ট্যাংকে অন্তত ৭৫০ লিটার জ্বালানী মজুদ রাখা বাধ্যতামূলক। তবে চলমান জ্বালানী সংকটের কারণে অনেক স্টেশন মালিক সেই নির্দেশনা মানছেন না। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিশ্বরোড মোড়স্থ ‘মেসার্স হোসেন পেট্রোলিয়াম’-ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “ফুয়েল স্টেশনের ট্যাংকে অন্তত ৭৫০ লিটার জ্বালানি মজুদ থাকা বাধ্যতামূলক। এমন পরিস্থিতিতে তেল উত্তলন করলে ওজনে কম পাওয়া যাবে এবং পাম্পের যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। তাই আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি এবং স্টেশন মালিকদের সতর্ক করছি।

তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হলে সরবরাহ সংকট কমানো এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, “ফুয়েল স্টেশনের ট্যাংকে অন্তত পেট্রোল এর ক্ষেত্রে ৭৫০ লিটার, ডিজেল এর ক্ষেত্রে ১৪০০ লিটার এবং অকটেন এর ক্ষেত্রে ৭০০ লিটার জ্বালানি মজুদ থাকা বাধ্যতামূলক। অন্যথায় ওজনে কম পাওয়া যাবে এবং পাম্পের যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। এছাড়া জ্বালানির প্রয়োজনীয় মজুদ রেখেও প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা ভোগ করতে হচ্ছে। একদিকে জ্বালানীর সংকট, অন্যদিকে প্রশাসনিক চাপ এই দুই কারণে তারা মারাত্মক চাপে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পাম্প মালিকরা। অন্যদিকে, তেল গ্রহিতাদের সাথে প্রায়শই বাক- বিতন্ডার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। অন্য সময়ের মতই তেল সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু তেল আসার পরই মোটরসাইকেলে তেল গ্রহীতাদের ভীড়। এই ভীড় সামলাতে কস্ট পেতে হচ্ছে। অন্যদিকে, এত তেল কোথায় যাচ্ছে? এমন প্রশ্ন পাম্প মালিকদের। তেল আসার সাথে সাথেই প্রচুর পরিমানে মোটরসাইকেল জমায়েত হচ্ছে এবং দ্রুত সময়ের মধেই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে।

পাম্প মালিকরা বলছেন, স্বাভাবিক সময়ের মতোই তেল সরবরাহ পেলেও, বর্তমান সময়ে তেলের জন্য আতংক সৃষ্টি করছে মটরসাইকেল মালিকরা। প্রতিদিনই দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিয়ে যাচ্ছেন মটর বাইক মালিকরা। কিন্তু তেলের হাহাকার মিটছে না। বিষয়টি অত্যন্ত দুশ্চিন্তার এবং প্রয়োজনীয় তদারকি দরকার বলেও মনে করছেন বিভিন্ন পাম্প মালিকরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় বিএসটিআই এর পরিদর্শক জয় কুমার, ‘মেসার্স হোসেন পেট্রোলিয়াম’ এর স্বত্তাধিকারী মোঃ সোরায়ার মুরশেদ (শিশির) এবং মোঃ আলমগীর মুরশেদ (সুমন)সহ অন্যরা।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ‘মেসার্স হোসেন পেট্রোলিয়াম’ এর দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাহফুজুর রহমান। এসময় প্রতিনিধিদল প্রায় আধা ঘন্টাব্যাপী ‘মেসার্স হোসেন পেট্রোলিয়াম’ এর তেল মৌজুদাগার পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে দেখেন এবং তেলের পরিমাপ নির্ধারণ করেন। তেল মৌজুদাগারে স্বল্প সংখ্যক তেল পান এবং বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন। এসময় জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।