চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পরিবেশবান্ধব মহাঔষুধি গাছ ‘ভেন্না’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পরিবেশবান্ধব মহাঔষুধি গাছ ‘ভেন্না’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে পরিবেশবান্ধব, মহাঔষুধি ‘ভেন্না’ গাছ। সংরক্ষণের অভাব, গুণ না জেনে কেটে ফেলা, অসচেতনতাসহ বিভিন্ন কারণে হারিয়ে যাচ্ছে ভেন্না গাছটি। কাঁটা অংশ জোড়া লাগা, মুখের রুচি বাড়ানো, চুলপড়া রোধ, বাত ব্যথা, ক্ষত সারাসহ মাড়ির যে কোন সমস্যায় ভেন্না গাছ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এর বীজ থেকে উৎপাদিত তেলেও রয়েছে জাদুকরী ঔষধি ক্ষমতা। বহু গুণে গুণান্বিত এই ভেন্না রাস্তার আশেপাশে, বন-জঙ্গলে, বাড়ির আনাচে-কানাচে দেখতে পাওয়া যেত। ক্ষেত-খামারের বেড়া তৈরিতে এই গাছ বেশি লাগানো হয়। এর ডাল দাঁতের মাজন হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ভেন্নার আঠা থেকে এক ধরনের বুদবুদ তৈরী হয় যা নিয়ে বাচ্চারা আগে খেলা করত। ভেন্না গাছ ১০-১৫ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে। গাছের কাণ্ডের ভেতরটা সাধারণত ফাঁপা। বর্ষাকালে ভেন্নার চারা গজায়। প্রতিবছর হেমন্ত ও শীতকালে ভেন্নার ফুল ও ফল হয়। সবুজ ফলের গায়ে নরম কাটাও থাকে।’ তবে এটি ভেন্না বা ভেরেন্ডা গাছ নামে অধিক পরচিত। উইকিপিডিয়ার থেকে জানা যায়, ‘ভেন্না বা রেড়ি গুল্ম প্রকৃতির বহুবর্ষজীবী এক ধরনের কাষ্ঠল উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Ricinus communis. এর পাতা দেখতে অনেকটা পেঁপে বা পান পাতার মতো। ভেন্না সাদা, লাল ও কালো এই তিন প্রজাতির হয়ে থাকে। পারিবারিক ওষুধের চাহিদা অনেকাংশে মিটিয়ে থাকে এই ভেন্না। সংরক্ষণের অভাবে পরিবেশ থেকে ওষুধি বৃক্ষ ভেন্না দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মহাওষুধি ভেন্না গাছ সংরক্ষণ করা খুবই জরুরি। বিনা খরচে পতিত জমিতে ভেন্না চাষ করাও সম্ভব। জানা যায়, ভেন্নার বীজ থেকে এক ধরনের তেল তৈরি হয়। যার নাম কাস্টার্ড ওয়েল নামেও অনেকের নিকট পরিচিত। আড়াই কেজি ভেন্নার ফল থেকে এক কেজি তেল পাওয়া যায়। একজন আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জানান, মেয়েরা এই তেল মাথায় মাখে। মাথার তালু ঠাণ্ডা থাকে। শরীরের বিভিন্ন কালো দাগ, মেছতা ও পোড়া দাগ দূর এবং রক্ত আমাশয় রোগিকে এর আঠা খাওয়ালে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠে। বুকের ব্যথা ও বাত ব্যথায় এই তেল মালিশ করলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। একে গরিবের তেলও বলা হত। স্থানীয় মানুষ ও কবিরাজরা জানান, মহাগুণে গুণান্বিত এই ভেরন্ডা গাছ সংরক্ষণ করা খুব জরুরি। আগে সর্বত্র পাওয়া গেলেও এখন তেমন চোখে পড়ে না। পতিত জমিতে এই গাছ লাগিয়েও সংরক্ষণ করা যায়।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *