জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত এবং সুষ্ঠু নির্বাচন দাবী
বিচার-সংস্কারের দোহায় দিয়ে নির্বাচন পেছানোর যুক্তি চলবে না-রাজশাহীতে মঈন খান
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, ‘আগে বিচার ও সংস্কার, তারপর নির্বাচন’ বিএনপি এই কথা আর শুনতে চায় না। শনিবার দুপুরে রাজশাহীর ভুবন-মোহন পার্কে রাজশাহী মহানগর বিএনপি আয়োজিত নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচিতে ফরম বিতরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মঈন খান বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আমাদের মূল দাবি একটাই-জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। বিচার ও সংস্কারের কথা বলে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার যুক্তি আর চলবে না। তিনি বলেন, সংস্কার ও বিচার চলমান প্রক্রিয়া। অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের প্রধান দায়িত্ব গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের হাতে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়া। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মতো আচরণ করা থেকে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেছেন, “আমরা জানি, সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে, ন্যায়বিচারের প্রয়োজন রয়েছে।

কিন্তু সংস্কার আর বিচার দুটোই চলমান প্রক্রিয়া। এটা এরকম নয় যে, আমরা সংস্কার করে দিলাম, সব সংস্কার হয়ে গেল। আমরা বিচার করে দিলাম, সব ন্যায়বিচার হয়ে গেল। বিগত স্বৈরাচার সরকার বলত, আগে উন্নয়ন পরে গণতন্ত্র, সেটা ছিল ভূয়া কথা। কাজেই আজকে কারও মুখে এটা শুনতে চাই না যে, আগে সংস্কার হবে, আগে বিচার হবে, পরে গণতন্ত্র হবে, পরে নির্বাচন হবে। এই কথা আজকে আমরা অন্তর্র্বতী সরকারের কাছে শুনতে চাই না। মঈন খান আরও বলেন, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে দেশের মানুষ অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে, মানুষ আপনাদের উপর আস্থা রেখেছে। যত দ্রুত সম্ভব একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্রকে তাদের হাতে ফিরিয়ে দিন। তিনি বলেন, “১৬ বছর তরুণ সমাজ, প্রবীণ সমাজ ভোট দিতে পারেনি। এমনকি ২০০৮ সালের নির্বাচনও একটি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছিল। বাংলাদেশের তরুণ সমাজ, প্রবীণ সমাজ ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। মঈন খান বলেন, “আমরা সুশৃঙ্খলাভাবে একটি পরিবেশ পরিস্থিতি বাংলাদেশে সৃষ্টি করব যাতে,

একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়। আমরা ১৭ বছর অপেক্ষা করেছি। আমরা আগামী কয়েক মাস ধৈর্য্য ধরব। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত। মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মামুন-অর-রশীদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক নজরুল হুদা। এ সময় পুরোনো সদস্যদের নবায়ন এবং নতুন সদস্য সংগ্রহের ফরম বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ড. মঈন খান।

Leave a Reply