অনেকেই খুঁইয়েছেন সম্মান ও অর্থ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অর্থ বাণিজ্য করছেন মাহবুবা ॥ অতিষ্ঠ স্বজনরাও
চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অর্থ বাণিজ্য করছেন প্রতারক মাহবুবা খাতুন এমনটায় অভিযোগ উঠেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নামোশংকরবাটী নতুনপাড়া গ্রামের মৃত আবুল হায়াত এর মেয়ে প্রতারক মাহবুবা খাতুন দীর্ঘদিন থেকেই একে একের পর একজনকে ফাঁসিয়ে বাগিয়েছেন অনেক অর্থ। মান সম্মানের ভয়ে অনেকেই অর্থ দিয়ে এই প্রতারক মাহবুবা খাতুন এর সাথে আপোষ মিমাংসা করে রক্ষা পেয়েছেন। আর এসব ঘটনার সাথে জড়িত থেকে অর্থ বাণিজ্যের কাজে সহায়তা করে সুবিধা নিচ্ছেন একটি চক্র। এরকমই প্রতারণার শিকার হয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার আলীনগরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী (‘মীম এগ্রো শপ’ ও ‘ফেরদৌস এগ্রো ট্রেডিং’ এর স্বত্বাধিকারী) ফেরদৌস আহমেদ। তাঁকে ফাঁসানোর জন্য ধর্ষণের একটি মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে পুলিশকে দিয়ে গ্রেফতারও করিয়েছেন। আবার থানায় বসে দফারফার চেষ্টাও করেছেন মাহবুবা। কিন্তু তাতে রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ফেরদৌস আহমেদ কে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। বিচারক আদালতে জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করলে ফেরদৌস আহমেদ কে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এভাবে মিথ্যা বা প্রতারণার অভিযোগ কোন তদন্ত ছাড়ায় বা অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে প্রতারকের সাথে যোগসাজস করে গ্রেফতার করা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নামোশংকরবাটী নতুনপাড়া গ্রামের আবুল হায়াত এর মেয়ে মাহবুবা খাতুন দীর্ঘদিন থেকেই প্রতারণা করে একে একের পর এক জনকে ফাঁসিয়ে চলেছেন। এর আগে ঢাকায় একইভাবে অভিনয় করে ফাঁসিয়ে মামলা দায়ের করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন প্রতারক মাহবুবা। প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও অর্থবিত্ত ব্যক্তিতে টার্গেট করে বেছে নেন এই প্রতারক মাহবুবা প্রতারণার ফাঁদে ফেলার উদ্দেশ্যে। তারপর ঘটনার নাটক সাজিয়ে জিম্মি করে আদায় করে নেন অর্থ। আর এই অর্থ ভাগবাটোয়ারা হয় তাঁর সহযোগি চক্রের মধ্যে।
আর একাজে সার্বিক সহযোগিতা করে সুবিধা নিচ্ছেন এই প্রতারণার বাণিজ্যের সাথে জড়িত প্রতারক মাহবুবার কিছু সহযোগি। এভাবেই ফাঁসিয়ে অর্থ বাগিয়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র করে গত ২৬ এপ্রিল/২৫ তারিখের ঘটনার নাটক সাজিয়ে গত ৬ মে/২৫ (মামলা নম্বর-০৫) ফেরদৌস আহমেদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন মাহবুবা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায়। কোন তদন্ত বা না জেনে-শুনেই মামলা রেকর্ড করে শহরের বাঁতেন খাঁর মোড় এলাকার ‘মাংগো টাওয়ার’ এর একটি ফ্লাট থেকে (ভাড়া বাসা) ফেরদৌস আহমেদ কে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায় সদর থানা পুলিশ।
ফাঁসানোর ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাহবুবা খাতুন এর এলাকার বেশকিছু লোকজন জানায়, মাহবুবা অনেক মানুষকে ফাঁসিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে এর আগেও। এলাকার মানুষ তাঁর (মাহবুবা) উপর ক্ষিপ্ত, কিন্তু মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ফাঁসানোর ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না বলে জানিয়েছেন ফেরদৌস আহমেদ এর বড় ভাই রাকিবুল ইসলাম বাবু।
ফেরদৌস আহমেদের ভাই বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাকিবুল ইসলাম বাবু ‘চাঁপাই দর্পণ’ কে বলেন, ফাঁসানোর ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাহবুবা খাতুন এর এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, মাহবুবা এর আগেও অনেক মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফাঁসিয়ে, মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এলাকার মানুষ তাঁর (মাহবুবা) চলাফেরা এবং এরকম ঘটনা ঘটানোর জন্য মাহবুবার উপর ক্ষিপ্ত, কিন্তু মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ফাঁসানোর ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না। তিনি বলেন, ফেসদৌস কে পুলিশ ধরে নিয়ে গেলে আমি রাতেই থানায় গেলে ওসি সাহেব মামলার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। গভীর রাতেই প্রতারক মাহবুবা খাতুন বিষয়টি নিয়ে আপোষ-মিমাংসার প্রস্তাব দেন আমাকে। কিন্তু নাটক সাজিয়ে ফাঁসিয়ে মামলাকারী প্রতারক মাহবুবার সাথে কোন আপোষ-মিমাংসার প্রস্তাবে রাজি আমি রাজি হয়নি। কারণ, এভাবে কোন মিথ্যা নাটক সাজানো মেয়ের সাথে কোন আপোষ করলে, আগামীতে আরও কোন মানুষকে ফাঁসানোর চেস্টা করবে এই মহিলা। তাই মিথ্যাকে প্রশ্রয় না দিয়ে আসল রহস্য উদঘাটন করার জন্য চেষ্টা চালায়। এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে এই প্রতারক মহিলা মাহবুবার চারিত্রিক বিষয়ে জানতে পারি। তিনি আরও বলেন, এর আগেও চট্টগ্রামের ২জনকে ফাঁদে ফেলে ফাঁসনোর চেষ্টা করে ডিএমপির ধানমন্ডি থানায় মামলা করে এই মাহবুবা খাতুন। কিন্তু পুলিশ পরবর্তীতে ঘটনার সত্যতা না পেয়ে ফাইনাল সার্জসিট দাখিল করে। এছাড়াও একইভাবে আরও অনেক কে ফাঁসিয়েছেন এই মাহবুবা। থানায় অভিযোগ করে পরে বসে অর্থের বিনিময়ে আপোষ করে চলে গেছেন বলেও জানা গেছে। তিনি বলেন, মিথ্যা নাটক সাজিয়ে মানুষকে ফাঁসানো এমন প্রতারক মহিলার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। যেন আর কখনো অন্য কোন মানুষকে ফাঁসাতে বা হয়রানী করতে না পারে।
রাকিবুল ইসলাম বাবু আরও বলেন, মাহবুবার ভাই আবুল বাসার এর সাথে ফেরদৌস এর ব্যবসায়ীক লেনদেন ছিলো। প্রায় ৫ লক্ষ টাকা পাওনা ছিলো মাহবুবার ভাই এর। ভাই এর পাওনা নিয়ে মাহবুবা বেশ কয়েকবার ফেরদৌসের সাথে কথা বলে এবং পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ফেরদৌসের সেই পাওনা টাকা পরিষোধ করেন নি মাহবুবা বা তার ভাই। পরবর্তীতে সেই পাওনা টাকা নিয়ে ফেরদৌসের সাথে মতবিরোধ সৃষ্টি হয় মাহবুবার। পাওনা টাকা পরিশোধ না করার কৌশল এবং উল্টো মিথ্যা অপবাদ বা অভিযোগ দিয়ে ফাঁসিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র করছেন মাহবুবা বলেও জানান ফেরদৌস আহমেদ এর বড় ভাই রাকিবুল ইসলাম বাবু।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাহবুবা খাতুন এর এক নিকট আত্মীয় বলেন, মাহবুবা এবং তার পরিবারের চলাফেরা ভালো নয়। বিশেষ করে মাহবুবার চলাফেরা খারাপ। আর একারনেই আমাদের বংশের প্রায় সকলেই তাদের পরিবারের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ বা চলাচল করে না। তিনি বলেন, মাহবুবার বিষয়ে অনেক কথা রয়েছে। মাহবুবার আচরন ও চলাফেরা স্বাভাবিক বা সামাজিক নয়, নানা ঘটনার বিষয়েও জানে আমাদের বংশের লোকজন। অনেক শোধরানোর চেষ্টা করা হয়েছে তাকে, কিন্তু চলাফেরার কোন পরিবর্তন না হওয়ায়, শেষ পর্যন্ত বংশের লোকজন ও আত্মীয় স্বজনরা চলাফেরা বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের ব্যবহারের কারনে বংশের কারো সাথে মাহবুবা ও তার পরিবারের চলাচল নেই দির্ঘদিন থেকেই। তিনি বলেন, কি বলবো? মাহবুবার কথা মুখে আনতেও বাঁধে আমাদের।
এব্যাপারে মাহবুবা খাতুন এর সাথে সদর মডেল থানায় মামলার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘চাঁপাই দর্পণ’ কে বলেন, বিষয়টি আমার মান সম্মানের ব্যাপার, এ নিয়ে কোন সংবাদ প্রকাশ করবেন না। এব্যাপারে আমি কোন কথা বলতে চাই না। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং নানা ধরণের অসংলগ্ন কথাবার্তাও বলেন। প্রশ্ন করা শেষ না হলেও কথা বলতে বলতে ফোন কেটে দেন তিনি।
গ্রেফতারের বিষয়ে সদর মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ মতিউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘চাঁপাই দর্পণ’ কে জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং ধর্ষণের আলামত পেয়েই ফেরদৌস আহমেদ কে গ্রেফতার করে নিয়ে আসা হয়েছে। একই ঘটনায় অজ্ঞাত ঠিকানার রায়হান নামে আরও একজনকে আসামী করা হয়েছে। কোন তদন্ত বা না জেনেই একজন মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করে নিয়ে আসা বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ধর্ষনের কোন অভিযোগ পেলে সেটার আইনগত ব্যবস্থা নিতে আমরা বাধ্য। পরে ঘটনা মিথ্যা প্রমানিত হলে মিথ্যা মামলাকারী বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরে ঘটনা মিথ্যা প্রমান হলে এর জবাবদীহিতার বিষয়ে তিনি বলেন, এবিষয়ে পুলিশের জবাবদিহীতা বা দায়ভার নেয়ার কিছু নেই। অভিযোগ বা মামলা মিথ্যা প্রমান হলে বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রয়েছে। ওসি আরও বলেন, তদন্তাধীন বিষয়ে কিছু বলার নেই। তদন্তে কি আসে সেটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
Leave a Reply