ক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা ॥ কোটা পুনর্বহাল বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আলটিমেটাম

ক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা ॥ কোটা পুনর্বহাল বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আলটিমেটাম

উচ্চ আদালতের রায়ে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের আদেশ বাতিলের দাবিতে তৃতীয় দিনের মত বিক্ষোভ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। কোটা পুনর্বহালের আদেশ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বাতিল না করা হলে লাগাতার আন্দোলন ও প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। রোববার (৯ জুন) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভকালে শিক্ষার্থীরা এই ঘোষণা দেন। গত ৫ জুন ২০১৮ সালের জারিকৃত পরিপত্রটিকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এরপর থেকেই সারাদেশে নানা স্থানে থেমে থেমে চলছে কোটা আন্দোলন। তবে এবার সারাদেশে একযোগে একই সময়ে কোটা আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। জাবি, জবি, রাবি, সাত কলেজসহ দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন কলেজে চলেছে এই কোটাবিরোধী আন্দোলন।
রোববার শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে কলাভবন, প্রশাসনিক ভবন, উপাচার্যের কার্যালয়ের প্রবেশপথ ঘুরে রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘সংবিধানের/মুক্তিযুদ্ধের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘কোটা প্রথা, বাতিল চাই বাতিল চাই’, ‘কোটা প্রথার বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’’- ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। তারপর সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করে তারা। সমাবেশ শেষে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনের কাছে স্মারকলিপি দেয় শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র মাহিন সরকার বলেন, ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে আমরা সরকারকে ৩০ জুন পর্যন্ত আলটিমেটাম দিচ্ছি। ২০১৮ সালের কোটা বাতিলের পরিপত্র বহাল করা না হলে আমরা সর্বাত্মক আন্দোলনে যাব। প্রয়োজনে আমরা রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেব। সর্বাত্মক ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন চলবে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ ৫৬ শতাংশ কোটা প্রচলিত ছিল। সে বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কারের দাবিতে বড় ধরনের আন্দোলন হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে কোটা পুরোপুরি বাতিল করে সরকার। ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন করপোরেশনে চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের বিদ্যমান কোটাপদ্ধতি সংশোধন করে পরিপত্র জারি করে। সেই পরিপত্র সম্প্রতি হাইকোর্টের নির্দেশে অবৈধ ঘোষণার পর ফুঁসে উঠেছেন ছাত্ররা।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *