বাকৃবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে রেললাইন অবরোধ ॥ ট্রেন চলাচল বন্ধ

বাকৃবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে রেললাইন অবরোধ ॥ ট্রেন চলাচল বন্ধ

হল ছাড়ার নির্দেশনা প্রত্যাখ্যান করে দ্বিতীয় দিনের মতো রেলপথ অবরোধ করে আন্দোলন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীরা। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। ওই রুটের দুটি পয়েন্টে আটকে যায় যাত্রবাহী ট্রেন। মঙ্গলবার (০২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে জব্বারের মোড় এলাকায় রেলপথ অবরোধ করেন তারা। শিক্ষার্থীরা জানায়, সোমবার সকালে আমরা ৬ দফার আলটিমেটাম দিয়েছিলাম। এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো সাড়া নেই। তাই বাধ্য হয়ে দাবি আদায়ে রেলপথ অবরোধ করেছি। প্রশাসন এসে আশ্বস্ত করলেই আমরা অবরোধ তুলে নেব। দাবি আদায়ে আন্দোলন করতে হয়, এটা বাংলাদেশের কালচার। কিন্তু দাবি আদায়ের আন্দোলনে বহিরাগতদের দিয়ে হামলা করানো কতটা যৌক্তিক? দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলছে, চলবেই। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে ত্রিশাল ও গৌরিপুরে যাত্রবাহী দুটি ট্রেন আটকে আছে। মূলত বেলা ১২টার পর থেকে আটকে ছিলো ট্রেন দুটি। এতে ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা। পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম ফজলুল হক ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি দাওয়া নিয়ে এককভাবে আমার কিছু করার নেই। অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় সুন্দর সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কিন্তু শিক্ষার্থীরা তা না মেনে বিপথে হেঁটেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হল ছাড়ার নির্দেশনা না মেনে তারা আন্দোলন করছে। বিষয়টি এখন আমার নিয়ন্ত্রণে নেই, জেলা প্রশাসক যা ভালো মনে করবেন তা-ই হবে।’
তাদের দাবিগুলো হলো-একক ডিগ্রি, অর্থাৎ কেবল কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালু রাখতে হবে, বহিরাগতদের দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করায় সম্পূর্ণ প্রক্টোরিয়াল বডিকে পদত্যাগ করতে হবে, বহিরাগত দ্বারা ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণ গ্রন্থাগার ও স্থাপনা ভাংচুর এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করার ঘটনায় উপাচার্যকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না এই নিশ্চয়তা দিতে হবে, যেসব শিক্ষক এ হামলার সাথে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *