মেহেরপুরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দেশী মাছের চাষ বাড়ছে
কৃত্রিমভাবে দেশীয় প্রজাতির মাছ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় জেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দেশী মাছ চাষ বাড়ছে। শিং, মাগুর, কৈ, টেংরা, পুঁটি ইত্যাদি জাতের মাছ স্বাদে ও গুণে উন্নত। ভোক্তাদের কাছে এর চাহিদাও বেশি। ফলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দেশী মাছ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন মাছ চাষিরা। মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দেশী মাছ সাধারণত কম রাসায়নিক ব্যবহারে চাষ করা যায়। এগুলো অধিক স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ। দেশী জাতের মাছ পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও তুলনামূলকভাবে বেশি। দেশী মাছ চাষে রোগের প্রকোপ তুলনামূলক কম এবং খাদ্য, ওষুধ বা রক্ষণাবেক্ষণের খরচও অনেকটাই সহনীয়। এ কারণে মেহেরপুরে প্রতিবছরই দেশী মাছ চাষ বাড়ছে। এতে লাভবান হচ্ছেন মাছ চাষিরা। মেহেরপুর জেলা মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে মেহেরপুর সদর, মুজিবনগর ও গাংনী উপজেলায় রাজস্ব খাতের আওতায় দেশী মাছ চাষের জন্য ৩টি প্রদর্শনী প্লট তৈরি করা হয়েছে। জেলাতে ১৯ জন মৎস্য চাষি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দেশী জাতের মাছ চাষের সাথে জড়িত। জেলার সবচেয়ে বড় মৎস্য খামারি শাহিন মল্লিক সদর উপজেলার ঝাউবাড়িয়া গ্রামে ২৪ বিঘা জমিতে ৬টি পুকুরে মাগুর, শিং, ট্যাংরা, পাবদা, পুটিসহ দেশী মাছের চাষ করেছেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাধন চন্দ্র সরকার বলেন, দেশী প্রজাতির মাছ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের চাহিদা পূরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখছে। জেলায় ১৯ জন মৎস্য চাষি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দেশী প্রজাতির মাছ চাষ করছেন। দেশী মাছের চাষ আমাদের জলজ জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়তা করে, যা পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একজন সফল চাষি বার্ষিক ১৫ টন দেশী মাছ উৎপাদন করে লক্ষাধিক টাকা আয় করতে পারেন।

Leave a Reply