মুন্সীগঞ্জে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় ট্রলারডুবি ॥ নিহত ৮
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় বালুবাহী নৌযানের ধাক্কায় পিকনিকের ট্রলার ডুবে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ আরও অন্তত চারজনকে উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার রসকাঠি এলাকার পদ্মার শাখা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে চারজন নারী ও চারজন শিশু। এদের মধ্যে সাতজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন-সিরাজদিখানের পপি (২৬), হ্যাপি (২৮), শাকিব (৮), সাজিবুল (৪), ফারিহান (১০), মোকসেদা (৪২) ও রাকিব (১২)। বাকি একজন নারী; তবে তার পরিচয় এখনও জানাতে পারেনি পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম খান জানান, পাশের সিরাজদিখান উপজেলা থেকে ট্রলারে করে লোকজন পদ্মা সেতু ও এর আশপাশের এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিলেন। ট্রলারটিতে ৪৬-৪৭ জনের মত যাত্রী ছিলেন। সারাদিন বেড়িয়ে ফেরার পথে লৌহজং এলাকায় বালুবাহী একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় সেটি ডুবে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। অধিকাংশই সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছেন। ৩৪ জন জীবিত উদ্ধার হয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, যে জায়গায় ট্রলারটি ডুবেছে তার এক পাশে লৌহজংয়ের রসকাঠি গ্রাম আর অপরপ্রান্তে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সিলিমপুর গ্রাম। দুর্ঘটনার পর দুই পাড়ের মানুষ ছুটে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের লোকজন আসেন। কিন্তু রাতের অন্ধকার আর নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদের উদ্ধার কাজ চালাতে বেগ পেতে হয়। বালুবাহী বাল্কহেড রেখে চালক পালিয়ে গেছে। দুর্ঘটনার পর পরই ট্রলারের যাত্রীদের স্বজনরা নদী পাড়ে ছুটে আসেন। সেখানে নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের আহাজারিতে নদী তীরের বাতাস ভারী হয়ে উঠে। বেশ কয়েকজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে এ দুটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চারজনের মৃত্যু হয়।

Leave a Reply