জুলাই-আগস্টে পরিস্থিতি গুরুত্বর হওয়ার আশঙ্কা
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর ভয়াবহ থাবা-সাড়ে ৬ মাসে ভর্তি ৮৭৬ ॥ একদিনে আক্রান্ত ২৮
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) একদিনেই নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্যে ১১ জন পুরুষ, ১৬ জন নারী এবং ১ জন শিশু। বর্তমানে হাসপাতালে মোট ভর্তি রয়েছে ৫৯ জন রোগী-পুরুষ ১৯, নারী ৩৪ এবং শিশু ৬ জন (ছেলে ৩, মেয়ে ৩)। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ জন রোগী (পুরুষ ৭, নারী ৬, শিশু ৩) চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং ৩ জনকে রেফার্ড করা হয়েছে উন্নত চিকিৎসার জন্য। এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি, যা কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৮৭৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। শুধু হাসপাতালে নয়, বহির্বিভাগেও বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। একই সময়ে বহির্বিভাগে সনাক্ত হয়েছে ৪০১ জন, যার মধ্যে সর্বশেষ একদিনে নতুন শনাক্ত ৬৩ জন। নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। উল্লেখযোগ্যভাবে দেখা যাচ্ছে, ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে নারীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বর্তমান ভর্তি থাকা ৫৯ জন রোগীর মধ্যে ৩৪ জনই নারী, যা মোটের প্রায় ৫৮ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘরের কাজ করা, দিনে ঘরেই অবস্থান করা এবং সচেতনতার অভাব এর পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে। শিশুরাও আক্রান্ত, তবে এখনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। চাঁপাইনবাবগঞ্জে এখন পর্যন্ত কোনো শিশু মৃত্যুর খবর পাওয়া না গেলেও, প্রতিদিন নতুন শিশু রোগীও ধরা পড়ছে। বৃহস্পতিবার ভর্তি ১ শিশুসহ বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ৬ জন শিশু। চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রুত সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা না হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ‘স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্ক বার্তা’ঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় ও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্ষাকালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সচেতনতাই এখন একমাত্র প্রতিরক্ষা। তারা নিম্নলিখিত সতর্কতা জারি করেছেঃ বাড়ির আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা ইত্যাদি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে, দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার করতে হবে, জ্বর হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা জরুরি’-ডেঙ্গু এখন আর শুধু নগরকেন্দ্রিক রোগ নয়, জেলা শহর এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু হাসপাতাল নির্ভর চিকিৎসা যথেষ্ট নয়— প্রয়োজন ঘরে ঘরে সচেতনতা ও স্থানীয় সরকার ও পৌরসভার উদ্যোগ। চাঁপাইনবাবগঞ্জে যেভাবে প্রতিদিন নতুন রোগী যোগ হচ্ছে, তাতে করে জুলাই-আগস্ট মাসে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় এখনই সময়-প্রতিটি নাগরিকের সচেতন ও সতর্ক হওয়া জরুরী।

Leave a Reply