চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রেন অবরোধ ও মানববন্ধন কর্মসূচী’র বিষয়ে সুজন’র সংবাদ সম্মেলন

জেলাবাসীর ৮ দফা দাবী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রেন অবরোধ ও মানববন্ধন কর্মসূচী’র বিষয়ে সুজন’র সংবাদ সম্মেলন

৮ দফা দাবী আদায়ে ট্রেন অবরোধ ও মানববন্ধন কর্মসূচী’র বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)’র চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা। মঙ্গলবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সম্মেলন কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। সম্মেলনে কর্মসূচী ও দাবীগুলো পাঠ করেন সুশানের জন্য নাগরিক (সুজন) চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন জুয়েল। সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন (সুজন) চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন জুয়েল। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবীর বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সিনিয়র সহ সভাপতি খায়রুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শাহনেওয়াজ খাঁন সিনহা। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সুশানের জন্য নাগরিক (সুজন) চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসিদুর রহমান, প্রচার সম্পাদক মুনিরুল ইসলাম মুনির, সহ প্রচার সম্পাদক নাসিরুল ইসলাম, সুশানের জন্য নাগরিক (সুজন) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা শাখার সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকী আসাদ, সুজন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর শাখার সভাপতি জমশেদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাব। এসময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকর্মীরা উপস্থি ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ গত ১ মার্চ/২৫ ডিসি অফিস চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত একটি মানববন্ধনে জেলার আন্তঃনগর ট্রেন নিয়ে বৈষম্য ও অবহেলিত এই জনপদের মানুষের নায্য দাবীসমুহ নিয়ে কাজ করার বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণের কথা ঘোষণা করে। সেই ধারাবাহিকতায় গত ৭ মে/২৫ জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্ত্বরে জেলার প্রায় সকল স্তরের জনসাধারণের অংশগ্রহণে এক ঐতিহাসিক মানববন্ধন কর্মসূচীর আয়োজন করে। এছাড়া গণস্বাক্ষর সংগ্রহ ও জেলা প্রশাসক, সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টারের মাধ্যমে রেলপথ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা, রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ রেলওয়ে’র মহাপরিচালক, মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিমাঞ্চল) বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করা হয়। আমাদের উত্থাপিত নায্য দাবীসমূহ বাস্তবায়নে আশানুরূপ সাড়া না পাওয়ায় আমাদের পূর্ববর্তী ঘোষণা অনুযায়ী ১৪ মে/২৫ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে শান্তিপূর্ণ ট্রেন অবরোধ ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপশি আপনাদের মাধ্যমে অনতিবিলম্বে আমাদের সকল দাবীসমূহ বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের নিকট আহ্বান জানাচ্ছি। দাবীসমূহ হলো-১. অনতিবিলম্বে বনলতা’র পাশাপাশি সকল আন্তঃনগর (ধূমকেতু, পদ্মা, সিল্কসিটি ও মধুমতি) ট্রেন সমুহ রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের পরিবর্তে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে চালুর দাবি জানাচ্ছি। ২. নবনির্মিত ডাবল লাইন যমুনা নদী রেলসেতু থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত নতুন ডাবল রেললাইন স্থাপন, পুরাতন রেললাইন সংষ্কার ও সিগন্যাল ব্যবস্থা আধুনিকীকরণসহ যাত্রীসেবা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবী জানাচ্ছি। ৩. দ্রুততম যৌক্তিক সময়ের মধ্যে প্লাটফরম বর্ধিতকরণ, প্লাটফরমে সিঁড়ি’র ব্যবস্থা ও সীমানা নিরাপত্তা বেষ্টনী/প্রাচীর নির্মাণসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়নের দাবি জানাচ্ছি।

এছাড়া রেলওয়ে’র দখলকৃত জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা অনতিবিলম্বে উচ্ছেদ ও দখলমুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি। ৪. চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার ‘রহনপুর রেলওয়ে স্টেশন’কে পূর্ণাঙ্গ রেলবন্দর ঘোষণা’র দাবি জানাচ্ছি। রহনপুর থেকে নেপালের দুরত্ব অত্যন্ত কম। রহনপুর রেলওয়ে স্টেশনকে আধুনিকীকরণে মাধ্যেমে পূর্ণাঙ্গ রেলবন্দর ঘোষণা করা হলে এই রেলবন্দর দিয়ে নেপালে পণ্য রপ্তানি অত্যন্ত সহজ, দ্রুত এবং পরিবহন খরচ অত্যন্ত কম হবে। উল্লেখ্য, এই রেলপথে পণ্য পরিবহনে আগ্রহী নেপালের রাষ্ট্রদূত ইতিমধ্যে একাধিকবার রহনপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেছেন। ৫. আমনুরা, নাচোল হয়ে রহনপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত সকল আন্তঃনগর ট্রেনের সময় অনুযায়ী কানেকটিং অথবা কমিউটার ট্রেন চালুর দাবি জানাচ্ছি। ৬. আমনুরা বাইপাস রেলওয়ে স্টেশনে সকল আন্তঃনগর ট্রেনের নূন্যতম ৫ (পাঁচ) মিনিটের যাত্রা বিরতির দাবি জানাচ্ছি। ৭. আমনুরা রেলওয়ে জংশনকে আধুনিক রেলজংশনে পরিণত করার দাবি জানাচ্ছি। ৮. রাজধানী ঢাকা থেকে নাটোর, রাজশাহী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ স্থলবন্দর পর্যন্ত দুই ধারে প্রসস্থ সার্ভিস লেনসহ ৬ (ছয়) লেন আধুনিক মহাসড়ক নির্মাণের দাবি। এছাড়া সোনামসজিদ স্থলবন্দর পর্যন্ত নতুন রেললাইন স্থাপন। উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর পর্যন্ত যানজটপূর্ণ পুরাতন অপ্রসস্থ এবং আকাঁ-বাকাঁ সড়ক পথের কারনে এই পথে প্রতি বছর গড়ে অর্ধশতাধিক মানুষ দূর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যু বরণ করেন এবং শতাধিক মানুষ পঙ্গুত্বের শিকার হন, যা অত্যন্ত নির্মম, মর্মান্তিক এবং দুঃখজনক বিষয়। স্বাধীনতা পরবর্তী বিগত ৫৪ বছরে কোন রাজনৈতিক সরকার বিষয়টি গুরুত্ব তো দেয়নি বরং অবহেলা করেছেন আর ভোটের রাজনীতির মাধ্যমে বৈষম্যে সৃষ্টি করেছেন।

অথচ আমরা চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী আম ও ধানসহ অন্যান্য শষ্য ফলিয়ে জেলার মানুষের চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তায় সহযোগীতা করছি। এছাড়া সোনামসজিদ স্থলবন্দরের মাধ্যমে প্রতিবছর দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার অবদান রাখি। এছাড়া পৃথিবী’র বিভিন্ন দেশে কর্মরত এই অঞ্চলের বৃহৎ পরিমান রেমিটেন্স যোদ্ধার স্থায়ী আবাসস্থল এই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। এই রেমিটেন্স যোদ্ধাদের মাধ্যম্যেও বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হচ্ছে। অথচ দীর্ঘদিন যাবৎ অবহেলিত এই জনপদের মেহনতী মানুষের নূন্যতম দাবিগুলোর প্রতি কর্নপাত করা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্ব ও দ্রুততার সাথে চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানের ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানানো হয়। এছাড়া আমাদের নায্য দাবীসমুহের সাথে একাত্মতা পোষণকারী অংশীজনের মতামত অনুযায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পর্যন্ত প্রাকৃতিক গ্যাস সঞ্চালন লাইন সম্প্রসারণ এবং আমনুরা রেলওয়ে জংশনের পাশে কৃষিভিত্তিক ইপিজেড স্থাপনের জোর দাবী জানাচ্ছি।১৪ মে শান্তিপূর্ণ ট্রেন অবরোধ ও মানববন্ধন কর্মসূচী’র সম্পন্ন হওয়ার পর আমাদের দাবীসমূহ আদায়ের লক্ষ্যে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অতি শীঘ্রই রেলপথ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ রেলওয়ে’র মহাপরিচালকের সাথে সাক্ষাতের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আশাকরি এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রিয় জেলার প্রতি করা বৈষম্যগুলো তাঁদের নিকট তুলে ধরতে পারব এবং চিহ্নিত সমস্যাসমূহ সামাধানের পথ খুঁজে পেতে সমর্থ হব ইনশাআল্লাহ।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *