Author: Md Ronju

  • রাণীশংকৈলে ৭০ হাত লম্বা রহস্যময় কবর ॥ এলাকাবাসীর মাঝে কৌতুহল

    রাণীশংকৈলে ৭০ হাত লম্বা রহস্যময় কবর ॥ এলাকাবাসীর মাঝে কৌতুহল

    রাণীশংকৈলে ৭০ হাত লম্বা রহস্যময় কবর ॥ এলাকাবাসীর মাঝে কৌতুহল

    ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের শিয়ালগাজী গ্রাম। লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা এই গ্রামের একটি কবরস্থানকে ঘিরে দানা বেঁধেছে রহস্য। কোনো সাধারণ কবর নয়, স্থানীয়দের দাবি, এখানে শুয়ে আছেন এক পীর, যার কবরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০ হাত! অস্বাভাবিক দৈর্ঘ্যের এই কবর আর তাকে ঘিরে প্রচলিত নানা অলৌকিক কাহিনি এখন মুখে মুখে ফিরছে জেলাজুড়ে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিয়ালগাজী কবরস্থানের এই বিশেষ কবরটি লাল শালু কাপড়ে মোড়ানো। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ‘দারগাপীর’ হিসেবে পরিচিত এই স্থানে সালাম দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন। সাধারণ কবরের তুলনায় কয়েক গুণ বড় এই সমাধিটি স্থানীয়দের কাছে এক গভীর আধ্যাত্মিকতার প্রতীক।
    স্থানীয় বাসিন্দা মুনছুর আলী জানান, এই কবর ঘিরে অলৌকিকত্বের শেষ নেই। তার দাবি, পীরের মাজার ও পার্শ্ববর্তী পুকুর নিয়ে অনেক রহস্য আছে। ঠিকমতো সেবাযত্ন করলে পুকুরে মাছের দেখা মেলে, অন্যথায় মেলে না। আমি নিজেও এখানে মানত করে সুফল পেয়েছি। গোগর বাজারের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, এখানে নিয়মিত মিলাদ, ফাতেহা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। বিশেষ দিনগুলোতে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এসে রান্না করে শিরনি বিতরণ করেন। তাদের দাবি, এই নীরব ও নিভৃত আধ্যাত্মিক পরিবেশ মনের প্রশান্তি জোগায়। তবে এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, এই লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। মজার বিষয় হলো, এই মাজারের অবকাঠামোর সাথে জড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি। স্থানীয় লেহেম্বা ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম জানান, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনারা মাজারটির সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে দিয়েছিল। তখন থেকেই মূলত জনসমাগম ও মানত করার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। তবে মানুষের এই অন্ধ বিশ্বাস নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন ধর্মীয় আলেমরা। আবাদতাকিয়া মোহাম্মদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আইয়ুব আলী বলেন, কবরটি বহু পুরোনো এবং মানুষ বিপদে পড়ে জিয়ারত করতে আসে। তবে মনে রাখতে হবে, ফল দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ। মাজার কোনো কিছু দিতে পারে—এমন বিশ্বাস সঠিক নয়। লিখিত কোনো সঠিক ইতিহাস না থাকলেও শিয়ালগাজীর এই ৭০ হাত লম্বা কবর এখন গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি কি শুধুই অলৌকিকত্ব, নাকি কোনো দীর্ঘকায় প্রাচীন মানুষের সমাধি, সেই রহস্যের জট আজও খোলেনি।

  • লালমনিরহাট সীমান্তে গুলিতে নিহত বাংলাদেশির লাশ নিয়ে গেছে বিএসএফ

    লালমনিরহাট সীমান্তে গুলিতে নিহত বাংলাদেশির লাশ নিয়ে গেছে বিএসএফ

    লালমনিরহাট সীমান্তে গুলিতে নিহত বাংলাদেশির লাশ নিয়ে গেছে বিএসএফ

    লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি এক নাগরিক নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিজিবি। তবে নিহতের লাশ নিয়ে গেছে বিএসএফ। বুধবার ভোররাতে উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি সীমান্তের পানিয়ার টারি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলী হোসেন (৪৯) ধবলগুড়ি (পূর্ব পানিয়ারটারী) গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। ৬১ তিস্তা বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনার পর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বিজিবি ও বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক পর্যায়ে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে।
    বিজিবি ও স্থানীরা জানায়, বুধবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধীন ধবলগুড়ি সীমান্ত পিলারের কাছে ভারতের অভ্যন্তরে দুই দফা গুলির শব্দ শোনা যায়। এতে আলী হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর অবস্থায় বিএসএফ সদস্যরা তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ভারতের একটি হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফজলে মুনিম জানান, ঘটনার বিস্তারিত যাচাই-বাছাই ও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দুই দেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনীর মধ্যে ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে সোমবার সকালে একই উপজেলার ধবলসুতি বিওপির সীমান্তের কাছে গাটিয়ার ভিটা এলাকায় বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি এক যুবক আহত হন। এ ঘটনার জেরে স্থানীয়রা ভারতীয় এক নাগরিককে দুটি গরুসহ আটক করে নিয়ে আসে বলে জানান পাটগ্রাম থানার ওসি নাজমুল হক। পরে ওই দিন বিকেলে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে এক বৈঠকের পর আটক ভারতীকে ফেরত দেওয়া হয়।

  • চুয়াডাঙ্গায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে এক বৃদ্ধের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে এক বৃদ্ধের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে এক বৃদ্ধের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ছাদ থেকে পড়ে এক বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রবল ঝড় ও বৃষ্টিতে এ ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।নিহত মকলেছুর রহমান (৬৫) সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়াড় গ্রামের সরদারপাড়ার বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার পর ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে তিনি বাড়ির তিনতলার ছাদে থাকা টিন নামাতে যান। এ সময় প্রবল বাতাসে ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ছাদ থেকে পড়ে একজন বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। এদিকে, ঝড়ের সময় চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের ডিঙ্গেদহ ও বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়ে। এতে সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় গাছ অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই কালবৈশাখীতে জেলায় ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ঝড়ের সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার। এদিকে আম, লিচুসহ মৌসুমি ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদককারবারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদককারবারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদককারবারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর বাজারে আওয়ামীলীগ ঘরানার চিহ্নিত ‘সন্ত্রাসী’ ও মাদককারবারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। বুধবার (০৮ এপ্রিল) সকালে ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচিতে গ্রামের কয়েক’শ সচেতন নারী-পুরুষ অংশ নেন।মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুর্লভপুর এলাকার চিহ্নিত আওয়ামীলীগ কর্মী মাসুদ, জুলমত ও সাদ্দাম দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এলাকায় মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। তাদের এই অপকর্মে এলাকার কিশোর ও যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে। এই আওয়ামী সন্ত্রাসীরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে গেলেও আগে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি। অবিলম্বে এদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন দুর্লভপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আলী, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট বজলুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা তোফিকুল ইসলাম ও মিনু বেগমসহ আরও অনেকে। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসন যদি অতিদ্রুত এসব মাদককারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তবে এলাকাবাসী বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। জনস্বার্থে গ্রামকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী।

  • সর্বোচ্চ সতর্কতায় জেলা প্রশাসন- জেলায় জ্বালানী সরবরাহ স্বাভাবিক ॥ সংকট সৃষ্টি ও পাচার গুজবে ব্যস্ত একটি মহল-চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী

    সর্বোচ্চ সতর্কতায় জেলা প্রশাসন- জেলায় জ্বালানী সরবরাহ স্বাভাবিক ॥ সংকট সৃষ্টি ও পাচার গুজবে ব্যস্ত একটি মহল-চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী

    সর্বোচ্চ সতর্কতায় জেলা প্রশাসন

    জেলায় জ্বালানী সরবরাহ স্বাভাবিক ॥ সংকট সৃষ্টি ও পাচার গুজবে ব্যস্ত একটি মহল-চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বজায় রেখেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারী ব্যবস্থাপনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়ও জ্বালানী সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। গত বছরের এই সময়ের মতই (মার্চ-এপ্রিল মাস) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৩১টি তেল পাম্পে জ্বালানি তেল পেট্রোল-অকটেন, ডিজেল সরবরাহ দেয়া হলেও সংকট সৃষ্টি ও পাচার গুজবে ব্যস্ত একটি মহল। পাশ্ববর্তী দেশে কোন তেল পাচার না হলেও স্থানীয়ভাবে খোলা বাজারে বেশী দামে তেল বিক্রি করার ষড়যন্ত্র হিসেবেও একটি চক্র বিষয়টিকে ভিন্নভাবে প্রচারনা চালাচ্ছে বলেও জানা গেছে। জেলার পাম্প মালিকদের দাবী, প্রয়োজনীয় তদারকি এবং নিয়মের মধ্যে নিয়ে তেল বিক্রি বা বিতরণের ব্যবস্থা করলেই জেলায় জ্বালানীর কোন অস্থিরতা থাকবে না। থাকবেনা মোটরসাইকেল চালকদের কোন ভীড়ও। তাদের ভাষ্য, সরকারীভাবে তেলের সরবরাহ থাকার পরও একটি চক্র বা মটরসাইকেল মালিকদের নিজেদের সৃষ্টি করা আতংক ও অস্থিরতা জেলাবাসীকে দুশ্চিন্তায় ফেলছে। মোটরসাইকেলে প্রয়োজনীয় তেল থাকার পরও এক শ্রেণীর মোটরসাইকেল বা অন্য যানবাহনের মালিকরা তেল দেয়ার খবর শোনামাত্রই তেল নেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে জটলা তৈরী এবং দীর্ঘ লাইন ধরে তেল নেয়ার প্রবণতা সৃষ্টি করছে। এক শ্রেনীর মোটরবাইকের চালকরা সকাল হলেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন তেল নেয়ার জন্য। এক পাম্পে তেল নিয়ে, সেই তেল অন্য পাত্রে ঢেলে নিয়ে আবার অন্য পাম্পে গিয়ে তেল নেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ভীড় করছে এক শ্রেনীর অসাধ্য মটরবাইক চালক ও অন্য যানবাহনের মালিকরা। এসব মোটরসাইকেল মালিকদের নিয়ম এবং জবাবদিহিতার মধ্যে আনলেই বিষয়গুলো ঠিক হয়ে যাবে। অন্যদিকে, ডিজেলের কিছু সমস্যা রয়েছে, কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য ডিজেলের সরবরাহ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলেও বলছেন পাম্প মালিকরা। তাই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া জরুরী হয়েছে পড়েছে বলে মনে করছেন পাম্প মালিক ও বিশিষ্ট জনেরা।
    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় পেট্রোল-অকটেন ও ডিজেল তেলের বাজারে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কখনো হঠাৎ পাম্পে তেল শেষ, কখনো আবার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, স্থানীয় পরিবহন চালক থেকে শুরু করে কৃষকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। প্রশ্ন উঠছে, এই সংকট কি বাস্তব, নাকি কৃত্রিমভাবে তৈরি? জেলার একাধিক ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও অনেক সময় হঠাৎ করে তেল “শেষ” হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে তেল কিনতে বা দূরের পাম্পে যেতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল কৃষিখাত এখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সেচ মৌসুমে সময়মতো ডিজেল সরবরাহ না পাওয়ায় কৃষকদের জন্য বড় ধরনের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রথমতঃ জ্বালানি তেল আমদানিতে বিলম্ব হলে সরবরাহ শৃঙ্খল দুর্বল হয়ে পড়ে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে পাম্পগুলোতে। দ্বিতীয়ত, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা। চট্টগ্রাম থেকে তেল ডিপো হয়ে জেলায় পৌঁছাতে বেশী সময় লাগার কারণে পরিবহন সংকট এবং সমন্বয়হীনতা প্রায়ই পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। ফলে পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও বাস্তবে পাম্পে তেল পেতে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো-সিন্ডিকেট ও মজুতদারির অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে তেল সরবরাহ কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এতে করে দাম বাড়ার সুযোগ তৈরি হয় এবং অতিরিক্ত মুনাফা লুটে নেওয়া হয়। প্রশাসনের নজরদারি থাকলেও প্রশ্ন উঠছে, কেন এই চক্র থামানো যাচ্ছে না?
    এদিকে, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণে দেরি বা নীতিগত জটিলতাও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। ফলে অনেকেই ঝুঁকি এড়িয়ে চলছেন, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
    সচেতন মহলের মতে, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। জেলা পর্যায়ে তেল সরবরাহ মনিটরিং জোরদার, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং সরবরাহ পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এই অস্থিরতা বা সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে।
    চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাধারণ মানুষের এখন একটাই প্রশ্ন, তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কে এই অস্থিরতা? কেন-তিন দিনের সমপরিমান তেল, কয়েক ঘন্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে? এতগুলো তেল যাচ্ছে কোথায়? কোন সিন্ডিকেটের কবলে থাকছে তেল। পাম্পগুলোতে জরুরী প্রয়োজনে এবং সর্বনিম্ন স্থিতি রাখার নিয়ম থাকলেও কোন স্বার্থে তেলের মৌজুদ শুনে না আসা পর্যন্ত তেলের লাইন থেকে সরছেনা মোটরবাইক চালক বা মালিকরা? তেল না পেলেই হট্টোগোল সৃষ্টিতেও পারদর্শী এসব অসাধু বাইক চালকরা? তাহলে কি নিজ স্বার্থেই এমন অস্থিরতা সৃষ্টি? এসব অসাধু ব্যক্তিদের কারণে প্রকৃত তেল প্রয়োজন হওয়া চাকুরীজীবি বা বাইক চালকরা পাচ্ছে না জ্বালানি তেল। কেন জেলাজুড়ে হাহাকার? মানব সৃষ্ট এই অস্থিরতা নিরসনে অবশ্যই কার্যকরি ব্যবস্থা এখনই নেয়া দরকার বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
    এব্যাপারে জেলা পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ রাসিদুল ইসলাম ‘চাঁপাই দর্পণ’ কে বলেন, অন্য সময়ের মতই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সবকটি তেল পাম্পে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু তারপরও জ্বালানি তেল নিয়ে মোটরবাইক চালক ও মালিকদের মাঝে অস্থিরতা নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ জেলার পাম্প মালিকরা। তিনি বলেন, পেট্রোল-অটকেন এর সরবরাহ খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু ডিজেল এর চাহিদা বেশী, সেই তুলনায় বরাদ্দ বৃদ্ধি হয়নি। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, জেলায় কিছু অসাধু তরুন বাইকাররা সকাল হলেই যে পাম্পে তেল দেয়ার কথা শুনছে, সেখানেই গিয়ে ধর্ণা দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে হলেও তেল নিয়ে নিচ্ছে, আবার এক শ্রেনীর মটরসাইকেল চালিক বা মালিকরা তেল দেয়ার খবর পেলেই বাইক নিয়ে এসে লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে দিচ্ছে। অন্যদিকে, এক শ্রেনীর বাইকাররা তেল নিয়ে ব্যবসা শুরু করছে, এক পাম্পে তেল নিয়ে-আরেক পাম্পে চলে যাচ্ছে তেল নিতে, ফলে আরও বেশী সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া রেজিস্ট্রেশনবিহীন মটরসাইকেল মালিকদের বেশী ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং এরা তরুন, বখাটে এবং জটলা সৃষ্টিকারী। অন্যদিকে, প্রশাসনের পর্যাপ্ত তদারকি নেই, পুলিশের পক্ষ থেকেও তেমন ভূমিকা নেই। তিনি আরও বলেন, পাম্পগুলোতে ট্যাগ অফিসার দেয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ট্যাগ অফিসার কি করবে, শত শত বাইক ও যানবাহন সামলানো সম্ভব হয়না। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশের যথাযথ ভূমিকা প্রয়োজন। সেটা হচ্ছে না। এদিকে, বর্তমান সংকট সময়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা এবং ভামমূর্তি নষ্ট করার ষড়যন্ত্রেও একটি মহল জড়িত, নিজেরা তেল মৌজুদ করে এবং অপরকে তেলের সংকট বলে আতংকিত করার কাজও করছে এসব ষড়যন্ত্রকারীরা। কোন অসাধূ সিন্ডিকেটের দখলে তেল কিনা? বিষয়টিও খতিয়ে দেখা দরকার। তিনি বলেন, প্রশাসনের প্রয়োজনীয় তদারকি, জবাবদিহিতা এবং তেল বিক্রি বা বিতরনে নিয়ম-শৃঙ্খলা নিয়ে আসা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ নিতে হবে, তাহলেই জ্বালানি নিয়ে সৃষ্ট অস্থিরতা বা জটিলতা কেটে যাবে।
    নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলার এক পাম্প মালিক জানান, জেলায় অন্য সময়ের মতই সরকারীভাবে তেল সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু তেল নিয়ে আসার পরই বিতরন বা বিক্রি করে দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, যেখানে ৩ হাজার লিটার তেল বিক্রি করতে ২-৩দিন লেগে যেতো, সেখানে তেল দিতে শুরু করে ২-৩ ঘন্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে। তেল শেষ হয়ে গিয়ে মেশিন দিয়ে হাওয়া বের হওয়া শুরু না হওয়া পর্যন্ত ছাড়ছে না মটরসাইকেল ওয়ালারা। তিনি বলেন, “ফুয়েল স্টেশনের ট্যাংকে অন্তত ৭৫০ লিটার পেট্রোল-অকটেন, ১৪০০ লিটার ডিজেল জ্বালানি মজুদ থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু আমরা সেটাও রাখতে পারছিনা। এমন পরিস্থিতিতে তেল উত্তোলন করলে ওজনে সমস্যা সৃষ্টি হয় এবং পাম্পের যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে, তেল গ্রহিতাদের সাথে প্রায়শই বাক-বিতন্ডার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তিনি বলেন, অন্য সময়ের মতই তেল সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু তেল আসার পরই মোটরসাইকেলে তেল গ্রহীতাদের ভীড়। এই ভীড় সামলাতে কস্ট পেতে হচ্ছে। তেল আসার সাথে সাথেই প্রচুর পরিমানে মোটরসাইকেল জমায়েত হচ্ছে এবং দ্রুত সময়ের মধেই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। তেলের সর্বনিম্ন মৌজুদও রাখতে পারছিনা আমরা। এছাড়া জ্বালানির প্রয়োজনীয় মজুদ রেখেও প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা ভোগ করতে হচ্ছে। একদিকে জ্বালানীর সংকট, অন্যদিকে প্রশাসনিক চাপ এই দুই কারণে মারাত্মক চাপে রয়েছেন পাম্প মালিকরা। তিনি আরও বলেন, স্বাভাবিক সময়ের মতোই তেল সরবরাহ পেলেও, বর্তমান সময়ে তেলের জন্য আতংক সৃষ্টি করছে এক শ্রেনীর মটরসাইকেল মালিকরা। প্রতিদিনই দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিয়ে যাচ্ছেন মটর বাইক মালিকরা। কিন্তু তেলের হাহাকার মিটছে না। বিষয়টি অত্যন্ত দুশ্চিন্তার এবং প্রয়োজনীয় তদারকি দরকার। সরকারীভাবে সঠিকভাবে নিয়ম-শৃঙ্খলা মানাতে বাইকারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি প্রশ্ন করেন, এত তেল কোথায় যাচ্ছে? জেলায় তো মটরসাইকেল বৃদ্ধি পায়নি। তেল নিয়ে গিয়ে বাইকাররা কি করছে তেল? এসব বিষয় চিহ্নিত করা দরকার। তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় করা জরুরি বলেও মনে করছেন বিভিন্ন পাম্প মালিকরা।
    এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান ‘চাঁপাই দর্পণ’ কে বলেন, জেলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ থাকলেও একটি অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে মটরসাইকেল চালক বা মালিকদের মধ্যে বিষয়টি বেশী। জেলায় তেল নিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি বা আতংক বিষয়ে তিনি বলেন, তেল বিতরণ বা বিক্রি ক্ষেত্রে জেলার পাম্প মালিকদের নিয়ে দই/এক দিনের মধ্যেই আলোচনা করে প্রয়োজনীয় করনীয় ঠিক করা হবে। মটরবাইক চালক বা মালিকদের শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসার জন্য শীঘ্রই একটি ‘ডিজিটাল এ্যাপ’ চালু করা হবে। যেন কোন অসাধু মটরসাইকেল মালিক এক পাম্প থেকে অন্যা পাম্পে গিয়ে বার বার তেল নিতে না পারে এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল নিতে না পারে। এছাড়া বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পাম্পে একজন করে ট্যাগ অফিসার দেয়া হয়েছে, তাঁরাও বিষয়টি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে অবৈধ বা রেজিস্ট্রেশন ছাড়া বা নিয়মের মধ্যে না থাকা বাইকাররা যেন জটলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্যও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জেলা জ্বালানি তেল নিয়ে যেক কোন অসাধু বা ষড়যন্ত্রকারী কোন অস্থিরতা বা সংকট সৃষ্টি এবং সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে না পারে, সেদিকে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
    জানা গেছে, জেলায় মোট পাম্প রয়েছে ৩১টি। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১২টি, শিবগঞ্জ উপজেলায় ৮টি, গোমস্তাপুর উপজেলায় ৮টি, নাচোল উপজেলায় ২টি এবং ভোলাহাট উপজেলায় ০১ টি তেল পাম্প রয়েছে। জেলার পাম্পগুলো হচ্ছে-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে-মেসার্স পরিবহণ শ্রমিক কল্যাণ ফিলিং স্টেশন, হরিপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স সামাদ এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশন-হরিপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স ইসলাম ফিলিং স্টেশন-স্বরূপনগর বাসস্ট্যান্ড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স হোসেন পেট্রোলিয়াম-বিশ্বরোড মোড়, রাজশাহী রোড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স এমদাদুল হক এন্ড সব্দ ফিলিং স্টেশন-মহানন্দা বাসস্ট্যান্ড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স সায়েরা ফিলিং স্টেশন-নায়াগোলা মোড়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স এরফান সুপার ফিলিং স্টেশন-বুলোনপুর নয়াগোলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স মা ফিলিং স্টেশন-নায়ানগর, আমনুরা রোড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স রাবেয়া ফিলিং স্টেশন-আমনুরা বাজার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স এ.কে খান ফিলিং স্টেশন-পি.টি.আই চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স আলিজ ফিলিং স্টেশন-লাহারপুর, বারোঘরিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স নাহালা ফিলিং স্টেশন-মহারাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
    শিবগঞ্জে-মেসার্স কেয়া ফিলিং স্টেশন-বহালাবাড়ি মোড়, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স প্রিয়া ফিলিং স্টেশন-ছত্রাজিতপুর, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স মাউলানা আব্দুল লতিফ ফিলিং স্টেশন-মেহেদিপুর শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স শিবগঞ্জ ফিলিং স্টেশন-শিবগঞ্জ বাজার, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স মির্জা ফিলিং স্টেশন-দাদনচক হল রোড, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স নয়ন ফিলিং স্টেশন-পুকুরিয়া, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স সুমন ফিলিং স্টেশন-কানশার্ট মোড়, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স রাকিব এন্ড ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশন-ধুপপুকুর কানসাট, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
    গোমস্তাপুরে-মেসার্স পলাশ ফিলিং স্টেশন-চৌডালা, গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স রাইহান ফিলিং স্টেশন-রহনপুর, গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স লতিফুর রহমান ফিলিং স্টেশন-রহনপুর, গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স বিজলী ফিলিং স্টেশন-তেতুলতলা, রহনপুর, গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স আজিজ ফিলিং স্টেশন-সন্তোষপুর বাজার, গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স মানিক রতন ফিলিং স্টেশন-আড্ডা, গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মেসার্স ব্রাদার্স এন্ড সিস্টার ফিলিং স্টেশন-বড় দাউদপুর, বহরমপুর, রাজশাহী। মেসার্স ধানশুড়া ফিলিং স্টেশন-বহরমপুর, রাজশাহী। নাচোলে-মেসার্স মন্ডল ফিলিং স্টেশন-মোল্লিকপুর বাজার, নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং মেসার্স সুইটি ফিলিং স্টেশন-নাচোল বাজার, নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। ভোলাহাটে-মেসার্স ভোলাহাট ফিলিং স্টেশন-মেডিকেল মোড়, সন্ন্যাসীতলা, ভোলাহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
    উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বজায় রাখতে ধারাবাহিকভাবে তেলের জাহাজ বন্দরে আসছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট ৩৮টি জাহাজ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে। এছাড়া চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে আরও ৬টি জাহাজ জ্বালানি তেল নিয়ে বন্দরে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত এই জ্বালানি সরবরাহ বজায় থাকায় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের সংকট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

  • স্পিকারশিরীন শারমিন চৌধুরীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার ॥ কারাগারে প্রেরণ

    স্পিকারশিরীন শারমিন চৌধুরীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার ॥ কারাগারে প্রেরণ

    স্পিকারশিরীন শারমিন চৌধুরীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার ॥ কারাগারে প্রেরণ

    রাজধানীর লালবাগে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হত্যাচেষ্টা ও ভাঙচুরের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে।মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডে তার চাচাতো ভাই আরিফ মাসুদ চৌধুরীর বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে তোলা হয় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে। আদালত জামিন না মুঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ডিএমপির লালবাগ থানায় দায়ের করা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হত্যাচেষ্টা ও ভাঙচুরের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে, যেগুলোর তদন্ত চলমান।ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) এন এম নাসিরুদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, শিরীন শারমিন চৌধুরীর কে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সাবেক এই স্পিকারের বিরুদ্ধে রংপুরে স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন হত্যা মামলা ছাড়াও রাজধানীর উত্তরা ও বনানী থানায় পৃথক আরও ৬টি মামলা রয়েছে। স্বৈরাচার সরকার পতনের দিন ছাত্র-জনতা সংসদ ভবনে প্রবেশের সময় তিনি ভবনটির একটি গোপন কক্ষ বা বাংকারে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে গুঞ্জন ওঠে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। এরপর থেকে তিনি দেশে আছেন নাকি বিদেশে পালিয়ে গেছেন, তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ধানমন্ডির নিজ বাসভবন থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।উল্লেখ্য, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর দলটির শীর্ষ নেতাদের অনেকেই আত্মগোপনে চলে যান এবং সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের কেউ কেউ গ্রেপ্তার হন। শিরীন শারমিন চৌধুরী দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে না এলেও এবার তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন এবং পরপর তিন মেয়াদে এ দায়িত্ব পালন করেন।

  • নববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতিসভা অনুষ্ঠিত নওগাঁয়

    নববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতিসভা অনুষ্ঠিত নওগাঁয়

    নববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতিসভা অনুষ্ঠিত নওগাঁয়

    বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে নওগাঁয়। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ প্রস্তুতি সভায় সভাপতিত্ব করেন রুটিন দায়িত্বে থাকা নওগাঁ জেলা প্রশাসক সাদিয়া আফরিন।আলোচনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি মাসুদুল হক, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মুনির আলী আকন্দ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নূর মোহাম্মদ, জেলা তথ্য অফিসের উপ-পরিচালক আবু সালেহ মোঃ মাসুদুল হক, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ ওয়ালিউল ইসলাম, ডিআইও ওয়ান মাহবুব আলম, পরিষদের সভাপতি মোঃ কায়েস উদ্দিন, জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আজাদ হোসেন মুরাদ, জেলা টেলিভিশন জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশনের আহবায়ক মোফাজ্জল হোসেনসহ জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, দেশীয় ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৈশাখী মেলার আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে কয়েকটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছেহামের প্রকোপ ॥ নতুন ভর্তি ২২ জন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছেহামের প্রকোপ ॥ নতুন ভর্তি ২২ জন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছেহামের প্রকোপ ॥ নতুন ভর্তি ২২ জন

    উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রকোপ। প্রতিদিনই নতুন করে রোগী ভর্তি হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগে বাড়ছে দুশ্চিন্তা। মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল/২৬) ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২২ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর আগে হাসপাতালে ভর্তি মোট রোগীর সংখ্যা ছিল ৬৪ জন। নতুন রোগী যোগ হওয়ায় বর্তমানে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ জনে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে ২১ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তবে এ সময়ে কাউকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার্ড করা হয়নি।হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত জেলায় মোট ৪৪৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ জনে। যা পরিস্থিতির অবনতি। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মশিউর রহমান বলেন, হামের সংক্রমণ ঠেকাতে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সময়মতো টিকাদান অত্যন্ত জরুরি। অভিভাবকদের উচিত শিশুদের নির্ধারিত টিকা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা গেলে জটিলতা কমানো সম্ভব। তিনি আরও জানান, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ রোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরী।

  • মালয়েশিয়া থেকে আসছে ৫১ হাজার মেট্রিক টন তেল

    মালয়েশিয়া থেকে আসছে ৫১ হাজার মেট্রিক টন তেল

    মালয়েশিয়া থেকে আসছে ৫১ হাজার মেট্রিক টন তেল

    দেশের জ্বালানি তেলের বাজার ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মালয়েশিয়া থেকে ৫১ হাজার মেট্রিক টন অকটেন ও ফার্নেস অয়েল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের পথে রয়েছে। ৮ এপ্রিল/২৬ জাহাজ দুটি বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সহকারী ব্যবস্থাপক (গণসংযোগ) ফারজিন হাসান মৌমিতা বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জাহাজ দুটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করবে এবং এর পরপরই তেল খালাস কার্যক্রম শুরু হবে।বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত অকটেন নিয়ে ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ নামের একটি জাহাজ ৮ এপ্রিল রাতে বহির্নোঙরে পৌঁছাবে। একই দিনে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে ‘এমটি ইস্টার্ন কুইন্স’ নামের আরেকটি জাহাজও বন্দরে আসার কথা রয়েছে।চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বজায় রাখতে ধারাবাহিকভাবে তেলের জাহাজ বন্দরে আসছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট ৩৮টি জাহাজ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে। এছাড়া চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে আরও ৬টি জাহাজ জ্বালানি তেল নিয়ে বন্দরে পৌঁছেছে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত এই জ্বালানি সরবরাহ বজায় থাকায় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের সংকট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড ও মাসিক কল্যান সভা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড ও মাসিক কল্যান সভা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড ও মাসিক কল্যান সভা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও মাসিক কল্যান সভা হয়েছে।
    মঙ্গলবার (০৭ মার্চ) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাঠে মাষ্টার প্যারেডে সালাম গ্রহণ শেষে মাসিক কল্যান সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।জেলা পুলিশ লাইন্সে ড্রিল শেডে মাসিক কল্যান সভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার উপস্থিত অফিসার ও পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং অফিসার ও ফোর্সদের সার্বিক কল্যাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট ইনচার্জবৃন্দকে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

    কল্যাণ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ একরামুল হক, পিপিএম,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ ইয়াসির আরাফাত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোমস্তাপুর সার্কেল) মোঃ হাসান তারেক, এএসপি (প্রবিঃ) সহ জেলার অফিসার ইনচার্জবৃন্দ, ইন্সপেক্টরবৃন্দ এবং জেলার অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।