বৃত্তি পরীক্ষায় সুযোগ বঞ্চিত! কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে উত্তাল আন্দোলন

শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি

বৃত্তি পরীক্ষায় সুযোগ বঞ্চিত! কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে উত্তাল আন্দোলন

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দাবিতে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক-অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সোমবার সকাল ১০টায় এসময় শিক্ষার্থীদের হাতে দেখা গেছে বিভিন্ন স্লোগানের প্লেকার্ড এবং শিক্ষার্থীরা ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহত হওয়া আবু সাঈদ মুগ্ধ কে স্মরণ করে তাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য স্লোগান দেয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,

“আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যৎ। কিন্ডারগার্টেন স্কুলে অধ্যয়নরত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে সরকার শিশুদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।” তারা উল্লেখ করেন, দেশে প্রায় ৬০ হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ১ কোটি শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে এবং শহরাঞ্চলের ৬০-৭০ শতাংশ শিশুই এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করছে। বক্তারা আরও জানান, ১৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি পরিপত্রে পুনরায় চালু হওয়া বৃত্তি পরীক্ষায় শুধুমাত্র সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে,

যা কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের প্রতি স্পষ্ট বৈষম্যের বহিঃপ্রকাশ। অথচ ২০০৯ সাল থেকে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীরাও সমাপনী পরীক্ষার মাধ্যমে বৃত্তির জন্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সাফল্যের নজির রেখেছে।মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, শিক্ষা কোনো শ্রেণি বিভাজনের বিষয় নয়, এটি সকল শিশুর মৌলিক অধিকার। তারা বলেন, “বৈষম্য বিরোধী সরকার ক্ষমতায় থেকেও যদি শিশুদের এমন বৈষম্যের মধ্যে ফেলেন, তবে তা সরকারের নীতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। “পরিশেষে তারা স্মারকলিপির মাধ্যমে চলতি বছর থেকেই বৃত্তি পরীক্ষাসহ প্রাথমিক শিক্ষার সকল কার্যক্রমে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষেও হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দাবি জানিয়ে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের ইম্পেরিয়াল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থীর অভিভাবক প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল ইসলাম, শিক্ষার্থী মোসাঃ ফাতেমা জামান ও মোসাঃ হাসিবা খাতুন, অভিভাবক মোসাঃ উম্মে রায়হান। প্যারামাউন্ট স্টান্ডার্ড স্কুলের শিক্ষার্থী মোঃ আব্দুর রহমান। প্রায় ঘন্টাব্যাপি এ মানববন্ধন চলে এবং শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মরক লিপি প্রদান করেন শিক্ষার্থীরা।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *