দলীয়করণের ধারাবাহিকতা অব্যাহত সবখানেই-টিআইবি

দলীয়করণের ধারাবাহিকতা অব্যাহত সবখানেই-টিআইবি

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ‘স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকার’ ক্ষমতাচ্যুত হলেও দলীয়করণের সেই ধারাবাহিকতা প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিচার ব্যবস্থাসহ সব জায়গায় অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি এটার মনে করছে, কয়েকটি দলের চাপে যে প্রক্রিয়ায় আওয়ামীলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তা ভবিষ্যতে প্রতিপক্ষ দমনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরির ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর দেশের এক বছরের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ মূল্যায়ন তুলে ধরেছে টিআইবি। সোমবার ঢাকার ধানমন্ডিতে নিজেদের কার্যালয়ে ‘কর্তৃত্ববাদী সরকার পতন-পরবর্তী এক বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদনের একটি খসড়া পড়ে শোনান গবেষক শাহজাদা এম আকরাম ও মোহাম্মদ জুলকারনাইন। প্রতিবেদনে সরকারের নেওয়া সংস্কারের উদ্যোগ, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার, জাতীয় ঐক্যমুক্ত প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, আইনশৃঙ্খলা, আর্থিকখাত, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ জ্বালানি, নির্বাচন, রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও সেনাবাহিনী প্রসঙ্গ এসেছে। জুলাই অভ্যুত্থান দমানোর চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যে বিচার চলছে, সেই প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিয়োগ করা বিচারক ও কৌঁসুলিদের নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা রয়েছে। তাদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেও এবং কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও ঢালাও মামলা উপযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধের ধরন অনুযায়ী মামলা না দেওয়ার ফলে মামলার ভিত্তি দুর্বল হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
জনপ্রশাসনের সংস্কার নিয়ে টিআইবির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, “পতিত সরকারের সময় দলীয় বিবেচনায় বঞ্চিত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি কর্মকর্তা উপসচিব, যুগ্ম সচিব এবং অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।
তাদের মধ্যে প্রায় ৫৫০ জনকে অনুমোদিত পদের বাইরে এবং ৭৬৪ জনকে ভুতাপেক্ষা পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে (এপ্রিল পর্যন্ত)। চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় মোট ৪০ জনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে (ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত)। যুগ্ম সচিব ও সমপর্যায়ের পদে থাকা প্রশাসনের মোট ৪৫ জনকে ওএসডি করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, মোট ৫১৬ জনকে ওএসডি করা হয়েছে। বিতর্কিত তিনটি নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ডিসি ও এসপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জনপ্রশাসনের বর্তমান অবস্থার মূল্যায়নে টিআইবি বলছে, “এখন জনপ্রশাসনে একটি দলের অনুসারীদের পরিবর্তে অন্য দল বা দলগুলোর প্রাধান্য ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠান পেয়েছে। বঞ্চিত হওয়ার নামে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা আদায় চলছে। জনপ্রশাসন সংস্কার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, “পদোন্নতি পাওয়া বা পদ বঞ্চিত হওয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণে ব্যর্থতার অভিযোগ ও স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। প্রশাসনে এক ধরনের দলীয়করণের পরিবর্তে আরেক ধরনের দলীয়করণ শুরু হয়েছে মন্তব্য করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিষয়টা এমন যে- এতদিন আমরা বাইরে ছিলাম, এখন আমাদের খাওয়ার সময়। এমন প্রবণতা রাজনীতি ও প্রশাসনের সর্বক্ষেত্রে প্রতিফলন ঘটছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *