পানির অভাবে ভরা বর্ষায়ও পাট জাগ দিতে পারছেনা লালমনিরহাটের কৃষকরা
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ভরা বর্ষাও পানির অভাবে পাট জাগ দিতে না পেরে বিপাকে কৃষকরা। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় শুকিয়ে আছে খাল-বিল-ডোবাসহ সব ধরনের জলাশয়। আষাঢ় শেষে শ্রাবণ মাসেও বৃষ্টি না হওয়ায় পানির অভাবে পাট চাষিরা চরম বিপাকে পড়েছেন। পাট কাঁটার উপযোগী হলেও পানির অভাবে কৃষকরা তা কেটে জাগ দিতে পারছেন না। ফলে কৃষকরাা চরম দুশ্চিন্তাগ্রস্থ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানান, পানির অভাবে তারা পাট জাগ দিতে পারছেন না। বৃষ্টির অপেক্ষায় থেকে জমিতেই রোদে পুড়ে লালচে হয়ে যাচ্ছে পাট। অনেকে আবার অপরিষ্কার পানিতে বাধ্য হয়ে জাগ দিচ্ছেন। এতে সোনালি আঁশের রঙ কালচে হওয়ায় বাজারে কাঙ্খিত দাম পাওয়া নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। আবাদ ভালো হলেও লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এদিকে, কৃষকদের আশঙ্কা, আগামী সপ্তাহে বৃষ্টিপাত না হলে পাট চাষে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। প্রতি বছর একই সমস্যা সম্মুখীন হওয়ায় কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন। তাদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে ন্যায্য মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় জানান, কৃষি বিভাগ সব সময় পাট চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করছে এবং চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এ বছর উপজেলার ৮ ইউনিয়নে ৩৮০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। পাট চাষে একটা উপকারিতা আছে, পাটের যে পাতা জমিতে পড়ে সে পাতা পচে জৈব সার তৈরি হয়। ফলে জমির উর্বরতা বেড়ে যায়। যে কোন ফসল করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। ইতোমধ্যে ৮০ ভাগ জমির পাট কাটা হয়েছে। দুই-চার দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত হলে পাট চাষিদের এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

Leave a Reply