Blog

  • নড়াইলে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

    নড়াইলে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

    নড়াইলের কালিয়া উপজেলা মাউলী ইউনিয়নের কলাগাছি মরজিদ এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি এবং দ্রুত আরোগ্য কামনায় দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
    শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টার দিকে কালিয়া উপজেলা ৪নং মাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠিন সম্পাদক ও নড়াগাতী থানা বিএনপির অন্যতম সদস্য মো: আবু হানিফ ফকিরের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান হয়। ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি আশরাফুল আলম ( ইয়ার আলী)র সঞ্চালনায় এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সরদার মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন, নড়াগাতী থানা বিএনপি সাংগঠনিক মো: সেলিম কাজী, থানা বিএনপি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: নুরুল হক, নড়াগাতী থানা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব মাফিজুর রহমান মামুন, ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক শিমুল মোল্যা, সদস্যা সচিব মো: রাসেল সরদার, ছাত্রদলের সভাপতি হাছিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রহিম খান, মাউলী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো মুক্তার শেখ প্রমুখ। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড এর তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

  • নিয়ামতপুরে রাতের আঁধারে ৬ শতাধিক আমগাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা

    নিয়ামতপুরে রাতের আঁধারে ৬ শতাধিক আমগাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা

    নওগাঁর নিয়ামতপুরে রাতের আঁধারে ৬ শতাধিক উন্নত জাতের আমগাছ ও মেহেগুনী গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নেহেন্দা এলাকায় একটি আমবাগানে এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই বছরের শ্রম, স্বপ্ন ও বিনিয়োগ এক রাতেই হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন আমবাগান মালিক বজলুর রহমান নঈম। সরেজমিনে দেখা যায়, বাগানে সারি সারি আমগাছ গোড়া থেকে কাটা অবস্থায় পড়ে আছে। মাটিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিলো ডালপালা ও পাতার স্তুপ। অনেক গাছে তখনও নতুন মুকুলের কুঁড়ি ঝুলছিল, কিন্তু রাতের মধ্যেই সেই স্বপ্ন নির্মমভাবে ভেঙে দেয় দুর্বৃত্তরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বজলুর রহমান রশিদ জানান, দুই বছর আগে নেহেন্দা মৌজায় ২০০ শতক জমিতে তিনি ৬ শতাধিক উন্নত জাতের আমগাছ ও মেহেগুনী গাছ রোপণ করেন। এর মধ্যে ছিলো বারোমাসি, কাটিমন, আম্রপালি, হাঁড়িভাঙ্গা, গৌড়মতি ও বারি-৪ জাতের আমগাছ। শুরু থেকেই নিয়মিত সেচ, সার প্রয়োগ ও রোগবালাই দমনে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে আসছিলেন। ইতোমধ্যে অনেক গাছে মুকুল আসায় এ বছর ফল বিক্রি করে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, গাছ পরিচর্যা ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ শুধু আর্থিক নয়, দুই বছরের পরিশ্রম, ভবিষ্যৎ আয়ের সম্ভাবনা ও পরিবারের জীবিকার নিশ্চয়তাও একসঙ্গে ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকাটি তুলনামূলক নিরিবিলি হওয়ায় গভীর রাতে এ ধরনের নাশকতা চালানো দুর্বৃত্তদের জন্য সহজ হয়েছে। খবর পেয়ে আশপাশের কৃষক ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। গাছের সঙ্গে শত্রুতা থাকা উচিত নয়। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে নিয়ামতপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, এখনও কোন অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

  • র‌্যাবের অভিযানে বিদেশী মদসহ এক মাদক কারবারী গ্রেফতার

    র‌্যাবের অভিযানে বিদেশী মদসহ এক মাদক কারবারী গ্রেফতার

    র‌্যাবের অভিযানে বিদেশী মদসহ এক মাদক কারবারী গ্রেফতার

    মাদক বিরোধী অভিযানে বিদেশী মদসহ এক মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ৫ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যরা। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ৯টার দিকে চালানো অভিযানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার মহারাজপুর ঈদগাহ এর উত্তর পাশে পাকা রাস্তার উপর থেকে আটক মাদক কারবারী মোঃ শরীফ (৩২), সদর উপজেলার মহারাজপুর পুকুরটলি গ্রামের মোঃ শফিকুল ইসলামের ছেলে। র‌্যাবের এক প্রেসনোটে জানানো হয়, র‌্যাব-৫ চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর একটি আভিযানিক ২০ ডিসেম্বর রাত ২০:৫০ ঘটিকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার মহারাজপুর ইউনিয়ন ফিল্ডেরহাট ঈদগাহ এর উত্তর পাশে পাকা রাস্তার উপর হতে মাদক কারবারী মোঃ শরীফ কে ৩ বোতল অবৈধ বিদেশী মদসহ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামী ও উদ্ধারকৃত আলামত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।

  • নওগাঁয় হিমেল হাওয়ায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা

    নওগাঁয় হিমেল হাওয়ায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা

    নওগাঁয় হিমেল হাওয়ায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা

    হিমেল হাওয়ায় নওগাঁয় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। নওগাঁজুড়ে গত দুইদিন ধরেই ঘন কুয়াশা ও শীতল মেঘে ঢেকে আছে আকাশ। এর প্রভাবে সূর্যের দেখা মিলছে না, ফলে বেড়েছে শীতের দাপট। হিমেল বাতাসে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের চলাফেরায় দেখা দিয়েছে ভোগান্তি। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে হচ্ছে। রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ধারাবাহিকভাবে তাপমাত্রা কমে আসায় শীত আরও তীব্র অনুভূত হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন থেকেই হিমেল হাওয়া থেমে নেই। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কুয়াশা আর শীতের দাপটে চারপাশ যেন জমে আছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় নেমেছে দুর্ভোগ। ভ্যানচালক আব্দুল মজিদ বলেন, দুইদিন ধরে শীত অনেক বেশি। ভ্যান চালানো খুব কষ্টকর হয়ে গেছে। হাত জমে যায়, হ্যান্ডেল ঠিকমতো ধরা যায় না। লোকজনও কম বের হচ্ছে। কিন্তু পেট তো চালাতে হবে—তাই ঠান্ডা লাগলেও বের হতে হচ্ছে। বদলগাছী আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের উচ্চ পর্যবেক্ষক হামিদুল হক বলেন, আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সূর্যের দেখা না পাওয়ায় শীত বেড়েছে। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা এমনই থাকতে পারে। কুয়াশা ও শীতের এই দাপট দীর্ঘস্থায়ী হলে শ্রমজীবী মানুষের বিপাকে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সামান্য রোদের দেখা মিললে স্বস্তি ফিরবে।

  • যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ॥ ততদিন হাদি সকল বাংলাদেশীর বুকের মধ্যে থাকবেন’-প্রধান উপদেষ্টা

    যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ॥ ততদিন হাদি সকল বাংলাদেশীর বুকের মধ্যে থাকবেন’-প্রধান উপদেষ্টা

    পালিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় শোক ॥ সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা

    যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ॥ ততদিন হাদি সকল বাংলাদেশীর বুকের মধ্যে থাকবেন’-প্রধান উপদেষ্টা

    ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির জানাজায় অংশ নিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, যতদিন বাংলাদেশ আছে, ততদিন হাদি সকল বাংলাদেশির ‘বুকের মধ্যে থাকবেন’। শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হাদির জানাজায় অংশ নেয়া লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে ইউনূস বলেন, লক্ষ লক্ষ লোক আজকে এখানে হাজির হয়েছে। পথে ঢেউয়ের মত লোক আসছে। সারা বাংলাদেশ জুড়ে কোটি কোটি মানুষ আজকে এই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছে। তারা তাকিয়ে আছে হাদির কথা শোনার জন্য আজকে। বিদেশে যারা আছে, বাংলাদেশি এই মুহূর্তে তারাও হাদির কথা জানতে চায়। প্রিয় ওসমান হাদি, তোমাকে আমরা বিদায় দিতে আসি নাই এখানে। তুমি আমাদের বুকের ভেতরে আছো এবং চিরদিন থাকবে। বাংলাদেশ যতদিন আছে, তুমি সকল বাংলাদেশির বুকের মধ্যে থাকবে। এটা কেউ সরাতে পারবে না। সেনা বাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বেলা সোয়া ১টার দিকে হাদির মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স আসাদগেট সংলগ্ন সংসদ ভবনে গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। বেলা আড়াইটায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হাদীর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বক্তব্য রাখেন মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা আজকে তোমাকে বিদায় দিতে আসিনি। আমরা তোমার কাছে ওয়াদা করতে এসেছি। তুমি যা বলে গেছ, সেটা যেন আমরা পূরণ করতে পারি।

    সেই ওয়াদা করার জন্য আমরা একত্র হয়েছি। সেই ওয়াদা শুধু আমরা নয়, পুরুষানুক্রমে বাংলাদেশের সব মানুষ পূরণ করবে। সেই ওয়াদা করার জন্যই আমরা তোমার কাছে আজকে এসেছি। সবাই মিলে, যে যেখানেই আছি, আমরা তোমার যে মানব প্রেম, তোমার যে ভঙ্গি মানুষের সঙ্গে উঠাবসা, তোমার যে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, সবাই প্রশংসা করছে, সেটা আমরা মনে প্রাণে গ্রহণ করছি। যেটা যেন আমাদের মনে সবসময় জাগ্রত থাকে, আমরা সেটা অনুসরণ করতে পারি। তুমি আমাদেরকে এমন এক মন্ত্র কানে দিয়ে গেছ, সেই মন্ত্র বাংলাদেশের কেউ কোনোদিন ভুলতে পারবে না। এবং এই মন্ত্র চিরদিন আমাদের কানের পাশে থাকবে। সে মন্ত্র বাংলাদেশের বড় মন্ত্র হয়ে আমাদের জাতির সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। তোমার মন্ত্র ছিল, ‘বীর উন্নত মমশির’। এই উন্নত মমশিরের যে মন্ত্র তুমি দিয়ে গেছ, সেটা বাংলাদেশি সন্তানের জন্মলগ্ন থেকে যতদিন সে বেঁচে থাকবে, নিজের কাছে বলবে। আমাদের শির কখনো নত হবে না। হাদির আদর্শ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “সেই মন্ত্র তুমি আমাদেরকে দিয়ে গেছ। আমাদের সব কাজে সেটা আমরা প্রমাণ করব। আমরা দুনিয়ার সামনে মাথা উঁচু করে চলবো। কারো কাছে মাথা নত করবো না। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “প্রিয় হাদি, তুমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চেয়েছিলে। এবং সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে নির্বাচন কীভাবে করতে হয়, তারও একটা প্রক্রিয়া জানিয়ে গেছে আমাদেরকে। সেই প্রক্রিয়া যেন আমরা সবাই মিলে গ্রহণ করি, যে কিভাবে প্রচার প্রচারণা কার্য চালাতে হয়, কিভাবে মানুষের কাছে যেতে হয়, কিভাবে মানুষকে কষ্ট না দিয়ে তার বক্তব্য প্রকাশ করতে হয়, কিভাবে বিনীতভাবে মানুষের কাছে আসতে হয়, সবকিছু তুমি শিক্ষা দিয়ে গেছ। আমরা এই শিক্ষা গ্রহণ করলাম। আমরা এই শিক্ষা চালু করতে চাই। আমরা সবাই আমাদের জীবনে, আমাদের রাজনীতিকে এই পর্যায়ে নিয়ে আসতে চাই, যাতে হাদি আমাদের জীবনে স্পষ্টভাবে জাগ্রত থাকে। হাদি, তুমি হারিয়ে যাবে না।

    তুমি কোনোদিন কেউ তোমাকে ভুলতে পারবে না। তুমি যুগ যুগ ধরে আমাদের সঙ্গে থাকবে। আমাদেরকে তোমার মন্ত্র পুনঃপুন যে মনে করিয়ে দেবে। আমরা সেই মন্ত্র নিয়ে আজকে সামনের পথে এগিয়ে যাব। তোমাকে আমাদের সবার পক্ষ থেকে তোমার সঙ্গে ওয়াদা করলাম। আজকে তোমাকে আল্লাহর হাতে আমানত রেখে গেলাম। আমরা সবসময় তোমার কথা স্মরণ রেখে জাতির অগ্রগতির পথে চলতে থাকবো। হাদির জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই দলে দলে মানুষ আসছিল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে। দুপুর ১টার দিকেই প্রশস্ত ওই সড়ক কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। তাদের কারো মাথায় জাতীয় পতাকা বাঁধা, কেউ আবার গায়ে জড়িয়েছেন পতাকা। অনেকে স্লোগান দিচ্ছিলেন ‘আমরা সবাই হাদি হব যুগে যুগে লড়ে যাব’, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’।
    জানাযা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) তিনটার দিকে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে শনিবার দুপুরে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হাদির জানাজার নামাজ পড়ান তার বড় ভাই। হাদির জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অন্যান্য উপদেষ্টা, রাজনৈতিক দলের নেতাসহ বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এরপর তার মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেয়া হয়। আততায়ীর গুলিতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনায় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখাসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। সকালে সচিবালয়সহ ঢাকার বেশ কয়েকটি সরকারি দপ্তরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত দেখা যায়। আগের দিন বাদ জুমা দেশের প্রতিটি মসজিদে ওসমান হাদির মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়গুলোতেও আয়োজন হয় বিশেষ প্রার্থনার। ওসমান হাদির কফিন সিঙ্গাপুর থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছার পর রাখা হয় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে। উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে রিকশায় করে যাওয়ার সময় ওসমান হাদির উপর আক্রমণ হয়। ওই সময় মোটরসাইকেলে করে এসে দুজন তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার চিকিৎসা চলে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই তরুণের মৃত্যু ॥ সড়ক অবরোধ-ভাঙচুর ও আগুন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই তরুণের মৃত্যু ॥ সড়ক অবরোধ-ভাঙচুর ও আগুন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই তরুণের মৃত্যু ॥ সড়ক অবরোধ-ভাঙচুর ও আগুন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় রিফাত আলী ও সোহাগ আহমেদ নামে দুই তরুণের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় সার্কিট হাউস মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা সড়ক অবরোধ করে ও পুলিশ বক্সে ভাঙচুর করে। পরে আগুন দেয় জনতা। দুই জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনএম ওয়াসিম ফিরোজ ও নিহতদের স্বজনরা। নিহতরা হলেন-চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার আজাইপুর-পচাপুকুর মহল্লার শাহ আলমের ছেলে রিফাত আলী (১৮) ও চান্দলাই-জোড়বাগান মহল্লার আশরাফুল ইসলামের ছেলে সোহাগ আহমেদ (১৮)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-শিবগঞ্জ সড়কের সার্কিট হাউস মোড়ে রিফাত ও সোহাগের বহনকারী মোটরসাইকেল থামানোর সংকেত দেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। পুলিশের সংকেত ভেঙ্গে তারা দ্রুতগতিতে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছিলো। এসময় মোটরসাইকেলে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ট্রাকের নীচে পড়ে যায়।

    এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় রিফাত। স্থানীয়রা সোহাগকে উদ্ধার করে প্রথামে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল নিয়ে যায়। সেখান থেকে উন্নয়ন চিকিৎসার জন্য রাজশাহী নেয়ার পথে মারা যান তিনি। সোহাগের বাবা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ধাওয়া খেয়ে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়ে রিফাত ও সোহাগ। এতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা সার্কিট হাউস মোড়ে সড়কের উপর একজনের মরদেহ রেখে অবরোধ করে। পরে বিশ্বরোড মোড়ে পুলিশ বক্সে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় পুলিশ বক্সের আসবাবপত্র বাইরে এনে আগুন জ্বলিয়ে দেয়। অন্যদিকে, ঘটনাস্থলের অদূরে শান্তিবাগ এলাকার পুলিশ ফাঁড়িতে ভাঙচুর করে উত্তেজিত জনতা। সেখানে থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয়। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা বিশ্বরোড মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর করে একটি মোটরসাইকেল ও বক্সের আসবাবপত্রে আগুন দেয়। এছাড়াও সদর পুলিশ ফাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হামলা চালাই একদল যুবক। পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা তাদের ধাওয়া করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।

  • ক্ষতিগ্রস্থ পুলিশ ফাঁড়ি পরিদর্শন ॥ ‘মবের ঘটনায় প্রশাসনিক দুর্বলতা খতিয়ে দেখা দরকার’-হারুনুর রশীদ

    ক্ষতিগ্রস্থ পুলিশ ফাঁড়ি পরিদর্শন ॥ ‘মবের ঘটনায় প্রশাসনিক দুর্বলতা খতিয়ে দেখা দরকার’-হারুনুর রশীদ

    ক্ষতিগ্রস্থ পুলিশ ফাঁড়ি পরিদর্শন ॥ ‘মবের ঘটনায় প্রশাসনিক দুর্বলতা খতিয়ে দেখা দরকার’-হারুনুর রশীদ

    ট্রাকচাপায় দুই তরুণ নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতার ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের শিকার হওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ি ও ট্রাফিক পুলিশ বক্স পরিদর্শন করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। শনিবার দুপুরে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ি এবং বিশ্বরোড মোড়ের ট্রাফিক পুলিশ বক্স পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হারুনুর রশীদ বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজিবির দুটি ব্যাটালিয়ন ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলও ঘোষণা হয়েছে। এরপরও যদি এ ধরনের মব সৃষ্টি হয় এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা প্রতিরোধে বিলম্ব দেখা যায়, তাহলে প্রশাসনিক কোনো দুর্বলতা আছে কি না,

    তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের মূল দায়িত্ব। যারা এ ধরনের নাশকতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

    এভাবে মব সৃষ্টি করে রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এভাবে কোনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না, দেশ চলতে পারে না। এ ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই। এ সময় তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান। পরিদর্শনকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম,

    বিএনপি নেতা আব্দুল বারেকসহ বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • নওগাঁ হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

    নওগাঁ হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

    নওগাঁ হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

    নওগাঁয় ১৮ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ উপলক্ষে স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদ নওগাঁ এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করে। প্যারীমোহন লাইব্রেরী চত্বর থেকে থেকে র‌্যালিটি বের হয়। একুশে পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট ডি এম আব্দুল বারী’র নেতৃত্বে আয়োজিত র‌্যালিতে একুশে পরিষদের সর্বস্তরের সদস্য ছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। র‌্যালিটি কাচারি সড়ক, ঔষধ পট্টি, ব্রিজের মোড়, প্রথম সড়ক ধরে মুক্তির মোড় হয়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে গিয়ে সমবেত হয়। সেখানে একুশে পরিষদের সভাপতি ডি এম আব্দুল বারীসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন। এদিকে, ১৮ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বিজয়ী মেলা মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। উল্লেখ্য, ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস হলেও নওগাঁ মহকুমা থাকে পাক সেনাদের দখলে। এসময় পাক সেনারা যদি মেরে ফেলে এই ভয়ে বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে রাজী হয়নি। পাক সেনারা কেডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন স্থানে সমবেত হয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে। তাদের চাহিদা মোতাবেক ১৮ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনীর বগুড়া থেকে একজন কমান্ডার এবং ভারতের বালুরঘাট থেকে পি ভি রায় নামের আরেকজন কমান্ডার নওগাঁয় এলে পাকসেনারা তৎকালীন মহাকুমা প্রশাসকের কার্যালয় তাদের অস্ত্র সারেন্ডার করে এবং আত্মসমর্পণ করে। নওগাঁ হয় হানাদার মুক্ত। এদিকে, ১৬ই ডিসেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই দুদিনের পাক সেনারা নওগাঁ শহরের সন্নিকটে জগৎসিংহ পুরে এক অভিযান চালিয়ে পাঁচজন বাংলা বাঙালিকে হত্যা করে।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতিসহ গ্রেপ্তার-৬

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতিসহ গ্রেপ্তার-৬

    অপারেশন ডেভিল হান্ট-২

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতিসহ গ্রেপ্তার-৬

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগ ও অংগ সংগঠনের ৬জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জেলার শিবগঞ্জ থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের একটি মামলার সন্দেভাজন আসামি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের অংগ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক জেলা সভাপতি নাহিদ শিকদারসহ ৬জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের মৃত মকবুল মন্ডলের ছেলে ও ১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক ঘাটেল (৫৫), শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের মজলিম মন্ডলের ছেলে ও ইউনিয়ন যুবলীগের সেক্রেটারি হারুন অর রশিদ (৪৩), রহনপুর পৌরসভার মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে ও পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান (৩৩), নাচোল উপজেলার আঝাইর গ্রামের মৃত সাহেবজানের ছেলে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ওবাইদুর রহমান (৩৮) এবং ভোলাহাট উপজেলার গোহালবাড়ি ইউনিয়নের বজারটেক এলাকার খান মোহাম্মদের ছেলে ও ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবিরুল ইসলাম (৪৮)। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ. এন. এম. ওয়াসিম ফিরোজ জানান, দেশব্যাপী চলমান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’-এর অংশ হিসেবে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানের ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে নাহিদ শিকদারকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে জেলা জুড়ে এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিবগঞ্জ থানা সূত্র জানায়, শিবগঞ্জ থানার মামলা নং-২৯ (তারিখ: ১৯ আগস্ট ২০২৫) বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় নাহিদ শিকদারকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর ২০২৫) রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নের গাজীপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নাহিদ শিকদারকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়। পরবর্তীতে তাকে পূর্ণাঙ্গ সভাপতির দায়িত্ব প্রদান করা হয়। শিবগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো: সাকিল হাসান জানান, গ্রেপ্তারের পর নাহিদ শিকদারকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ. এন. এম. ওয়াসিম ফিরোজ জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজনীতি নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের আরও পাঁচ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাশকতা প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলার প্রতিটি উপজেলায় কঠোর নজরদারি ও বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

  • নওগাঁয় কৃষ্ণধন সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রয়াত ২২ শিক্ষককে মরণোত্তর সন্মাননা

    নওগাঁয় কৃষ্ণধন সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রয়াত ২২ শিক্ষককে মরণোত্তর সন্মাননা

    নওগাঁয় মরণোত্তর সন্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষ্ণধন (কে.ডি) সরকারী স্কুলের প্রয়াত শিক্ষকবৃন্দ এবং স্কুলের প্রাক্তন মেধাবী ছাত্র একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশ বরেণ্য ভাষাসৈনিক, জনহিতৈষী চিকিৎসক নওগাঁর স্বনামধন্য কৃতি সন্তান ডাঃ মঞ্জুর হোসেন-এর স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঐ স্কুলের ১৯৭৪, ১৯৭৫, ১৯৭৬ এস.এস.সি ব্যাচ ও অন্যান্য ছাত্রবৃন্দের সংগঠন ‘আস্থায় আলো বিরল ও ব্যাতিক্রমী’ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আস্থায় আলো নওগাঁর সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মাহফুজুর রহমান। শিক্ষকদের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগদিস চন্দ্র রায়। এ ছাড়াও ভাষাসৈনিক ডাক্তার মঞ্জুর হোসেনের পত্নী জাকেরা জেবানী মিনি উপস্থিত ছিলেন। কামরুল হাদি’র উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন মনজুর মোরশেদ সাকলায়েন, নাজিম হাসান হিটলার, ডাক্তার জাহাঙ্গীর আলম রাজা, ভাষা সৈনিক ডাক্তার মনজুর হোসেনের পুত্র হাসান ইমাম তমাল, ভাষা সৈনিক ডাক্তার আমজাদ হোসেনের পুত্র সাংবাদিক ফরিদুল করিম তরফদার, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে কে ডি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২২ জন প্রয়াত শিক্ষকের উত্তরসূরীদের হাতে সন্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়।