দিনাজপুরে মাছের পোনা চাষ করে শরিফুল-রানু দম্পতির সাফল্য

দিনাজপুরে মাছের পোনা চাষ করে শরিফুল-রানু দম্পতির সাফল্য

মাছের পোনা চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন দিনাজপুরের উদ্যোক্তা দম্পতি শরিফুল ইসলাম ও রানু আক্তার। ছোট পরিসরে শুরু করলেও বর্তমানে তারা দুইশত শতাংশ জমির চারটি পুকুরে মিরর কার্প, রুই, মৃগেল, কাতলা,সিলভার কার্প, গ্রাস কার্পসহ বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা উৎপাদন করছেন। তাদের এ উদ্যোগে ৫ জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

এছাড়া এ দম্পতির সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে জেলার অনেকেই মাছ চাষে ঝুঁকছেন। দিনাজপুর দক্ষিণ কোতোয়ালীর গোদাগাড়ী রামচন্দ্রপুর এলাকায় এই মৎস্য পোনা উৎপাদন খামারে এই দম্পতির বাৎসরিক আয় এখন প্রায় সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে একটি পুকুর লিজ নিয়ে তিনি রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভারকার্প,সাদাপুটি, তেলাপিয়া পোনা উৎপাদন শুরু করেন। প্রথম বছরেই সাফল্যের মুখ দেখেন তারা। পরের বছর আরো তিনটি পুকুর লিজ নিয়ে মাছের পোনা উৎপাদন বাড়ান। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই উদ্যোক্তা দম্পতি মো. শরিফুল ও রানু আক্তারকে।

চোখে-মুখে এখনো তাদের এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন। তার সফলতার গল্প জানতে চাইলে তারা জানান, ‘আল্লাহর রহমতে অনেক দূর আমরা এগিয়ে। এখন আমার সুখের সংসার। মাছের পোনা চাষ ও বিক্রি করে দুই ছেলে-মেয়েকে পড়া লেখা করাচ্ছি। তাদের মানুষের মতো মানুষ করার স্বপ্ন আমাদের। এজন্য এখনো হাল ধরে আছি। রানুর স্বামী শরিফুল আগে ধান-চালের ব্যবসা করতেন।

স্ত্রীর সংগ্রামী জীবনের সাফল্য দেখে স্বামী শরিফুলও অন্যপেশা ছেড়ে স্ত্রীকে সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন। পুকুরগুলোর তত্ত্বাবধানে কাজ করছেন। উদ্যোক্তা দম্পতিকে এ বিষয়ে প্রথম থেকেই সহায়তা করে আসছে মহিলা বহুমূখী শিক্ষা কেন্দ্র (এমবিএসকে) ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন। মাছের পোনা উদ্যোক্তা তৈরিতে মহিলাদের দিয়ে সমিতির মাধ্যমে কাজ করছে প্রতিষ্ঠান দুটি। শ্যামলী মহিলা সমিতি নামে এমন একটি সংগঠনের সদস্য সাদেকা বানু। যার সদস্য সংখ্যা ১৯৪০ জন।

মহিলা বহুমূখী শিক্ষা কেন্দ্র-এমবিএসকের মৎস্য কর্মকর্তা মো. রায়হান আলী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘সাদেকা বানু তাদের একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে তাকে সহায়তা করছি আমরা। তিনি বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা উৎপাদন করলেও গত বছরেই প্রথম আমরা তাকে পরীক্ষামূলকভাবে এককেজি ‘তৃতীয় প্রজন্ম’ বা জি-৩ রুই এর রেনু দেই পোনা উৎপাদনের জন্য। তারপর তিনি আরও দুইকেজি আরো ‘তৃতীয় প্রজন্ম’ বা জি-৩ রুই এর রেনু ক্রয় করে পুকুরে পোনা উৎপাদনে নামেন। এতে তিনি ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন। তার পোনা এখন জেলা ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চওেল যাচ্ছে, মাছ চাষের জন্য। আমরা খুব গর্বিত। আমাদের উদ্যোক্তার সাফল্যে। ’ঢাকার রেস্তোরাঁ এই দম্পতি উদ্যোক্তার সাফল্য এখন অনেকের অনুপ্রেরণা। তাদের সাফল্য দেখে অনেকে এখন মৎস্য চাষে ঝুকছেন। পোনা নিতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে ছুঁটে মাছের খামারিরা।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *