নাচোলের ভ্যান চালক রাজু হত্যার প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার তিন-পুলিশের প্রেস ব্রিফিং
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় ভ্যানচালক রাজু আহমেদকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় মূল আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছিনতাইকৃত ভ্যান ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও মোবাইল ফোনসহ তিনটি চোরাই ভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ জুন) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.কে.এম ওয়াসিম ফিরোজ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, হত্যায় সরাসরি জড়িত নিলফামারীর খাদেমুল ইসলাম ওরফে মধু এবং চোরাই ভ্যান ক্রয়ে জড়িত ফতেপুরের আমিনুল ও আমানত আলী। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ জানান, পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল করিম বিপিএম-সেবা মহোদয়ের নির্দেশনায় এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহিন আকন্দ এর সার্বিক তত্বাবধানে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল ও নাচোল থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গত ২৬ জুন (বৃহস্পতিবার) রাতে নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থেকে ঘাতক খাদেমুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে নাচোলের ফতেপুরের মসজিদপাড়া এলাকার আমিনুল ও আমানতের বাড়ি থেকে ছিনতাইকৃত রাজুর ভ্যান উদ্ধার করা হয়। পুলিশ আরো জানায়, খাদেমুল পেশায় একজন মধু ব্যবসায়ী। খাদেমুল ইসলাম মধুর বাড়ি নীলফামারী হলেও নাচোলে বিয়ে করে তিনি সেখানেই ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। তিনি নাচোলের বিরেনবাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করতেন। এরই মধ্যে সে তার বউকে ডিভোর্সও দেয় গত কয়েকমাস আগে।

পরে সে নাচোল রেলস্টেশন এলাকার বসবাস শুরু করে। রাজুর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে গাঁজা ও চুয়ানি সেবন করতেন। জানা যায়, ২২ জুন বিকেলে রাজুকে চুয়ানি খাওয়ানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের করে খাদেমুল। পরে রাজুকে অতিরিক্ত চুয়ানি খাইয়ে অচেতন করে ফেলে এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার কোমরে থাকা মধু কাটার ধারালো ছুরি দিয়ে রাজুর গলা কেটে ও পিঠে আঘাত করে হত্যা করে। এরপর পারিলা এলাকার একটি রাস্তার পাশে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর খাদেমুল মরদেহের পাশেই ছুরি ফেলে দেয় এবং ভ্যানে থাকা ন্যাকড়া দিয়ে রক্ত মুছে নেয়। মোবাইল ফোনটি কাদার মধ্যে ফেলে দিয়ে ভ্যানটি নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ায় এবং পরদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমিনুল ও আমানতের কাছে ২০ হাজার টাকায় দরদাম করে ১৪ হাজার টাকায় ভ্যানটি বিক্রি করে।

বাকি ৬ হাজার টাকা বিকাশে পাঠিয়ে দেয়ার কথা বলে। পরে কৌশলে খাদেমুল তার নিজ এলাকার নিলফামারীতে চলে যায়। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেসব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোমস্তাপুর সার্কেল) মোঃ হাসান তারেক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহিন আকন্দ, নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনিরুল ইসলামসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকর্মী। উল্লেখ্য, ২৩ জুন সকালে নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের পারিলা গ্রামে সড়কের পাশ থেকে রাজুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রাজু আহমেদ নাচোল সদর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত মোতালেব হোসেন ফাঁকুর ছেলে। পরে রাজুর মা সুলতানা বেগম অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে নাচোল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, আসামি খাদেমুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছে এবং শনিবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply