স্বপ্নই থেকে গেলো চাঁপাইনবাবগঞ্জের সন্তান ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগরের

স্বপ্নই থেকে গেলো চাঁপাইনবাবগঞ্জের সন্তান ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগরের

সোমবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে গুরুত্বর আহত হন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগর (২৭)। পরে বিকেল চারটার দিকে সম্মিলিতি সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মারা যান তৌকির। জানা গেছে, প্রায় বছর খানেক আগে তার বিয়ে হয়। এরপর বউ নিয়ে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। তবে ব্যবসায়ী বাবা তোহরুল ইসলাম স্ত্রী ও ছোট মেয়ে সৃষ্টি ইসলামকে নিয়ে রাজশাহীর উপশহরের একটি বাসায় বসবাস করতেন। তোহরুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রামে। তৌকির ইসলাম সাগরের ছোট বোন সৃষ্টি ইসলাম রাজশাহীর বারিন্দ মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএস শিক্ষার্থী। বিমান দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাজশাহী র‌্যাবের একটি দল বিকেলেই সাগরের পরিবারের সদস্যদের বিমানযোগে ঢাকা যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। এদিকে, সাগরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েন কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দারা। তারা সাগরের দাদার বাড়ি ছুটে গিয়ে যান। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের সন্তান হিসেবে অনেকেই সোসাল মাধ্যমে তৌকির ইসলাম সাগরের ছবি দিয়ে শোক জানান। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগর। একজন সদা হাস্যোজ্জ্বল মেধাবী হিসেবে সবার কাছে ছিলো প্রিয়। নিজ ইচ্ছে আর পরিবারের চাওয়া থেকে বেছে নেন পাইলট হওয়ার স্বপ্ন। সে স্বপ্ন আজ পূরণ হওয়ার দিন। দিনটি উপলক্ষে সব প্রস্ততি নিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। তবে ডানা মেলা সেই বিমান দুর্ঘটনায় সবাইকে কাঁদিয়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে বিদায় নিলেন সাগর। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, সোমবার জীবনের প্রথম সলো ফ্লাইট ছিল তার।

প্রশিক্ষণ চলাকালে একজন শিক্ষানবিস যখন যথেষ্ট দক্ষ হয়ে ওঠেন এবং তার প্রশিক্ষক মনে করেন, তিনি এককভাবে বিমান চালাতে প্রস্তুত, তখনই তাকে প্রথম সলো ফ্লাইটে পাঠানো হয়। এই ফ্লাইটে পাইলটকে সম্পূর্ণ একা সব সিদ্ধান্ত নিতে হয়। রানওয়ে নির্বাচন, টেক-অফ, ইন-ফ্লাইট ম্যানুভারিং এবং ল্যান্ডিংসহ সবকিছু তার নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে। তৌকির সফলভাবে এই ফ্লাইটটি সম্পন্ন করতে পারবেন সেই অপেক্ষায় ছিলেন তার সহকর্মীরা। এমনকি তৌকিরের জীবনের এই বিশেষ দিনটি উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা। এ বিষয়ে বিমানবাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, সোলো ফ্লাইট একজন পাইলটের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন। সফল ফ্লাইট শেষে সাধারণত জলখেলা হয় ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়। রাতে তৌকিরের জন্য এসব আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। কে জানত মাইলফলক অর্জনের এই দিনটিই তৌকিরের জীবনের শেষ দিন হবে। কিন্তু নিয়তির কাছে হেরে গেল তৌকির ইসলাম সাগরের জীবন। সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, তৌকির ইসলাম সাগর রাজশাহীর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করে ভর্তি হন ল্যাবরেটরি স্কুলে। সেখানে এসএসসি পাস করে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হন পাবনা ক্যাডেট কলেজে। তিনি ৩৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগরের দাফন মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর সপুরা গোরস্থানে সম্পন্ন হয়। এমন একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগর কে হারিয়ে শোকাহত সহকর্মীরা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *