স্পিকারশিরীন শারমিন চৌধুরীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার ॥ কারাগারে প্রেরণ
রাজধানীর লালবাগে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হত্যাচেষ্টা ও ভাঙচুরের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে।মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডে তার চাচাতো ভাই আরিফ মাসুদ চৌধুরীর বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে তোলা হয় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে। আদালত জামিন না মুঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ডিএমপির লালবাগ থানায় দায়ের করা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হত্যাচেষ্টা ও ভাঙচুরের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে, যেগুলোর তদন্ত চলমান।ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) এন এম নাসিরুদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, শিরীন শারমিন চৌধুরীর কে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সাবেক এই স্পিকারের বিরুদ্ধে রংপুরে স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন হত্যা মামলা ছাড়াও রাজধানীর উত্তরা ও বনানী থানায় পৃথক আরও ৬টি মামলা রয়েছে। স্বৈরাচার সরকার পতনের দিন ছাত্র-জনতা সংসদ ভবনে প্রবেশের সময় তিনি ভবনটির একটি গোপন কক্ষ বা বাংকারে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে গুঞ্জন ওঠে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। এরপর থেকে তিনি দেশে আছেন নাকি বিদেশে পালিয়ে গেছেন, তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ধানমন্ডির নিজ বাসভবন থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।উল্লেখ্য, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর দলটির শীর্ষ নেতাদের অনেকেই আত্মগোপনে চলে যান এবং সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের কেউ কেউ গ্রেপ্তার হন। শিরীন শারমিন চৌধুরী দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে না এলেও এবার তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন এবং পরপর তিন মেয়াদে এ দায়িত্ব পালন করেন।

Leave a Reply