চাঁপাইনবাবগঞ্জে চৌডালায় মেম্বার এবাদুলের নেতৃত্বে নিরপরাধ মানুষকে আটকে চাঁদাবাজি!

‘ইউনিয়ন পরিষদে টর্চার সেল!’চেয়ারম্যানের নীরবতা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে চৌডালায় মেম্বার এবাদুলের নেতৃত্বে নিরপরাধ মানুষকে আটকে চাঁদাবাজি!

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার ০৭ নং চৌডালা ইউনিয়ন পরিষদ যেন ‘নির্যাতন সেল’! রাতের আঁধারে নিরপরাধ মানুষদের ধরে নিয়ে আটকে রেখে টাকা আদায়ের ঘটনায় গ্রামজুড়ে চলছে তীব্র ক্ষোভ। চৌডালা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ এবাদুল হকের নেতৃত্বে গ্রাম পুলিশের সহায়তায় এ চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে, আর পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম কিবরিয়া হাবিব থাকছেন পুরোপুরি ‘নীরব দর্শক’। ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম ওরফে মংলু (৪৮) জানান, ৭ জুলাই দিবাগত রাতে তিনি নিজ বাড়ির সামনে বসে ছিলেন। বিদ্যুৎ না থাকায় ছিলেন খালি শরীরে। হঠাৎ চৌডালার গ্রাম পুলিশ দুরুল ও আরও কয়েকজন তাকে এবং অন্য কয়েকজনকে জোরপূর্বক ধরে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। ইউনিয়ন পরিষদে নেওয়ার পর সেখানে আগে থেকেই বসে থাকা ইউপি সদস্য এবাদুল হক সোজাসাপ্টা বলে বসেন, “তুই ছাড়া পেতে চাইলে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, না হলে সাইদুল ভাই (এএসআই) কে ডেকে চালান করে দেব।

” জবাব চাইতেই হুমকি, গালিগালাজ আর দরজায় তালা, শুরু হয় গণগ্রেফতারের মতো এক নাটকীয় মধ্যরাত। ভুক্তভোগীর শ্যালক ফারিকুল জানান, খবর পেয়ে তিনি স্থানীয়দের ডেকে পরিষদে গেলে তাকেও আটকে রাখা হয়। এবাদুলের নির্দেশে ইউনিয়ন পরিষদের দরজায় তালা লাগিয়ে প্রায় ২০ জন মানুষকে বন্দী করা হয় রাতভর। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শেষে চাঁদা আদায়ের পথেই বের হয় ‘সমাধান’। ফারিকুল বলেন, “মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে আমাদের কাছ থেকে রাতেই ধার করে ২০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।” স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল মালেক বলেন, “মেম্বার এবাদুল ও গ্রাম পুলিশদের হাতে এটা একটা সুপরিকল্পিত হয়রানি ও চাঁদাবাজি। আমি পরিষদে গিয়ে নিজেই দেখেছি টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য এবাদুল হক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জুয়া খেলার অপরাধে তাদেরকে আটক করে নিয়ে আসা হয় পরিষদে। পুলিশে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল এমতাবস্থায় আটক ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজন এসে অনুরোধ করলে “গ্রাম পুলিশ কিছু খরচের টাকা চাইছিল, আমি ম্যানেজ করে দিয়েছি।” পরিষদের কক্ষ থেকে আটক হওয়া ব্যক্তিদের তাদেরকে মুক্তি দেওয়া হয়। চৌডালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম কিবরিয়া হাবিব বলেন, “ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানি না।” তবে গত ৯ জুলাই (বুধবার) ইউ.পি সদস্য এবাদুল আমাকে জানিয়েছেন।

ইউনিয়ন পরিষদ জনগণের সেবার জায়গা, অথচ সেটাকে টর্চার সেল হিসাবে ব্যবহার করা এবং সেখানে নিরীহ মানুষকে ধরে নিয়ে এসে পরিষদের কক্ষে আটক রেখে পুলিশের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করা হয়? এ বিষয়ে জানতে চেয়ারম্যান বলেন, ইতি পূর্বে এমন ঘটনা ঘটনি, তবে আপনার মাধ্যমে জানলাম, বিষয়টা নিয়ে আমি আলোচনা করব। এই বক্তব্যে আরও ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা। তারা বলছেন, “চেয়ারম্যান কীভাবে দায়িত্ব এড়িয়ে যান? তার ইউনিয়ন পরিষদই তো হয়ে উঠেছে টর্চার সেল!” অথচ চেয়ারম্যান নিজে জানে না! সচেতন মহলের দাবি জনপ্রতিনিধির নামে পরিষদের দায়িত্বের অবহেলা করে নিরপরাধ মানুষকে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে ধরে এনে জুয়া খেলার অপবাদ দিয়ে চাঁদা আদায় করা এটাই কি জনপ্রতিনিধির নামে জনসেবা?। গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে যাদেরকে ধরে নিয়ে আসে, তারা যদি প্রকৃত আসলে জুয়া খেলার সাথে জড়িত থাকে, তাহলে থানা পুলিশের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে গভীর রাতে টাকার বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া টা কতটুকু যৌক্তিক?। বিষয়গুলো নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন স্থানীয়রা।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কোন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেননি, যদি করেন তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য এবাদুল হকের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও শালিসের নামে টাকা আদায়, এমনকি বিশেষ ক্ষমতা আইনে মাদক মামলায় আদালত কর্তৃক কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার তথ্য রয়েছে। এ ঘটনায় ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা বলছেন, “এটা যদি আজ মংলুর সঙ্গে হয়, কাল হতে পারে আমাদের কারও সঙ্গে। অবিলম্বে এই মেম্বার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।” জনগণের প্রশ্ন-জনপ্রতিনিধিরা যদি রাতের আঁধারে জুলুম চালায়, তবে মানুষ কোথায় যাবে? চেয়ারম্যান যদি চোখ বন্ধ করে থাকেন, তবে ইউনিয়ন পরিষদ কি তবে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল? এলাকাবাসীর দাবি-‘টর্চার সেলের’ এই চক্রকে ভেঙে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা হোক।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *