‘জুলাই পূর্ণজাগরণ অনুষ্ঠানমালা’
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘জুলাই শহীদ’র স্মরণে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হচ্ছে ‘জুলাই পূর্ণজাগরণ অনুষ্ঠানমালা ২০২৫’। এরই অংশ হিসেবে বিশেষ বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০ টায় জেলা কালেক্টরেট ক্যাম্পাস সংলগ্ন শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ফুড অফিস মোড়স্থ ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ চাঁপাইনবাবগঞ্জ’র যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপণন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সামাদ। জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সামাদ বলেন, পুরো জুলাই মাস অর্থাৎ ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচী সরকার গ্রহণ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ের শহিদদের স্মরণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চাঁপাইনবাবগঞ্জেও পালিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসক জুলাই আন্দোলনে শহিদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং তাদের যে স্বপ্ন বৈষম্যহীন রাষ্ট্র, তা প্রতিষ্ঠায় সকলকে জুলাইয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ উপলক্ষে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুই সূর্যসন্তান তারেক ও মতিউর রহমানের স্মরণে দুটি বৃক্ষ চারা রোপণ করা হয়। পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় শতাধিক গাছের চারা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্য ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, জুলাই আন্দোলনে নিহত শহিদ তারেক হোসেনের পিতা আসাদুল ও মতিউর রহমানের পরিবার ও আহতদের পরিবার, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আফাজ উদ্দিন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ নাকিব হাসান তরফদার, বন বিভাগের কর্মকর্তা সত্যেন্দ্র নাথ, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষিকা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপ-পরিচালক আব্দুল মান্নান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতা আব্দুর রাহিমসহ আন্দোলনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

শেষে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন জেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মোঃ মুখতার আলী। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘জুলাই পূর্ণজাগরণ অনুষ্ঠানমালা’র অংশ হিসেবে মাসব্যাপী আরও নানা কর্মসূচী যেমন-স্মৃতি চারণ, আলোচনা সভা, শহীদ স্মরণ শোভাযাত্রা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি আয়োজন করা হবে। এই ধরনের পরিবেশবান্ধব ও ঐতিহাসিক চেতনার সংমিশ্রণে গড়া এমন অনুষ্ঠান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যেমন অনুপ্রাণিত করবে, তেমনি প্রকৃতি ও সমাজের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতাও বাড়াবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।

Leave a Reply