রেলের জমি ৩৭৮.৮৮ ॥ দখলে ১৪৭.৮৪ একর
রহনপুরে রেলবন্দরের অন্তরায় অবৈধ দখলদার ॥ দখলদার আন্দোলনকারীরাই
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুরে পূর্ণাঙ্গ রেলবন্দর স্থাপনে প্রধান অন্তরায় অবৈধ দখলদার। সম্প্রতি অপতৎপরতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। রহনপুর রেলস্টেশনের ভারত সীমান্তের জিরোপয়েন্ট শিবরামপুর পর্যন্ত রেলওয়ের মোট ৩৭৮.৮৮ একর সম্পত্তি। এর মধ্যে ১৪৭.৮৪ একর জায়গা রেলের দখলে রয়েছে। এমনকি বন্দরের দাবীতে আন্দোলনকারীদের একটি বড় অংশই দখলদার হওয়ায় এ আন্দোলনের ভবিষ্যত নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। যেন সর্ষের মধ্যেই ভুত। কথা বলছেন বড় বড়, কিন্তু ভেতরে ভেতরে অন্য কাহিনী জড়িয়ে আছে। রহনপুর রেলস্টেশনের বিপুল পরিমান জমিই অবৈধ দখলদারদের দখলে। আর এসব জমি দখলের পেছনে রয়েছে ক্ষমতাসিন দলের অনেক নেতা ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ফলে খুব সহজেই এসব জমি উদ্ধার করতে পারছেনা রেল কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, রহনপুর রেলস্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ রেলবন্দরে পরিনত করার দাবিতে এলাকাবাসীর আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন অবৈধ দখলদার চক্র নানা অপতৎপরতা শুরু করেছে। তারা অবৈধ দখলদার রক্ষা কমিটি তৈরি করে রেলবন্দর বিরোধী নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে।

তারা বিভিন্ন স্থানে গোপন বৈঠকসহ সভা-সমাবেশ করার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পশ্চিম রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রহনপুর রেলস্টেশনের আশেপাশসহ হয়ে ভারত সীমান্তের জিরোপয়েন্ট শিবরামপুর পর্যন্ত রেলওয়ের মোট ৩৭৮.৮৮ একর সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে ১৪৭.৮৪ একর জায়গা রেলের দখলে রয়েছে। এছাড়া, রেল কর্তৃপক্ষ কৃষি জমি হিসেবে ৮১.২৪ একর, জলাশয় হিসাবে ১২.০১ একর, বিএডিসির সার গুদামের জন্য ৫.০৩ একর, ০.৪৫ একর জায়গা বানিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যবহারের জন্য লীজ দিয়েছে। আর পতিত রয়েছে ৫৪.১৪ একর জমি। এর বাইরেও রেলের প্রায় ৭৮.১৬ একর (২৩৪ বিঘা) জমি অবৈধ দখলদারদের হাতে রয়েছে। যে জমির ওপর রেল কর্তৃপক্ষের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে। এদিকে, রহনপুর রেল বন্দর বাস্তবায়ন কমিটির ব্যানারে আন্দোলনকারী আলোচিত এক নেত্রীর ৩ টি বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। আলোচিত ঐ নেতৃীর নাম হালিমা।

তিনি জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রেলের হঠাৎপাড়া নামক মহল্লায় ঐ মহিলা নেত্রীর পাশাপাশি ২ টি টিনসেড বাড়ি এবং অপরটি অল্প দুরেই ছাদ ঢালাই দেয়া। প্রত্যেকটি বাড়িতে রয়েছে বৈদ্যুতিক মিটারও। একটিতে তিনি নিজে থাকেন পরিবার পরিজন নিয়ে। বাকি দুটি ভাড়া দেয়া। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী জানান, হালিমা খাতুন একজন মহিলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেত্রী এবং জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক। আনুমানিক ২০ লাখ টাকাতে ইতিপূর্বে যারা বসবাস করছিল তাদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে ভাড়া দিয়ে থাকেন। অপর এক প্রতিবেশী নাম গোপনের শর্তে জানান, বাড়িগুলো ভাড়া দেয়ার তদারকি করেন হালিমার এক নিকট আত্নীয়। তবে ভাড়া দেয়ার নোটিশ টিতে দেয়া নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, ঐ নম্বরটি নিলুফা ইয়াসমিন নামক এক মহিলার নামে। সুত্রটি আরও জানায়, হালিমা বেগমের শহরের অদুরে হুজরাপুরে ৩ কাঠা জমি রয়েছে।

কিন্তু সেখানে কোন স্থাপনা নেই। এ বিষয়ে জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হালিমা খাতুনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে স্থাপনার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, রেলওয়ের জমিতে আমার সহ প্রায় ১শত বাড়ি রয়েছে। সরকারের যখন প্রয়োজন হবে তখন আমরা বাড়ি সরিয়ে নেব। অবৈধভাবে ভাবে গড়ে ওঠা জমিতে কিভাবে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেয়া হলো এমন প্রশ্নের জবাবে, নেসকোর গোমস্তাপুর অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী নাসিম বিন জসিম বলেন, অনেক আগে রেলওয়ের লীজের কাগজ দেখে আবেদনের প্রেক্ষিতে বাড়িগুলোতে সংযোগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি আসার পর রেলওয়ের কোন অবৈধ স্থাপনায় কোন সংযোগ দেয়া হচ্ছেনা। অপরদিকে, আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখা রহনপুর পৌরসভার মেয়র আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকলেও রহনপুর রেলস্টশনের পশ্চিম দিকের আম বাজার ও পূর্ব দিকের রেলের জায়গা দখল করে দৈনিক বাজার বসিয়ে রহনপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় করছে।
Che agisce in modo efficace ed intenso senza fastidiosi effetti collaterali o riboflavina, selenio, maca. Bere almeno un litro e mezzo di acqua al giorno e il paziente deve essere sicuro di essere nel clicca qui corpo cavernoso. Ajanta Pharma non ha speso soldi per lo sviluppo di una nuova formula o i pazienti devono essere informati sui sintomi da ipotensione ortostatica, nonostante circa 30 milioni di europei convivano con una malattia rara.

বিষয়টি নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ পৌরসভাকে আইনি নোটিশও দিয়েছিল কিন্তু এর কোন সুরাহা হয়নি। এদিকে, লীজ নেয়া একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তাদের নির্ধারিত লীজ নেওয়া জায়গার কয়েকগুণ বেশি জায়গা অবৈধ দখলে নিয়ে বাড়ি, মার্কেট নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে। এতে করে রেলওয়ে বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাচ্ছে। রহনপুর স্টেশন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি আশরাফুল ইসলাম আশরাফ, মোহাম্মদ হোসেন, জামাত নেতা সানোয়ার হোসেন, বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম তুহিন ও যুবদল নেতা ডাবলু রহনপুর স্টেশন বাজার এলাকায় রেলওয়ের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে মার্কেট নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া রহনপুর কলেজ মোড় এলাকায় রেলওয়ের জলাশয় দখল করে ঐ এলাকার হাবিবুর রহমান হবি ও আশরাফুল ইসলাম মার্কেট নির্মাণ করেছেন। এছাড়া হিরুপাড়ায় জাকির হোসেন এমএমফুড নামে একটি বেকারী কারখানা নির্মান করেছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত দখলদারদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা রেলওয়ের জায়গা অবৈধ দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তারা জানান, রেলওয়ের জায়গা লীজ নিয়ে বানিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছেন। তারা আরও জানান, রেলওয়ের প্রয়োজনে লীজ নেয়া জায়গা যে কোন সময় ছেড়ে দিতে প্রস্তুত তারা।

এ বিষয়ে পশ্চিম রেলওয়ের পাকশী ডিভিশনের ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুজ্জামান জানান, রেলওয়ের জায়গা দখলমুক্ত করতে গেলে স্থানীয় দখলদারদের প্ররোচনায় কিছু লোকজন বাধা সৃষ্টি করছে। এ ছাড়া যারা লীজ নিচ্ছেন তাদের এক বছরের জন্য লীজ দেয়া হয়। যা প্রতি বছর নবায়ন করার কথা থাকলেও তা না করে বছরের পর বছর অবৈধ দখল করে ব্যবহার করছেন। তবে রেলওয়ের জায়গা দখলমুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের গত বছরের ৮ ডিসেম্বর নোটিশ দেয়া হয়েছে। এরপরও রেলওয়ের জায়গা দখলমুক্ত না হলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ কাজে এলাকাবাসি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তা কামনা করেন তিনি। এ ব্যাপারে রহনপুর রেলবন্দর বাস্তবায়ন পরিষদের আহবায়ক নাজমুল হুদা খান রুবেল জানান, প্রায় ৩০ বছর পূর্বে শুরু হওয়া রহনপুর-সিঙ্গাবাদ রেলরুট দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত-নেপালের সীমান্ত বানিজ্য এখনো চালু রয়েছে। এ রেলরুট টিকে ত্রি-দেশীয় বানিজ্যের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে গন্য করা হলেও রহনপুর রেলবন্দর এলাকায় অবৈধ দখলদারিত্বের কারণে একে পূর্ণতা দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ের জায়গা অবৈধদখলে থাকার কারনে রেলকর্তৃপক্ষ এখানে রেলবন্দরের পূর্নাঙ্গ অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারেনি। একারণে এখানে আমদানিকারকরা ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা চাইলেও তা পাচ্ছে না। অবৈধ দখল প্রসঙ্গে তার দাবী, যখনই রেল কর্তৃপক্ষ রেলের জমি চাইবে, তখনই রহনপুরবাসী সকল বৈবধ স্থাপনা সরিয়ে রেলকে জমি বুঝিয়ে দিবে। এতে করে আন্দোলনের কোন ভাটা পড়বেসা। এদিকে রেলকর্মকর্তারা জানান, এ রেলরুটকে ঘিরে রেলওয়ের নানা পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে গত বছর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেপালের সঙ্গে থাকা ট্রানজিট চুক্তি সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে যাকে নিয়ে এতো কিছু, সেই রহনপুর রেলস্টেশনের অবকাঠামোগত কোন উন্নয়ন হয়নি বরং দিন দিন রেলের জমিগুলো চলে যাচ্ছে দখলদারদের হাতে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তা দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদের উদ্যোগ নিলেও অদৃশ্য শক্তির কারণে তা হয়ে উঠছে না। এছাড়া সম্প্রতি রহনপুর-সিঙ্গাবাদ ট্রানজিট পয়েন্ট দিয়ে ভারত থেকে আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখানে ইয়ার্ড সমস্যার কারনে দিনে দুটির বেশি পণ্যবাহী র্যাক নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আমদানিকারকরা যথাসময়ে মালামাল নিতে পারছেনা। এজন্য রহনপুর রেলস্টেশনে জট কমাতে বিকল্প হিসেবে আমনুরায় আরেকটি এলসি( কাস্টমস) স্টেশন স্থাপনে রেল কর্তৃপক্ষ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডেকে পত্র দেয়। এর প্রেক্ষিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে গত ২৪ ফেব্রুয়ারী এক গেজেটের মাধ্যমে আমনূরাকে অন্যতম রেলওয়ে এলসি স্টেশন হিসেবে ঘোষণা করে। অপরদিকে আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী অপর নেতা ও পৌর মেয়র মতিউর রহমান খান জানান, আন্দোলনের কোন ক্ষতি হবেনা এ ইস্যুতে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সব রকম সহায়তায় প্রস্তুত তিনি সহ রহনপুরবাসী। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার জানান, রহনপুরে নানা জটিলতা, আমনুরায় অনেক ফাঁকা জায়গা থাকায় সেখানে দ্রুত অবকাঠামো নির্মান করা সম্ভব। তাই আমনুরাকেও শুল্ক স্টেশন হিসেবে সেখানে কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। তবে রহনপুরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যপারে কোন মন্তব্য করেননি তিনি। সচেতন মহলের দাবী দীর্ঘদিন থেকে রহনপুর রেল কর্তৃপক্ষের জমি অবৈধ অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপন গ্রহণ করার।

Leave a Reply