নাচোলে মেহমানখানার আতিথেয়তায় মুগ্ধ অসহায় মানুষগুলো

নাচোলে মেহমানখানার আতিথেয়তায় মুগ্ধ অসহায় মানুষগুলো

নানান দেশের, নানান প্রান্তের, নানান মানুষ, নানান রকম কাজ করে সমাজে নানানভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে চাই, যা বেশিরভাগই নিজ, বড়জোর পরিবারের কাজে আসে। এমনও অনেক কাজ আছে যা শুধু ইহকাল নয়, পরকালকেই শান্তিময় করে তোলে। ঠিক এমনই উদ্যোগ নিয়ে চেয়ারম্যান পাড়া যুব সমাজ অসহায় মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে, হয়ে উঠেছে গরীববান্ধব একটি সংগঠনে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ শুক্রবার দিয়ে শুরু করে আজ অবধি কিছু পাড়ার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবরর্গের কাছ থেকে টাকা তুলে এ উদ্যোগ গ্রহণ করে তারা। এ সংগঠনের সভাপতি কবির হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় চেয়ারম্যানপাড়ার যুব সম্প্রদায় মূলত এ কাজে আমাকে উৎসাহ ও সহযোগিতা করেছে। এমন কাজ আজীবন চালিয়ে যেতে চাই’। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোদা জানান, ‘মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অভিপ্রায়ে এ সংগঠনটির পথচলা। স্থানীয় যুব সম্প্রদায়ের সদস্য বিশেষ করে রুবেল, সোহেল, সুমন, দুলাল, রোকন, বড়কা, আহাদ, আশিক, দেলোয়ার, তুহিন,আবির, আরাফাতসহ আরও অনেকের সাহায্য ছাড়া এমন উদ্যোগ গ্রহণ সম্ভব ছিলনা। সর্বোপরি যারা এ কাজে আর্থিকভাবে সাহায্য করছেন, তাদেরকেও অসংখ্য ধন্যবাদ। প্রয়োজনে এ সংগঠনের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে যে কেউ এ মহৎ কাজে সাহায্য-সহযোগিতাও পাঠাতে পারেন বলে জানান তিনি’। এ বিষয়ে মেহেমানখানায় খেতে আসা বৃদ্ধা শরিফা বানু বলেন, ‘আমাদের এত সাধ্য নেই যে মাংস কিনে খেয়ে পরিবারের সবার সাথে বসে পেট পুরে খাবো। এরা যখন থেকে আয়োজন করে, আমি প্রায়ই খেতে আসি’। আর এক ষাটোর্ধ বৃদ্ধ ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘বয়স হয়ে গেছে, ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়ে কোনমতে জীবন পার করি। ভাল খাবার চাইলেও কিনতে পারিনা, তাই এখানে মাসে অন্তত একবার হলেও পেটপুরে ভাত খেতে পারি’। এ বিষয়ে এশিয়ান স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ইসাহাক আলি বলেন, ‘এ ধরনের কাজে সবসময়ই পাশে থাকতে চাই। আমি প্রায়ই এ আয়োজনে ছুটে আসি, ভাললাগার টানে, মানবতার টানে’। এছাড়াও বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসা থেকে ছুটে আসা এতিম, অসহায়সহ অন্যান্যরা এ আয়োজনে শরিক হয়ে থাকেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *