উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বিবৃতি

ছাত্র-জনতার মুক্তিসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার আহবান

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বিবৃতি

শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে ‘দেখামাত্র গুলির নির্দেশ’ দেওয়া এবং আইন বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা ও প্রবীন রাজনীতিবিদ, গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেন একটি বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচারের সম্মুখীন করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অরাজনৈতিক এ আন্দোলনকালে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীসহ অনেক শান্তিপ্রিয় নাগরিক নিহত, হাজার হাজার মানুষ আহত ও গণগ্রেপ্তার, গণনির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিবৃতিতে। হত্যা, নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনা আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের তত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্ত পূর্বক জড়িতদের শান্তির দাবি করেছেন ড. কামাল হোসেন। বিবৃতিতে ড. কামাল হোসেন বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশগ্রহনকারী নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারে বিপুল সংখ্যক ছাত্রি এবং সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও গুরুতর আহত করা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার পরিপন্থি ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি বলেন, এই আন্দোলন চলাকালে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে, যা কোনো ভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তবে মনে রাখতে হবে মানুষের প্রাণের মূল্য দুনিয়ার সমস্ত সম্পদ বা স্থাপনার চেয়েও অনেক বেশি। স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এসব প্রাণহানি ও নাশকতার জন্য যারা দায়ি, তাদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী শান্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, এই অজুহাতে ভিন্নমতের কাউকে দমন-পীড়ন বা সাধারণ মানুষকে হয়রানি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। বিবৃতিতে ড. কামাল হোসেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। গণগ্রেপ্তারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধ, সারা দেশে আটক করা ছাত্র-জনতার মুক্তিদানসহ অবিলম্বে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *